'ওগো আমার শুয়োর'! ফরাসিদের বিচিত্র ডাকনামের আজব কিসসা

French Pet Names: ফরাসি সমাজে ডাকনাম নেই, ফরাসিদের আছে আদরের নাম। বাড়ির ছোটদের, প্রেমিক-প্রেমিকাকে, যে কোনও প্রিয়জনকে নানা মজার নামে ডাকে ফরাসিরা।

shreejata
৫ মিনিট
'ওগো আমার শুয়োর'! ফরাসিদের বিচিত্র ডাকনামের আজব কিসসা

প্রথমবার ইউরোপে পড়াশোনা করতে এসে বুঝেছিলাম, পাসপোর্টে যে নাম নিয়ে এই মহাদেশে এলাম, তাই দিয়ে বেশিদিন চালানো যাবে না। তালব্য-শ বলতে বেশিরভাগ দেশ হিমশিম খায়, তার উপর আবার যুক্তাক্ষর 'র'। 'জ' কে কোনও দেশে 'হ' বলে তো কোনও দেশে 'য়', আবার কোথাও একটু 'জ়' মিশে যায়। সব মিলিয়ে, সহপাঠী বা প্রফেসররা যখন আমার নাম ধরে ডাকছেন, আমার স্বতঃস্ফূর্ত উত্তর আসে না, কারণ নানা নতুন উচ্চারণে আমার কানে নিজের নামই নিজের মতো শোনাত না।

সাধ করে রাখা ডাকনাম এদেশে অফিসিয়াল নাম হিসেবে চালু হলো। এখনও তাই চলছে। সকলে হাঁফ ছাড়ল, ছোট সিলেবল, আর কোনও জটিলতা নেই। জটিল হলো এরপরের প্রশ্নপর্ব। খানিক চেনাশোনা বাড়লে, বন্ধুত্ব গভীর হলে, ভালোনাম আর ডাকনামের মধ্যে অমিল নিয়ে অদ্ভূত কৌতূহল প্রকাশ করছে অনেকে। ফ্রান্সে এই কৌতূহল বেশ সিরিয়াস আকার ধারণ করল। স্বভাব জিজ্ঞাসু ফরাসিরা প্রথম আলাপেই শুরু করে প্রশ্নবাণ।

ভালোনাম আর ডাকনাম আলাদা কেন? একই লোকের দুটো নাম কেন? এর ফলে ছোট থেকেই এক্সিস্টেনশিয়াল ক্রাইসিসে ভুগেছি না কি ব্যক্তিত্বের ব্যাপ্তি ঘটেছে? অত তো জানি না, তবে আমার একটি নয়, দু'টি নয় — জন্মের সময় তিন-চারটি নাম দেওয়া হয়েছিল আর সেসব নামের আলাদা আলাদা অর্থ! শুনে খুবই ঘাবড়ে যায় ফরাসি বন্ধুরা। এ আবার কী? আমার কি তবে আরও গুরুতর এক্সিস্টেনশিয়াল ক্রাইসিস? কোন নামে আমি বেশি স্বচ্ছন্দ? কোনও পক্ষপাতিত্ব নেই শুনে খুবই অস্বস্তিতে ভোগে ফরাসিরা।

বাঙালির নামকরণপ্রীতি নিয়ে তখন ওদের অনেক গল্প বলি, সে কথা এখানে নতুন করে কিছু বলার নেই। বাঙালির এই বৈশিষ্ট্য অন্যান্য ভারতীয়দের মধ্যেও বিরল। বাঙালি শিশুর নামকরণ পর্ব এক অন্য শিল্প; অথবা যুদ্ধপরিস্থিতি (এ প্রসঙ্গে আলেকসান্দ্র দ্য লা পাতলিয়ের ও মাথিউ দেলাপোর্ত-এর নির্দেশনায় 'Le prenom' ছবিটি এইখানে রেফারেন্স হিসেবে রাখলাম)।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বাজার করা একটা আর্ট! কাঁচা সবজির বাজারে যেভাবে মিলে যায় বঙ্গ-ফরাসি মন

