হারিয়ে ফেলা প্রাণীদের খোঁজ! জানেন কী কী আছে এই 'ঠান্ডা' চিড়িয়াখানায়?

San Diego Frozen Zoo: ক্যালিফর্নিয়ার সান ডিয়েগোতে প্রায় ১৮০০ একর জায়গা জুড়ে রয়েছে এই ফ্রজেন চিড়িয়াখানা। বিশ্বের বৃহত্তম ও প্রাচীনতম হিমায়িত চিড়িয়াখানা নাকি এটাই।

Sohini Das
৩ মিনিট
হারিয়ে ফেলা প্রাণীদের খোঁজ! জানেন কী কী আছে এই 'ঠান্ডা' চিড়িয়াখানায়?

চিড়িয়াখানা মানেই তো চেনা-অচেনা পশুপাখিদের ভিড়। যাদের সচরাচর রাস্তাঘাটে দেখা যায় না, তাদের জন্য এক নিরাপদ সংরক্ষিত জায়গা। যেখানে দর্শকেরা আসেন, নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে সেইসব পশুপাখি-প্রাণীদের দেখতে পান। কিন্তু হিমায়িত চিড়িয়ানা! এমন চিড়িয়াখানার কথা কেউ কখনও শুনেছেন কি?

ক্যালিফর্নিয়ার সান ডিয়েগোতে প্রায় ১৮০০ একর জায়গা জুড়ে রয়েছে এই ফ্রজেন জু বা চিড়িয়াখানা। বিশ্বের বৃহত্তম ও প্রাচীনতম হিমায়িত চিড়িয়াখানা নাকি এটাই। দেখতে দেখতে প্রায় ৫০ বছর হয়ে গিয়েছে এই চিড়িয়াখানার। যেখানে রয়েছে ১১ হাজারেরও বেশি নমুনা। না, বরফের বসবাসকারী প্রাণী রয়েছে এখানে, এমনটা কিন্তু নয়। বরং এই চিড়িয়াখানায় রয়েছে এমন সব প্রাণী, কয়েক হাজার বছর আগে যারা বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১৩ হাজার প্রজাতির প্রতিনিধিত্বকারী প্রাণীর নমুনা রয়েছে এখানে। না, শুধুই যে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া প্রাণীরা রয়েছে, তা-ই নয়। এই পৃথিবীতে অস্তিত্ব রয়েছে, এমন প্রাণীদের নমুনাও কিন্তু রয়েছে এই চিড়িয়াখানায়। জিরাফ থেকে গন্ডার, পিপিলিকিভূক থেকে শুরু করে বহু জানা-অজানা প্রাণীর নমুনা সংরক্ষিত রয়েছে এখানে।

আশ্চর্যের ব্যাপার এই চিড়িয়াখানার কিউরেটর মার্লিস হক নামে এক মহিলা বিজ্ঞানী। তিনি যে দলটিকে নেতৃত্ব দেন, তাঁরা সকলেই মহিলা। কিন্তু কী রাখা হয় এই হিমায়িত চিড়িয়াখানায়। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, তাঁরা মৃত প্রাণীদের শরীর থেকে কলাকোষগুলির নমুনা সংগ্রহ করেন। এবং সেগুলিকে হিমায়িত করে সঞ্চয় করেন। ভাবছেন নিশ্চয়ই, এ আবার কেমন চিড়িয়াখানা। মৃত জীবজন্তুদের কলাকোষ সংরক্ষণ করে হবেই বা কী?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
জলেস্থলে অবাধ বিচরণ! দেখা মিলল পৃথিবীর ভয়ঙ্করতম পাখির

World's most dangerous bird: সব পাখিকে পিছনে ফেলে সম্প্রতি সামনে এসেছে পৃথিবীর বিপজ্জনকতম পাখিটির নাম। বনে-জঙ্গলে বা স্থলে তো বটেই, একই সঙ্গে জলেও নাকি সমান দক্ষ এই আশ্চর্য পাখিটি।

তবে এই সংরক্ষণ কিন্তু আদপেই সহজ নয়। আসলে বিজ্ঞানীরা প্রাণীদেহ থেকে সংগৃহীত কলাকোষগুলিকে একপ্রকার চাষ করেনই বলা যায়। প্রথমে তাঁর কোষগুলিকে হিমায়িত করা হয়, এবং তার পর সেগুলিকে তরলিকৃত নাইট্রোজেনে সংরক্ষিত করা হয়। বিজ্ঞানীদের দাবি, ওই কলাকোষগুলি থেকে নতুন করে পুনর্জন্ম হতে পারে ওই সব প্রাণীদের।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
রাত ৯ টায় রহস্যময় গর্জন! হাজারে হাজারে মানুষ পশুকে খুন করেছিল বিশ্বের বীভৎসতম এই হ্রদ

Dangerous Lake of The World: রাত ৯ টা নাগাদ, যখন সেই গর্জন শোনা যায়, মোটামুটিভাবে যে যেখানে ছিল মারা যায়!

