যাঁদের জন্য লেখিকাকে নির্বাসন, তাঁদের হাতেই দেশছাড়া হাসিনা! কী বলছেন তসলিমা?

Taslima Nasreen on Sheikh Hasina: তসলিমার বিখ্যাত বই 'লজ্জা' নিয়ে মৌলবাদী সংগঠনগুলি তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। সেই প্রেক্ষিতে ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ ছাড়তে হয়েছিল তসলিমাকে।

inscript
৩ মিনিট
যাঁদের জন্য লেখিকাকে নির্বাসন, তাঁদের হাতেই দেশছাড়া হাসিনা! কী বলছেন তসলিমা?

ইতিহাস কিছু ভোলে না। সমুদ্রের ঢেউ যেমন ফেরায়, হারানো যা কিছু, এক না একদিন! সময়ও ফেরায়। ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত হয়েছিলেন তসলিমা নাসরিন। বিতর্কিত লেখিকাকে দেশছাড়া করার নেপথ্যে ছিলেন শেখ হাসিনা। সেই বাংলাদেশকেই ছেড়ে যেতে বাধ্য হলেন খোদ শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের লেখিকা তসলিমা নাসরিন বরাবরই সাম্প্রদায়িকতার কট্টর সমালোচক। ছাত্রদের বিক্ষোভ, তা দমন, হিংসা, মৃত্যু ও শেষমেশ হাসিনার অপসারণের পর ২৫ বছর আগের সেই দিনটিকে মনে করেছেন তসলিমা।

তসলিমা নাসরিন বলছেন, যে শেখ হাসিনা এককালে 'ইসলামপন্থীদের খুশি করার জন্য' তাঁকে বাংলাদেশ থেকে বের করে দিয়েছিলেন, সেই 'একই ইসলামপন্থীরা'-ই এবারের ছাত্র আন্দোলনের অংশ ছিল যার জেরে দেশ ছাড়তে বাধ্য হলেন শেখ হাসিনা। "আমার মাকে মৃত্যুশয্যায় দেখতে বাংলাদেশে যাওয়ার পর ইসলামপন্থীদের খুশি করার জন্য হাসিনা আমাকে আমার দেশ থেকে বের করে দিয়েছিলেন এবং আমাকে আর কখনও দেশে প্রবেশ করতে দেননি। সেই একই ইসলামপন্থীরা ছাত্র আন্দোলনের অংশ ছিল যারা হাসিনাকে আজ দেশ ছাড়তে বাধ্য করল," নিজের সোশ্যাল মিডিয়াতে লিখেছেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন।

হাসিনাকে মাফিয়া বলেছেন তসলিমা, বলেছেন ফ্যাসিস্ট, বলেছেন নার্সিসিস্ট। হাসিনার পদত্যাগে এই ফ্যাসিজমের যুগ শেষ হলো বলে মনে করছেন তিনি। তসলিমার অভিযোগ, হাসিনাই বাংলাদেশে ইসলামপন্থীদের বেড়ে উঠতে মদত জুগিয়েছেন। দুর্নীতি ফুলে ফেঁপে উঠেছে তাঁরই আমলে। তবে আগামীতে বাংলাদেশে আবার মৌলবাদী সরকারই আসবে না তো? তসলিমা বলেছেন, বাংলাদেশে সেনা শাসনের বিরুদ্ধে। গণতন্ত্র চেয়েছেন তিনি।

Hasina in order to please Islamists threw me out of my country in 1999 after I entered Bangladesh to see my mother in her deathbed and never allowed me to enter the country again. The same Islamists have been in the student movement who forced Hasina to leave the country today.

— taslima nasreen (@taslimanasreen)

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
"পরবর্তী পাকিস্তান হবে বাংলাদেশ", কেন বলছেন শেখ হাসিনার পুত্র জয়?

