জি-২০-র ডিনারে কোন টেবিলে কার পাশে মমতা, নীতীশ? জোর চর্চা ইন্ডিয়া শিবিরে

Mamata at G20 Dinner : এটা বলা যাবে না যে শুধু অমিত শাহ আর যোগী আদিত্যনাথের সঙ্গেই ডিনার টেবিলে ছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।

inscript
৩ মিনিট
জি-২০-র ডিনারে কোন টেবিলে কার পাশে মমতা, নীতীশ? জোর চর্চা ইন্ডিয়া শিবিরে

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর নৈশভোজে শুধুই নিরামিষ পদ। ১৩ সেপ্টেম্বর ইন্ডিয়া জোটের পরের বৈঠক। তার আগে জি ২০-র নৈশভোজ নিয়েই আমিষ রাজনীতির চর্চা তুঙ্গে। কেন চর্চা? চর্চার বিষয়বস্তু কী? নৈশভোজের আসরে টেবিলগুলোর নাম দেওয়া হয় ভারতের প্রধান প্রধান নদীর নামে। এক একটা টেবিল একটা নদী। গঙ্গা, যমুনা, কৃষ্ণা, এ রকম। তো সেই টেবিলেই কোন নদী কার সঙ্গে মিলিত হল, বিরোধী শিবিরের আমন্ত্রিতরা কে কোথায় বসলেন? কোথায় বসলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? কোথায় বসলেন নীতীশ কুমার?

এক হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখু ছাড়া বাকি কংগ্রেস শাসিত রাজ্যের কোনও মুখ্যমন্ত্রী জি-২০-এর নৈশভোজে যোগ দেননি। ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম প্রধান মুখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নৈশভোজ যোগ দিয়েছিলেন। যোগ দিয়েছিলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার, ঝাড়খণ্ডের হেমন্ত সোরেন, তামিলনাড়ুর এম কে স্ট্যালিনের মত ইন্ডিয়া জোটের নেতারা। নিরামিষ টেবিলের এই কুশীলবদের ভিতর রাজনীতির আমিষচর্চা মমতা এবং নীতীশ কুমারকে ঘিরে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ইন্ডিয়া নয়, ভারতেই জোর মোদির! জি-২০ তে স্পষ্ট হচ্ছে যেসব ইশারা

G20 Prime Minister of Bharat : ৯ সেপ্টেম্বর সকাল থেকেই ভারতের টুইটার ট্রেন্ডিং তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করে রয়েছে 'Prime Minister of Bharat'।

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ভোজসভায় কে কোন টেবিলে বসবেন আগে থেকেই ঠিক করা ছিল। হেমন্ত সোরেনের এক্স হ্যান্ডল (এক সময়ের টুইটার) থেকে পাওয়া ছবিতে দেখা যাচ্ছে ফ্রেমের ডানদিকের টেবিলে বসে রয়েছেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তাঁর পাশেই রয়েছেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসন ছিল ওই টেবিলেই। যা নিয়ে সমালোচনায় মুখর ইন্ডিয়া জোটের শরিকরা। বিশেষ করে এ রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেস এবং সিপিএম।

মমতার সঙ্গে ওই এক টেবিলেই ছিলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। কাজেই এটা বলা যাবে না যে শুধু অমিত শাহ আর যোগী আদিত্যনাথের সঙ্গেই ডিনার টেবিলে ছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু তাতে কি! প্রশ্ন করতে ছাড়েননি অধীররঞ্জন চৌধুরীরা। 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রিত নৈশভোজে যোগ না দিলে মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যেত না। মাথার উপর আকাশ ভেঙে পড়ত না।' বলছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী। মমতার ডিনারে যোগ দেওয়ার পিছনে অন্য কোনও কারণের 'গন্ধও' পেয়েছেন অধীর। তৃণমূল কংগ্রেসও পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেনি। সাংসদ সৌগত রায়ের বক্তব্য, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে জি-২০-র নৈশভোজে যোগ দিয়েছেন। এটা নিতান্তই সৌজন্যমূলক। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। অধীররঞ্জন চৌধুরীর এ নিয়ে কোনও মন্তব্য না করাই উচিৎ। হিমাচল প্রদেশ তো কংগ্রেস শাসিত রাজ্য। সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখুও তো নৈশভোজে যোগ দিয়েছেন।' অধীরকে মনে করিয়ে দিয়েছেন সৌগত।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
দ্রৌপদীর ডিনারে নিরামিষ 'ভারত', শেষপাতে 'মধুরিমা'

G20 Summit 2023: বিশ্বনেতাদের খাতিরদারিতে চেষ্টার ত্রুটি রাখেননি রাষ্ট্রপতি। যাকে বলে এলাহি আয়োজন! সূত্রের খবর রূপোর থালায়, রূপোর গ্লাসে অতিথিদের পরিবেশন করা হয়েছে নৈশভোজ।

ছবি সৌজন্য: হেমন্ত সোরেনের X হ্যান্ডল

বিজেপির হাত ছেড়়ে ইন্ডিয়া শিবিরে পা রেখেছেন নীতীশ কুমার। লালু প্রসাদের আরজেডি, কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। জি-২০-এর ডিনারে যোগ দেন তিনিও। যে নীতীশ দুদিন আগেও বলেছেন নরেন্দ্র মোদির মুখ দেখতেও রাজি না, সেখানে দ্রৌপদী মু্র্মুর নৈশভোজে তাঁর উপস্থিতি জল্পনা উসকে দিয়েছে। তবে কি আবার শিবির বদলাতে চলেছেন নীতীশ? বিরোধী ইন্ডিয়া জোটে কি তেমন কলকে পাচ্ছেন না তিনি? এই জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে নৈশভোজের একটি ছবিতে। যেখানে একই ফ্রেমে প্রধানমন্ত্রীর পাশেই দেখা যাচ্ছে নীতীশ কুমারকে। দেখা যাচ্ছে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডো বাইডেনকে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজে নীতীশের সঙ্গে বাইডেনের আলাপ করিয়ে দেন।

১৩ সেপ্টেম্বর ইন্ডিয়া জোটের সমন্বয় কমিটির বৈঠক রয়েছে নয়াদিল্লিতে। এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়ারের দিল্লির বাসভবনে ওই বৈঠক হওয়ার কথা। জোটের রণকৌশল, আসন ভাগাভাগি, পরবর্তী স্তরে জোটকে এগিয়ে নিয়ে যেতে কী কী আলোচ্যসূচি থাকতে পারে, তা নিয়ে ওই দিন আলোচনা হবে। তার আগে জোটের দুই অন্যতম প্রধান মুখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নীতীশ কুমারকে নিয়ে সিপিএম এবং অধীররঞ্জনের অবস্থানে কিছুটা হলেও অস্বস্তিতে পড়েছে ইন্ডিয়া জোট। যেমন সুজন চক্রবর্তী তো প্রকাশ্যেই বলছেন, ডাল মে কুছ কালা হ্যায়। আর বিজেপি এই সুযোগে চিমটি কেটে দিয়েছে। পদ্ম শিবিরের একাংশ বলছে, 'এই সামান্য ঘটনাতেই এত জলঘোলা। এরপর জোটের নেতারা পাশাপাশি বসে অন্ত্যক্ষরী খেলবেন?'

মমতা, নীতীশ এঁদের আমন্ত্রণ জানানো হলেও কেন কংগ্রেসের জাতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকে নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস। বিজেপি মনে করিয়ে দিয়েছে, তাঁদের দলের সভাপতি জগৎপ্রকাশ নাড্ডাকেও জি২০-র নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানাননি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।