মালেগাঁওয়ের কৃষক পরিবার থেকে শার্ক ট্যাঙ্কে কামাল! এখন কেমন আছেন 'জুগাড়ু কমলেশ'?

Jugadu Kamlesh Shark Tank India : ‘জুগাড়ু কমলেশ’ – নামটাই যথেষ্ট তাঁর জন্য। এই নামেই গোটা ভারত আজ তাঁকে চেনে।

Aritra Som
৩ মিনিট
মালেগাঁওয়ের কৃষক পরিবার থেকে শার্ক ট্যাঙ্কে কামাল! এখন কেমন আছেন 'জুগাড়ু কমলেশ'?

কথায় বলে, বাঙালি নাকি ব্যবসা করতে পারে না। এই কথাটি যে কতটা ভুল, সেটা অনেকেই বেশ ভালোভাবে বুঝিয়ে দিয়ে গিয়েছে। নতুন প্রজন্মও যে ব্যবসার দিকে উৎসাহী, সেটাও একটু খোঁজখবর রাখলেই দেখা যায়। তবে ইদানীং আরও একটি ব্যাপার নজরে এসেছে। ২০২২ সাল থেকে ভারতের আট থেকে আশি, অনেকেই বসে পড়ছেন টিভির সামনে। কিংবা হাতে উঠে এসেছে মোবাইল। ইকুইটি, ভ্যালুয়েশন ইত্যাদি ব্যবসায়িক শব্দগুলি লোকের মুখে মুখে ঘুরছে। কারণ? শার্ক ট্যাঙ্ক ইন্ডিয়া। আমেরিকার জনপ্রিয় এই অনুষ্ঠান ২০২২-এই ভারতে এসেছে। শুরু হয়েছে দেশের নিজস্ব স্টার্টআপ অনুষ্ঠান।

একের পর এক উদ্যোগপতি, তরুণ থেকে প্রবীণ অন্ত্রেপ্রেনর, নিত্যনতুন ভাবনা সামনে এসেছে মানুষের। ভারতের ঘরের লোক হয়ে গিয়েছেন অসনির গ্রোভার, আমান গুপ্তা, পীযূষ বনসল, নমিতা থাপাররা। তবে এসবের বাইরেও এক বিশেষ তরুণের ভক্ত হয়ে গিয়েছে আপামর ভারত। ‘জুগাড়ু কমলেশ’ – নামটাই যথেষ্ট তাঁর জন্য। এই নামেই গোটা ভারত আজ তাঁকে চেনে। সেই শার্ক ট্যাঙ্কই হয়েছে তাঁর সাফল্যের রাস্তা।

মহারাষ্ট্রের মালেগাঁওয়ের ছোট্ট কৃষক পরিবারের ছেলে কমলেশ ঘুমারে। শার্ক ট্যাঙ্কের প্রথম সিজনে তিনি এসেছিলেন নিজের আবিষ্কৃত বিশেষ প্রোডাক্ট নিয়ে। সেখানেই উঠে আসে তাঁর গল্প। কমলেশের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাঁর বন্ধু নাড়ু। ‘কেজি অ্যাগ্রোটেক’ (KG Agrotech) নামের সংস্থা তৈরি করেছেন কমলেশ। ছোট থেকেই বিভিন্ন বস্তু নিয়ে কিছু না কিছু জিনিস বানিয়ে চলেছেন তিনি। যে কোনও সমস্যার সমাধান পাওয়া যাবে তাঁর কাছে। সেজন্যই নিজের গ্রামে তিনি এক এবং অদ্বিতীয় ‘জুগাড়ু কমলেশ’।

View this post on Instagram

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
হু হু করে বাড়ছে কৃষক আত্মহত্যা! দেশজুড়ে অন্নদাতাদের দুর্দশার দায় কার

Farmer's Suicide: নানান সমস্যায় জর্জরিত কৃষকরা বেঁচে থাকার কোনও বিকল্প উপায় না খুঁজে পেয়ে দলে দলে আত্মঘাতী হচ্ছেন।

কমলেশ নিজে একজন কৃষকের সন্তান। ছোট থেকে দেখেছে, নিজের বাবা, কাকারা কত কষ্ট করে কাজ করেন। কাঁধে পেস্টিসাইডের বড় বোঝা নিয়ে মাঠময় ঘোরা, কখনও কখনও সেই রাসায়নিক চোখে মুখেও লেগে যায়। এটা কেবল একটা পরিবারের নয়, ভারতের হাজার হাজার কৃষকের সমস্যা। সবাই তো আর বড় কৃষক, বিশাল জমির মালিক নন। তাঁদের কথা ভেবেই কমলেশ তৈরি করেছিলেন বিশেষ এক ধরনের গাড়ি। যেটায় পেস্টিসাইড রেখে মাঠের মধ্যে অনেক ভালোভাবে ঘোরাফেরা করতে পারবেন কৃষকরা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ফসল ফলিয়েও অপুষ্টিতে ভুগছে কৃষকদের সন্তানরাই! যেভাবে লড়ছে অসমের জনজাতিরা