French Vegetable Market: পাড়ার বাজারগুলি উঠে গেলে সামাজিক আদানপ্রদানের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু আমরা হারিয়ে ফেলব। কলকাতায়, মার্সেই-তে, প্যারিসে, মুম্বইয়ে, সর্বত্র।

শুনেছি বাঙালি নামে এখন নিউমেরোলজি-অ্যাস্ট্রোলজির চক্কর ঢুকেছে। আমাদের সময়ে ছিল অভিধান নিয়ে নাম বাছতে বসা! উপন্যাসে পড়া নতুন নামের ইতিহাস-ভূগোল নিয়ে গবেষণা, তারপর কাউকে নাম 'দেওয়া' হতো। উপহারের মতো। সে নাম হবে অর্থপূর্ণ, অচেনা হলে আরও ভালো! শব্দের অর্থগুণ শিশুটির আগামী জীবনে পাথেয় হবে। সব শিশু একদিন অমলকান্তির মতো রোদ্দুর হতে পারবে।

ফরাসিদের নামে আকর্ষণ আছে, মেলোডি আছে, বৈচিত্র্য নেই। কবিতার দেশে, ছবির এই দেশে নামকরণে কল্পনার অভাব, রোমান্টিকতা বাড়ন্ত। এর কারণ ফরাসি আইনি এবং সামাজিক কাঠামো। অতীতে ঐতিহ্যবাহী খ্রিস্টান নাম রক্ষার জন্য কঠোর নামকরণ আইন ছিল। সাম্প্রতিককালে এসব আইন শিথিল হয়েছে ঠিকই, তবু লাতিন (যেমন, 'Antoine' এসেছে 'Antonius' থেকে এবং 'Claude' এসেছে 'Claudius' থেকে), জার্মানি (যেমন, 'Louis' (Chlodowig) এবং 'Charles' (Karl)-এর মতো নাম যুক্ত হয়েছে) এবং কখনও আঞ্চলিক ভাষার (ব্রেটন, অক্সিতান, এবং কাতালান) প্রভাবের বাইরে খুব বেশি নাম শোনা যায় না। প্রজন্মের পর প্রজন্ম পরিবারের ভিতর ঘোরাফেরা করে একই নাম। বাঙালি পরিবারে যা ভাবাই যায় না!

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
রেডিওর সুরে এক হয়ে যায় আজও ফরাসি আর বাঙালিরা?

Radio in France: রেডিও থেকে ভাষা শেখা যায়। ফরাসি শেখার সময় আমাদের শিক্ষকরা বলতেন সারাদিন রেডিও শুনতে।

আমদের ভালোনাম আছে। আমাদের ডাকনাম আছে। দুটোই ভাল নাম। ভালোবাসার নাম (বাঙালি ভালোবাসার গুঁতোয় উদ্ভট সব ডাকনামের ফিরিস্তি এবং বিবরণ দিয়ে এখানে একটা টীকা বা কোরোলারি লেখা উচিত, যেটা অন্য কেউ লিখবেন), আমরা যাকে ডাকনাম বলি, সেই অর্থে কোনও ডাকনামের চল ফ্রান্সে নেই। একই মানুষের দু'টি নাম এখানে হয় না। কেউ চাইলে, আইনি ব্যবস্থা নিয়ে নিজের নাম বদলে ফেলতে পারে কিন্তু দু'টি পরিচয় সাধারণত রাখে কেউ না। লম্বা নাম ছোট করে ডাকার চল আছে বন্ধুদের মধ্যে, যেমন Cassandre হয়ে যায় Cass বা Jean-Paul হয়ে যায় JP। যে নিয়মে মার্কিন দেশে Michael হয়ে যায় Mike।

ডাকনাম না হয় না-ই থাকল, ফরাসিদের আছে আদরের নাম। বাড়ির ছোটদের, প্রেমিক-প্রেমিকাকে, যে কোনও প্রিয়জনকে নানা মজার নামে ডাকে ফরাসিরা। "my love", "my dear", "my little one" জাতীয় আদরের নাম তো রয়েছেই, যেমন প্রায় সব ভাষায় থাকে। এগুলো মজার নয়, ইন্টারেস্টিংও নয়। ফরাসিদের আদরের নামের লিস্টের সঙ্গে রেস্তরাঁর মেনুকার্ড গুলিয়ে যেতে পারে! ফরাসি আদরের নাম জুড়ে রয়েছে খাবারের অনুষঙ্গ!

