বাঙালি বনাম অবাঙালি: বেছে বেছে সুজিতকেই কেন নিশানা করলেন মমতা?

Mamata Banerjee-Sujit Bose: সরকারি জমি দখল, পুকুর ভরাট এই অঞ্চলে নতুন ঘটনা নয়। তাহলে এখন কেন প্রশ্ন তুলছেন মমতা?

inscript
৩ মিনিট
বাঙালি বনাম অবাঙালি: বেছে বেছে সুজিতকেই কেন নিশানা করলেন মমতা?

বিধাননগর সল্টলেক অঞ্চলে গত কয়েক বছরে অবাঙালি বেড়েছে হু-হু করে। এই অঞ্চলে দাপট সুজিত বসুর, তৃণমূলের দমকলমন্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় উন্নয়নের বহর বেড়েছে আর পাল্লা দিয়ে বিভিন্ন দুর্নীতি, টেবিলের তলা দিয়ে কাজের পরিমাণও বেড়েছে বলে অভিযোগ। এবারের লোকসভা ভোটের ফল প্রকাশ হতেই দেখা যায় কলকাতার পুরসভাগুলিতে ভোট কমছে তৃণমূলের। লোকসভা ভোটে বিজেপির আসন কমলেও ভোট সংখ্যায় বিশেষ প্রভাব পড়েনি। ভোট মিটতেই প্রথম তাই বাঙালি-অবাঙালি ইস্যুতে জোর গলায় কথা বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুরবৈঠক ডেকে সুজিত বসুর নাম করে বলেছেন, বিধাননগরে সরকারি জমি বেহাত হচ্ছে অথচ পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে না। সল্টলেক জুড়ে ফুটপাথে হকার উচ্ছেদও শুরু হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ বাঙালি-অবাঙালি ইস্যুতে সুজিত বসুকেই কেন নিশানা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? কেন সুজিতের বিরুদ্ধে 'নিজের লোক' বসানোর অভিযোগ উঠল? নিজের লোক বলতে কাদের বোঝালেন মুখ্যমন্ত্রী?

নিম্নবিত্ত অধ্যুষিত সল্টলেক-বিধাননগর সংলগ্ন এলাকাগুলি বাদ দিলে সল্টলেক, লেক টাউন, বাঙুর, দমদম পার্কের মতো এলাকায় অবাঙালি ভোটের হার যথেষ্ট বেশি। অন্তত ২৬ থেকে ২৭ শতাংশ অবাঙালি ভোটার রয়েছেন এই এলাকায়। সল্টলেকের কোনও কোনও ব্লকে আবাসিকদের ৫০ শতাংশই অবাঙালি, এমনও আছে। আর এই অবাঙালিদের একটা বড় অংশই বিজেপির ভোটার। তাহলে মমতা কি বলতে চাইছেন সুজিত বসুর মদতে বিজেপি ভোট বাড়ছে সল্টলেক বিধাননগরে?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
জবরদখল হয়ে যাচ্ছে বাঙালিদের জমি? কেন ক্ষোভে ফুটছেন মমতা?

Mamata Banerjee: ইতিমধ্যেই এই জমি জবরদখল নিয়ে একগুচ্ছ পদক্ষেপ করা হয়েছে। জেলায় জেলায় পাঠানো হয়েছে ৬ দফা নির্দেশিকা।

ভিআইপি রোডের ধারে নয়ানজুলি ভরাট হওয়া নিয়ে ২০১৫ সালেই হইচই পড়ে যায়। নয়ানজুলি ভরাট করে বহুতল ও রেস্তোরাঁ তৈরি হওয়ার অভিযোগ ওঠে। সেবারও এই ইস্যুতে নিউ টাউনের তৃণমূল বিধায়ক সব্যসাচী দত্ত কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছিলেন বিধাননগরের বিধায়ক সুজিত বসুকেই। ২০২৪ সালে আবার কাঠগড়ায় সুজিত। এবার মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি সুজিতের বিরুদ্ধে সরকারি জায়গায় লোক বসানোর অভিযোগ তুলেছেন। সরকারি জমি দখল, পুকুর ভরাট এই অঞ্চলে নতুন ঘটনা নয়। তাহলে এখন কেন প্রশ্ন তুলছেন মমতা?

