প্রেসিডেন্ট ভোটে লড়ছেন না বাইডেন! কেন এমন সিদ্ধান্ত মার্কিন প্রেসিডেন্টের?

US Presidential Election 2024: মাত্র চার মাস পরেই ভোট। তার আগেই প্রেসিডেন্টের দৌড় থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলেন জো বাইডেন। কেন হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত।

Sohini Das
৩ মিনিট
প্রেসিডেন্ট ভোটে লড়ছেন না বাইডেন! কেন এমন সিদ্ধান্ত মার্কিন প্রেসিডেন্টের?

আমেরিকায় প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনের আর দেরি নেই বিশেষ। নভেম্বরে ভোট। এরই মধ্যে প্রেসিডেন্ট ভোটকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে আমেরিকার রাজনীতি। দিন কয়েক আগেই রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের কান ফুঁড়ে বেরিয়ে যায় বন্দুকবাজের গুলি। সেই ঘটনা নিয়ে হইচইয়ের মধ্যেই এবার প্রেসিডেন্ট ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করলেন ডেমোক্র্যাট দলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জো বাইডেন। দেশবাসীর উদ্দেশে লেখা একটি খোলা চিঠিতে নিজেই সেই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন দেশের বর্তমান প্রেসিডেন্ট।

মাত্র চার মাস পরেই ভোট। তার আগেই প্রেসিডেন্টের দৌড় থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলেন জো বাইডেন। কেন হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত। স্বাভাবিক ভাবেই মার্কিনি রাজনীতিতে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জল্পনা। ৮১ বছর বয়সী বাইডেনের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ ছিল গোড়া থেকেই। তা সত্ত্বেও তাঁকেই প্রেসিডেন্ট প্রার্থীপদে নির্বাচন করা হয়েছিল দল ডেমোক্র্যাটের তরফে। সম্প্রতি আমেরিকার প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কে অংশ নেন বাইডেন। সেখানে তাঁর আচরণ যেন কিছুটা অসংলগ্নই ঠেকে বাইডেনের। এমনকী ট্রাম্পের একাধির বক্তব্যের বিরুদ্ধেই ঠিকমতো যুক্তি সাজিয়ে উঠতে পারেননি তিনি। যা থেকে শুরু হয় ঘরে-বাইরে জোরদার সমালোচনা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বন্দুকের নলই আমেরিকায় ক্ষমতার উৎস

America and Weapon Industry: ২০২২ সালে বৈশ্বিক সামরিক বাজেটের পরিমাণ ছিল মোটামুটি ২.২ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। বিগত আট বছরে এই সংখ্যাটা উত্তরোত্তর বেড়েছে। আর এই যে বিশাল বাজার, সেই বাজারের আসল 'বাঘ' কিন্তু আমেরিকা।

প্রশ্ন উঠে যায়, আমেরিকার মতো দেশ নিয়ন্ত্রণেক ভার বাইডেনের মতো অশীতিপর বৃদ্ধর হাতে কতটা সুরক্ষিত। পাশাপাশি আমেরিকার মানুষ কি ততটাই ভরসা রাখতে পারবেন বাইডেনে। এসব নানা কথা উঠতে থাকে ডেমোক্র্যাট পার্টির অন্দর থেকেই। তার পরেই সামনে এল জো বাইডেনের এই সিদ্ধান্ত। ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দল এবং নিজের পরাজয় এড়াতে লড়াই থেকে সরে দাঁড়ালেন বাইডেন। আমেরিকায় দৈনিক ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর প্রতিবেদন অনুসারে, তাঁকে নির্বাচনী ময়দান থেকে সরে দাঁড়াতে বলেন ওবামাও। তার পরেও বাইডেন দাবি করেন, তিনি প্রেসিডেন্ট পদে লড়তে এবং জিতলে আরও পাঁচ বছর এই দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম। দলের মধ্যে ঐক্য এবং সংহতির ডাক দিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, তাঁর স্বাস্থ্যের সম্পর্কে যে রটনা চলছে, তা রিপাবলিকানদের ‘চক্রান্ত’। বর্তমানে কোভিড সংক্রমণ ধরা পড়েছে বাইডেনের। তিনি গৃহবন্দি রয়েছেন। এই ডিবেটের পরেই, নিউইয়র্ক টাইমস তার সম্পাদকীয়তে লিখেছিল যে, প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে তাঁর দেশের স্বার্থেই এই নির্বাচনের দৌড় থেকে সরে আসা উচিত। এর পরে, ডেমোক্র্যাট সমর্থকদেরও একাংশ বাইডেনকে সরে আসার দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু বাইডেন এবং তাঁর প্রচার কমিটি তখন বলেছিল যে, তিনি পরাজয় মেনে নিতে প্রস্তুত নন। আবার ভোটে দাঁড়াবেন। কিন্তু শেষমেশ স্বাস্থ্যের কারণে সরে দাঁড়ালেন বাইডেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বন্দুকের জয়গান গেয়েছে যে, বন্দুক আজ তাকেই তাক করছে

