এবার পূজিতা হবেন 'মণিপুরের মা', নারীশক্তির অন্যরূপ ফুটিয়ে তুলছেন শিল্পী ভবতোষ সুতার

Durga Idol on Manipur: দুর্গাপুজোয় যাঁদের কাজ বেশ কয়েক বছর ধরেই খ্যাতি পেয়েছে, সেই শিল্পীদের মধ্যে অন্যতম ভবতোষ সুতার। আর এবার তার হাতেই ফুটে উঠছে মণিপুরের মা।

Sohini Das
২ মিনিট
এবার পূজিতা হবেন 'মণিপুরের মা', নারীশক্তির অন্যরূপ ফুটিয়ে তুলছেন শিল্পী ভবতোষ সুতার

মণিপুর। উত্তরপূর্বের এই ছোট্ট রাজ্যটি থেকে দু-এক মাস আগে পর্যন্ত দফায় দফায় এসেছে হিংসার খবর। নারী নির্যাতনের যে নজির দেখেছে বিশ্ব, তা যে কোনও সভ্য সমাজের ব্যাখ্যার বাইরে। একবার নয়, বারবার এমনই ভয়াবহ নারী নির্যাতনের ইতিহাসের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে মণিপুর। মনোরমা থেকে শুরু করে আজকের মণিপুরের নগ্নিকা, এতদিন পরেও বদলায়নি কিছুই। সেই মণিপুরের মা-কেই এবার মাটি-তুলিতে ফুটিয়ে তুলছেন কলকাতার এক শিল্পী। এ বছরের শারদোৎসবে দুর্গারূপে পূজিত হতে চলেছেন সেই মণিপুরের মা-ই।

দিনের পর দিন ধরে অকথ্য নির্যাতন চলেছে মণিপুরের মেয়েদের উপরে। জাতি সংঘর্ষের নামে চলেছে অপরিসীম হিংসা। এমনকী নগ্ন করে হাঁটানো হয় মণিপুরের দুই কন্যাকে। সেই ছবি ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। যা দেখে ভয়ে শিউরে উঠেছিল গোটা দেশ মায় বিশ্ব। নড়েচড়ে বসেন রাষ্ট্রনেতারা, বিশ্বের মানবাধিকার সংগঠনগুলির ঘুম ওড়ে। তার পরেও পরিস্থিতি বদলায়নি। বিশ্বের সামনে সেসব ছবি আসা বন্ধ হয়েছে শুধু। এবার সেই অপরিসীম হিংসার বিরুদ্ধেই প্রতিবাদ শানাল কলকাতার একটি দুর্গাপুজো কমিটি।

দুর্গাপুজোয় যাঁদের কাজ বেশ কয়েক বছর ধরেই খ্যাতি পেয়েছে, সেই শিল্পীদের মধ্যে অন্যতম ভবতোষ সুতার। আর এবার তার হাতেই ফুটে উঠছে মণিপুরের মা। এবারের দুর্গা প্রতিমা বানাতে গিয়ে শিল্পীর ভাবনায় রয়েছে সেই মণিপুর। থিম পুজো কলকাতায় কোনও নতুন বিষয় নয়। বহু বছর ধরেই কলকাতার বড় প্যান্ডেলগুলির ক্ষেত্রে কাজ করেছে বিশেষ কোনও বিষয় ভাবনা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
উত্তর কলকাতায় নামছে বিক্রম ল্যান্ডার! দুর্গাপুজোয় যে বিশাল চমক পাচ্ছে কলকাতাবাসী

Durga Puja 2023 : ২৩ অগাস্ট চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে যে বিক্রম ল্যান্ডারটি অবতরণ করেছে তার আদলেই প্যান্ডেলের নকশা গড়া হবে।

এবার কলকাতার বাগুইআটি এলাকার একটি সর্বজনীন দুর্গাপুজোর থিম হিসেবে মণিপুরকে বেছে নিয়েছেন শিল্পী ভবতোষ সুতার। প্যান্ডেল জুড়ে থাকছেন সাধারণ শাড়ি পরিহিত মণিপুরের মা- দুর্গা। দৃঢ়চেতা তাঁর চেহারা। পাশে লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক এবং গণেশকে নিয়ে একটি শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দিচ্ছেন মণিপুরের সেই মা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মৃৎশিল্পীর ভুলে দেবী হয়ে গেলেন নীল, কৃষ্ণনগরের দুর্গাপুজোর ইতিহাস আজও বিস্ময় জাগায়

Durgapuja 2022: নদিয়া জেলার বহু বনেদিবাড়ি যুগ যুগ ধরে শামিল হচ্ছে এই উৎসবে। আজ মায়ের বিদায়-লগ্নে ছুঁয়ে দেখা সেইসব ঐতিহ্যকে।

