মন বসে না শহরে? এক ছুট্টে চলে আসুন নির্জনতম এই সৈকতে

Mousuni Island: সমুদ্র ভালোবাসেন? ভালোবাসেন নীল জলে পা ডুবিয়ে সূর্যাস্ত দেখতে চান। তবে আপনার সপ্তাহান্তের ডেস্টিনেশন হতে চলেছে মৌসুনি আইল্যান্ড।

Sohini Das
২ মিনিট
মন বসে না শহরে? এক ছুট্টে চলে আসুন নির্জনতম এই সৈকতে

শহরের ব্যস্ততম দিনে মন বসছে না কাজে। কিন্তু হাতে ছুটিছাটা তেমন নেই। সপ্তাহান্তের দিন দুয়েক জোগাড় করতে পারেন বড়জোর। কুছ পরোয়া নেই। হাতের কাছেই রয়েছে নিরিবিলিতে সময় কাটানোর নিশ্চিন্ত ঠিকানা। কোথায় যাবেন ভাবছেন তো। কলকাতা থেকে দুই পা ফেলেই পৌঁছে যেতে পারেন আপনার গন্তব্যে।

সমুদ্র ভালোবাসেন? ভালোবাসেন নীল জলে পা ডুবিয়ে সূর্যাস্ত দেখতে চান। তবে আপনার সপ্তাহান্তের ডেস্টিনেশন হতে চলেছে মৌসুনি আইল্যান্ড। একদিন-দুদিনের ছুটিই যথেষ্ট। কলকাতা থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরেই রয়েছে এই নির্জন নিরিবিলি দ্বীপ। তিন দিকে চেনাই নদী, একদিকে সাগর, সেই মোহনাতে টলটলে জলের মাঝে কাটতে চলেছে আপনার আগামী কয়েকটা দিন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সস্তায় বিশ্বদর্শন! এক যাত্রাতেই মিটবে পাহাড়-জঙ্গল-সমুদ্রের স্বাদ

Weekend trip to Odisha: পাহাড় পছন্দ, তা-ও পাবেন। সমুদ্রের নীল জল টানে? হাতের কাছে রয়েছে সেই নীলে পা ডোবানোর সুযোগও। পাশাপাশি জঙ্গলের বুনো গন্ধ চাইলে, তা-ও মিলবে এক ঠিকানায়।

এখানে সমুদ্র দারুণ শান্ত এবং নির্জন। পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ওই শান্ত সফেদ সমুদ্র। জোয়ারের সময় সমুদ্র উঠে আলে হাতের নাগালে। সমুদ্রস্নানের নেশা থাকলে এই মৌসুমী দ্বীপের সমুদ্র আপনার জন্য আদর্শ। এখানকার বালিও খুব মিহি। তাই বিচে কোনও রকম দুর্ঘটনার ভয় নেই। তার সঙ্গে উপরি পাওনা এখানকার সমুদ্র সৈকতের নির্জনতা, দ্বীপের গাছ-গাছালির সতেজতার গন্ধ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
নদী-জঙ্গল মাখা রোদের আদর! এই শরতে ডাকছে পাহাড়ি মায়া-গ্রাম

Weekend Trip to Dooars: চারপাশে পাহাড় আর জঙ্গলে মোড়া সে এক অপূর্ব মায়াবি জায়গা যেন। প্রকৃতির পাঠশালা বললেও একে ভুল হয় না।

পর্যটকদের ভিড় নেই, হুড়োহুড়ি নেই, নেই কেনাকাটার সুযোগও। তবে সমুদ্রের আমেজ পেতে এর চেয়ে ভালো আর কী-ই বা হতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের নির্জনতম দ্বীপ হিসেবে পরিচিত এই মৌসুনী দ্বীপ যেন দূষণের থেকে শতমাইল দূরে।

কলকাতা থেকে মাত্র চার-পাঁচ ঘণ্টা দূরেই এই দ্বীপ। যেতে পারেন ট্রেনে। পৌঁছতে পারেন সড়কপথেও। যারা বাসে যেতে চান তারা ধর্মতলা থেকে বাস ধরে নামখানা বাসস্ট্যান্ডে আসবেন। বাস ভাড়া ৮৩টাকা। ট্রেনে গেলে শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে নামখানা যেতে হবে। ট্রেনে ঘন্টা ৩ সময় লাগে। ট্রেন থেকে নেমে মৌসুনি দ্বীপে দুভাবে যাওয়া যায়। আসলে মৌসুনি দ্বীপে যেতে একটা নদী পারাপার করতে হয় যার নাম চেনাই নদী। এই নদীর দুটো ঘাট একটা হুজ্জুতের ঘাট এবং আর একটি বাগডাঙা ঘাট। হুজ্জুতের খেয়াঘাট হয়ে যেতে চাইলে নামখানা স্টেশন থেকে টোটো করে হুজ্জুতের ঘাট যাবেন। ভাড়া মাত্র ৫০টাকা। আর যদি বাগডাঙা হয়ে যেতে চান তাহলে নামখানা স্টেশনে নেমে টোটোয় করে নামখানা বাসস্ট্যান্ডে যাবেন। এখান থেকে ম্যাজিক গাড়ি করে যেতে হবে বাগডাঙা খেয়াঘাট বা দুর্গাপুর খেয়াঘাট। যারা অবশ্য গাড়িতে আসবেন তারা হুজ্জুত ঘাট হয়ে আসবেন কারণ এখানে রয়েছে গাড়ি পার্কিং এর সুবিধা। সেখান থেকে নদীপথে মৌসুনি দ্বীপ।

পাঁচ তারা হোটেলের সুবিধা না থাকলেও থাকার জন্য রয়েছে টেন্ট এবং মাটির বাড়ি। অ্যাডভেঞ্চার যদি পছন্দের হয়, তাহলে মৌসুনি দ্বীপ হতে পারে আপনার স্টপ। এখান থেকে নৌকা করে চলে যেতে পারেন জম্বুদীপেও। সন্ধ্যের সময় এখানকার সমুদ্রের এক অপরূপ সৌন্দর্য। সন্ধ্যে হয়ে গেলে সমুদ্রতটে টর্চ নিয়ে হাঁটলে দেখা যায় মাটিতে জ্যান্ত শামুক, ঝিনুক চলাফেরা করছে। এছাড়াও ক্যাম্পে বন ফায়ারের ব্যবস্থা করা হয়। এখানকার বেশিরভাগ মানুষের জীবিকাই মাছ ধরা। তাদের জীবনযাপনেও রয়েছে তার ছাপ। তার ছোঁয়া পেতে ঘুরে দেখতে পারেন আশপাশের জনবসতিগুলোও।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।