কারও পকেটে ৭০০ কোটি তো কারও ৩০ হাজার! মোদি-মন্ত্রিসভার সবচেয়ে ধনী ও দরিদ্রতম সদস্য কারা জানেন?

Modi cabinet 3.O: একদিকে যেখানে মোদির মন্ত্রিসভায় রয়েছে চন্দ্রশেখর পেম্মাসানির মতো ধনীতম ব্যক্তি, তেমনই রয়েছে আর্থিক ভাবে পিছিয়ে থাকা মন্ত্রীও। খাতায়-কলমে যার সম্পত্তির পরিমাণ সবচেয়ে কম।

Sohini Das
৩ মিনিট
কারও পকেটে ৭০০ কোটি তো কারও ৩০ হাজার! মোদি-মন্ত্রিসভার সবচেয়ে ধনী ও দরিদ্রতম সদস্য কারা জানেন?

মোদির মন্ত্রিসভা ঘোষণা হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। কার কাঁধে যাচ্ছে কোন দলের দায়িত্ব, তা-ও এদ্দিনে স্পষ্ট। লোকসভা ভোটে জিতলেও এবার একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি বিজেপি। ফলে সরকার গড়ার জন্য এনডিএ জোটের শরিকদের উপর বেশি ভরসা করতে হয়েছিল গেরুয়া শিবিরকে। যে কারণে তাদের দাবিদাওয়া চাহিদা মেনেই মন্ত্রিসভা সাজাতে হয়েছে বিজেপিকে।

রবিবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রধানমন্ত্রী মোদী-সহ ৭২ জন সাংসদ রাষ্ট্রপতি ভবনে মন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন। তাঁদের মধ্যে ৩০ জন পূর্ণমন্ত্রী। বাকিরা কেউ প্রতিমন্ত্রী, কেউ আবার স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন। তার মধ্য়ে বহু মুখই চেনা। বেশিরভাগ চেনা কাঁধেই পরিচিত দফতরের দায়িত্ব রাখতে চেয়েছে গেরুয়া শিবির। মেরুকরণের রাজনীতির সমীকরণ মেনেই এবার মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি একজন মুসলিম সাংসদও। তার মধ্যেই শরিকদের দাবিদাওয়া পূরণ, সহজ ছিল না। তা-ও সমস্ত শর্ত মেনে তৃতীয়বার ক্ষমতায় এসেছে এনডিএ জোট।

তবে মোদির মন্ত্রিসভায় সবচেয়ে ধনীতম সাংসদের পরিচয় জানলে চমকে উঠতেই হয়। না, তিনি অবশ্য সরাসরি বিজেপির সদস্য নন। বরং এনডিএ জোটের শরিক দলের সদস্য তিনি। এবারের লোকসভা ভোটের পর সরকার গড়ার বিষয়ে কিংমেকারের জায়গায় ছিলেন অন্ধ্রপ্রদেশের তেলুগু দেশম পার্টি (টিডিপি)। এনডিএ-র অন্যতম শরিক দল তারা। এ বারের লোকসভা নির্বাচনে ১৬টি আসন পেয়েছে চন্দ্রবাবু নায়ডুর দল। একগুচ্ছ মন্ত্রিত্ব ও পদের দাবি জানিয়ে রেখেছিল তারা। তবে মোদির মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন টিডিপির মাত্র দুই নেতা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
স্বাধীনতার পর এই প্রথম! দেশের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই হল না একজন মুসলিম সাংসদেরও

Modi Cabinate 3.O: তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। শপথ নিয়েছেন ৩০ পূর্ণমন্ত্রী এবং ৪১ প্রতিমন্ত্রী। সেই তালিকায় কতজন খ্রিস্টান, শিখ, বৌদ্ধ, ব্রাহ্মণ, ওবিসি, দলিত কিংবা আদিবাসী?

রবিবার মন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন অন্ধ্রপ্রদেশের টিডিপি-র দুই সাংসদ। এক জন পূর্ণমন্ত্রী এবং এক জন প্রতিমন্ত্রী। টিডিপি নেতা কে রামমোহন নায়ডু মন্ত্রী হয়েছেন তৃতীয় মোদী সরকারের মন্ত্রিসভায়। অন্যজন হয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। রবিবার প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন চন্দ্রশেখর পেম্মাসানি। এই চন্দ্রশেখরই এখন চর্চার কেন্দ্রে। অন্ধ্রপ্রদেশের গুন্টুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে এ বার টিডিপি-র টিকিটে লড়েছিলেন চন্দ্রশেখর। তিনি প্রায় সাড়ে তিন লাখ ভোটে হারিয়েছেন জগন্মোহন রেড্ডির দল ওয়াইএসআরসিপি-র প্রার্থী কিলারি ভেঙ্কটা রোয়াইয়াকে। কিন্তু কেন তাঁকে নিয়ে এত আলোচনা? কারণ মোদি মন্ত্রিসভার ধনীতম সাংসদ ও সদস্য তিনি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মোদির মন্ত্রিসভা ৩.০ তৈরি! মন্ত্রিত্বে কারা? পদ খোয়ালেন কারা?

Modi 3.0 Cabinet: এই বারের ভোটে কিংমেকার ছিল এনডিএ জোটের শরিকদলগুলিই। সমর্থনের বিনিময়ে একাধিক মন্ত্রী পদ ও প্রতিমন্ত্রীর পদের জন্য আবদার জানিয়ে রেখেছিল তাদের নেতারা? কতটা সাধপূরণ হল তাঁদের?

