মিডডে মিলে মাংস বাদ, শিশুর পাতে নেই দুধটুকুও! কোন পথে আসছে দেশে 'অচ্ছে দিন'?

Midday Meals: শুধুমাত্র যে প্রোটিনেরই উৎস দুধ, তা তো নয়। একই সঙ্গে ক্যালশিয়াম, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি ১২, রাইবোফ্লাভিন, পটাসিয়াম, ফসফরাস, সেলেনিয়ামের মতো একগুচ্ছ উপাদান রয়েছে দুধে। যা শিশু বিকাশের জন্য় ভীষণ ভাবে প্রয়োজনীয়।

Sohini Das
৩ মিনিট
মিডডে মিলে মাংস বাদ, শিশুর পাতে নেই দুধটুকুও! কোন পথে আসছে দেশে 'অচ্ছে দিন'?

স্কুলে সাধারণত পড়াশোনাটুকুই করতে যায় শিশুরা। কিন্তু প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে গিয়ে প্রশ্ন করুন। জানতে পারবেন, শুধু পড়াশোনা নয়, কার্যত একবেলা ভরপেট খেতে পাওয়ার লোভেই স্কুলমুখো হয় অসংখ্য শিশু। তাঁদের মা-বাবারাও যে সন্তানদের স্কুল থেকে ছাড়িয়ে এনে ক্ষেতে বা দোকানের কাজে লাগিয়ে দিচ্ছেন না, তারও একটা অন্যতম কারণ বোধহয় ওই মিডডে মিল। সামান্য একটু পুষ্টি, একটু পেট ভরা ভাত, সেটুকুর লোভেই কমেছে স্কুলছুটের হার। সেই মিডডে মিলের মেনু সাধারণত এমন ভাবে সাজানো হয়, যাতে স্কুলগামী শিশুদের ন্যূনতম পুষ্টিটুকু মিলতে পারে। প্রোটিন, কার্বহাইড্রেড এবং অন্যান্য জরুরি জিনিসের পুষ্টিগুণ যাতে বজায় থাকে, তা মেনেই ঠিক করা হয় স্কুলগুলির মিডডে মিলের মেনু।

আর সেই মেনু থেকেই মাংস বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে লক্ষদ্বীপ প্রশাসন। না, এই সিদ্ধান্ত অবশ্য আজকের নয়। ২০২১ সালেই এই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য এমন সিদ্ধান্তের কথা জানায় সেখানকার প্রশাসন। সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, এবার থেকে স্কুলের মিডডে মিলে আর কোনও প্রকাশ মাংস দেওয়া হবে না। ওই সিদ্ধান্ত কার্যকর ওই বিশেষ এলাকায় বসবাসকারী শিশুদের জন্যই। শুধু মাংসই নয়, শিশুর পুষ্টিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুধ ব্যপারটিকেও তালিকা থেকে একেবারে ছেঁটে ফেলা হয়েছে।

প্রশাসনের সেই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এক আবেদনকারী। দুধ এবং মাংসের মতো প্রোটিনপ্রধান খাবারকে তালিকা থেকে সরিয়ে ফেলার বিরোধিতা করেন তিনি। শুধুমাত্র যে প্রোটিনেরই উৎস দুধ, তা তো নয়। একই সঙ্গে ক্যালশিয়াম, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি ১২, রাইবোফ্লাভিন, পটাসিয়াম, ফসফরাস, সেলেনিয়ামের মতো একগুচ্ছ উপাদান রয়েছে দুধে। যা শিশু বিকাশের জন্য় ভীষণ ভাবে প্রয়োজনীয়। ফলে এমন জরুরি দু'টি উপাদান খাদ্যতালিকা থেকে সরিয়ে ফেলা মোটেই ঠিক নয় বলে দাবি করে আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভারতে বাড়ছে স্কুলছুট, আসল কারণ কী? ভয়াবহ ইঙ্গিত সমীক্ষায়

দারিদ্র, স্কুলের দূরত্ব, অভিভাকদের আচরণ- সাধারণত বিশ্বব্যাপী স্কুলছুটের প্রধান কারণ। ভারতের পরিস্থিতি কিন্তু ভয়ানক। অন্তত তেমনই নির্দেশ করছে এনএফএইচএস। তারা উল্লেখ করছে, শিক্ষার প্রতি আগ্রহ না থাকার জন্য বাচ্চারা স্কুল যেতে চাইছে না।

