বামেরা চেয়েছিল বাদ দিতে || কেন আজও প্রাসঙ্গিক 'সহজ পাঠ'?

tiasa gupta
৪ মিনিট
বামেরা চেয়েছিল বাদ দিতে || কেন আজও প্রাসঙ্গিক 'সহজ পাঠ'?

ছোট খোকা বলে অ আ

শেখেনি সে কথা কওয়া।

রবীন্দ্রনাথের অসামান্য সৃষ্টি-সাগরের এক স্বচ্ছ মুক্তো 'সহজ পাঠ'। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী বই। বিদ্যাসাগরের 'বর্ণপরিচয়'-এর ভাষা যতটা কঠিন, 'সহজ পাঠ'-এর ভাষা ততই সহজ ও সাবলীল। চলিত ভাষায় লেখা এই 'সহজ পাঠ' "ছোটো খোকা বলে অ-আ, শেখেনি সে কথা কওয়া" দিয়ে শুরু। রবীন্দ্রনাথের 'সহজ পাঠ'-কে সমৃদ্ধ করেছে নন্দলাল বসুর আঁকা। রবীন্দ্রনাথ এবং নন্দলাল বসুর যুগলবন্দিতে 'আজি হতে শতবর্ষ পরে'-ও সমান আকর্ষণীয় হয়ে থেকে যাবে এই শিশুপাঠ্য। 'সহজ পাঠ'-এর গোড়াতেই বলা আছে- 'নন্দলাল বসু কর্তৃক চিত্রভূষিত...।'

‘সহজ পাঠ’ সম্পূর্ণ সিরিজটি নন্দলাল বসুর অলংকরণে সমৃদ্ধ৷ 'সহজ পাঠ'-এর তৃতীয়, চতুর্থ ভাগের তুলনায় প্রথম, দ্বিতীয় ভাগই সর্বাধিক পরিচিত, তার একটা অন্যতম কারণ, বছরের পর বছর পশ্চিমবঙ্গে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যথাক্রমে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম ভাগ এবং দ্বিতীয় শ্রেণিতে দ্বিতীয় ভাগ পাঠ্য৷ ফলত প্রথম দু’টি ভাগের ছবিও অনেক বেশি পরিচিতি পেয়েছে, আলোচিত হয়েছে নানা শিল্প-সমালোচকের কথায়-কলমে৷ তবে ‘সহজ পাঠ’-এর ছবি বললেই আমাদের চোখের সামনে যে ছবিগুলি ভেসে ওঠে, সেইসব প্রচলিত ছবিগুলো ‘সহজ পাঠ’ আত্মপ্রকাশকালে (১৯৩০) ছিল না, ছিল ভিন্নধর্মী ছবি। উল্লেখ্য, নবম পাঠে ‘বৃষ্টি নামল দেখছি’ গদ্যে বোষ্টমীর প্রসঙ্গে আমরা দেখতে অভ্যস্ত, ঘরের মধ্যে চৌকিতে বসে দাদামশাই ও তাঁর গা ঘেঁষে নাতনি, আর মেঝেতে চাটাইয়ে বসে বোষ্টমী গাইছেন গান, প্রথম সংস্করণের অলংকরণে এ ছবি ছিল না, সেখানে পাঠের মাঝখানে ছিল স্পষ্টত এক বোষ্টমীর ছবি, মাথায় কেশরাশির চূড়া, পিঠে ভিক্ষার ঝুলি, হাতে ভিক্ষাপাত্র৷ বই-চিত্র যে বদলেছে, তা নয়, ভিন্ন ছিল বইটির আকৃতি এবং মলাট-পাতাও৷ লেখনশৈলি ছিল একেবারে সাদামাঠা মুদ্রণে, হলুদ রঙের মলাটে লাল কালিতে লেখা- 'সহজ পাঠ', আর তলায় লেখা 'শ্রীরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর'৷

এখন নাকি অনেক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল 'সহজ পাঠ' পড়ানোর প্রয়োজন বোধ করে না। তাহলে কি আগামী দিনে স্মৃতির অতলে চলে যাবে এই শিশুপাঠ্য? প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। কারণ, ১৯৮০ সালে ‘সহজ পাঠ’-কে কেন্দ্র করে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি হয়। তদানীন্তন বামফ্রন্ট সরকার প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নকল্পে এক নতুন সিলেবাস কমিটি গঠন করে। সেই কমিটি ‘সহজ পাঠ’-এর বদলে নতুন শিশুপাঠ্য প্রণয়নের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলনে শামিল হন দেশের বুদ্ধিজীবীরা। নীহাররঞ্জন রায়, সুশোভন সরকার, প্রেমেন্দ্র মিত্র, সুবিনয় রায়, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, সুচিত্রা মিত্র, কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, সুকুমার সেন, প্রমথনাথ বিশী, প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত, আবু সৈয়দ আইয়ুব প্রমুখ সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ করেন। এত প্রতিবাদ সত্ত্বেও বামফ্রন্ট সরকার তাঁদের সিদ্ধান্তে অটল ছিল। পরে অবশ্য ‘সহজ পাঠ’-এর শাপমুক্তি ঘটে।

