ব্রিটেনের মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ! মাসি শেখ হাসিনার সঙ্গে দুর্নীতিতে যুক্ত টিউলিপ সিদ্দিকও?

Tulip Siddiq resigns: টিউলিপ সিদ্দিক ছিলেন নগর ও দুর্নীতিবিরোধী মন্ত্রী। শেখ হাসিনার শাসনামলে তাঁকে ও পরিবারকে দেওয়া সম্পত্তি ব্যবহারের বিষয়ে বেনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

inscript
৩ মিনিট
ব্রিটেনের মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ! মাসি শেখ হাসিনার সঙ্গে দুর্নীতিতে যুক্ত টিউলিপ সিদ্দিকও?

অর্থমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন টিউলিপ সিদ্দিক। সম্পর্কে তিনি শেখ হাসিনার বোনের কন্যা। এই পরিচয়, বাংলাদেশের অস্থিরতা এবং ব্রিটিশ মন্ত্রিসভার সদস্য হওয়া — তিনটি মিলে এক জটিল সমীকরণ যে রয়েছে তা সহজেই অনুমেয়। শেখ হাসিনার সঙ্গে আর্থিক সম্পর্কের বিষয়ে বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরেই নানা অভিযোগ উঠেছিল টিউলিপের বিরুদ্ধে। অবশেষে পদত্যাগ করলেন টিউলিপ। গত বছর অগাস্টে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতাচ্যুত হন শেখ হাসিনা। তারপর থেকে তার পরিবারের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নাম জড়িয়ে যায় টিউলিপ সিদ্দিক্কেরও। টিউলিপ বারবারই কোনওধরনের অপরাধ বা অন্যায়ের কথা অস্বীকার করেছেন। এমনকী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও গত সপ্তাহে বলেছিলেন যে টিউলিপের প্রতি পূর্ণ আস্থা রয়েছে তাঁর। তবু পদত্যাগ এড়ানো গেল না। শেখ হাসিনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে সরকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে স্বীকার করে অর্থমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন টিউলিপ।

আর্থিক পরিষেবার নীতির দায়িত্ব ছিল টিউলিপের হাতে। টাকা নয়ছয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়ভারও ছিল তাঁরই দায়িত্বে। এক বিবৃতিতে টিউলিপ সিদ্দিক বলেছিলেন, যদিও তাঁর আর্থিক বিষয়গুলির তদন্তে দেখা গেছে যে তিনি মন্ত্রীর আচরণবিধি লঙ্ঘন করেননি, তবে তাঁর অবস্থান "সরকারের কাজে বিভ্রান্তির কারণ হতে পারে। "তাই আমি মন্ত্রীর অবস্থান থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি," জানিয়েছেন তিনি।

টিউলিপ সিদ্দিক ছিলেন নগর ও দুর্নীতিবিরোধী মন্ত্রী। শেখ হাসিনার শাসনামলে তাঁকে ও পরিবারকে দেওয়া সম্পত্তি ব্যবহারের বিষয়ে বেনিয়মের অভিযোগ ওঠে। মন্ত্রীদের মানদণ্ড বিষয়ক উপদেষ্টা লরি ম্যাগনাসের তদন্তের পরে সরে দাঁড়ালেন টিউলিপ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
৮০ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ! যে ভয়াবহ অভিযোগ উঠছে হাসিনা ও পরিবারের বিরুদ্ধে

Sheikh Hasina Corruption: অভিযোগ, শেখ হাসিনা, পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ও ভাগ্নী টিউলিপ সিদ্দিক তাঁদের মালয়েশিয়ার ব্যাঙ্কের মাধ্যমে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৫ বিলিয়ন বা ৫০০ কোটি ডলার লোপাট করেছেন।

তবে বাড়ির ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনও নিয়মভঙ্গ করেছেন বলে মনে করেননি ম্যাগনাস। এমনকী টিউলিপ সিদ্দিকের সম্পত্তির বৈধ উপায় ছাড়া অন্য কোনওভাবে ব্যবহৃত হয়েছেন বলেও কোনও প্রমাণ তিনি পাননি। তদন্তে মস্কোতে টিউলিপের মাসি শেখ হাসিনা এবং ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে ২০১৩ সালের পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরের সময় টিউলিপের উপস্থিতির বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হয়। উপদেষ্টা ম্যাগনাস জানান, টিউলিপ সেখানে কেবল সামাজিকভাবে এবং একজন পর্যটক হিসেবেই উপস্থিত ছিলেন।

