মোদির তৃতীয় দফায় কি বিকল্প মিডিয়ার মুখ বন্ধ করা হবে?

Independent Media: সারা বাংলা জুড়ে, কীভাবে এই বিকল্প সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে, বিজেপি এবং নরেন্দ্র মোদির প্রচার করা হয়েছে, তা বহু মানুষের কল্পনার বাইরে।

suman sengupta
৫ মিনিট
মোদির তৃতীয় দফায় কি বিকল্প মিডিয়ার মুখ বন্ধ করা হবে?

এবারের নির্বাচনে শাসক বিরোধী লড়াইয়ে জনতার পক্ষ নিয়েছিল বিকল্প সংবাদমাধ্যম। আর সেখানেই বিপদ। বিজেপির 'কুখ্যাত' আইটি সেল নিজস্ব কায়দায় ইউটিউব এবং বিকল্প সংবাদমাধ্যমকে ব্যবহার করলেও, বিরোধীদের কন্ঠ বন্ধ জন্য এবার অন্য কোনও নতুন উপায় বেছে নিলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। সংসদের অধিবেশন বসতে চলেছে। শোনা যাচ্ছে, প্রথম রাতেই বেড়াল মারতে চাইবে বিজেপি। বিকল্প গণমাধ্যমকে আক্রমণ করে বিল আনা হতে পারে। এএনআই সংবাদ সংস্থার অন্যতম মাথা, স্মিতা প্রকাশ একটি পডকাস্ট করেছেন, তাতে বেশ কিছু সাংবাদিকের নাম করে বলেছেন। তাঁর দাবি, এই ব্যক্তিরা ইউটিউবকে ব্যবহার করে, সরকার বিরোধী প্রচারকে একটা আন্দোলনের রূপ দিয়েছেন। বোঝাই যাচ্ছে, সামনের দিনে আরও ভয়ঙ্কর কিছু আসতে চলেছে। বেশ কিছু ইউটিউব চ্যানেল যে তাদের নজরে আছে, তা বুঝতে কোনও অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। এই আক্রমণের আশঙ্কার একটি প্রেক্ষাপট আছে।

এবারের লোকসভা নির্বাচনকে যদি বিশ্লেষণ করা যায়, তাহলে দেখা যাবে, এই রায় শুধুমাত্র বিজেপির বিরুদ্ধে রায় নয়। এই রায় অনেকটাই শাসকদলের মদতপুষ্ট গণমাধ্যমের (যাকে চালু লব্জে গোদি মিডিয়া বলে) বিরুদ্ধেও। ২০১৪ সাল থেকে যেভাবে মানুষকে রোজ ঘৃণাভরা খবর, মিথ্যে খবর পরিবেশন করা হয়েছে, যেভাবে প্রতিটি সংবাদ সংস্থাকে করায়ত্ত করা হয়েছে, যেভাবে নিজেদের অনুকূলে খবর করানোর জন্য বাধ্য করা হয়েছে, তা অতুলনীয়। ইতিমধ্যে সামাজিক মাধ্যম জনপ্রিয় হতে শুরু করেছে, মানুষের হাতে হাতে মোবাইল ফোন এসে যাওয়ায় সাংবাদিকতায় প্রবেশের সুযোগ বেড়েছে। যে সাংবাদিকরা চাকরি ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন, তাঁরা বুঝেছেন এই সামাজিক মাধ্যমকে ব্যবহার করেই সাংবাদিকতা করা সময়ের দাবি। অন্য দিকে শাসক আরও আরও বেশি করে আঁকড়ে ধরেছে প্রাতিষ্ঠানিক মিডিয়াকে। রাজ্যের ক্ষেত্রেই হোক বা দেশের ক্ষেত্রে, বেশিরভাগ মানুষ প্রথাগতভাবে বিরোধীদের কথা শুনতে চান। যে সাংবাদিকরা প্রচলিত গণমাধ্যম থেকে ইস্তফা দিলেন, তাঁরা কিন্তু বিষয়টার গুরুত্ব বুঝতে পেরেছিলেন। তাই তাঁরা দ্রুত নিজেদের স্ট্র‍্যাটেজি ঠিক করে নেন। লাগাতার প্রতিষ্ঠানবিরোধিতা করে গিয়েছেন তারা।

এদিকে রাহুল গান্ধী যখন কন্যকুমারিকা থেকে কাশ্মীর ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’ করেন, তিনিও সিদ্ধান্ত নেন, কোনও প্রচলিত সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলবেন না। বেছে নেন, ছোট ছোট ইউটিউব চ্যানেল এবং বিকল্প কিছু ছোট ছোট সংবাদসংস্থাকে। সেই যাত্রার ভিডিও এবং ছবি এমন মাত্রায় প্রচারিত হয়, যে প্রচলিত গণমাধ্যম বাধ্য হয় সেই খবর প্রকাশ করতে। পরবর্তীতে বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যে প্রতিদিন যে বিভিন্ন গণমাধ্যমগুলোতে সান্ধ্য বিতর্কের নামে, ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়ানো হয়, তা বন্ধ করার একমাত্র উপায়, এই বিতর্কগুলোতে অংশ না নেওয়া। এই প্রচলিত গণমাধ্যমের বিপরীতে বিকল্প গণমাধ্যমের যে বাস্তুতন্ত্র, এবারের নির্বাচনে তার উপস্থিতি অস্বীকার করা যাবে না কোনোমতেই।

আরো একটি বিষয়, এই বিকল্প গণমাধ্যম নিয়ে আলোচনায় আসা উচিত। শুধু কি বিরোধীরাই এই বিকল্প ব্যবস্থার সুবিধা নিয়েছেন? শাসক দল কি কোনও রকম সুবিধা নেয়নি? সামাজিক মাধ্যমের এই রবরবার মধ্যে সেটা কি সম্ভব?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সাংবাদিকদের উপর রাষ্ট্রীয় দমনপীড়নের বিরুদ্ধে বাংলার বিকল্প সংবাদমাধ্যমের সমস্বর

News Click Vs Central Govt: স্বাধীন সাংবাদিকদের উপর এই নির্লজ্জ আক্রমণকে আমরা ধিক্কার জানাই। আমরা এই দমনপীড়নের বিরুদ্ধে বারবার লিখতে, বলতে, জনমত গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ।

যাঁরা এই দশ বছরে, শাসক দলের ঘৃণা বিদ্বেষ ছড়ানোর নকশাটা খেয়াল করেছেন, তাঁরা জানেন, ব্লু প্রিন্টটা ঠিক কী। বড় গণমাধ্যমগুলো সচেতনভাবে যে অনুষ্ঠানগুলো করেছে, তার ইউটিউব ভিডিও তাঁরা সামাজিক মাধ্যমে ছাড়ে। বিজেপির যাঁরা প্রচার করেন, তাঁরা সেই সমস্ত ইউটিউব ভিডিও থেকে, পছন্দমতো জায়গা ডাউনলোড করে হোয়াটসঅ্যাপ মারফৎ ছড়িয়েছে। পুরো উত্তরভারত জুড়ে, বহু ইউটিউব ভিডিও তৈরি হয়েছে, যার বেশির ভাগ খুব জনপ্রিয় হয়েছে। এই গানগুলো ডিজে বক্সে উচ্চস্বরে বাজিয়েই রামনবমীর মিছিলে মসজিদ কিংবা মাজারের সামনে উগ্র হিন্দুত্ববাদী মানুষজন শক্তি প্রদর্শন করেছে।

অনেকে হয়তো ভাবতেই পারেন, এইটা উত্তর ভারতের সংস্কৃতি। এর সঙ্গে বাংলার কোনও যোগাযোগ নেই, তাঁদের অবগতির জন্য জানানো উচিৎ, গত ২০২৩ সালের দুর্গাপুজোর সময়ে কলকাতার সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারে যে রামমন্দিরের আদলে মণ্ডপ নির্মাণ করা হয়েছিল, সেই জায়গাতেও ঐ উত্তরভারতের জনপ্রিয় কিছু কিছু গান বাজানো হয়েছিল। এবার অনেকে বলতে পারেন, এই গান সাধারণ মানুষের মনের খুব ভিতরে প্রবেশ করতে পারেনি, যেখানে অযোধ্যাতেই শাসক দলের প্রার্থী পরাজিত হয়েছে, সেখানে এই ধরনের গান নিয়ে খুব বেশি আলোচনা না করলেও চলবে, তাঁদের জন্য কিছু তথ্য দেওয়া প্রয়োজন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মোদিকে কতটা 'ভালোবাসে' বিদেশের সংবাদমাধ্যম? বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ্যে

PM Narendra Modi: নিউ ইয়র্ক টাইমস বলছে, ২০২০ সালের ৫ অগাস্ট, সারা দেশে যখন কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণহীন, তখন মোদি চকচকে পোশাক, N95 মাস্ক পরে রাম মন্দিরের ভূমিপুজো করেছিলেন।

সারা বাংলা জুড়ে, কীভাবে এই বিকল্প সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে, বিজেপি এবং নরেন্দ্র মোদির প্রচার করা হয়েছে, তা বহু মানুষের কল্পনার বাইরে। গ্রামে এবং মফস্বলে বহু কীর্তনিয়া পাড়ায় পাড়ায় কীর্তনের মাধ্যমে এই কাজটা করেছেন, সেগুলোর ইউটিউব ভিডিও করা হয়েছে এবং সেগুলো যে ভাবে জনপ্রিয় হয়েছে, তা দেখলে অবাক হতে হয়। বিভিন্ন স্থানীয় টিভি চ্যানেলেও এই কীর্তন চলে এবং গৃহস্থ বাড়ির মহিলারা আপ্লুত হয়ে তা দেখেন, তা দেখলে মনে হবে, দেশের সব সমস্যার সমাধান এই কীর্তনীয়াদের কাছে আছে। ঠিক যে পদ্ধতিতে রানাঘাটের বিজেপির বিধায়ক কবিগান করে প্রচার করেন, সেই পদ্ধতিতেই মানুষের মাথার কোষে কোষে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়, সংখ্যালঘুর প্রতি ঘৃণা। এই লোকসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে, মধ্যবিত্ত হিন্দু বাঙালিকে এক রকম করে মগজ ধোলাই করা হয়েছে। আর গরিব মানুষের জন্য অন্য প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে।

এমনিতে কীর্তনের মধ্যে দিয়ে রাধা কৃষ্ণের প্রেম, চৈতন্যদেবের ভালবাসার প্রচার করার কথা, কিন্তু বিজেপি এই বহুল প্রচারিত কীর্তন এবং কবিগানের আঙ্গিক ব্যবহার করে নিজেদের কাজ করে গিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ব্যতিক্রমী অবশ্যই দীনকৃষ্ণ ঠাকুর, যিনি এই নির্বাচনের আগে খবরের শিরোনামে এসেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, কীর্তন আঙ্গিক নিয়ে যা করা হচ্ছে সাম্প্রতিক সময়ে, তা ভুল। কীর্তনীয়ারা যে কোনও ভাবে এই বিজেপির রাজনীতি দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সমাজে ভুল বার্তা দিচ্ছেন।

মনে রাখব, এই ২০২৪ সালেই সারা বিশ্বের নিরিখে, ভারত সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে নীচে নামতে নামতে ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৫৯ নম্বরে এসে ঠেকেছে। ২০১৪ সালে ভারত ছিল ১৪০ নম্বরে। কথায় কথায় যারা বলে থাকেন, ভারতে যদি না থাকতে ইচ্ছে হয়, তাহলে পাকিস্তান চলে যেতে, সেই প্রতিবেশী পাকিস্তানও নিজেদের মান উন্নতি করেছে। ২০১৪ সালে তাদের স্থান ছিল ১৫৮, আজ দশ বছর পরে তারা ১৫২ তে নিয়ে গেছে নিজেদের। তৃতীয়বারে নরেন্দ্র মোদীর যিনি জোটসঙ্গী, সেই চন্দ্রবাবু নাইডু, কিন্তু ইতিমধ্যেই বুঝিয়ে দিয়েছেন, তিনি নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহের হিসেবেই চলবেন আপাতত। অন্ধ্র প্রদেশে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার পরে, তিনি কিন্তু তাঁর অপছন্দের চারটি তেলেগু চ্যানেলকে বন্ধ করে দিয়েছেন। রাজ্যের বহু জায়গায় তা আর দর্শকেরা দেখতে পাচ্ছেন না। অভিযোগ উঠেছে, সরকার পক্ষের চাপে, কেবল অপারেটরা, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় এই চ্যানেলগুলোর প্রদর্শন বন্ধ করেছেন। বিরোধী ওয়াই এস জগন্মোহন রেড্ডী এবং কংগ্রেস বলেছে, এই পদক্ষেপ বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ। যদিও কেবল অপারেটরা স্বীকার করেননি, তবুও বোঝাই যাচ্ছে, কোন অদৃশ্য চাপে তারা এই কাজটা করেছেন।

গত নির্বাচনে বিকল্প গণমাধ্যম কিছুটা সাফল্য পেয়েছে, তা আমরা অনেকেই জানি। শুধু পুরো দেশেই নয়, এই বাংলাতেও অনেক সরকার বিরোধী কথা আমরা শুনতে পেয়েছি এবং এখনও পাচ্ছি। আরো বহু মানুষ এগিয়ে আসছেন, নতুন নতুন ইউটিউব চ্যানেল নিয়ে, নতুন নতুন খবরও পাওয়া যাচ্ছে। তবে আশঙ্কা, এই নির্বাচন থেকে 'শিক্ষা' নিয়ে আগামীদিনে কিন্তু এই বিকল্প স্বর বন্ধ করার জন্য নানা পদ্ধতি সরকার নেবে। সরকারের সমর্থক একাংশ অনবরত এই চ্যানেলগুলো সম্পর্কে অভিযোগ করবে। সোজাসুজি ইউটিউবকে চাপ দেওয় হবে। কর্পোরেট সংস্থারাও এই দেশে ব্যবসা করার জন্য, সরকারের কথাই তারা শেষপর্যন্ত মেনে নেবে তা বলাই বাহুল্য। যদিও মনে রাখতে হবে, হোয়াটসঅ্যাপ বলেছিল, যদি এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশন খুলে দিতে হয়, তবে এদেশে ব্যবসা রাখবেন না তারা।

যাঁরা গোদি মিডিয়ার বিকল্প হিসেবে এই ধরনের ইউটিউব চ্যানেল থেকে খবর সংগ্রহ করবেন, তাঁরা যেন মনে রাখেন, এই ধরনের সামাজিক মাধ্যম একমাত্র বিকল্প নয়। যে কোনও স্বৈরাচারী শাসককে পরাজিত করতে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রাস্তায় নামা ছাড়া কোনও পথ নেই। একদিন আশা করা যায়, নির্ভীক সাংবাদিকতা আবার ফিরে আসবে, একদিন আবার গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে ভারত তাঁর ‘সংবিধান’কে আবার পুর্ণপ্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে। সেই ইঙ্গিত আজকে সংসদের প্রথম অধিবেশনেই পাওয়া গেছে। বিরোধীরা প্রত্যেকে ‘সংবিধান’ এর একটি ছোট সংস্করণ নিয়ে সংসদে প্রবেশ করেছে। বোঝাই যাচ্ছে, সামনে জোরদার লড়াই অপেক্ষা করছে। সংবিধান বাঁচানোর লড়াই, দেশ বাঁচানোর লড়াই, দেশকে দ্বেষমুক্ত করার লড়াই।

(মতামত লেখকের ব্যক্তিগত)

লিখেছেন
suman sengupta
suman sengupta
2 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।