পেশায় কাঠমিস্ত্রি পুতিনের 'বডি ডবল'! রুশ প্রেসিডেন্টের অবর্তমানে তাঁর হাতেই কি দেশের রাশ?

Vladimir Putin's 'body double: বর্ষবরণের দিনে রুশ প্রেসিডেন্টের তরফে যে নববর্ষের বার্তা দেওয়া হয়েছিল জাতির উদ্দেশে, সেখানেও ছিলেন না আসল পুতিন।

Sohini Das
৩ মিনিট
পেশায় কাঠমিস্ত্রি পুতিনের 'বডি ডবল'! রুশ প্রেসিডেন্টের অবর্তমানে তাঁর হাতেই কি দেশের রাশ?

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইউক্রেন তছনছ করে দেওয়া এই রাষ্ট্রনায়ককে নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। কখন যে তিনি আছেন, আর কখন তিনি নেই, তা বলা শক্ত। কখনও রটে যায় পুতিন আসলে নেই। কখনও শোনা যায়, তিনি মারণ ব্যধিতে আক্রান্ত। কখন করোনার ভ্যাকসিনের ট্রায়ালে স্বেচ্ছাসেবক হন তাঁর চিকিৎসক-কন্যা, কখন আবার ইউক্রেন সমস্যার সমাধানে মোদির সঙ্গে আলোচনায় বসতে চান পুতিন। আসল সত্যিটা কী? নতুন বছর পড়ার আগে থেতেই ইউক্রেনে নতুন করে আক্রমণ শানাচ্ছে রাশিয়া। একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন-হামলায় পর্যুদস্ত করা হচ্ছে ইউক্রেনকে। তারই মধ্যে উস্কে উঠল নয়া বিতর্ক। সম্প্রতি সামনে এসেছে পুতিনের বডি ডবলের কথা। আর তাঁর পেশার কথা শুনলে চমকে উঠবেনই।

জানা গিয়েছে, পুতিনের বডি ডবলের উপরে নাকি সম্প্রতি বিষপ্রয়োগ করা হয়েছে। আর তার পরেই সামনে এসেছে পুতিনের বডি ডবলের নাম ধাম পরিচয়। ইয়েভজেনি ভ্যাসিলিভিচ নামে ওই ব্যক্তি নাকি বেলারুশের একজন ছুতোর। যার চেহারায় আকৃতিতে পুতিনের সঙ্গে প্রভূত মিল। আর তাঁকেই বেশ অনেকদিন ধরে পুতিনের বডি ডবল হিসেবে ব্যবহার করছে মস্কো। সম্প্রতি ত্বক ও ঘাড়ে ব়্যাশ ও প্রদাহ নিয়ে চিকিৎসকের দ্বারস্থ হন তিনি। চিকিৎসকেরা কি প্রথমে ভেবে বসেছিলেন, রাষ্ট্রপ্রধানের উপরেই প্রয়োগ করা হয়েছে ওই বিষ!

তবে পরে অবশ্য সেই ভুল ভাঙে। দেখা যায়, পুতিন নয়। আক্রমণ হয়েছে তাঁর বডি ডবলের উপরে। স্বাভাবিক ভাবেই গোটা ব্যাপারটি নিয়ে হইচই পড়ে গিয়েছে। বিশেষত ইউক্রেনের যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে এই হামলার ঘটনা ক্রেমলিনের পক্ষে বেশ উদ্বেগের বলে মনে করা হচ্ছে। অসুস্থতা নিয়ে ইয়েভজেনি চিকিৎসকের দ্বারস্থ হলে প্রাথমিক ভাবে অ্যালার্জি ভাবা হয়েছিল। পরে জানা যায়, বাইরে থেকে বিষপ্রয়োগ করা হয়েছে। তবে তার পরিমাণ সামান্য বলেই জানা গিয়েছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
এই প্রথম নয়, আগেও চেষ্টা হয়েছে হত্যার, কীভাবে বারবার সব জাল ছিঁড়ে বেরিয়ে এসেছেন পুতিন?

Vladimir Putin: এই প্রথম নয়, আগেও বেশ কয়েকবার হামলার মুখে পড়েছেন পুতিন, জেনে নেওয়া যাক, কবে কোথায় কী কী হামলা নেমে এসেছিল...

ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্তে নেমেছে FSB ও FSO নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। এর নেপথ্যে একাধিক ষড়যন্ত্রের যোগ থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত অসংখ্য মিটিং, মিছিল অনুষ্ঠানে পুতিনের এই বডি ডবলকে ব্যবহার করা হয়েছে। যে সব জায়গায় প্রেসিডেন্টের উপরে হামলার সামান্যতম আশঙ্কাও থাকে, কিংবা যেখানে বহু সংখ্যক মানুষের ভিড়ে যেতে হয় প্রেসিডেন্টকে, সেখানে পুতিনের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয় তাঁর এই বডি ডবলকে। রুশ একটি রাজনীতি বিশ্লেষণ সংস্থার দাবি, ইয়েভজেনি ভ্যাসিলিভিচ নামে এই ব্যক্তি নাকি পেশায় একজন চতুর্থ স্তরের ছুতোর। আদতে তিনি বেলারুশের মানুষ। তবে ইয়েভজেনি একাই নয়। মস্কোয় অন্তত তিনজন এমন বডি ডবল রয়েছে পুতিনের।

কূটনীতিকদের অনেকেই মনে করেছেন, শুধু যে পুতিনের হয়ে মিটিং মিছিলগুলিতে গিয়েছেন ইয়েভজেনি, তা-ই নয়। এমনকী বর্ষবরণের দিনে রুশ প্রেসিডেন্টের তরফে যে নববর্ষের বার্তা দেওয়া হয়েছিল জাতির উদ্দেশে, সেখানেও ছিলেন না আসল পুতিন। সেই বক্তৃতার কাজটিও সেরেছেন পুতিনের বডি ডবল ইয়েভজেনিই। নিন্দুকদের কেউ কেউ এ-ও বলেছেন, সেই জন্যই অনাবশ্যক রকমের ছোটো ছিল প্রেসিডেন্টের নববর্ষের বার্তা। বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই মারণ রোগ ক্যান্সারে আক্রান্ত পুতিন। ২০২৩ সালের অক্টোবর নাগাদ আবার রটে গিয়েছিল, আসল পুতিন আদৌ আর বেঁচে নেই। তাঁর হয়ে প্রক্সি দিয়ে চলেছেন তাঁর বডি ডবলেরাই। আর এই সব কিছুই নিয়ন্ত্রণ করছেন এফএসবি-র প্রাক্তন স্পাইমাস্টার ৭২ বছরের নিকোলাই পাত্রুশেভ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন কি মৃত?

Vladimir Putin Russia: ব্রিটিশ যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছিল পুতিন খুব অসুস্থ, সম্ভবত মৃতও। তবে মৃত্যু গোপন করার জন্য রাষ্ট্রপতির 'ডামি' ব্যবহার করা হচ্ছে।

কেউ কেউ আবার দাবি করে বসেছেন, নববর্ষে বার্তা দিয়েছেন যিনি, তিনি না পুতিন, না পুতিনের বডি ডবল। সম্ভবত আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করেই ওই বার্তাটি তৈরি করা হয়েছিল। অনেকেরই দাবি ওই ভিডিওবার্তায় প্রেসিডেন্টের শরীর ও মাথার অবস্থানে সামঞ্জস্য ছিল না। কারণ পুরোটাই তৈরি করা হয়েছিল কৃত্রিম ভাবে।

আর এ নিয়ে নানা বিতর্ক, নানা আলোচনাকে ফের উস্কে দিয়েছে পুতিনের এই বডি ডবলের খোঁজ। আসলে ঠিক কতজন বডি ডবল রয়েছে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের? আদৌ পুতিন আছেন তো? নাকি এমনই সব বডি ডবল দিয়ে দৃষ্টিবিভ্রম তৈরি করেই চলছে রুশ সরকার। একদিকে যখন ইউক্রেনে নতুন করে যুদ্ধের পারদ চড়াচ্ছে রাশিয়া, তার মধ্যে এই প্রশ্ন সত্যিই কি অস্বস্তিতে ফেলতে চলেছে ক্রেমলিনকে! নাকি এরও যোগ্য উত্তর তৈরিই রয়েছে মস্কোর হাতে?

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।

হুথিরা যেভাবে স্থানীয় বিদ্রোহী থেকে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিতে পরিণত হলো

Houthi Expansion in Yemen: ইয়েমেনে ফের কেন যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে? হুথিরা কীভাবে স্থানীয় জায়দি আন্দোলন থেকে শক্তিশালী সামরিক-রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হল? ইরানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কতটা গভীর? মোখা ও হানিশ দ্বীপপুঞ্জ দখলের পর কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বাব আল-মান্দাব? এই সংঘাতের প্রভাব কি শেষ পর্যন্ত বিশ্ব বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহণ ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে পড়বে?