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অনিরুদ্ধ বোস এবং বিচারপতি বেলা এম ত্রিবেদীর বেঞ্চে ওঠে মামলাটি। তবে সব দিক বিবেচনা করে সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে বিচারপতিদের বেঞ্চ। বিচারপতিরা সেই সিদ্ধান্তের সপক্ষে জানিয়েছেন, কোনও একটি অঞ্চলের শিশুদের খাদ্যের রুচি কেমন হবে, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া আদালতের এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে না।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বারবার তালা স্কুলের গেটে, গরমের ছুটি বাড়ার নেপথ্যে আসলে কোন কারণ?

স্কুলের বিকল্প হতে পারে না কোনও অ্যাপ। এ প্রসঙ্গে বলা দরকার, স্কুলের গেটে বেশিদিন তালা ঝুললে সঙ্গে সঙ্গে মিড-ডে মিলের থালায় যে লকডাউন হবে, তা বলাই বাহুল্য।

২০২১ সালে কেরল হাইকোর্টে উঠেছিল আবেদনটি। সেখানেও খারিজ হয়ে যায় এই জনস্বার্থ মামলা। তবে এর পরে আবেদনকারী সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। তবে সেখান থেকেও খালি হাতেও ফিরতে হল তাঁকে। কেরল হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের পক্ষেই রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের বিচারপতিদের বেঞ্চ জানিয়েছে, কেরল হাইকোর্টের রায়ে কোনও ত্রুটি খুঁজে পায়নি সুপ্রিম কোর্ট। বেঞ্চ আরও জানায়, মিডডে মিলের খাদ্য়তালিকায় মাছ, ডিমের মতো আমিষ উপকরণ রাখা হয়েছে, যা ওই দ্বীপ অঞ্চলে যথেষ্ট পরিমাণে পাওয়া যায়। শীর্ষ আদালত জানায়, এটা একেবারেই প্রশাসনের নীতিগত সিদ্ধান্ত, আর তাতে আইন বা সংবিধানের কোনও রকম লঙ্ঘন হয়নি। আর এ ব্যাপারটি আদালতের এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে না বলেই জানিয়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

সম্প্রতি জি-২০ সম্মেলনের আগে রাষ্ট্রপতি আয়োজিত নৈশভোজের আসরের মেনুতে আমরা দেখেছি নিরামিশ খাবারের বাড়াবাড়ি। শুধু নিরামিশই নয়, সেই মেনুকার্ডের প্রায় সর্বঘটের কাঁঠালি কলা ছিল বাজরা। ফলে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার যে অজ্ঞাত কারণে আমিষবিমুখতার দিকেই কিঞ্চিৎ হেলে। বহুদিন ধরেই খাদ্যতালিকা থেকে মাংস হঠিয়ে দেওয়ার দাবি উঠছে নানা হিন্দুত্ববাদী মহল থেকে। আর সেই প্রভাব এসে পড়ল লক্ষদ্বীপের মতো কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের স্কুলের মিডডে মিলের খাবারের তালিকায়।

সংবিধান কিন্তু খাদ্য নির্বাচনের সিদ্ধান্ত খাদ্যগ্রহণকারীর রুচির উপরেই ছাড়ে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই মৌলিক অধিকারের উপর ছড়ি ঘোরাচ্ছে প্রশাসন। আর এমনটা যে কেবল আজই হচ্ছে, তেমনটা কিন্তু নয়। এর আগেও এমন তুঘলকি সিদ্ধান্তে দেখেছে দেশ, এখনও দেখছে। ভবিষ্য়তেও যে দেখবে না, তেমন আশার কথা শোনাতে পারছে না কোনও পক্ষই।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ডানাছাঁটা ট্রাম্প-নেতানিয়াহু, বিশ্ব রাজনীতি কোন দিকে যাবে?