গুন্টুরেরই বাসিন্দা চন্দ্রশেখর। সেখানকার বুরিপালেম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ৪৮ বছর বয়সি এই রাজনীতিবিদ পেশায় চিকিৎসক। ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিবিএস পাশ করেন চন্দ্রশেখর। তার পর পাড়ি দেন বিদেশে। জন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটি এবং লিনাইল হাসপাতালে পাঁচ বছর প্র্যাকটিস করেছেন চন্দ্রশেখর। এ ছাড়াও ডাক্তারি পড়ুয়াদের পড়াতেন তিনি। পাশাপাশি অনলাইন লার্নিং প্ল্যাটফর্মও তৈরি করেছিলেন চন্দ্রশেখর। নাম ‘ইউ ওয়ার্ল্ড’। বর্তমানে সেই সংস্থার সিইও তিনি। আমেরিকাতে থাকতেই সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন চন্দ্রশেখর। তাঁর পরিবার বরাবরই চন্দ্রবাবু নায়ডুর দলের সমর্থক। টিডিপি এনআরআই সেলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন তিনি। আমেরিকায় থাকতেই বিভিন্ন দলীয় অনুষ্ঠান আয়োজন করতেন চন্দ্রশেখর। ২০২০ সালে আমেরিকায় থাকাকালীন তরুণ উদ্যোক্তা হিসাবে পুরস্কারও জেতেন তিনি। ‘আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ং’ অ্যাওয়ার্ডও পান। এ ছাড়াও পেন্নাসানি ফাউন্ডেশন নামে একটি সংস্থার প্রতিষ্ঠা করেন চন্দ্রশেখর। যারা বিভিন্ন স্বাস্থ্যশিবির আয়োজন করে থাকে। শুধু তা-ই নয়, বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে পানীয় জল সরবরাহ করে থাকে তারা।

২০১৪ সাল থেকে গুন্টুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ পদে ছিলেন জয় গাল্লা। তবে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে আচমকাই রাজনীতি ছাড়েন তিনি। তাঁর ছেড়ে যাওয়া আসনে টিডিপি প্রার্থী করে চন্দ্রশেখরকে। এবং সেই আসন থেকে জিতেও যান চন্দ্রশেখর। বর্তমানে তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ পাঁচ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। ভোটাধিকার সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন অফ ডেমোক্রেটিক রিফর্মস বা এডিআর-এর দেওয়া দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চন্দ্রশেখরই দেশের ধনীতম মন্ত্রী। এডিআর-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে আট হাজার ৩৬০ জন প্রার্থী হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পত্তি রয়েছে চন্দ্রশেখরেরই। শুধু নিজের সম্পত্তিই নয়। পারিবারিক সম্পত্তিও কম নয় চন্দ্রশেখরের। আর তাঁর আর্থিক ভাবে এগিয়ে থাকার নেপথ্যে আসলে রয়েছে সেটাই বলে দাবি একাংশের।

একদিকে যেখানে মোদির মন্ত্রিসভায় রয়েছে চন্দ্রশেখর পেম্মাসানির মতো ধনীতম ব্যক্তি, তেমনই রয়েছে আর্থিক ভাবে পিছিয়ে থাকা মন্ত্রীও। খাতায়-কলমে যার সম্পত্তির পরিমাণ সবচেয়ে কম। তবে তিনিও কিন্তু সরাসরি বিজেপি শিবিরের নন। আর্থিক ভাবে দুর্বলতম সদস্যটিও রয়েছে এনডিএ শিবিরে। এবং মোদির তৃতীয় জমানার মন্ত্রিসভায় জায়গা মন্ত্রীও হয়েছেন তিনি। তিনি বিহারের হিন্দুস্তানী আওয়াম মোর্চার প্রেসিডেন্ট জীতন রাম মাঝি। তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণই নাকি ৩০ হাজার। ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্প মন্ত্রকের দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। তার পরে গরিব সাংসদের মধ্যে রয়েছেন তেলঙ্গানার বিজেপি সাংসদ বান্দি সঞ্জয় কুমার, উত্তরাখণ্ডের বিজেপি সাংসদ অজয় তামতা, পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সভাপতি ও সাংসদ সুকান্ত মজুমদার ও অসমের বিজেপি সাংসদ পবিত্র মার্গেরিটা। এদের সকলের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ১ থেকে দেড় লক্ষের মধ্যে। অন্তত ভোটের আগে দেওয়া হলফনামায় তো তেমনটাই জানিয়েছেন তাঁরা।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

নিষিদ্ধ নয়, বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা, কী আছে ফিলিস্তিনপন্থী স্যালি রুনির বইয়ে

Sally Rooney: ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে রয়্যালটি দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশের পর ব্রিটেনে স্যালি রুনির বই সরবরাহ বন্ধ করেছে ফ্যাবার।

সিজেপির কর্মসূচির আগে ৬ হাজার পুলিশ, দুর্ভেদ্য দুর্গ কনট প্লেস

Connaught Place protest: সিজেপির কর্মসূচির আগে কনট প্লেস এবং তার আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে দিল্লি পুলিশ। কনট প্লেসের আশপাশে ৬ হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

সরবোন থেকে যন্তরমন্তর: যে আগুন বারবার বদলে দেয় পৃথিবীকে

May 1968 France student protests: এই যে ছেলেমেয়েরা যন্তরমন্তরের রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে, ধারাশ্রাবণের ভয় পিছনে ফেলে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে এগিয়ে গেল, দক্ষিণী এক বৃদ্ধ তার ধুতি সামলাতে সামলাতে ছুটছেন তাদের সঙ্গে—কী মনোরম এই বারিপাত! কেমন যেন একটা দুর্দান্ত ফ্ল্যাশব্যাকে ঘুরে গেল সময়।

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?