Dhemaji Assam: মরশুমি ফল জলপাই, আম, কুল, কামরাঙার আচার বানিয়ে রাখা থাকে। বন্যার দিনে সে সব দিয়ে ভাত খাওয়া হয়।

সেরকম ‘জুগাড়’ নিয়েই শার্ক ট্যাঙ্কের মঞ্চে এসেছিলেন জুগাড়ু কমলেশ। সঙ্গী ছিলেন নাড়ু। সেখানেই তাঁর পিচ, তাঁর ভাবনা সবাইকে প্রভাবিত করে। তাঁর কথা বলার ধরন, আত্মবিশ্বাসে কিছু তো একটা ছিল যেটা সবাইকে ছুঁয়ে যায়। ‘আমরা কৃষক, আমরা কারোর সামনে মাথা ঝোকাই না। কারোর গোলামি করি না।’ মঞ্চের ওপর ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে এই কথা উচ্চারণ করতে ধক লাগে। কিন্তু আগে তো কেউ তাঁর পাশে দাঁড়ায়নি। কী করে ব্যবসা এগোবে?

এগিয়ে এলেন লেন্সকার্টের প্রতিষ্ঠাতা, শিল্পপতি, অনুষ্ঠানের অন্যতম বিচারক পীযূষ বনসল। তিনি এসে কমলেশ আর নাড়ুর হাত ধরেন। কেজি অ্যাগ্রোটেকের হাত ধরলেন পীযূষ। গোটা ভারত সেদিন হাততালি দিয়ে উঠেছিল। শার্ক ট্যাঙ্ক ইন্ডিয়ার প্রথম সিজনের সবচেয়ে ভালো চুক্তি, সবচেয়ে ভালো মুহূর্তের সাক্ষী থেকেছিল ভারত।

View this post on Instagram

এখন শার্ক ট্যাঙ্কের দ্বিতীয় সিজন চলে এসেছে। কেটে গিয়েছে একটা বছর। এখন কোথায় আছেন জুগাড়ু কমলেশ? তাঁকে প্রায় দেখাই যায় না! তাঁর কাজ, তাঁর লক্ষ্য কি এগোচ্ছে? সেই ব্যাপারে নিশ্চিত করেছেন পীযূষ বনসল নিজে। এই মুহূর্তে লেন্সকার্ট অ্যাকাডেমিতে ব্যবসার নানা দিক নিয়ে ট্রেনিং করছেন কমলেশ এবং নাড়ু। তাঁদের সঙ্গে সব সময় রয়েছেন পীযূষ নিজে। কেজি অ্যাগ্রোটেক নিজের প্রথম যন্ত্রের ডিজাইন প্রোটোটাইপও তৈরি করে ফেলেছে। শুধু পীযূষ বনসলই নন, অন্যান্য ‘শার্ক’রাও জুগাড়ু কমলেশকে আগলে রেখেছেন। এখন অবশ্য কমলেশের একটা বড় ফ্যানবেস তৈরি হয়েছে। অটোগ্রাফও দিচ্ছেন তিনি। রাস্তায় গেলেই মানুষজন তাঁকে চিনে ফেলছে। ঘিরে ধরছে তাঁকে।

একটি সাক্ষাৎকারে পীযূষ নিজেই বলেছেন যে, কমলেশের মধ্যে একটা অদ্ভুত প্যাশন রয়েছে। সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে সমাধান, সবসময় মুখে হাসি, আত্মবিশ্বাস, অন্যকে সম্মান দেওয়া আর নিজের দুঃসময়ের বন্ধুকে না ভোলা – সমস্তটা নিয়েই কমলেশ। ভারতের আগামী দিনের উদ্যোগপতির এমন ঝকঝকে চেহারাই তো দেখতে চেয়েছিলেন সবাই। এখন একটু একটু করে স্বপ্নের দিকে এগোচ্ছেন জুগাড়ু কমলেশ। আকাশ ছুঁতে যে এখনও অনেকটা পথ পেরোনো বাকি।

লিখেছেন
Aritra Som
Aritra Som
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।