সবার টাকা বিজেপির ঘরে! ইলেক্টোরাল বন্ডের যে তথ্যে তোলপাড়

Electoral Bond: যে ১৮টি সংস্থা ইলেক্টোরাল বন্ড মারফত সব থেকে বেশি চাঁদা দিয়েছে, দেখা যাচ্ছে, বিজেপির তহবিলে টাকা গিয়েছে তাদের প্রত্যেকের তরফ থেকে, এমনটাই জানা গিয়েছে এসবিআইয়ের তরফ থেকে।

Sohini Das
৪ মিনিট
সবার টাকা বিজেপির ঘরে! ইলেক্টোরাল বন্ডের যে তথ্যে তোলপাড়

ইলেক্টোরাল বন্ড সংক্রান্ত সমস্ত নথি এখন সকলের সামনে। প্রথম দফায় কারা কারা ওই ইলেক্টোরাল বন্ডের মাধ্যমে টাকা দিয়েছিল, সেই তথ্য সামনে এনেছিল এসবিআই। তার সঙ্গেই সামনে আসে ইলেক্টোরাল বন্ড থেকে কোন কোন রাজনৈতিক দল মোট কত অনুদান পেয়েছে সেই অঙ্কও। সুপ্রিম-রায়ের পর নানা টালবাহানা শেষে শেষমেশ ওই তথ্য জমা দিতে বাধ্য হয়েছিল স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া। সেই তালিকায় টাকার অঙ্ক ও রাজনৈতিক দলগুলির পাওয়া অনুদানের অঙ্ক দেখে চোখ কপালে উঠেছিল অনেকেরই। তবে সেই নথিতে সন্তুষ্ট হয়নি সুপ্রিম কোর্ট। কারণ তার পরেই নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে থাকে, কোন কোন সংস্থা বা কোন কোন ব্যক্তি কোন রাজনৈতিক দলকে অনুদান দিয়েছেন, তা জানা যায়নি ওই তালিকা থেকে। তার পরেই স্টেট ব্যাঙ্ককে ইলেক্টোরাল বন্ড সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য হলফনামা-সহ প্রকাশ করতে বলে সুপ্রিম কোর্ট। এমনকী প্রকাশ করতে বলা হয় ইলেক্টোরাল বন্ডের ইউনিক আলফা নিউম্যারিক কোডগুলিও। যা থেকে জানা সম্ভব, কোন কোন দল কোন কোন সংস্থা বা ব্যাক্তির থেকে উপকৃত হয়েছে ইলেক্টোরাল বন্ড থেকে।

বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সমস্ত তথ্য সামনে এনেছে স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া। সুপ্রিম নির্দেশে বলা হয়েছিল, সেই নথি ইলেকশন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে। মানা হয়েছে সেই নির্দেশও। সেই নথি থেকে দেখা গিয়েছে, রিল্যায়েন্স গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত কুইক সাপ্লাই চেইন প্রাইভেড লিমিটেড সংস্থার থেকে অন্তত ৩৭৫ কোটি টাকা গিয়েছে বিজেপিতে। দিন কয়েক আগেই জমকালো প্রাক-বিয়ের অনুষ্ঠানে মেতে উঠেছিল অম্বানি পরিবার। সেই অনুষ্ঠানে জলের মতো টাকা ওড়ানো এবং জাঁকজমকের পরিমাণ দেখে চোখ কপালে উঠেছিল প্রায় সকলেরই। জানা যায়, যে বিপুল পরিমাণ টাকা ছেলের প্রাক-বিয়েতে খরচা করেছিলেন, তা নাকি তাঁর মোট সম্পত্তির এক আঁজলামাত্র। অম্বানির সঙ্গে বিজেপি ঘনিষ্ঠতার কথা কারওরই অজানা নয়। ফলে ইলেক্টোরাল বন্ডের মাধ্যমে মোটা টাকা যে বিজেপির কোষাগারে যাবে, তা একপ্রকার প্রত্যাশিতই ছিল না। তবে শুধু বিজেপিতে নয়, ওই সংস্থার কেনা আরও ৩৫ কোটি টাকার বন্ড থেকে বেশ কিছুটা অংশ গিয়েছে শিবসেবনা ও ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির কাছে। যা দেখা যাচ্ছে, তাতে ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি তারিখে কুইক সাপ্লাই ২২৫ কোটি টাকার বন্ড কেনে। আর সেখান থেকে প্রায় ২০০ কোটিই অনুদান দেওয়ার মাত্র ৫ দিন পরেই ভাঙায় বিজেপি। ৬ জানুয়ারি ২৫ কোটি টাকা ভাঙায় শিবসেনা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ইলেক্টোরাল বন্ডে সবচেয়ে বেশি টাকা অনুদান! কে এই লক্ষ্মী মিত্তল?

