প্যালেস্টাইনে যুদ্ধ থামাক ইজরায়েল, কেন অবস্থান বদলে হঠাৎ শান্তি চাইছে আমেরিকা?

Israel-Gaza war: এর আগে জাতিসঙ্ঘে ভোটের সময় 'যুদ্ধবিরতি' শব্দটিকেই এড়িয়ে গিয়েছিল আমেরিকা। আর এবার জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধবিরতি নিয়ে খসড়া প্রস্তাব উঠিয়েছে খোদ আমেরিকাই।

Sohini Das
৩ মিনিট
প্যালেস্টাইনে যুদ্ধ থামাক ইজরায়েল, কেন অবস্থান বদলে হঠাৎ শান্তি চাইছে আমেরিকা?

প্রায় পাঁচ মাস হয়ে গেলেও শান্তি ফেরেনি গাজায়। এখনও একই রকম ভাবে আগ্রাসন জারি রেখেছে ইজরায়েল। আন্তর্জাতিক আদালতে কোণঠাসা হওয়ার পরেও যুদ্ধের তীব্রতা কমায়নি বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সরকার। অক্টোবর মাসে ইজরায়েলে ঢুকে অতর্কিতে হামলা চালিয়েছিল প্যালেস্টাইনি সশস্ত্র সংগঠন হামাস। আর তার পরেই হামাসের বিরুদ্ধে, কার্যত গাজার বিরুদ্ধেই যুদ্ধঘোষণা করে দিয়েছিল ইজরায়েল। সে সময় ইজরায়েলকে সর্বৈব ভাবে মদত দিয়েছে আমেরিকা। বিশ্বের সমস্ত দেশ যুদ্ধশান্তির পক্ষে সওয়াল করলেও ইজরায়েলকে যুদ্ধের পক্ষে থাকার বার্তা দিয়ে গিয়েছে আমেরিকা। এমনকী ওই পরিস্থিতিতেই ইজরায়েলে গিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে দেখাও করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এত এত মৃত্যু, এত রক্তপাত, এত ধ্বংস দেখার পর ইজরায়েলকে যুদ্ধ থেকে সরে আসার পরামর্শ দিচ্ছে আমেরিকা।

ইতিমধ্যে ইজরায়েল রাফাহ-র বিরুদ্ধে আরও এক দফা হামলার হুমকি দিয়ে রেখেছে ইজরায়েল। নেতানিয়াহু সরকার জানিয়েছে, রমজানের মধ্যে হামাসদের কবলে থাকা বন্দিদের যদি মুক্তি না দেওয়া হয়, তাহলে রাফাহ এলাকায় নতুন করে হামলা চালাবে ইজরায়েলি সেনা। ফের স্থলহামলার আশঙ্কায় কাঁপছে গোটা প্যালেস্টাইন। এখনও পর্যন্ত ইজরায়েলের হামলায় অন্তত ২৯ হাজার ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। তার মধ্যে একটা বড় সংখ্যক অংশ জুড়ে রয়েছে শিশু। গত চার মাস ধরে হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে দক্ষিণ দিক ঘেঁষেই হামলা চালিয়ে গিয়েছে ইজরায়েলি সেনা। যার ফলে যাঁরা কোনওমতে বেঁচে গিয়েছেন যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা ও প্যালেস্টাইনের বিচ্ছিন্ন অংশে, তাঁদের শেষ বাসস্থান হয়ে উঠেছে মিশরের সীমান্ত সংলগ্ন রাফাহ এলাকা। আর এবার ইজরায়েল নিশানা করতে চাইছে প্যালেস্টাইনের সেই অন্তিম আশ্রয়টুকুকেই।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
প্যালেস্টাইনে ইজরায়েলি জবরদখলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে ৫২ দেশ! ফিরবে সুদিন?

Gaza-Israel War: ইজরায়েলের বিরুদ্ধে প্যালেস্টাইনের ভূখণ্ডে জবরদখলের অভিযোগে আন্তর্জাতিক আদালতে কাঠগড়ায় ইজরায়েল। এই প্রথম এমন একটি মামলায় ৫২টি দেশের বক্তব্য শুনবে আন্তর্জাতিক আদালত।