সবচেয়ে জনপ্রিয় আদরের নাম 'mon chou' বা 'mon chou-chou', আক্ষরিক অর্থ, 'আমার বাঁধাকপি'! অন্যদিকে, ফরাসি একধরনের পেস্ট্রির নাম Choux pastry। বলা হয়, সেখান থেকে হয়তো এসেছে এই ডাক। ফরাসি রান্নাঘরের ফ্রেশ ক্রিম দিয়ে রান্না করা বাঁধাকপি বা পাড়ার প্যাতিসেরি থেকে ভ্যানিলা কাস্টার্ড ভর্তি Choux pastry-তে এক কামড় না বসালে এ-মিঠে আদরের ভাগ পাওয়া যাবে না।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সর্ষের ভিতর ভূত না, সর্ষের মধ্যে সুখ পেয়েছে ভোজনবিলাসী বাঙালি ও ফরাসি

French Mustard: ফ্রেঞ্চ মাস্টার্ডের সঙ্গে সর্ষে বাটায় মাছ বা বাটি চচ্চড়ির মিল কম। বরং এ যেন কাসুন্দির তুতো-বোন। দু'টিই আচার।

প্রিয় মানুষ বোঝাতে ফরাসিরা বলে থাকে 'mon canard' (আমার হাঁস), 'mon lapin' (আমার খরগোশ), 'mon poulet' (আমার মুরগি), 'mon coco (আমার ডিম; অথবা, আমার নারকেল), 'mon cochon (আমার শুয়োর)— এর নেপথ্যে পশুপ্রেম নেই, রয়েছে মাংস-প্রেম! কেবল প্রিয় খাবার নয়, এগুলি বিরল খাদ্য। বাড়িতে বিয়ে বা উৎসবে, ক্রিসমাসে বা শীতের সন্ধ্যায় কালেভদ্রে জুটত এইসব লোভনীয় মাংসের পদ! এগুলি ধনীর খাবার। রাজার ঘরে যে ধন আছে, টুনির ঘরে সে ধন এসেছে ভালোবাসার মানুষের রূপে। এমনকী বিভিন্ন বিদেশি খাবার, যার দাম বেশি এবং মোটেই সহজলভ্য নয়, সেসব নাম দেওয়া হয় কাছের মানুষদের। Ma choucroute (my sauerkraut), Ma biscotte (My rusk bread), বাচ্চাদের আদর করে ডাকা হয় এসব নামে।

Quiche নিয়ে ফরাসিদের কিঞ্চিৎ আদিখ্যেতা রয়েছে- হাজার রেসিপি, পরিবারের খাতায় লেখা রেসিপি - নানা মুনির নানা মত। Quiche Lorraine আছে, আছে বিভিন্ন অঞ্চলের quiche-এ স্পেশ্যাল ট্যুইস্ট। অপূর্ব আবেগে অভিভূত হয়ে তাই প্রেমিকাকে (প্রেমিককে ডাকা যাবে না) আদর করে ডাকা যেতে পারে Ma Quiche! তার চেয়েও দামি প্রেম হলে বলতে হবে Ma truffe— ট্রুফফ্লে, যে মাশরুম নিয়ে সারা বিশ্বের রান্নাঘরের শেফ থেকে খাদ্যরসিক এক কথায় উন্মাদ, সেই দুর্মূল্য Truffe যে জীবনে পেয়েছে (খাবারে পেলেও একই অনুভূতি, সে কথা থাক!) তার সোনায় বাঁধানো কপাল!

ফরাসিদের খাই-খাই প্রেমকথা কেবল শব্দের ব্যবহারেই সীমিত নয়। আছে দুষ্টু-মিষ্টি প্রবাদ প্রবচন। সহজেই প্রেমে পড়ে যায় এমন বন্ধু কার নেই? সেইসব বন্ধুদের উদ্দেশ্যে ফরাসিরা বলে 'Avoir un cœur d’artichaut' অর্থাৎ ওর তো artichoke-এর হৃদয়। সবজি জগতে artichoke-এর খুব দুর্নাম। বিকট বড় আকার, যার অর্ধেকটাই ফেলা যায়। অনেক কষ্টে বের করে আনা ভেতরের ছোট্ট নরম অংশ দিয়ে রান্না হয়, একে বলা হয় Heart of Artichoke। কষ্টেসৃষ্টে Artichoke হৃদয় অবধি একবার পৌঁছতে পারলে প্রেমের আর দোষ কী, সে তো বারবার হবেই!