Electoral Bond: ব্যক্তিগত অনুদানকারী হিসেবে সবচেয়ে বেশি টাকার নির্বাচনী বন্ড কিনেছেন ব্যবসায়ী লক্ষ্মী মিত্তলই। অন্তত এসবিআইয়ের দেওয়া তালিকা থেকে তেমনটাই মালুম হচ্ছে।

এদিকে, লটারি ব্যবসার অন্যতম মুখ তথা মার্টিনের সংস্থা ফিউচার গেমিং অ্যান্ড হোটেল সার্ভিসেসের থেকে ইলেক্টোরাল বন্ডের মাধ্যমে প্রায় ১০০ কোটি টাকা পেয়েছে বিজেপি। তালিতায় বারবার করে ঘুরে ঘুরে এসেছে মেঘা ইঞ্জিনিয়ারিং নামে একটি সংস্থার নাম। ইলেক্টোরাল বন্ডের মাধ্যে মোট ৯৮০ কোটি টাকার চাঁদা দিয়েছে তারা। যতদূর জানা গিয়েছে ওই সংস্থার থেকে অন্তত ৫৫৮ কোটি টাকা পেয়েছে বিজেপি। মেঘা ইঞ্জিনিয়ারিং তো বটেই, তার শাখা সংস্থা পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ বিদ্যুৎ পরিবহণও বিজেপিকে বিপুল অঙ্কের চাঁদা দিয়েছে। খাতায় কলমে সেই অঙ্কটা প্রায় ৬৬৪ কোটি টাকার মতো।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
নির্বাচনী বন্ডের নামে কীভাবে তোলাবাজি চক্র চালাচ্ছিল মোদি-শাহের বিজেপি?

Electoral Bond Donation Scam: মেঘা ইঞ্জিনিয়ারিং, সীমান্তে সড়ক এবং পরিকাঠামো তৈরির বরাত পাওয়া এই সংস্থার সঙ্গে আবার টিভি ৯ বলে একটি সংবাদ মাধ্যমের যোগসাজশ রয়েছে।

যে ১৮টি সংস্থা ইলেক্টোরাল বন্ড মারফত সব থেকে বেশি চাঁদা দিয়েছে, দেখা যাচ্ছে, বিজেপির তহবিলে টাকা গিয়েছে তাদের প্রত্যেকের তরফ থেকে, এমনটাই জানা গিয়েছে এসবিআইয়ের তরফ থেকে। প্রথম দফার তথ্য় ও নথি হাতে আসতেই ফিউচার গেমিং সংস্থার নাম উঠে এসেছিল। জানা যায়, স্যান্টিয়াগো মার্টিনের এই সংস্থা মোট ১৩৬৮ কোটি টাকা চাঁদা দিয়েছে। প্রথম দফার নথি হাতে আসার পরেই জানা যায়, এই ইলেক্টোরাল বন্ড প্রকল্প থেকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ অনুদান পেয়েছি বিজেপিই। মোট টাকায় প্রায় ৪৮ শতাংশই ঢুকেছে বিজেপির কোষাগারে। তার পরে রয়েছে তৃণমূল এবং তার পরে কংগ্রেস। ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মোট ১২,৭৬৯ কোটি টাকা চাঁদার প্রায় অর্ধেক, ৬,০৬১ কোটি চাঁদা বিজেপি পেয়েছিল।