গাজার খান ইউনিস-সহ আশপাশের সমস্ত শরণার্থী শিবিরগুলি দখল করেছে বলে দাবি করেছে ইজরায়েল। বোঝা যাচ্ছে, গাজা-সহ একাধিক ফিলিস্তিনি এলাকার বাসিন্দারা পালিয়েছেন রাফাহ-র দিকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) সূত্রের খবর,খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালে সম্প্রতি একাধিক হামলা করেছে ইজরায়েল। বিদ্যুৎ নেই। গত কয়েক দিনে বিমান ও স্থলপথে হামলায় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে অধিকাংশই মহিলা ও শিশু। মোট জনসংখ্যার অন্তত ৮৫ শতাংশ নাগরিকই বাস্তুচ্যুত। প্রতি চারজনের মধ্যে একজনের পেটে খাবার নেই বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রসঙ্ঘ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সাত দিন ধরে টানা যোগাযোগহীন গাজা, ব্ল্যাকআউটই কি গণহত্যার নয়া 'অস্ত্র' ইজরায়েলের?

Israel War on Gaza: আপাতত গাজা স্ট্রিপ সম্পূর্ণ ভাবে অন্ধকার। এই নিয়ে প্রায় সাত দিন হতে চলল গাজায় টেলিকমিউনিকেশন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভাবে বিপর্যস্ত।

দীর্ঘদিন ধরেই যুদ্ধশান্তির পক্ষে সওয়াল করে আসছে বিশ্বের অধিকাংশ দেশই। তবে সেই তালিকায় এতদিন ছিল না আমেরিকা, ব্রিটেনের মতো বেশ কয়েকটি ক্ষমতাবান দেশ। যুদ্ধের প্রতিটি পর্যায়ে কার্যত আমেরিকার সমর্থন পেয়ে এসেছে ইজরায়েল। ইজরায়েলের সঙ্গে বরাবরই সখ্যতা বজায় রেখে চলে। গাজার বিরুদ্ধে ইজরায়েল যুদ্ধ ঘোষণার পর পরই ইজরায়েল সফরে এসেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। জো বাইডেনের পর ইজরায়েলে এসে নেতানিয়াহুর সঙ্গে দেখা করেন ইংল্য়ান্ডের প্রেসিডেন্ট ঋষি সুনকও। বাকি সমস্ত দেশ শান্তির পক্ষে কথা বললেও আমেরিকার মুখে শোনা গিয়েছে সর্বদাই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার বার্তা। সেই আমেরিকা শেষপর্যন্ত অবস্থান বদলাচ্ছে। ইজরায়েলি আগ্রাসনের মুখে যুদ্ধবিরতি চাইছে এবার আমেরিকাও।

এর আগে জাতিসঙ্ঘে ভোটের সময় 'যুদ্ধবিরতি' শব্দটিকেই এড়িয়ে গিয়েছিল আমেরিকা। আর এবার জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধবিরতি নিয়ে খসড়া প্রস্তাব উঠিয়েছে খোদ আমেরিকাই। ইজরায়েলকে পরাস্ত করতে এবার জাতিসঙ্ঘে আরও একটি খসড়া প্রস্তাব ভেটো করার পরিকল্পনা করছে জো বাইডেন সরকার। যেখানে মানবিকতার খাতিরে যুদ্ধবিরতির দাবি জানানো হবে ইজরায়েলের কাছে। এখনও পর্যন্ত যতবার ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে হামলার হুমকি দিয়েছে ইজরায়েল, তা কার্যত ঘটিয়ে ছেড়েছে তারা। ফলে ইজরায়েলের হুমকি যে ফাঁকা হুমকি নয়, তা পরিষ্কার বুঝে গিয়েছে বিশ্ব।

মিশর সীমান্ত লাগোয়া রাফাহ শহরে যুদ্ধের আগে মাত্র আড়াই লক্ষ মানুষ বসবাস করত। সেখানে এখন জনসংখ্যা কোথায় গিয়ে ঠেকেছে, বলা মুশকিল। পানীয় জল থেকে খাবার, সব কিছুর সঙ্কট দেখা গিয়েছে রাফাহ। তবু কোনও ক্রমে ইজরায়েলি হামলার থেকে মাথা বাঁচিয়ে টিকে রয়েছে মানুষগুলো। ইজরায়েল যা বলছে, সেই অনুযায়ী যদি হামলার পথে যায়, তাহলে মৃত্যুর সংখ্যা এক লহমায় বিরাট লাফ দিতে পারে বলে অনুমান করছেন বিশেষজ্ঞেরা। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের সমস্ত দেশের শান্তিপ্রস্তাবে কি সায় দেবে ইজরায়েল। অন্তত সুহৃদ জো বাইডেনের শান্তির ডাকে কি সাড়া দেবেন যুদ্ধবাজ নেতানিয়াহু। আপাতত সেই জবাবই খুঁজছে গোটা পৃথিবী।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

রামলীলার পর কী? কী করবেন বিরোধীরা?