তবে ম্যাগনাস আরও বলেছেন, নথির অভাব এবং সময়ের ব্যবধানের কারণে তিনি সংবাদমাধ্যমে উল্লিখিত যুক্তরাজ্যের সম্পত্তি সম্পর্কিত সমস্ত বিষয়গুলিকে খতিয়ে দেখতে পারেননি। ম্যাগনাস প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরেই টিউলিপ পদত্যাগ করলেন এই জায়গা থেকে যে, পরিস্থিতি সরকারের জন্য বিভ্রান্তির কারণ হয়ে উঠছে। টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার সরকারের পতন এবং আওয়ামী লীগের শাসনামলে হওয়া ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষও তদন্ত করছে। এখানে উল্লেখ্য, গত বছর জালিয়াতির জন্য দোষী সাব্যস্ত হওয়ার কারণে পরিবহণ সচিবের পদ থেকে পদত্যাগ করেন লুইস হাই। প্রতিবেদনে কিছু না থাকার পরেও পদত্যাগ করে কি আখেরে অভিযোগ স্বীকারই করে নিলেন টিউলিপ?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
লক্ষ কোটি টাকার ঘুষ, অনিয়ম! হাসিনার আওয়ামী লীগের দুর্নীতির যে চিত্র উঠে এল শ্বেতপত্রে

Sheikh Hasina Corruption: শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বাংলাদেশ থেকে নাকি গড়ে প্রতি বছর ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছিল, শেখ হাসিনার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত মানুষদের সঙ্গে যুক্ত সম্পত্তিতে থাকতেন টিউলিপ। এর মধ্যে রয়েছে সেন্ট্রাল লন্ডনের কিংস ক্রসের কাছে একটি দুই বেডরুমের ফ্ল্যাট, যা তাঁকে ২০০৪ সালে এমন একজন ব্যক্তি উপহার দেন যিনি শেখ হাসিনার সরকারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। টিউলিপ সিদ্দিক বলেছিলেন, এই সম্পত্তিটি তাঁর বাবা-মা তাঁকে দিয়েছিলেন এবং ম্যাগনাসকে তিনি বলেন, সম্প্রতিই নাকি টিউলিপ জানতে পেরেছিলেন যে ফ্ল্যাটটি আসলে একজন বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে উপহার হিসাবে পাওয়া।

টিউলিপ হ্যাম্পস্টেডে একটি ফ্ল্যাটেও থাকতেন যা ২০০৯ সালে তাঁর বোনকে দেওয়া হয়েছিল। এই ফ্ল্যাটটিও প্রাক্তন বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত আরেক ব্যবসায়ী উপহার দেন। নির্বাচনী এলাকায় নিজের একটি ফ্ল্যাট থাকা সত্ত্বেও টিউলিপ সিদ্দিক বর্তমানে তাঁর মাসি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দলের যুক্তরাজ্য শাখার সঙ্গে যুক্ত একজন ব্যবসায়ীর মালিকানাধীন সম্পত্তিতে বসবাস করছেন।

২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশ শাসন করেছেন শেখ হাসিনা। তাঁর সরকারের পতনের পর দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের সন্দেহের ভিত্তিতে হাসিনা ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বাংলাদেশের নানা প্রকল্পের তহবিল থেকে বিদেশে টাকা পাচার হয়েছে কিনা এই সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকার টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধেও তদন্ত করছে। বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন অভিযোগ করেছে, ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলারের পারমাণবিক বিদ্যুৎ চুক্তিতে কোটি কোটি ডলার নয়ছয় হয়েছে, যা আখেরে গিয়েছে শেখ হাসিনা এবং টিউলিপ সিদ্দিকের ভাঁড়ারে।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মহম্মদ ইউনূস বলেছেন, হাসিনা সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যে সম্পত্তি ও টাকা তছরুপের অভিযোগ উঠেছে, বাংলাদেশের চুরি হওয়া তহবিল বিদেশের পাচার নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে অবশ্যই সেসবের সম্পূর্ণ তদন্ত করা হবে। যদি টাকা আত্মসাৎ করে ব্যক্তিগতভাবে উপকৃত হওয়ার প্রমাণ মেলে, তাহলে সেই সম্পদ বাংলাদেশে ফেরানোর আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