Gun Civilization: বন্দুকের নল একদিকে যেমন ক্ষমতার উৎস সেই ক্ষমতা আরেকদিক থেকে নির্বুদ্ধিতারও উৎস।

নিজের এক্স হ্যান্ডেলে বাইডেন লিখেছেন, “দেশের স্বার্থে এবং দলের স্বার্থে আমার সরে দাঁড়ানো প্রয়োজন। আমার মেয়াদের বাকি সময়টুকু একনিষ্ঠ ভাবে নিজের দায়িত্ব পালন করে যেতে চাই।” এর পাশাপাশি ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা এবং তাঁর সঙ্গে কাজ করা সকলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাইডেন। আগামী সপ্তাহে দেশবাসীকে বিস্তারিত ভাবে তাঁর এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানাবেন বলেও জানিয়েছেন বাইডেন। কমলা হ্যারিসকে বাইডেন নিজের সমর্থন জানাতেই তা নিয়ে কটাক্ষ করেছেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, বাইডেনকে হারানোর থেকে কমলা হ্যারিসকে হারানো তাঁর জন্যে বেশি সহজ কাজ হবে। মার্কিন সংবাদ চ্যানেল সিএনএন-কে বাইডেন প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, 'আমেরিকান ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্য প্রেসিডেন্ট বাইডেন।' ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প বাইডেনকে কটাক্ষ করে এ-ও লেখেন, 'কূটবুদ্ধি জো বাইডেন রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য উপযুক্ত ছিলেন না। অবশ্যই তিনি আমেরিকার সেবা করার জন্য উপযুক্ত নন - এবং কখনওই তিনি উপযুক্ত ছিলেনও না! …তাঁর নেতৃত্বের কারণে আমরা অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। তবে তিনি যে ক্ষতি করেছেন, খুব দ্রুত আমার এর প্রতিকার করব। আমেরিকাকে আবার মহান বানাব!'

স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে, বাইডেন যদি না হন, তাহলে কে? ডেমোক্র্যাট শিবিরের হয়ে কে দাঁড়াচ্ছেন তবে আমেরিকার ভোটে? আর সেই আলোচনায় বারবার উঠে এসেছে যে নামটি, তিনি ভারতীয় বংশোদ্ভূত কমলা হ্যারিস। বাইডেন পর্যন্ত কমলাকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য সমর্থন জানিয়েছেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসই প্রেসিডেন্ট পদের জন্য উপযুক্ত বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। তবে কমলা একা নন, একই সঙ্গে লড়াইয়ের ময়দানে রয়েছেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার স্ত্রী মিশেল ওবামা এবং ক্যালিফর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসমও। তবে শেষপর্যন্ত কে থাকতে চলেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার লড়াইয়ে ডেমোক্র্যাটদের হয়ে, তা স্পষ্ট হতে হতে আরও কয়েক দিন।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।