কংগ্রেস-তৃণমূল বন্ধুতার পথে কাঁটা অতিরিক্ত 'বামপ্রীতি'! মালদহের সভা থেকে যা বললেন মমতা

Mamata Banerjee: কংগ্রেসের সঙ্গে জোট না করার জন্য ফের বামেদেরকেই দুষেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সিপিএমের উপর।

Sohini Das
৩ মিনিট
কংগ্রেস-তৃণমূল বন্ধুতার পথে কাঁটা অতিরিক্ত 'বামপ্রীতি'! মালদহের সভা থেকে যা বললেন মমতা

ভারত জোড়ো যাত্রা নিয়ে বাংলায় রাহুল। লোকসভা ভোটের আগে আরও ভাল করে প্রচার ও জনসংযোগই প্রধান লক্ষ্য। তার মধ্যে এবার আবার ছাব্বিশটি দল মিলে গড়ে উঠেছে বিজেপি বিরোধী জোট INDIA। আর সেই ছাব্বিশটি দলের মধ্যে অন্যতম কংগ্রেস এবং তৃণমূল। আর সেই দুই দলের মধ্যেই তেমন বনিবনা নেই। বরং ক্রমশ রেষারেষি এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যে রাহুলের যাত্রার দিনেই মালদহে নিজের সভা রেখেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তা-ই নয়, সেই সভা থেকে কংগ্রেসের সঙ্গে মতবিরোধের আশঙ্কাতেই আরও একবার সিলমোহর লাগালেন তিনি। মালদহের সভা থেকে একই সঙ্গে প্রশ্ন তুলে দিলেন ইন্ডিয়া জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েও।

দিন কয়েক দিন ধরেই রাজ্য-রাজনীতি উত্তাল তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর বাকবিতণ্ডায়। গোড়া থেকেই এই লোকসভা ভোটে একা লড়ার কথা বলে আসছেন মমতা। বিজেপি বিরোধী জোটের শরিক হওয়া সত্ত্বেও বারবার তিক্ততাই বেড়েছে এই দুই দলের। এমনকী ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকেও কখনও একাসনে বসতে দেখা যায় অধীর ও মমতাকে। আর সেই তিক্ততা যে বাড়তে বাড়তে কতখানি বেড়েছে, তা বুধবার কার্যত স্পষ্ট করে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সভামঞ্চ থেকে পরিষ্কার করে দিলেন, জোট হলেও তিনি অধীরের বহরমপুরের লোকসভা আসনটি মোটেও তাঁকে ছেড়ে দিচ্ছেন না। যদিও একবারও ভুল করেও অধীর চৌধুরীর নামটুকুও নেননি মমতা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
'ন্যায় যাত্রা' নিয়ে মালদহে রাহুল, নিজের গড়ে কেন গড়হাজির ডালু?

Bharat Jodo Nyay Yatra: মালদহ আদতে যার গড়, যে নেতার জন্য মালদহে কংগ্রেসের এত প্রতাপ, সেই আবু হাসেম খান চৌধুরী ওরফে ডালু কোথায় এই বিরাট ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রায়?

বরং কংগ্রেসের সঙ্গে জোট না করার জন্য ফের বামেদেরকেই দুষেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সিপিএমের উপর। তাঁর কথায়, ‘‘আমাকে সিপিএম অনেক মেরেছে। মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে। তা সত্ত্বেও মনে রাখবেন আপনাদের আর্শীবাদে, দোয়ায় আমি বেঁচে আছি। সেই সিপিএমকে আমি কোনওদিনও ক্ষমা করব না। সিপিএমের সঙ্গে যাঁরা ঘর করে তাঁরা বিজেপির সঙ্গেও ঘর করে, আমি ওদের ক্ষমা করি না। ওরা বিজেপির সঙ্গে জোট করে। আমি পঞ্চায়েত ভোটের সময় দেখেছি।’’ একই সঙ্গে কংগ্রেসের সঙ্গে আসন বণ্টন নিয়ে ঝামেলার কথাও স্পষ্ট করে দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ‘‘আমি কংগ্রেসকে বললাম, তোমাদের একটাও এমএলএ নেই, দু’টি এমপি আছে। একটা মালদহে। আরও একটা রয়েছে। আমি মালদহের দুটো আসন ছেড়ে দিচ্ছি। আমরা জিতিয়ে দেব। বলল না, আমার অনেক চাই। আমি বললাম তোমায় আমি একটাও দেব না। তুমি আগে সিপিএমের সঙ্গ ছাড়ো। সিপিএম তোমার নেতা। সিপিএম আমাদের ওপর কী অত্যাচার করেছে!’’