বিদ্যাসাগরের ‘বর্ণপরিচয়’ প্রকাশিত হয় ১৮৫৫ সালে, ৭৫ বছর পরে ১৯৩০ সালে প্রকাশিত হয় রবীন্দ্রনাথের ‘সহজ পাঠ’। শান্তিনিকেতন প্রেস থেকে রায়সাহেব জগদানন্দ রায় প্রকাশ করেন এই বই।

‘সহজ পাঠ'-এর সাহিত্যগুণ সম্পর্কে বুদ্ধদেব বসুর মত এইরকম: “পাঠ্যপুস্তক বলে যদিও রবীন্দ্রনাথ এখানে তাঁর প্রতিভাকে সীমিত রেখেছিলেন তথাপি তার প্রয়োগে কোন কার্পণ্য করেননি।‘সহজ পাঠ’ যেন প্রতিভার বেলাভূমিতে উৎক্ষিপ্ত, ক্ষুদ্র, নিটোল, স্বচ্ছ একটি মুক্তো। এর ছত্রে ছত্রে প্রকাশ পেয়েছে চরিত্র, আর সেই সঙ্গে ব্যবহারযোগ্যতা, ছন্দোবদ্ধ ভাষায়, ভাষার কান্তিতে, চিত্ররূপের মালায়, গদ্যছন্দের বৈচিত্র্যে, অনুপ্রাসের অনুরণনে ‘সহজ পাঠ’ অনবদ্য।"

শিশুর সামগ্রিক বিকাশে ‘সহজ পাঠ’এর ভূমিকা নিয়ে এক গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন সুপ্রিয়া কর্মকার ও দেবপ্রসাদ শিকদার। তাঁদের বক্তব্য, শিশুপাঠ্য গ্রন্থ হিসেবে ‘সহজ পাঠ’ একেবারেই স্বতন্ত্র। রবীন্দ্রনাথ অত্যন্ত দক্ষতায়, সচেতনতার সঙ্গে শিশুমনের উপযোগী করে তদানীন্তন সময়ের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয়, অর্থনৈতিক বিষয় উপস্থাপন করেছেন। গ্রাম, শহর, আচার-আচরণের সঙ্গে শিশুর পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন তিনি।

কিন্তু আমরা কি রবীন্দ্রনাথের সেই 'সহজ পাঠ'-এর শিক্ষার মান রেখেছি? বাংলা ভাষাই যেখানে বিপর্যস্ত, সেখানে 'সহজ পাঠ' কি আদৌ সুরক্ষিত?

অপূর্ব দত্তর একটা কবিতা এই প্রসঙ্গে বিশেষ উল্লেখযোগ্য। 'বাংলা টাংলা' কবিতার একটি লাইন, যেখানে এক শিশুর মা বাংলা বিষয়ের প্রতি অনীহা প্রকাশ করে শিশুটির বাবাকে বলছে, "... চুপ করো তো, ওর ফল্টটা কিসে, স্কুলে কেন বেংগলিটা পড়ায় না ইংলিশে?" এই লাইনটির মধ্যে শ্লেষ থাকলেও রয়েছে এক ধরনের আশঙ্কা। এই প্রবণতা যদি ক্রমশ বাড়তে থাকে, তাহলে শৈশব যে বিপন্ন হবে, তা বলাই বাহুল্য।

এখানেই প্রশ্ন, আজকের শিশু কি প্রকৃত 'সহজ পাঠ' শিখছে ? পরিচিত হচ্ছে গ্রামবাংলার প্রকৃত রসের সঙ্গে? রবীন্দ্রনাথের কথা ও চিত্রশিল্পী নন্দলাল বসুর এই ভুবনবিখ্যাত ছবিগুলো সাদা-কালো হলেও মানুষের মনে রঙিন হয়ে আছে। 'সহজ পাঠ'-এর বিকল্প আজও তৈরি হয়ে উঠতে পারেনি। কোনওদিন হবেও না, একথা জোরগলায় দাবি করা যায়। বাংলা বর্ণমালার প্রাথমিক ধারণা, তাদের কাঠামো, উচ্চারণরীতি শিক্ষার জন্য এর থেকে ভালো বই আর কিছু হতে পারে না। ছোট ছোট ঘটনা ও গ্রাফিক্স চিত্র দিয়ে অক্ষরগুলিকে শিশুমনের উপযোগী করে তোলা হয়েছে।

আজও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সহজ পাঠ’ প্রাসঙ্গিক। কারণ এখানে শিশুদের প্রকৃতি, গ্রামবাংলার মাঝে নিয়ে যাওয়ার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে 'সহজ পাঠ'। যখন আমরা 'সহজ পাঠ' পড়ি, তখন এটি আমাদের কাছে খুবই সাধারণ, কিন্তু তার গভীরে প্রবেশ করলে মনে হবে এটি বিশ্বসাহিত্যের এক অদবদ্য দৃষ্টান্ত। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর আমাদেরকে বর্ণের পরিচয় দিলেও, পরবর্তীকালে রবি ঠাকুর সেই বর্ণগুলিকে দিয়েছেন সুরের ছন্দ, দিয়েছেন শব্দের জাদু।

লিখেছেন
tiasa gupta
tiasa gupta
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।