বিজেপিকে সবচেয়ে বেশি অনুদান দিয়েছে মেঘা ইঞ্জিনিয়ারিং। সূত্রের খবর, টিভিনাইন নিউজ নেটওয়ার্কের বড় অংশের শেয়ার এখন হায়দরাবাদের ওই সংস্থার হাতেই। এর পরেই বিজেপিকে সবচেয়ে বেশি টাকা দিয়েছে কুইক সাপ্লাই। কলকাতার শিল্পপতি এম কে জালানের সংস্থাও বিপুল টাকা দিয়েছে বিজেপিকে। তালিকায় নাম রয়েছে, মদনলাল লিমিটেড, কেভেন্টার্স ফুডপার্ক, এমকেজে এন্টারপ্রাইজ এবং সাসমল নামক সংস্থাগুলিও। সব মিলিয়ে ৩৩৯.৪২ কোটি টাকা বিজেপির কোষাগারে এসেছে এই সব সংস্থাগুলির কাছ থেকে। এসবিআইয়ের তথ্য থেকে জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালে ভোটের সময়ই প্রায় ১,৫০৫ কোটি টাকা নগদ করেছিল বিজেপি।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে বিজেপি সরকারের ইলেক্টোরাল বন্ড প্রকল্পকে বেআইনি ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্ট। সেই সংক্রান্ত সমস্ত নথি জনগণকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয় স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়াকে। সামনেই লোকসভা ভোট। ইতিমধ্যেই ঘোষণা হয়ে গিয়েছে দিনক্ষণ। অধিকাংশ রাজ্যেই ঘোষণা হয়ে গিয়েছে প্রার্থীতালিকাও। এই সময়ে ইলেক্টোরাল নথি সম্পর্কিত তথ্য সামনে আসা ভোটের মুখে প্রভাব ফেলতে পারে ব্যালটবাক্সে। সুপ্রিম কোর্টে এসবিআইয়ের কাছ থেকে আবেদন জানানো হয়েছিল, যাতে সেই তালিকা জুন মাসের শেষে প্রমাণ করা যায়। তবে কোর্ট সেই প্রস্তাবে সম্মত হয়নি। ফলে একপ্রকার বাধ্য হয়েই ওই নথি প্রকাশ করে এসবিআই। ইতিমধ্যেই কোন কোন সংস্থার কাছ থেকে কী পরিমাণ আর্থিক সহায়তা পেয়েছে বিজেপি, তাও জনগণের সামনে স্পষ্ট। সত্যিই তার প্রভাব পড়তে চলেছে ভোটবাক্সে? তা অবশ্য বোঝা যাবে ক'দিন পরেই।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

সিজেপির কর্মসূচির আগে ৬ হাজার পুলিশ, দুর্ভেদ্য দুর্গ কনট প্লেস

Connaught Place protest: সিজেপির কর্মসূচির আগে কনট প্লেস এবং তার আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে দিল্লি পুলিশ। কনট প্লেসের আশপাশে ৬ হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

সরবোন থেকে যন্তরমন্তর: যে আগুন বারবার বদলে দেয় পৃথিবীকে

May 1968 France student protests: এই যে ছেলেমেয়েরা যন্তরমন্তরের রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে, ধারাশ্রাবণের ভয় পিছনে ফেলে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে এগিয়ে গেল, দক্ষিণী এক বৃদ্ধ তার ধুতি সামলাতে সামলাতে ছুটছেন তাদের সঙ্গে—কী মনোরম এই বারিপাত! কেমন যেন একটা দুর্দান্ত ফ্ল্যাশব্যাকে ঘুরে গেল সময়।

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?