অর্থাৎ কংগ্রেসের সঙ্গে মতপার্থক্যের মূল কারণ হিসেবে মমতা কংগ্রেসের বামপ্রীতিকেই দুষেছেন প্রত্যক্ষ ভাবে। বামেদের সঙ্গে কংগ্রেসের এই দোস্তি অবশ্য আজকের ব্যপার নয়। এক সময় এই দুই দল মিলে কেন্দ্রে সরকার গঠন পর্যন্ত করেছিল। পরে অবশ্য দূরত্ব বাড়ে দুই দলের। তবে বছর কয়েক আগে ফের ভোটময়দানে কাছাকাছি আসে দুই দল। বাংলায় গড়ে ওঠে জোটও। তবে তা নিয়েই আপত্তি রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের। সে জন্যই নাকি রাহুলের 'ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা' বারবার আমন্ত্রণ পাওয়া সত্ত্বেও, তা এড়িয়েছেন তিনি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কাঁচ ভাঙল রাহুলের গাড়ির! ন্যায় যাত্রায় নিরাপত্তার ব্যবস্থাই করেনি তৃণমূল প্রশাসন?

Rahul Gandhi Bharat Jodo Nyay Yatra : আসলে কাঁচ ভাঙা নয়, চোখে পড়ছে কংগ্রেস আর তৃণমূলের চিড়

তবে তার পরেও মালদহ উত্তর ও দক্ষিণ কেন্দ্রের আসন দু'টি কংগ্রেসকে ছেড়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছেম তৃণমূল সুপ্রিমো। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বহরমপুর ও মালদহ দক্ষিণ আসনে জয় পায় কংগ্রেস। বহরমপুর আসনে পঞ্চম বারের জন্য জয়ী হন অধীর, আর মালদহ দক্ষিণ আসনে জেতেন সাংসদ আবু হাসেম খান চৌধুরী। তাঁকে আসন ছাড়তে রাজি হলেও, বহরমপুরের পাঁচবারের সাংসদ হলেও, তাঁকে আসন ছাড়তে রাজি ছিলেন না মমতা। গত লোকসভা নির্বাচনে সিপিএমের সমর্থন পেয়েই ওই আসনে জয় পান অধীর। ২০২৪ সালের নির্বাচনে অধীর যে বহরমপুর আসনে আবারও সিপিএমের সমর্থন পাবেন, তা বুঝেই তাঁকে সমর্থন দিতে নারাজ মমতা। তেমনটাই মত অভিজ্ঞমহলের একাংশের। বহরমপুর লোকসভার অধীন সাতটি বিধানসভা আসনের মধ্যে ছ’টি বর্তমানে তৃণমূলের দখলে, বহরমপুর বিধানসভায় আবার জয়ী হয়েছে বিজেপি। তাই এমন একটি আসন কোনও ভাবেই অধীরকে ছেড়ে দিতে চায় না তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। আর তার ফলে জোটের যাবতীয় সম্ভাবনা যে খারিজ হয়ে যাচ্ছে, তা-ও একপ্রকার কারণ-সহ ব্যাখ্যা করে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।

মাটি ছাড়তে নারাজ অধীর চৌধুরী নিজেও। জোট নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, এই জোটের প্রক্রিয়ার মধ্যে তিনি নেই! তৃণমূলকে, বিজেপিকে হারিয়ে তিনি জিতেছেন। আগামী দিন কংগ্রেস তাঁকে লড়তে বললে তিনি এ ভাবেই লড়বেন। বাকি জোটের কী কথা, না কথা, কার সঙ্গে জোট হবে, না হবে— এই ব্যাপারে কিছুও তিনি জানেন না। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীকে তাঁর বিরুদ্ধেই প্রার্থী হতেও চ্যালেঞ্জও করেন তিনি। আর তার পরে তৃণমূলনেত্রী তো বটেই, তৃণমূলের অনেকেই তাঁর উপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

যদিও তা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন না অধীর। রবিবার রাহুলের জলপাইগুড়ি সভার সময়ে গোটা সময়টাই তাঁকে দেখা গিয়েছে রাহুলের পাশে। তবে এই টানাপড়েন ইন্ডিয়া জোটের ভবিষ্যৎকে একেবারে কিনারায় নিয়ে গেল কিনা, তা নিয়ে একটা প্রশ্ন তো থেকেই যাচ্ছে। যতই রাজ্যে একা লড়ুক মমতা, জাতীয় রাজনীতির ময়দানে বিজেপিকে একা ঠেকানো সম্ভব হবে তো একা তৃণমূলের পক্ষে। এমনটাই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একটি অংশ।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? সরকার বদলায়, কেন বদলায় না মন?

Rabindranath Tagore Targeted in Bangladesh: বাংলাদেশে বারবার কেন নিশানা হচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর? হাসিনা থেকে ইউনূস, সরকার বদলালেও কেন থামছে না তাঁর সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার মুছে ফেলার চেষ্টা? জাতীয় সঙ্গীতের স্রষ্টাকেই কেন বারবার প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়তে হচ্ছে?