২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে বিধাননগরে তৃণমূলের ফল শোচনীয়। বিধাননগর বিধানসভা কেন্দ্রের লেকটাউনেও তৃণমূলের ফল খারাপ। লেকটাউন সুজিত বসুর জায়গা। ভিআইপি রোডের দক্ষিণদাঁড়ি, গোলাঘাটা অঞ্চলের একাধিক স্থানে সরকারি জায়গাতে যেখানে নয়ানজুলি ছিল, সেখানে এখন আবাসন এবং রেস্তোরাঁ গড়ে উঠেছে। তৃণমূলের অন্দরের সুজিত-বিরোধী শিবির বলছে, নয়ানজুলি ভরাট নিয়ে আগেও বিতর্ক হয়েছে। আর তখন রাজ্য সরকারও কোনও তদন্তের নির্দেশ দেয়নি। সুজিত বরাবরই মমতা ঘনিষ্ঠ। লোকসভা নির্বাচনেও এই অঞ্চলের প্রচারে সুজিত বসুকেই দেখা গেছে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে। সেই সুজিতই লোকসভা ভোটের পরে বিরাগভাজন হয়ে গেলেন!

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
হজ করতে গিয়ে মৃত্যুর মুখে ১,৩০০ পুণ্যার্থী, কেন মৃত্যুনগরী মক্কা?

Hajj Deaths: এই মুহূর্তে সৌদি আরবের মক্কার তাপমাত্রা ছাড়িয়েছে ৫১ ডিগ্রি। ফলে চরম গরমে তীর্থ করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বহু পুণ্যার্থী।

তৃণমূল রাজ্যের লোকসভাগুলিতে দাপট ধরে রাখলেও বিভিন্ন জেলার পুর-এলাকাগুলির অধিকাংশেই বিজেপি তৃণমূলের থেকে এগিয়ে রয়েছে। লোকসভা ভোটের পুরসভা ভিত্তিক ফল অনুযায়ী, রাজ্যের ১২১টি পুরসভার মধ্যে ৭৪টিতেই ওয়ার্ড ভিত্তিক ফলাফলের নিরিখে ১ নম্বরে রয়েছে বিজেপি। তৃণমূল ৪১টিতে, কংগ্রেস ৩টিতে প্রথম স্থানে আছে। খোদ কলকাতার মধ্যে পুর-এলাকায় তৃণমূলের ভোটের শোচনীয় ঘাটতি দেখেই এবার সুজিত বসুর নাম ধরে এমন আক্রমণ মমতার, মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মমতা স্পষ্টই বোঝাতে চেয়েছেন সুজিত টাকা নিয়ে যে 'নিজের লোকদের' ঢোকাচ্ছেন সল্টলেকে তারা অবাঙালিই বেশি এবং বিজেপির ভোটার। তাই তৃণমূলের ভোট কমছে। দলে থেকেও এ তো 'দলবিরোধী' কাজই।

ফুটপাত দখল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করার পরেই সল্টলেকে ফুটপাতের বেশ কিছু দোকান ভেঙে দিয়েছে বিধাননগর পুরসভা। কিন্তু ফুটপাথ ছাড়াও এখানে বিবিধ স্থানে যে পার্কিং গজিয়ে উঠছে তাও তো সরকারি জায়গা দখল করেই। নগরোন্নয়ন দফতরের একাধিক জমিতে বস্তিও গজিয়ে উঠেছে। বিধাননগরের নাওভাঙা, কুলিপাড়া, ছয়নাভির মতো জলাভূমি অধ্যুষিত সংযুক্ত এলাকায় বেআইনি বাড়িও আছে। সেসবও কি মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষোভ প্রশমন করতে গিয়ে ভেঙে ফেলা হবে? এখানেই প্রশ্ন উঠছে, খাস কলকাতায়, সল্টলেকে যা ঘটছে, সুজিত যা যা করছেন বলে অভিযোগ তা কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নজরে এতদিন পড়েনি? নাওভাঙা, কুলিপাড়া এলাকায় অবৈধ বাড়ি গজিয়ে উঠেছে মুখ্যমন্ত্রীর নজর এড়িয়ে? নাকি এতদিন বিষয়টা দেখেও অদেখা রেখেছিলেন তিনি? ভোটের ফল প্রকাশ পেতেই কি মমতা তাই সতর্ক করে দিচ্ছেন সুজিতকে?

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।