'ন্যায় যাত্রা' নিয়ে মালদহে রাহুল, নিজের গড়ে কেন গড়হাজির ডালু?

Bharat Jodo Nyay Yatra: মালদহ আদতে যার গড়, যে নেতার জন্য মালদহে কংগ্রেসের এত প্রতাপ, সেই আবু হাসেম খান চৌধুরী ওরফে ডালু কোথায় এই বিরাট ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রায়?

Sohini Das
৩ মিনিট
'ন্যায় যাত্রা' নিয়ে মালদহে রাহুল, নিজের গড়ে কেন গড়হাজির ডালু?

বাংলা, বিহার ঘুরে ফের বাংলায় পা রেখেছে রাহুল গান্ধির 'ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা'। মালদহে ইতিমধ্যে পৌঁছেও গিয়েছেন রাহুল। সেই যাত্রায় যোগ দিতে উত্তরবঙ্গে পৌঁছেছেন বহু বাম নেতাই। তৃণমূল নেত্রীকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু তিনি সেই ডাকে সাড়া দেননি। এদিন মালদহেই আলাদা সভা রয়েছে মমতার। এদিকে মালদহ আদতে যার গড়, যে নেতার জন্য মালদহে কংগ্রেসের এত প্রতাপ, সেই আবু হাসেম খান চৌধুরী ওরফে ডালু কোথায় এই বিরাট ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রায়?

ইন্ডিয়া জোটে একে অপরের জোটসঙ্গী তৃণমূল এবং কংগ্রেস। তবে প্রায় কোনও কথাতেই একমত হতে পারেনি দুই দল। বরং গোড়া থেকেই 'একলা চলো' নীতির কথা বলে এসেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রায় বারবার তৃণমূলনেত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি তা এড়িয়েছেন। বরং যাত্রার দিনেই মালদহে সভা করছেন তিনিও। কার্যত বুঝিয়ে দিতে চেয়েছেন, তিনিও কম যান না কোনও ভাবেই। তবে বারবার তৃণমূল ও কংগ্রেসের মৈত্রীর কথা শোনা গিয়েছে যাঁর মুখে তিনি ডালু। এমনকী বামেদের সঙ্গে জোটের চেয়ে তৃণমূলের সঙ্গে বন্ধুত্বকেই এগিয়ে রাখতে চেয়েছেন তিনি। বারবার তিনি দাবি করেছেন, যাতে বাংলায় তৃণমূলের সঙ্গেই জোট বাঁধে কংগ্রেস।

মালদহ দক্ষিণ কেন্দ্রে পর পর তিনবারের সাংসদ ডালু। মালদহ কার্যত তাঁর দুর্গ। বছরের গোড়াতেও তাঁকে নিয়মিত দলের কর্মসূচীতে অংশ নিতে দেখা গিয়েছে। জনসংযোগের কাজে মন দিয়েছেন। দক্ষিণ মালদহ লোকসভা কেন্দ্র থেকে চতুর্থবারের জন্য প্রার্থী হওয়ার কথাও ঘোষণা করেছিলেন নিজের মুখেই। স্বাভাবিক ভাবেই তাঁর এই সক্রিয়তা নজর কেড়েছিল রাজনৈতিক মহলের। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, এতদিন কোথায় ছিলেন ডালু? যদিও বিরোধীদের কথায় তেমন কান দেননি কংগ্রেস নেতৃত্ব। কিছুদিন আগেই দলে যাঁর এত সক্রিয়তা ছিল, সেই ডালু কেন রাহুলের যাত্রায় গড়হাজির? স্বাভাবিক ভাবেই উঠেছে প্রশ্ন। দলের তরফে ব্যাপারটি যতই আড়াল করার চেষ্টা চলুক না কেন, তবু বারবার নানা মহলে উঠে আসছে ডালুর কথা। দলীয় সূত্রের খবর, আবু হাশেম খান চৌধুরী তথা ডালু নাকি বর্তমানে বেশ অসুস্থ। কোনও কোনও পক্ষ আবার দাবি করেছে, রাহুলের যাত্রায় অংশ না নিলেও বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক সভায় দেখা যেতে পারে ডালুকে। এ নিয়ে অবশ্য কোনও পক্ষই মুখ খোলেনি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কাঁচ ভাঙল রাহুলের গাড়ির! ন্যায় যাত্রায় নিরাপত্তার ব্যবস্থাই করেনি তৃণমূল প্রশাসন?