INDIA bloc Unity Under strain: ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানে ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে ২১ দল একজোট হলেও মঞ্চ শেষেই ভেতরের টানাপোড়েন স্পষ্ট। বাম নেতাদের বক্তৃতায় প্রাধান্য, ‘ফ্যাসিবাদ’ বিরোধী সুর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জাতীয় ভূমিকা’র সতর্কবার্তা। প্রিয়াঙ্কা, সুপ্রিয়া সুলে, সঞ্জয় রাউত বক্তৃতার সুযোগ না পাওয়ায় শরিক-অসন্তোষ।

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে বিপাকে ভারতীয়রা, মিডটার্ম নির্বাচনে কতটা প্রভাব পড়বে?

US Midterm Elections 2026: ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটারদের ৬২% ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে। ট্রাম্পের এইচ-১বি ভিসা কড়াকড়ি ও অর্থনৈতিক নীতির জেরে ক্ষোভ বাড়ছে বলে জানাল কার্নেগির সমীক্ষা।

রামলীলার সভার জন্য ক্ষতি হয়েছে ছোট দোকানদারদের, কতটা প্রচার, কতটা সত্যি?

loss claim for Ramlila rally: রামলীলা ময়দানের সমাবেশ ঘিরে ছোট দোকানদারদের ‘২.৫ লক্ষ দোকান বন্ধ’ ও ‘১০-১১ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি’র দাবি আসলে, দিল্লির ব্যবসায়ী সংগঠন সিটিআই-এর অনুমান আসলে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের হিসাবের ভিত্তিতে করা হয়েছে। বিজেপি-কংগ্রেস পাল্টাপাল্টি অভিযোগে এই সংখ্যাগুলি এখন রাজনৈতিক হাতিয়ার।

এসআইআর: মূল টার্গেট ছিল বাংলা?

SIR West Bengal controversy: এসআইআরের নামে বাংলার নাগরিকদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার পরিকল্পনা কতটা সুপরিকল্পিত? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, বিচারকদের পর্যবেক্ষণ, ডিজিটাল কারচুপি ও সংখ্যালঘুদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ কী ইঙ্গিত দিচ্ছে?

শ্রমিক বিক্ষোভের নেপথ্যে আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ সরকারের অভিযোগের বাস্তব ভিত্তি কতটা?

Garment Workers' Protest in Bangladesh: বাংলাদেশে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ, আন্দোলনের পিছনে আওয়ামী লীগের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ বাংলাদেশ সরকারের। কিন্তু শ্রমিকদের অসন্তোষের নেপথ্যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, নাকি মূল্যবৃদ্ধি ও প্রকৃত মজুরি কমে যাওয়ার ক্ষোভ? সরকারের দাবির পক্ষে কতটা প্রমাণ রয়েছে?

সকালে জমা বিকেলে খরচ: আইনের শাসনের অবমাননা

Gaighata incident: গাইঘাটার ঘটনার পরমুহূর্তে শাসক দলের মন্ত্রী, নেতাদের প্রতিক্রিয়া পরিষ্কার করে দেয়, বন্দি অভিযুক্তকে হত্যার ঘটনা সরকারি নীতির ('সকালে জমা, বিকালে খরচ')—নগ্ন প্রয়োগ।

৫০ কোটি মানুষ দারিদ্র্যমুক্ত, মোদীর দাবির আড়ালে কোন পরিসংখ্যানগত বিতর্ক?

World Bank's claim about India's poverty decline: বিশ্বব্যাঙ্কের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১১-১২ থেকে ২০২২-২৩-এ ভারতের চরম দারিদ্র্য ২৭.১% থেকে ২.৬%-এ নেমেছে বলে দাবি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সেই পরিসংখ্যানকে রাজনৈতিক প্রচারের কাজেও লাগাচ্ছেন। কিন্তু, পরিসংখ্যানের আড়ালে আসল সত্য কি? কি বলছেন অর্থনীতিবিদরা?

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ, ১৫০-র বেশি কারখানা বন্ধ, কী বলছে বাংলাদেশ সরকার?

Bangladesh garment workers protest: মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ, ১৫০-র বেশি কারখানা বন্ধ, শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবি নিয়ে কী বলছে বাংলাদেশ সরকার?