অধ্যাপক ইউনূস লন্ডনের সানডে টাইমসকে বলেছেন, "টিউলিপ সিদ্দিক হয়তো লন্ডনে যে অর্থ ও সম্পত্তি উপভোগ করছেন তার উত্স পুরোপুরি বুঝতে পারেননি, তবে তিনি এখন বুঝতে পারছেন এবং এখন বাংলাদেশের লোকদের কাছ থেকে ক্ষমা চাইতে হবে তাঁকে"।

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

আবের কাওয়াস: প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান মুসলিম মহিলা নিউ ইয়র্কের সিনেটে

Aber Kawas: নিউ ইয়র্কের ১২ নম্বর সিনেট ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়লেন আবের কাওয়াস। নিউ ইয়র্ক স্টেট আইনসভায় তিনি প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এবং প্রথম হিজাব পরিহিত মুসলিম মহিলা প্রতিনিধি।

প্রতিবেশীর ধর্ম দেখব না! গির্জায় হামলায় যা বলছে বাসন্তী

Basanti church: গির্জার সদস্য প্রদীপ মণ্ডল ইনস্ক্রিপ্টকে জানিয়েছেন, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ চার্চ অফ নর্থ ইন্ডিয়ার (CNI) বিশপ সুব্রত চক্রবর্তী পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েকটি গির্জার যাজকদের নিয়ে শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রা করে নারায়ণতলার নবনির্মিত গির্জায় পৌঁছন। তাঁদের স্বাগত জানাতে গির্জার ভিতরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রার্থনা শুরুর ঠিক আগে ৩০-৩৫ জনের একটি দল জোর করে গির্জায় ঢুকে পড়ে বলে দাবি তাঁর।

পাঁচ খুনের 'বদলা'? এবার গুয়াহাটিতে এনকাউন্টার পুলিশের

Guwahati Encounter: গুয়াহাটিতে হোটেলে ঢুকে পাঁচ জনকে খুনের অভিযোগে ধৃত ঘনকান্ত গগৈ পুলিশের গুলিতে নিহত। পুলিশের দাবি, হেফাজত থেকে পালিয়ে সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল সে। একই সময়ে মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস ও ভোপালে পৃথক এনকাউন্টারে তিন অভিযুক্ত গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। কয়েক দিন আগেই বাংলায় গাইঘাটা ও সামশেরগঞ্জে দুই অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছিল।

আমেরিকার প্রথম মুসলিম সেনেটর, ট্রাম্পের ইসলামবিদ্বেষী প্রচারকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন আবদুল এল-সায়েদ

Abdul El-Sayed: নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর দলের একাধিক নেতা এল-সায়েদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ইসলামবিদ্বেষী প্রচার চালিয়েছিলেন। তাঁর ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে তাঁকে আমেরিকার নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছিল।

কেন মিডটার্ম নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

US Midterm Elections 2026: মার্কিন মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধাক্কা। কেন ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

মিডটার্ম নির্বাচন: সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেতে চলেছে ট্রাম্পের বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা

US Midterm Elections 2026: ভোটের লড়াইয়ে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে শুরু করেছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা।

রামলীলার পর কী? কী করবেন বিরোধীরা?

INDIA bloc Unity Under strain: ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানে ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে ২১ দল একজোট হলেও মঞ্চ শেষেই ভেতরের টানাপোড়েন স্পষ্ট। বাম নেতাদের বক্তৃতায় প্রাধান্য, ‘ফ্যাসিবাদ’ বিরোধী সুর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জাতীয় ভূমিকা’র সতর্কবার্তা। প্রিয়াঙ্কা, সুপ্রিয়া সুলে, সঞ্জয় রাউত বক্তৃতার সুযোগ না পাওয়ায় শরিক-অসন্তোষ।

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে বিপাকে ভারতীয়রা, মিডটার্ম নির্বাচনে কতটা প্রভাব পড়বে?

US Midterm Elections 2026: ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটারদের ৬২% ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে। ট্রাম্পের এইচ-১বি ভিসা কড়াকড়ি ও অর্থনৈতিক নীতির জেরে ক্ষোভ বাড়ছে বলে জানাল কার্নেগির সমীক্ষা।