Rahul Gandhi Bharat Jodo Nyay Yatra : আসলে কাঁচ ভাঙা নয়, চোখে পড়ছে কংগ্রেস আর তৃণমূলের চিড়

বুধবার সকালে বিহারের কাটিহার জেলার লাভা হয়ে ৮১ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরের মাহারিপাড়ায় রাহুল গান্ধীর ন্যায় যাত্রা প্রবেশ করবে। বিহারের কংগ্রেস নেতৃত্বের কাছ থেকে পতাকা হস্তান্তর হবে পশ্চিমবঙ্গের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর হাতে। জেলার নেতারা উপহার দিয়ে রাহুলকে স্বাগত জানাবেন। কিন্তু খোদ জেলা সভাপতি তথা সাংসদ ডালুবাবু সে সময়ে উপস্থিত থাকছেন না বলেই সূত্রের খবর। এখনও পর্যন্ত ঠিক রয়েছে, ইংরেজবাজারে পথসভা করবেন রাহুল। এমনকী, ডালুর সংসদীয় ক্ষেত্র এবং অন্যতম ভোটব্যাঙ্ক সুজাপুরে রাহুল রাত্রিযাপন এবং কর্মী বৈঠক করবেন। এর কোনওটাতেই থাকবেন না সাংসদ। জেলা কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি কালীসাধন রায় মঙ্গলবার বলেন,"ডালুবাবুর করোনা হয়েছিল। তার পর থেকেই নানা রকম উপসর্গ তাঁকে ভোগাচ্ছে। সম্প্রতি তিনি ফের অসুস্থ হয়েছেন। চিকিৎসকরা বাইরে যেতে নিষেধ করেছেন। তাই রাহুলের সফরসূচিতে থাকতে পারছেন না তিনি।"

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
জোট নয়, প্রতিপক্ষ কংগ্রেস! রাহুলের ন্যায় যাত্রার দিনেই জনসভা কেন মমতার?

Mamata Banerjee Rahul Gandhi : বিজেপির বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র শরিক দল হলেও কিছুকাল আগেই মমতা সাফ করে দেন কংগ্রেসের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই।

২০০৬ সালে উপনির্বাচনে অবিভক্ত মালদহ লোকসভা কেন্দ্র থেকে প্রথমবার সাংসদ নির্বাচিত হন কোতোয়ালি পরিবারের এই সদস্য। তারপর ২০০৯ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত দক্ষিণ মালদহের সাংসদ নির্বাচিত হয়ে এসেছেন তিনি। আসন্ন লোকসভা নির্বাচনেও যে তিনি আরও একবার দক্ষিণ মালদহের প্রার্থী হতে প্রস্তুত তা স্পষ্টতই ধরা পড়েছে ডালুবাবুর বক্তব্যে। বছরের গোড়া থেকেই রীতিমতো ময়দানেও নেমে পড়তে দেখা গিয়েছে অশীতিপর এই সাংসদকে। সম্প্রতি বারবার দলের অন্দরেই সওয়াল করতে দেখা গিয়েছে তৃণমূলের সঙ্গে জোটের পক্ষে। বেশ কয়েক বছর ধরেই রাজ্যে বামেদের সঙ্গে জোটে গিয়ে ভোট লড়ছে কংগ্রেস। তবে ২০২৪ ভোটে বামেদের হাত ছেড়ে তৃণমূলের হাত ধরে ভোট লড়ুক কংগ্রেস, তেমনটাই দাবি ডালুর। সম্প্রতি তিনি দাবি করেন, অবশ্যই তৃণমূলের একটা ভাল পার্সেন্টেজ এখানে আছে। সিপিএমের সেটা নেই। আমাদের যেসব জায়গায় কংগ্রেস ভাল আছে, সেটা তো ভালই। তার সঙ্গে তৃণমূল যুক্ত হলে আরও ভাল হবে। আমরা সে আশাতেই আছি এবং আমাদের লোককেও বলছি, যদি জোট হয় এরকমভাবেই করতে হবে।”

এদিকে আবার, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলার কংগ্রেস বামেদের সঙ্গে চলতেইইন্ডিয়া জোটের একাধিক বৈঠকের পরও, বাংলায় এসে অধীর চৌধুরীর গলায় তৃণমূল বিরোধী স্বর শোনা গিয়েছে বারবার। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এ রাজ্যে তাদের লড়াই বিজেপি এবং তৃণমূলের সঙ্গেই। যে অনেক বেশি স্বচ্ছন্দ্য, তা বারবারই ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দিয়েছেন প্রদেশ নেতা। সে নিয়ে তাঁর বিরোধ বেঁধেছে প্রবীণ নেতা ডালুর সঙ্গেও। তবে সেই মতপার্থক্যের জেরে কি এবার রাহুলের যাত্রায় না যোগ দিয়ে তৃণমূলের প্রশাসনিক সভাতেই যোগ দিতে চলেছেন ডালু। তেমন একটা সম্ভাবনার কথাও কিন্তু ঘুরছে হাওয়ায়। আর সেটা যদি সত্যিই ঘটে, তবে মালদহে কংগ্রেসের গড়ে কতটা পড়তে চলেছে তার প্রভাব, সেটাই এখন দেখার।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

সরবোন থেকে যন্তরমন্তর: যে আগুন বারবার বদলে দেয় পৃথিবীকে

May 1968 France student protests: এই যে ছেলেমেয়েরা যন্তরমন্তরের রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে, ধারাশ্রাবণের ভয় পিছনে ফেলে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে এগিয়ে গেল, দক্ষিণী এক বৃদ্ধ তার ধুতি সামলাতে সামলাতে ছুটছেন তাদের সঙ্গে—কী মনোরম এই বারিপাত! কেমন যেন একটা দুর্দান্ত ফ্ল্যাশব্যাকে ঘুরে গেল সময়।

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।