২০২৪-এও কি বামের ভোট রামেই যাবে : বরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়

2024 Lok Sabha Left Front Vote : বিজেপি ১৮ টি আসন পাবে না। এই মুহূর্তে ভোট হলে বিজেপি খুব বেশি হলে ১০ থেকে ১১ টি আসন পাবে।

inscript
৩ মিনিট
২০২৪-এও কি বামের ভোট রামেই যাবে : বরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়

২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে বাংলায় মোট ১৮ টি আসন জেতে বিজেপি। এই ১৮ টি আসনের মধ্যে ১৩ টি আসনে বামেদের গড়ে দেড় লক্ষ করে ভোট আছে। ২০২৪ সালের নির্বাচন শিয়রে। এই পাঁচ বছরে বামেদের অবস্থা কি পাল্টেছে একটুও? বামেরা কি এবার নিজেদের ভোট ধরে রাখতে পারবে? যদি পারে, তাহলে বিজেপির কী অবস্থা হতে চলেছে? এতগুলি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে ২০১৯-এর পর থেকে যা যা ভোট হয়েছে সেগুলি একটু নজরে রাখা দরকার। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন, ২০২২ সালের কর্পোরেশন ভোট, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত ভোট।

২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে তৃণমূল পেয়েছিল ৪৩.৬৯ শতাংশ ভোট। বিজেপি ৪০.৬৪%, কংগ্রেস ৫.৬৭%। ৬.৩৪ শতাংশ ভোট পায় বামেরা। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভোট ৫ শতাংশ বাড়ে। বিজেপির ভোট কমে ৩ শতাংশ। বাম-কংগ্রেসেরও ভোট কমে যায় ১০.০৪%। ২০২২-এর কর্পোরেশন ভোটে তৃণমূল ব্যাপক ভোট পায়, সে যেভাবেই হোক না কেন, ৬৩ শতাংশ ভোট। বিজেপির ভোট কমে হয় ১৩ শতাংশ। বাম কংগ্রেস পায় ১৯ শতাংশ। ভেঙে বলতে গেলে বামেরা ১৪ শতাংশ আর কংগ্রেস ৫ শতাংশ। পঞ্চায়েত ভোটে ২০২৩ সালে তৃণমূলের ভোট বেড়ে হয় ৫১.০১%, বিজেপি ২২.৯২ শতাংশ। বাম কংগ্রেস জোটের ভোট বেড়ে হয় ২৩.০২ শতাংশ। এর পাশাপাশি নির্দলের ৩ শতাংশ ভোটও আছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
লোকসভা নির্বাচন ২০২৪: বাংলায় মোট কত আসন পাবে বিজেপি?

Lok Sabha Election 2024: মানুষ জানে, রাজ্যের সরকার রাজ্যে তাঁদের আশ্রয়, রাজ্য সরকারের থেকেই যাবতীয় সুবিধা তারা পাচ্ছেন। ফলে কেন্দ্রে মোদি আর রাজ্যে দিদি এই সমীকরণ মেনে ভোট দেন রাজ্যের একটা বড় অংশের মানুষই।

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ৬ টা আসনে ৫০ হাজারের নীচে জয়ের ব্যবধান ছিল। আরামবাগ আসনে মাত্র ১১৪২ টি ভোটের ব্যবধানে তৃণমূল জেতে। বর্ধমান-দুর্গাপুর আসনে মাত্র ২৪৩৯ ভোটে সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া জেতেন বিজেপির হয়ে। এবার তাঁর বিশাল বিপদ! মালদা দক্ষিণে ৮২২২ ভোটে কংগ্রেস জেতে। ব্যবধান কম হলেও এখানে এবারও খুব একটা অসুবিধা হবে না কারণ এটা কংগ্রেসেরই আসন। পাশাপাশি রাহুলের ন্যায় যাত্রায় এক জনস্রোত দেখা গেছে মালদায়। তার প্রভাব ভোটে পড়বেই। ঝাড়গ্রামে বিজেপি জিতলেও মার্জিন ছিল ১১৭৬৭, ব্যারাকপুর বিজেপি জিতলেও তা পরে বদলে যায় সেখানে ব্যবধান ছিল ১৪৮৫৭। বালুরঘাটের ব্যবধান ৩৩২৯৩।

এই ৬ টি আসনের মধ্যে ৪ টি ছিল বিজেপির, ১ টি তৃণমূলের, আর ১টি কংগ্রেসের। কিন্তু এর মধ্যে বিজেপির আসনে যেগুলি ছিল অর্থাৎ বালুরঘাট, ঝাড়গ্রাম, বর্ধমান-দুর্গাপুর, ব্যারাকপুর এসব আসনে বিজেপির অবস্থা ভালো না। আরামবাগ সম্ভবত তৃণমূলের হাতছাড়া হতে চলেছে। গতবারেও তা কান ঘেঁষে বেরিয়ে গেছিল। এবার প্রশ্ন হচ্ছে, বিজেপির অবস্থা ভালো না হলে, সেই ভোট কোথায় যাবে? তৃণমূলে নাকি বামে? ২০২৪ সালে ইন্ডিয়া জোট কার্যকরী হবে না, এই রাজ্যে সেই সম্ভাবনা প্রায় শূন্য। তৃণমূল এখনও 'একলা চলো' নীতিতেই আছে। ফলে তৃণমূল, বিজেপি, বাম-কংগ্রেস জোট- এই ত্রিমুখী লড়াই-ই হবে। কংগ্রেস হাই কমান্ড আর প্রদেশ কংগ্রেসের ভাবনা আলাদা হওয়াতে এই রাজ্যে সমস্যা তৈরি হয়েছে। হাই কমান্ডের কাছে তৃণমূল অনেক গ্রহণযোগ্য। এদিকে, প্রদেশ কংগ্রেসের সঙ্গে সমস্যায় আছে তৃণমূল। তাই একটা বিষয় স্পষ্ট বোঝা যায়, এবার বামের ভোট ফিরবে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
‘‘INDIA জোট ক্ষমতায় এলেই... ’’ যে যে প্রতিশ্রুতি দিলেন রাহুল

Lok Sabha Election 2024: ভোটে জিতে ক্ষমতায় এলে দেশে ইন্ডিয়া জোটের তরফে একগুচ্ছ বদল আনার কথা ইতিমধ্যেই ঘোষণা করে দিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি। রাঁচির শহীদ ময়দানে সমাবেশে এসে ইন্ডিয়া জোটের হয়ে ঘোষণা করে দিলেন রাহুল।

ইনসাফ যাত্রা ভোটকে লক্ষ্য করে না হলেও এই যাত্রার প্রভাব পড়েছে। সেই যাত্রায় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি দেখা গেছে। বামেদের ক্ষেত্রে ভোটের আগে ইনসাফ যাত্রা আর ব্রিগেড সমাবেশ পালে হাওয়া দিয়েছে। প্রশ্ন উঠবেই যে, এই ভিড় কি ভোটবাক্সে ফিরবে? প্রতিবারই তো ব্রিগেডে ভিড় হয়, ভোট কোথায় পায়? এই উত্তর সময় দেবে কিন্তু রাজ্যের যা হাল এখন তাতে বিজেপির ভোট কমবে, বামের ভোটের হার বাড়বে। বামেরা আসন পাবে না তাও কিন্তু আর বলা যায় না। বাম ও কংগ্রেসের জোট ঠিক হলে আসন জেতাও সম্ভব।

তবে বিজেপি ১৮ টি আসন পাবে না। এই মুহূর্তে ভোট হলে বিজেপি খুব বেশি হলে ১০ থেকে ১১ টি আসন পাবে। 'আব কি বা ৪০০ পার' বলা শুরু করেছিল বিজেপি কিন্তু সম্প্রতি ৩৭০ টি আসনে জয়ের কথা বলছেন মোদি নিজেই। মনরেগার টাকা, আবাস যোজনার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও টাকা দেয়নি বলে তৃণমূল অভিযোগ করছে। তাই মমতা বলছেন, রাজ্য সরকার টাকা দিয়ে দেবে। কেন্দ্র টাকা দেয়নি, তাহলে তৃণমূল কোথা থেকে এত টাকা পাবে? এই টাকা ভোটের মুখেই রাজ্য দেবে বলছে, কেন আগেই দিতে পারল না তবে? এই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। দুর্নীতির যে পরিমাণ অভিযোগ তৃণমূলকে বিদ্ধ করেছে, তাতে ভোটে প্রভাব পড়বেই। এই অসন্তোষের ভোট ফেরার সম্ভাবনা বাম-কংগ্রেসের দিকেই। বিজেপির হাতে ইস্যু নেই। তৃণমূলের উপর রাগ করে বিজেপিকে ভোট দেওয়ার জায়গা নেই এখন। হাল ফিরতে পারে বামেদেরই।

লেখক পিপলস রিপোর্টারের সম্পাদক

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।