ভবতোষ সুতার জানিয়েছেন, মণিপুরের সামগ্রিক পরিস্থিতি তাঁকে যন্ত্রণা দিয়েছে। আর সেই যন্ত্রণাকেই তিনি মাটি আর রঙে তুলির মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন। ভবতোষ জানান, নারীকে সমাজ দেবীর আসনে বসায়, দেবী দুর্গা, কালীর মতো স্ত্রীশক্তিকে পুজো করে, সেই সমাজেই নারীকে চাঁদমারি করে চলে হামলা। সেই সমাজই নারীর পোশাক নিয়ে তাঁকে অসম্মান করে। যে কোনও দেশের প্রতিটি যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হন নারীরাই। সহজ লক্ষবস্তু যেন তাঁরাই। সেই আশ্চর্য সমাজব্যবস্থারই বিরোধিতা করেছেন শিল্পী তাঁর কাজের মাধ্যমে।

শিল্পী জানিয়েছেন, তাঁর এই মণিপুরের দুর্গা প্রতিমাটির গঠন হবে রুক্ষ। বেশিরভাগ দুর্গাপ্রতিমার ক্ষেত্রে যে মসৃণতা লক্ষ্য করা যায়, তা থাকছে না এক্ষেত্রে। বরং নারীদের জীবন, বিশেষত মণিপুরের মায়েদের জীবন যেমন রুক্ষ, সেই রুক্ষতাকেই প্রতিমার মাধ্যমে তুলে ধরতে চেয়েছেন তিনি। সেই দেবীর সন্তানেরা মিশে থাকবেন ভিড়ে, লোকের মাঝে। সমসাময়িক পরিস্থিতির যে কঠিন রূপ তাকেই উৎসবের মেজাজে তুলে ধরেছেন ভবতোষ সুতার।

প্রতিবছরই তাঁর গড়া প্রতিমার থিমে ছড়িয়ে থাকে সমসাময়িক পরিস্থিতির ছবি। গত বছর অভিবাসী শ্রমিকদের ঘরে ফেরার ছবি তুলে ধরেছিলেন তিনি প্রতিমার মাধ্যমে। এবারও তেমনই একটি ভাবনাকে দুর্গাপুজোর মাধ্যমে ফুটিয়ে তুললেন শিল্পী বাগুইআটির অর্জুনপুর পুজো মণ্ডপে। সমাজ নারীদের নিয়ে সচেতন হোক, শুধু দেবী হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবে সম্মান করুক, পাশাপাশি মণিপুরের পরিস্থিতির কথা ছড়িয়ে পড়ুক জনসাধারণের মধ্যে, সেই বার্তাটুকু পৌঁছে দিতেই এই প্রচেষ্টা বলে জানিয়েছে মণ্ডপ কর্তৃপক্ষ।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।

দুর্গা মুখ তুলে তাকাবেন হকারদের দিকে?

Durga Puja Economy in Bengal: কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব, অসংগঠিত অর্থনীতির সংকট, হকার উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের আবহে কতটা সুরক্ষিত থাকবে শারদোৎসবের নিজস্ব চরিত্র? পুজোর জৌলুস বাড়লেও নাগরিক স্বাধীনতা, শিল্পের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হবে?

দুর্গাপুজোর উৎসব, অসুরের শোক: বাংলার ইতিহাসে কার জয়, কার পরাজয়?

Mahishasur Puja: ২০১১-র পুরুলিয়া পার করে ২০১৪-র মালদার গাজল। নিত্যানন্দ হেমব্রমরা শুরু করলেন অসুর আন্দোলন। ততদিনে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে অসুর পুজোর সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। কেউ মূর্তি বানিয়ে মহিষাসুর স্মরণ করেন, কেউ ফ্লেক্স বানিয়ে আলোচনা সভা।

প্রতিদিন বদলায় মেনু, বদলায় খাবারের দাম: তবু স্বাদে অটুট কলকাতার সিদ্ধেশ্বরী আশ্রম

Hotel Siddheswari Ashram: সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে চোখ পড়বে সুবিশাল মেনু বোর্ডে, যাতে মুদ্রিত আছে হোটেলটির সামগ্রিক খাদ্য সমাহার। বোর্ডটিতে সেই দিনের প্রাপ্ত পদের পাশে চকখড়িতে হাতে লেখা সেই দিনের দাম। আর অতি অবশ্যই বাংলা ও ইংরাজিতে লেখা থাকে তারিখ।

যে দুর্গাবাড়ির পঞ্চমুণ্ডির আসনে আজও বসেন দেবী, সেখানেই একদিন শপথ নিতেন বিপ্লবীরা

Gangarampur Durgabari,: তন্ত্রশাস্ত্র অনুসারে, পঞ্চমুণ্ডি আসন সাধারণ কোনো বেদি নয়। পাঁচটি নির্দিষ্ট খুলি বা করোটি—যেমন চণ্ডাল বা ডোমের, শিয়ালের, বেজি বা নেউলের, বিষধর সাপের এবং হনুমানের খুলি মাটির নিচে নির্দিষ্ট নিয়মে পুঁতে এই আসন তৈরি করা হয়।