খাদ্যরসিক বাঙালির মতো খাদ্যরসিক ফরাসির কথায় আছে "L’amour passe par l’estomac", অর্থাৎ পেটের পথেই প্রেম আসে: If you can cook, you’ll find someone! বাংলায় ঠিক এমন কোনও প্রবাদ আছে কিনা জানি না, তবে বাঙালি প্রতি মুহূর্তে এই এক কথা ভাবতে পারে, ভাবছে এবং হামেশাই বলেও থাকে। তফাৎ শুধু, ফরাসির এই প্রবাদ সবার জন্য প্রযোজ্য, বাঙালি বলে শুধু তার বাড়ির বউ-মেয়ের উদ্দেশ্যে!

শেষপাতে, যে চূড়ান্ত প্রেম খুঁজে পেয়েছে তার উদ্দেশ্যে ফরাসিরা বলে 'Vivre d’amour et d’eau fraîche'— শুধু প্রেম আর এক ঘটি ঠান্ডা জলেই জীবন চলে যাবে! নানা উপাদেয় দুর্লভ খাবারদাবারের ডাকনাম পেরিয়ে মূল উদ্দেশ্য প্রেম দিয়ে পেট ভরানো— এদের bhojonroshik ফরাসি বলব, না prembhoji ফরাসি!"

লিখেছেন
shreejata
shreejata
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।

দুর্গা মুখ তুলে তাকাবেন হকারদের দিকে?

Durga Puja Economy in Bengal: কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব, অসংগঠিত অর্থনীতির সংকট, হকার উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের আবহে কতটা সুরক্ষিত থাকবে শারদোৎসবের নিজস্ব চরিত্র? পুজোর জৌলুস বাড়লেও নাগরিক স্বাধীনতা, শিল্পের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হবে?

দুর্গাপুজোর উৎসব, অসুরের শোক: বাংলার ইতিহাসে কার জয়, কার পরাজয়?

Mahishasur Puja: ২০১১-র পুরুলিয়া পার করে ২০১৪-র মালদার গাজল। নিত্যানন্দ হেমব্রমরা শুরু করলেন অসুর আন্দোলন। ততদিনে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে অসুর পুজোর সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। কেউ মূর্তি বানিয়ে মহিষাসুর স্মরণ করেন, কেউ ফ্লেক্স বানিয়ে আলোচনা সভা।

প্রতিদিন বদলায় মেনু, বদলায় খাবারের দাম: তবু স্বাদে অটুট কলকাতার সিদ্ধেশ্বরী আশ্রম

Hotel Siddheswari Ashram: সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে চোখ পড়বে সুবিশাল মেনু বোর্ডে, যাতে মুদ্রিত আছে হোটেলটির সামগ্রিক খাদ্য সমাহার। বোর্ডটিতে সেই দিনের প্রাপ্ত পদের পাশে চকখড়িতে হাতে লেখা সেই দিনের দাম। আর অতি অবশ্যই বাংলা ও ইংরাজিতে লেখা থাকে তারিখ।

যে দুর্গাবাড়ির পঞ্চমুণ্ডির আসনে আজও বসেন দেবী, সেখানেই একদিন শপথ নিতেন বিপ্লবীরা

Gangarampur Durgabari,: তন্ত্রশাস্ত্র অনুসারে, পঞ্চমুণ্ডি আসন সাধারণ কোনো বেদি নয়। পাঁচটি নির্দিষ্ট খুলি বা করোটি—যেমন চণ্ডাল বা ডোমের, শিয়ালের, বেজি বা নেউলের, বিষধর সাপের এবং হনুমানের খুলি মাটির নিচে নির্দিষ্ট নিয়মে পুঁতে এই আসন তৈরি করা হয়।