Sheikh Hasina Bangladesh: হাসিনা পুত্র বলছেন, পরিস্থিতিকে আরও খারাপ দিকে নিয়ে যাওয়ার নেপথ্যে পাকিস্তানের ইন্টার-সার্ভিস ইন্টেলিজেন্সের হাত থাকতে পারে।

এর আগে একটি পোস্টে তসলিমা লেখেন, "হাসিনাকে পদত্যাগ করে দেশ ত্যাগ করতে হয়েছে। তিনি নিজেই তাঁর এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। তিনিই ইসলামপন্থীদের বেড়ে উঠতে দিয়েছিলেন। তিনিই তাঁর লোকদের দুর্নীতিতে জড়িত হতে দিয়েছিলেন। বাংলাদেশ যেন কোনওভাবেই পাকিস্তানের মতো না হয়ে যায়। সেনাবাহিনীর শাসন উচিত নয়। রাজনৈতিক দলগুলোকে বাংলাদেশে গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতা আনতে হবে"।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হামলার কিছু উড়ো খবরও আসছে। নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন সেই প্রসঙ্গে লিখেছেন, "সারা দেশে হিন্দুদের ওপর হামলা শুরু হয়ে গেছে। হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী যারা দুলে দুলে আমার সোনার বাংলা, কারার ওই লৌহ কপাট, ও আমার দেশের মাটি গাইল, তারা কোথায়? তারা কি গণভবনের হাঁস-মুরগি-খাসি চুরি করায় আর হাসিনার ব্রা চুরি করায় ব্যস্ত? নাকি তাদের দায়িত্ব তাদের জিহাদি ভাইব্রাদারদের হাত থেকে দেশের মাটির দেশের মানুষদের প্রাণ বাঁচানো?”

Islamic fanatics are attacking against Hindus in Bangladesh.

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
শেখ হাসিনার পতনের কারণ তাঁর জিভ ও চাটুকার সাংবাদিকবর্গ 

Sheikh Hasina Bangladesh: কোটা সংস্কার ইস্যুর মতো একটি সাধারণ ইস্যুকে, শেখ হাসিনা চাইলে কিন্তু ১ সেকেন্ডেই সমাধান করতে পারতেন।

— taslima nasreen (@taslimanasreen)

তিন দশক ধরে নির্বাসিত জীবনই কাটাচ্ছেন তসলিমা নাসরিন। পেশায় চিকিৎসক তসলিমা নিজে নারীবাদী, ধর্মনিরপেক্ষ এবং মানবতাবাদী। তাঁর একের পর এক লেখায় মহিলাদের নিপীড়ন এবং ইসলাম ধর্মের সমালোচনা করেছেন তিনি। মহিলাদের যৌন আকাঙ্খা নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন তিনি। সেই কারণেই কট্টর ইসিলামপন্থীদের রোষানলেও পড়েছেন। তসলিমা নাসরিনের বিখ্যাত বই 'লজ্জা' নিয়ে মৌলবাদী সংগঠনগুলি তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। সেই প্রেক্ষিতে ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ ছাড়তে হয়েছিল তসলিমাকে। ১৯৯৩ সালের এই লজ্জা বইটি বাংলাদেশে নিষিদ্ধ হলেও অন্যত্র বেস্টসেলার হয়ে ওঠে। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন শেখ হাসিনার চির প্রতিদ্বন্দ্বী খালেদা জিয়া। লজ্জা উপন্যাসটি প্রকাশের পর একুশে বইমেলায় তসলিমাকে শারীরিকভাবে নিগ্রহও হতে হয়। কাউন্সিল অব ইসলামিক সোলজার্স নামক এক ইসলামপন্থী সংগঠন তাঁর বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করে। এরই সঙ্গে তসলিমা নাসরিনের লেখা দ্বিখণ্ডিত, উতল হাওয়া সহ একাধিক আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ নিষিদ্ধ করা হয় বাংলাদেশে।

মুক্তমনের এই লেখা ইসলামপন্থীদের সহ্য হয়নি। তসলিমার ফাঁসির দাবি উঠতে শুরু করে তাঁদের মধ্যে থেকে। তসলিমার শাস্তির দাবিতে সাধারণ ধর্মঘট ডাকা হয়। সিলেটের একটি সভায় তসলিমার মাথার দাম ঘোষণা করা হয় ৫০ লাখ টাকা।

গত সোমবার বাংলাদেশ জুড়ে চলা প্রায় একমাস ব্যাপী আন্দোলন-বিক্ষোভের জেরে অবশেষে শেখ হাসিনা ইস্তফা দেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে। তারপর একটি সামরিক বিমানে ভারতে পালিয়ে আসেন। শোনা যাচ্ছে, ব্রিটিশ যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় নিতে পারেন তিনি।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।