সহজ নয় অবশ্য এই প্রক্রিয়া। কার্যত সময়ের উল্টোস্রোতে এ যেন এক লড়াই। পৃথিবীর সমস্ত প্রাণীর ক্ষেত্রেই শেষ কথা বলে আসলে জিন। সে মানুষই হোক, বা জীবজন্তু-পশুপাখি। সান ফ্রান্সিসকোর এই হিমায়িত চিড়িয়াখানা আসলে সেই কাজটাই করছে। তারা সংগ্রহ করে রাখছে ভীষণ জরুরি সেই জেনেটিক উপাদানকেই।

পৃথিবীর জলবায়ু খুব দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে। বাড়ছে উষ্ণায়ন। গলে যাচ্ছে পৃথিবীর সমস্ত হিমবাহ। যার ফলে জল বাড়ছে সমুদ্রের। বিপাকে পড়ছে সামুদ্রিক প্রাণীরা। প্রায় প্রতিদিনই এক পা এক পা করে বিলুপ্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে জীববৈচিত্র্য। সময় ও প্রকৃতির সঙ্গে যুঝে উঠতে না পেরে একদিন হারিয়ে গিয়েছিল ডায়নোসর। আরও বহু প্রাণী ইতিমধ্যেই হারিয়ে গিয়েছে পৃথিবী থেকে। বিলুপ্তির পথে বহু প্রাণীই। পৃথিবীর পরিবেশ যেভাবে দ্রুত গতিতে পাল্টে যাচ্ছে, তাতে সেই আশঙ্কা বাড়ছে বই কমছে না। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে সান ফ্রান্সিসকোর এই হিমায়িত চিড়িয়াখানা কিন্তু সভ্যতার আস্ত একটি বৈজ্ঞানিক দলিল।

১৯৭২ সালে কার্ট বেনিরস্ক নামে এক মার্কিন-জার্মান প্যাথোলজিস্ট এই চিড়িয়াখানার শুরু করেন। সেটি ছিল সান দিয়েগো ইউনিভার্সিটির ল্যাবরটরি। প্রাথমিক ভাবে সেখানে তিনি বিভিন্ন প্রাণীর চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা শুরু করেন। পরে নমুনা বাড়তে থাকায় সেটিকে অন্যোত্র স্থানান্তরিত করা হয়। সে সময় সাধারণ ক্রোমোজোম নিয়ে গবেষণা ছাড়া আর কোনও প্রযুক্তি আবিষ্কার হয়নি এ সংক্রান্ত। কিন্তু বেনরস্ক সবসময় মার্কিন ইতিহাসবিদ ড্যানিয়েল বুর্স্টিনের একটা উক্তি মেনে চলেছেন জীবনে। ড্যানিয়েল বলতেন,"You must collect things for reasons you don't yet understand." অর্থাৎ, মানুষের এমন নমুনা সংগ্রহ করা যাওয়া উচিত, যা কেন করছে সে জানে না। । আর সেই কাজটাই এক মনে করে গিয়েছিলেন বেনিরস্করা। যে ব্যাটন আজ হাতে তুলে নিয়েছে মার্লিস ও তাঁর দলবল। কে বলতে পারে, সান দিয়োগের এই চিড়িয়াখানার দৌলতেই ফের পৃথিবীতে ফিরে আসবে হারিয়ে যাওয়া কোনও পাখি। যার গল্প আমরা কেবল বইয়ে পড়েছি বা সিনেমায় দেখেছি গ্রাফিক্সের কারসাজিতে।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের আগে যে ভুলগুলি এড়ানো জরুরি

Stock Market Psychology: শেয়ারবাজারে একজন বিনিয়োগকারীর সবচেয়ে বড় সমস্যা অনেক সময় সে নিজেই। আজকের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক বাজারে এই পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। কারণ এখন সমস্যা তথ্যের অভাব নয়, বরং তথ্যের অতিরিক্ত প্রবাহ।

মহাবিশ্বকে বুঝতে গিয়ে সমাজকে ভুলে যাননি অশোক সেন

পিএইচডির প্রথম প্রায় তিন বছর তাঁর গবেষণায় কোনো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতিই হয়নি। চারদিকে শুধু স্থবিরতা। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী যেখানে এমন পরিস্থিতিতে ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন বা হতাশ হয়ে পড়েন, অশোক সেন তা করেননি।

মেষ নয়, হায়াডিস? ভ্যান গগের ‘স্টারি নাইট’ নিয়ে কী বলছে নতুন গবেষণা?

The Starry Night mystery: এর আগে দীর্ঘকাল ধরে ধারণা করা হতো যে ভ্যান গগের আঁকা ছবিটির উপরের অংশটি মেষ রাশির কোনো তারামণ্ডল। তবে, সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নালে প্রকাশিত 'দ্য অ্যাকচুয়াল স্কাই অফ ভ্যান গগস স্টারি নাইট: এ মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিঅকনস্ট্রাকশন' নামক গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, ভ্যান গগের ছবির কেন্দ্রীয় পাঁচ তারার বিন্যাস মেষ রাশির সঙ্গে নয়, বরং হায়াডিস নক্ষত্রপুঞ্জের সঙ্গে নিখুঁতভাবে মেলে।

ডার্কওয়েবে SBI-র তথ্য ফাঁস, কতটা সুরক্ষিত আপনার সঞ্চয়? যা জানাচ্ছেন সাইবার বিশেষজ্ঞ

সন্দীপ সেনগুপ্তের পরামর্শ, যাঁদের তথ্য ফাঁস হয়েছে বলে আশঙ্কা রয়েছে, তাঁদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তিনি এমনকি ব্যাঙ্কে রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর পরিবর্তন এবং নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার কথাও বলেছেন।

আইনস্টাইনের কাল্পনিক পরীক্ষা এবার বাস্তবে, কোয়ান্টাম জগতের কণা-তরঙ্গ রহস্যের কী হলো?

Einstein Bohr quantum debate: সম্প্রতি ১০০ বছর আগের আইনস্টাইনের সেই কাল্পনিক পরীক্ষাটি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অব চায়না (USTC)-এর বিখ্যাত কোয়ান্টামবিজ্ঞানী জিয়ান-উই প্যান (Jian-Wei Pan) এবং তাঁর সহকর্মীরা ল্যাবরেটরিতে বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন।

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?