স্টারলাইনে আস্থা হারাচ্ছেন না! স্পেস স্টেশন থেকে যে বার্তা দিলেন সুনীতা উইলিয়ামস
Sunita Williams: কেমন রয়েছেন তাঁরা? কবেই বা নিরাপদে পৃথিবীর বুকে ফিরে আসতে পারবেন তাঁরা? এই সমস্ত প্রশ্নই তাড়া করে বেড়াচ্ছে বিশ্ববাসীকে। এর মধ্যেই সুনীতা উইলিয়ামসের কাছ থেকে পৃথিবীতে এসে পৌঁছলো একটি বার্তা।

প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গিয়েছে। বাড়ি ফেরা হয়নি সুনীতা উইলিয়ামসদের। গত ৫ জুন বোয়িং স্টারলাইনয়ের মহাকাশযানে চেপে আন্তর্জাতিক স্পেস সেন্টারের উদ্দেশে রওনা হন সুনীতা উইলিয়ামস, বুচ উইলমোর-সহ আরও ৯ মহাকাশচারী। সেই অভিযান থেকে ফেরার কথা ছিল গত ২৬ জুন। কিন্তু নানাবিধ দুর্যোগের জোরে ফেরা হয়নি তাঁদের। এখনও স্পেস স্টেশনেই আটকে রয়েছেন ৯ নভোশ্চর।
কেমন রয়েছেন তাঁরা? কবেই বা নিরাপদে পৃথিবীর বুকে ফিরে আসতে পারবেন তাঁরা? এই সমস্ত প্রশ্নই তাড়া করে বেড়াচ্ছে বিশ্ববাসীকে। এর মধ্যেই সুনীতা উইলিয়ামসের কাছ থেকে পৃথিবীতে এসে পৌঁছলো একটি বার্তা। স্টারলাইনের এই মহাকাশযানটি নভোশ্চরদের নিয়ে ঠিকঠাক ভাবে স্পেস স্টেশনে পৌঁছে গেলেও সেখানে গিয়ে নানা বিপত্তি দেখা যায় তার যন্ত্রাংশে। আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের কাছেই বিস্ফোরণ ঘটে 'রিসার্স' নামে রাশিয়ার এক কৃত্রিম উপগ্রহের। যা টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়ে মহাকাশ স্টেশনের চারপাশে। এর সঙ্গে স্টারলাইন মহাকাশযানে হিলিয়াম গ্যাস লিক-সহ অজস্র ত্রুটি। ইতিমধ্যেই সেই মহাকাশযানটির রিঅ্যাকশন কন্ট্রোল সিস্টেমের ২৮টি থ্রাস্টার খারাপ হয়ে গিয়েছে। যার ফলে বিপদ আরও বেড়েছে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Sunita Williams: গত ৫ জুন আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে বোয়িং সিএসটি-১০০ স্টারলাইনার। সফল ভাবে তা পৌঁছেও যায়। ফেরার কথা ছিল ২৬ জুন। কিন্তু বিপদ ঘটে সেসময়েই।
তবে এত কিছু সত্ত্বেও স্টারলাইন মহাকাশযানের উপর থেকে প্রত্যয় হারাচ্ছেন না সুনীতা উইলিয়ামসরা। এখনও পর্যন্ত তাঁদের ফেরা অনিশ্চিত। কবে তাঁদের ফেরার ব্যবস্থা করা হবে, তার কোনও তারিখও নির্ধারণ করা হয়নি। নাসা তরফে খবর, জুলাইয়ের শেষের দিকে চেষ্টা করা হচ্ছে। বুধবার স্পেস সেন্টার থেকেই বার্তা দিয়েছেন সুনীতা উইলিয়াম। তিনি জানিয়েছে, আমরা আত্মবিশ্বাসী। হৃদয়ের অন্তর থেকে বিশ্বাস করি, এই মহাকাশযানটি আমাদের বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে আসবে।

- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Mars Simulation Mission: আঙ্কা সেলারিউ, রস ব্রুকওয়েল, নাথান জোন্স ও কেলি হ্যাস্টনকে এই অভিযানের জন্য নির্বাচিত করে নাসা। এই মিশনটির নেতৃত্ব দিয়েছেন হ্যাস্টন।
আপাতত মহাকাশ স্টেশনে নানা কাজের মধ্যে দিয়ে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন নভোশ্চরেরা। কখনও মূত্র পরিশ্রুত করে পানীয় জল তৈরি করার মেশিনের পাম্প বদল করছেন , তো কখনও মাইক্রোগ্র্যাভিটিতে জিন সিকোয়েন্সিংয়ের পরীক্ষানিরিক্ষা করছেন। ইতিমধ্যেই যে সব ক্ষয়ক্ষতি হয়ে গিয়েছে মহাকাশযানের ভিতরে, তা সারিয়ে আবার তাতে করেই ফিরিয়ে আনা আদৌ সম্ভব হবে কি? প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। যদিও সংশয় সত্ত্বেও স্টারলাইনের উপর থেকে আস্থা সরাচ্ছে না নাসা ও বোয়িং। জানা গিয়েছে, শুধুমাত্র ওরিয়েন্টেশন কন্ট্রোল থ্রাস্টারেই সমস্যা হয়েছে মহাকাশযানটির। মহাকাশযানটিতে আরও শক্তিশালী থ্রাস্টার অক্ষত রয়েছে, যা 'ডি-অরবিট বার্ন' করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনতে পারবে নভোশ্চরদের। তবে সেই সব থ্রাস্টারগুলি ঠিক অবস্থায় রয়েছে, তা পরিষ্কার নয় এখনও।
ফলে সুনীতারা স্টারলাইনের উপর যতই আস্থা দেখাক না কেন, তাঁদের ফেরা এখনও ঝুলে মহাশূন্যেই। সে নিয়ে কবে নিশ্চিত ভাবে বলা যাবে, তা নিয়ে কিছুই বলতে পারছে না নাসা।