Trump midterm defeat: আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির পরাজয় এবং ইজরায়েলের নির্বাচনে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানো—দুটি ঘটনাই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই পরাজয়ের পর ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ কী হবে? আমেরিকা-ইজরায়েল সম্পর্কের সমীকরণ কি বদলাবে? আর বিশ্ব রাজনীতিতে তার প্রভাবই বা কতটা পড়বে?

ট্রাম্পের হারের ৫ কারণ: কেন মুখ ফিরিয়ে নিলেন মার্কিন ভোটাররা?

US Midterm Elections: আমেরিকার মিডটার্ম নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেল ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি।জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধি থেকে শুরু করে ট্রাম্পের নীতি—রিপাবলিকানদের ভরাডুবির পাঁচটি মূল কারণ কী কী?

পিস বন্ড কী, কেন দিতে হয়? নেহা বোরার আপত্তিতে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ঔপনিবেশিক আমলের আইন

Peace Bond: শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করলেই কি দিতে হবে পিস বন্ড? AISA-র জাতীয় সভাপতি নেহা বোরার আপত্তিতে নতুন করে বিতর্কে ঔপনিবেশিক আমলের প্রতিরোধমূলক আইন। ব্রিটিশ আমল থেকে স্বাধীন ভারত, CrPC থেকে BNSS—কীভাবে বদলেছে এই আইনি ব্যবস্থা? কেন কাউকে ১০ হাজার টাকার মুচলেকা দিতে বলা হয়? কী বলছে আইন?

রামলীলা ময়দানের সভায় ভিড় দেখাতে এআই ছবি? কতটা সত্যি?

Ramlila Maidan AI image controversy: দিল্লির রামলীলা ময়দানে ১ নভেম্বরের ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সমাবেশে ভিড় ও এআই ছবি ব্যবহার নিয়ে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে বিতর্ক তুঙ্গে। ভাইরাল ছবিগুলোর সত্যতা কী?

আবের কাওয়াস: প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান মুসলিম মহিলা নিউ ইয়র্কের সিনেটে

Aber Kawas: নিউ ইয়র্কের ১২ নম্বর সিনেট ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়লেন আবের কাওয়াস। নিউ ইয়র্ক স্টেট আইনসভায় তিনি প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এবং প্রথম হিজাব পরিহিত মুসলিম মহিলা প্রতিনিধি।

প্রতিবেশীর ধর্ম দেখব না! গির্জায় হামলায় যা বলছে বাসন্তী

Basanti church: গির্জার সদস্য প্রদীপ মণ্ডল ইনস্ক্রিপ্টকে জানিয়েছেন, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ চার্চ অফ নর্থ ইন্ডিয়ার (CNI) বিশপ সুব্রত চক্রবর্তী পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েকটি গির্জার যাজকদের নিয়ে শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রা করে নারায়ণতলার নবনির্মিত গির্জায় পৌঁছন। তাঁদের স্বাগত জানাতে গির্জার ভিতরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রার্থনা শুরুর ঠিক আগে ৩০-৩৫ জনের একটি দল জোর করে গির্জায় ঢুকে পড়ে বলে দাবি তাঁর।

পাঁচ খুনের 'বদলা'? এবার গুয়াহাটিতে এনকাউন্টার পুলিশের

Guwahati Encounter: গুয়াহাটিতে হোটেলে ঢুকে পাঁচ জনকে খুনের অভিযোগে ধৃত ঘনকান্ত গগৈ পুলিশের গুলিতে নিহত। পুলিশের দাবি, হেফাজত থেকে পালিয়ে সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল সে। একই সময়ে মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস ও ভোপালে পৃথক এনকাউন্টারে তিন অভিযুক্ত গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। কয়েক দিন আগেই বাংলায় গাইঘাটা ও সামশেরগঞ্জে দুই অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছিল।

আমেরিকার প্রথম মুসলিম সেনেটর, ট্রাম্পের ইসলামবিদ্বেষী প্রচারকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন আবদুল এল-সায়েদ

Abdul El-Sayed: নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর দলের একাধিক নেতা এল-সায়েদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ইসলামবিদ্বেষী প্রচার চালিয়েছিলেন। তাঁর ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে তাঁকে আমেরিকার নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছিল।