কলকাতার হাতের কাছেই ইতিহাসের শহর, একদিনেই দেখে আসুন পোর্তুগিজদের ঘরবাড়ি

Historical Hooghli: ঐতিহাসিক শহর হুগলি কিন্তু আপনাকে খালি হাতে ফেরাবে না মোটেই। রয়েছে একাধিক দেখার জায়গা, ঐতিহাসিক চিহ্ন লেগে রয়েছে যার গায়ে সর্বোত্র।

Sohini Das
৩ মিনিট
কলকাতার হাতের কাছেই ইতিহাসের শহর, একদিনেই দেখে আসুন পোর্তুগিজদের ঘরবাড়ি

হাতে সময় নেই তো কী হয়েছে। তাই বলে কি বেড়াতে যাওয়ার ইচ্ছা থাকতে পারে না। শহর থেকে একটু দূরে বেরিয়ে আসতে চান একমাত্র ছুটির দিন। সেই মুশকিল আসানও রয়েছে হাতের কাছেই। চট করে ঘুরে আসুন কলকাতা থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরের এই ঐতিহাসিক শহর থেকে।

কলকাতা থেকে মাত্র চল্লিশ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত প্রাচীন এই শহর। ঔপনিবেশিকতার আগে এ শহর ছিল দেশের বাণিজ্যের জন্য প্রধানতম একটি নদীবন্দর। কোনও এককালে সুদূর ইউরোপ থেকে সেই বন্দরে এসে ভিড়েছিল নাবিক ভাস্কো-দা-গামার জাহাজ। ১৫৩৬ খ্রিস্টাব্দে পোর্তুগিজ ব্যবসায়ীরা এই এলাকায় বাণিজ্য করার অনুমতি পান তৎকালীন সুলতান মাহমুদ শাহের কাছ থেকে। ক্রমশ অন্যতম জরুরি বাণিজ্যবন্দরের রূপ নেয় কলকাতার ঠিক পাশের শহর হুগলি। ক্রমশ এই জায়গাটিতে বাড়তে থাকে পোর্তুগিজদের আধিপত্য। গজিয়ে ওঠে পোর্তুগিজ কলোনি। আজ সেই বসতি লাটে উঠলেও তার চিহ্ন রয়ে গিয়েছে বহু ক্ষেত্রেই। আর এই হুগলিই কিন্তু হয়ে উঠতে পারে আপনার সপ্তাহান্তের শ্বাস নেওয়ার গন্তব্য।

ঐতিহাসিক শহর হুগলি কিন্তু আপনাকে খালি হাতে ফেরাবে না মোটেই। রয়েছে একাধিক দেখার জায়গা, ঐতিহাসিক চিহ্ন লেগে রয়েছে যার গায়ে সর্বোত্র। মজার কথা কি জানেন, এই হুগলি জেলার প্রতিটি জনপদেরই রয়েছে আলাদা আলাদা ধরনের ইতিহাস। গঙ্গার তীরবর্তী নিচু এলাকায় একসময়ে প্রচুর হোগলা পাতার ঝোপ হয়ে থাকত, সেখান থেকেই জায়গাটির নাম হয়ে ওঠে হুগলি। আগে বর্ধমানের সঙ্গেই জুড়ে ছিল এই অংশটি। পরে প্রশাসনিক প্রয়োজনে ইংরেজরা বর্ধমানের দক্ষিণাংশ ভেঙে তৈরি করে হুগলি জেলা, তখনও তারই অংশ ছিল হাওড়া। যা আবার পরে ভেঙে আলাদা জেলার মর্যাদা লাভ করে।

হুগলি ভ্রমণে বেরোলে যে জায়গাটি আপনাকে দেখতেই হবে, তা হল ব্যান্ডেল চার্চ। পশ্চিমবাংলার প্রাচীনতম চার্চগুলির মধ্যে একটি এটি। জানা যায়, মধ্যাখানে নাকি পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিল প্রাচীন এই চার্চটি, আর ১৬৬০ সাল নাগাদ ফের নতুন করে গড়ে তোলা হয় সেটিকে। সেই নবনির্মীত চার্চটির বয়সও যে কম নয়, তা বলাই বাহুল্য।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সস্তায় বিশ্বদর্শন! এক যাত্রাতেই মিটবে পাহাড়-জঙ্গল-সমুদ্রের স্বাদ

Weekend trip to Odisha: পাহাড় পছন্দ, তা-ও পাবেন। সমুদ্রের নীল জল টানে? হাতের কাছে রয়েছে সেই নীলে পা ডোবানোর সুযোগও। পাশাপাশি জঙ্গলের বুনো গন্ধ চাইলে, তা-ও মিলবে এক ঠিকানায়।

এরপরে হুগলির অন্যতম দর্শনীয় স্থান হল ইমামবাড়া। ইমামদের থাকার জন্য ১৮৪১ সালে এই ইমামবাড়া নির্মাণ করেন হাজী মহম্মদ মহসিন। তবে কাজ শেষ হতে হতে লেগে গিয়েছিল নাকি ১৮৪১ খ্রিস্টাব্দ। শিয়া মুসলিমদের মহরম উদযাপনের জন্য ২২ বিঘা জায়গা জুড়ে গঙ্গা নদীর পাড়ে তৈরি হয়েছিল জায়গাটি। আজও এখানে মহরম পালন হয় এখানে। চট করে ঘুরে আসুন ঐতিহাসিক সেই জায়গা থেকে।

এর পরে আপনার হুগলিতে অবশ্য গন্তব্য হংসেশ্বরী মন্দির। ত্রিবেণী ও ব্যান্ডেলের মধ্যে হুগলি নদীর তীরে বাঁশবেড়িয়ায় অবস্থিত এই মন্দির। ১৯ শতকের মূলে নির্মিত মন্দিরটিতে একটি অপূর্ব এবং অনন্য ধরণের স্থাপত্য রয়েছে যার ১৩টি টাওয়ারের প্রতিটির আকৃতি একটি পদ্মের কুঁড়ির মতো। মস্কোর একটি পবিত্র স্থানের ছায়া রয়েছে নাকি এই মন্দিরে। পুরনো মন্দিরটি ভেঙেচুরে গেলেও সেটিকে সংরক্ষণ করা হয়েছে। নিত্যপুজোর স্থান উঠে এসেছে পাশের অংশে। নারায়ণ সান্যালের 'হংসেশ্বরী' উপন্যাসে মিলবে এই মন্দিরের ইতিহাস। মা কালীর এই মন্দির দারুণ জাগ্রত বলেও বিশ্বাস স্থানীয়দের।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অ্যাংলো সাহেবের বাংলোয় কাটুক ছুটি, ঘুরে আসুন মিনি বিলেত থেকে

Weekend Trip to McCluskieganj: ঢেউ খেলানো প্রান্তর, পাহাড়ি নদী, জঙ্গল, ঝর্না আর ঘাসের আশ্চর্য এক বুনোগন্ধের পসরা সাজিয়ে বসে থাকে ম্যাকলস্কিগঞ্জ পর্যটকদের আশায়।

এই তিনটে জায়গার সঙ্গে ঘুরে আসতে পারেন চন্দননগরের ঐতিহাসিক সংগ্রহশালা থেকে। দেখে আসতে পারেন গঙ্গাতীরের অপূর্ব সৌন্দর্যও। একই সঙ্গে ঘুরে আসুন চুঁচুড়ার ডাচ গোরস্থান থেকেও। পার্কস্ট্রিট সেমেট্রির মতোই ঐতিহাসিক গোরস্থান এটিও। ইতিহাস ছুঁয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে অপূর্ব সুন্দর সমস্ত সমাধি। এখানেই শুয়ে রয়েছেন স্যার কর্নওয়ালিস জং, শেষ ওলন্দাজ গভর্নক ড্যানিয়েল অস্থানি-সহ ইতিহাসের বহু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। ইতিমধ্যেই হেরিটেজ আখ্যা পেয়েছে এই গোরস্থানটি।

একই সঙ্গে দেখে আসুন শ্রীরামপুর রাজবাড়ি। বেশ কয়েকটি বিখ্যাত রেস্তোরাঁ কাম রিসর্ট রয়েছে গঙ্গার তীরে। সেগুলোরও রয়েছে আলাদা ইতিহাস। সেখানেই সেরে ফেলতে পারেন দুপুরের খানাপিনা। বিখ্যাত মাহেশের রথও চাইলে চাক্ষুষ করতে পারেন সচক্ষে।

একই সঙ্গে চাইলে আপনি ঘুরে আসতে পারেন কামারপুকুর থেকেও। হুগলি থেকে খুব বেশি দূরে নয় কামারপুকুর ও তারকেশ্বর। রামকৃষ্ণ ও সারদা মায়ের জন্মস্থান এবং রামকৃষ্ণ মিশন রয়েছে, যা দর্শনীয় স্থান বটে। কামারপুকুরের বিখ্যাত সাদা বোঁদে চেখে দেখতে ভুলবেন না যেন। তারকেশ্বর মন্দিরের জনপ্রিয়তার কথা তো সকলেই জানেন। চাইলে সেখানে পুজোও দিয়ে আসতে পারেন সপরিবারে।

হুগলি যাওয়ার অসংখ্য ট্রেন পেয়ে যাবেন কলকাতা থেকে। চেপে বসার অপেক্ষা খালি। যেতে পারেন গাড়িতে করেও। এমনকী নদী পার হয়েও হুগলির পথ কিন্তু খুব দূরে নয়। চাইলে কাটিয়েও আসতে পারেন সেখানে দিন দুয়েক। এখন দেরি শুধু ছুটি খুঁজে বের করে ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে পড়ার।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।