বহিরাগতর কাছে শোচনীয় পরাজয়! অধীর আর দিলীপকে হারাল তাঁদের দলই?

Adhir Chowdhury Dilip Ghosh: এত বছরে অধীরের মূল প্রতিপক্ষ কখনও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ছিলেনই না।

inscript
৩ মিনিট
বহিরাগতর কাছে শোচনীয় পরাজয়! অধীর আর দিলীপকে হারাল তাঁদের দলই?

বাংলা নিজের মেয়েকেই চায় কিন্তু সাংসদ বহিরাগতকেই চায়। এমনটা বলা নেহাত ভুল হবে না। বাংলার বাইরে থেকে এসে ইউসুফ পাঠান এবং কীর্তি আজাদ তৃণমূলের টিকিটে লড়ে প্রমাণ করে দিয়েছেন এ বাস্তব। আর পাঠান ও আজাদ হারিয়েছেন কাদের? যারা এই বাংলারই, যারা দুই বিপরীত দলের হলেও রাজ্যে বুনিয়াদ রয়েছে গভীর। পাঁচ বারের সাংসদ অধীর চৌধুরী হারলেন বহরমপুরে, জয়ী হলেন গুজরাত থেকে আসা ইউসুফ পাঠান। কীর্তি আজাদের কাছে বর্ধমান দুর্গাপুর কেন্দ্রে হারালেন বিজেপির দিলীপ ঘোষকে।

বহরমপুর কেন্দ্রে অধীরকে প্রায় ৮৫ হাজার ভোটে হারিয়েছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান। তিনি বাংলার মানুষই নন, বাংলা ভাষাও জানেন না। এমনকী জেতার পর বলে দিয়েছেন গুজরাতে তাঁকে বেশি থাকতে হবে কারণ সেখানে তাঁর বাড়ি। তবু কোন ম্যাজিকে ২৫ বছরের সাংসদকে হারিয়ে দিলেন পাঠান? অধীর বলছেন, বাংলার রাজনীতি ক্রমশই ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। হিন্দুদের নামে ভোট চাওয়া যদি বিজেপির কৌশল হয়ে থাকে, পাশাপাশি মুসলিম নামে মুসলিম ভোট টানা শাসকদলের মোক্ষম অস্ত্র হয়ে উঠছে। নিজেকে এই পাকেচক্রে 'স্যান্ডুইচ'ও মনে হয়েছে অধীরের। "আমি স্যান্ডউইচ হয়েছি। একদিকে, হিন্দু ভোটের বিভাজন, অন্য দিকে মুসলিম ভোটের বিভাজন। আমি হিন্দু হতে পারিনি। মুসলিমও হতে পারিনি,’’ বলছেন অধীর। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, অধীর আসলে বিজেপি করেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মোদিকে যোগ্য জবাব! মেইতেই-কুকি মিলে কীভাবে বিজেপিকে উপড়ে ফেলল মণিপুর?

Manipur against BJP Lok Sabha Results 2024: গত ১ বছর ধরে যে ঘৃণা মণিপুরে আগাছার মতো বাড়ানোর চেষ্টা করেছিল বিজেপি তা সমূলে তুলে ফেলেছেন নিপীড়িত সাধারণ মানুষ।

বহরমপুরে এই প্রথম সংখ্যালঘু প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন অধীর। ওই অঞ্চলের জনপ্রিয় চিকিৎসক নির্মলচন্দ্র সাহা বিজেপি প্রার্থী হওয়ায় অধীরের জন্য চাপ বেড়েইছিল এবার। তবে এই অঞ্চলে মুসলিম ভোট বেশি হলেও গত ২৫ বছরে ভোট জিততে মুসলিম প্রার্থীর দরকার পড়েনি। এত বছরে অধীরের মূল প্রতিপক্ষ কখনও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ছিলেনই না। ২০১৯ সালে অধীরের জয়ের ব্যবধান সাড়ে ৩ লক্ষ থেকে নেমে আসে ৮৭ হাজারে। ভোট কমেছে হু হু করে। পাশাপাশি কংগ্রেস হাইকমান্ডের তরফেও অধীরের প্রতি উদাসীনতা ছিল লক্ক্য করার মতো। বাংলায় রাহুলের ন্যায় যাত্রা যখন আসে তখন তাঁর ছায়াসঙ্গী হয়েছিলেন অধীর। বামেদের সঙ্গেও জোট করলেন তিনি। কিন্তু ২৫ বছরের সাজানো বাগান তছনছ করে দিল গুজরাতের সন্তান। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বহরমপুর লোকসভার অন্তর্গত সাতটি বিধানসভার মধ্যে ছ'টিই তৃণমূলের, একটি বিজেপির। খোদ বহরমপুর আসনেই কংগ্রেস তৃণমূলের থেকে ঢের পিছিয়ে। পঞ্চায়েতেও বাম ও কংগ্রেস এখানে বিশেষ সুবিধা করতে পারেনি। সিএএ আবহে, সারাদেশে নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপি যেভাবে মুসলিম বিদ্বেষী প্রচার চালিয়েছেন, তার পাল্টা প্রচার এখানে তৃণমূল সফলভাবে করেছে। মুসলিম ভোটের বিপুল অংশ টেনেছেন পাঠান। অধীরের গড় ভাঙতে তৃণমূলের দরকার ছিল এই কৌশলটি। পাশাপাশি, তারকা মুখ নিয়ে এখনও অবধি তেমন হারের মুখও দেখেনি তৃণমূল।

অন্যদিকে, দিলীপ ঘোষের হারের নেপথ্যে রয়েছেন খোদ শুভেন্দুই? কীর্তি আজাদের কাছে হারের পর বারেবারেই স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে জেতা আসন থেকে দিলীপ ঘোষকে উপড়ে বর্ধমান দুর্গাপুরে নিয়ে আসার আসল কারণ। গত লোকসভা ভোটে তিনি ছিলেন বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি। বাংলায় ১৮ টা আসন জেতে বিজেপি। রাজ্য সভাপতির পদ গিয়েছে তাঁর, সাংসদ পদও গেল, বাংলায় বিজেপির আসনও কমল। এই লোকসভা নির্বাচনে তাঁর জেতা আসন মেদিনীপুরের বদলে বর্ধমান-দুর্গাপুর আসনে দিলীপকে প্রার্থী করেছিল দল। হারার জন্যই?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মোদিই প্রধানমন্ত্রী হবেন? নাকি, শেষ মুহূর্তে মোক্ষম চাল দেবেন নীতীশ-নাইডু?

Nitish Kumar & Chandrababu Naidu: নীতীশ কতবার বিজেপিতে এসেছেন আর গিয়েছেন তার হিসেব মনে হয় নীতীশ নিজেও রাখা ছেড়ে দিয়েছেন।

দিলীপ বলছেন, সারা ভারতেই বিজেপির ফল খারাপ হয়েছে। খোদ নরেন্দ্র মোদির ফলও আগের মতো ভালো হয়নি। কিন্তু জেতা আসন থেকে তুলে নতুন আসনে দেওয়া যে তারও হজম হয়নি তাও স্পষ্ট করেছেন দিলীপ। কেন এমন সিদ্ধান্ত নিল দল, উত্তর খুঁজছেন তিনি। কিন্তু কীর্তি বহিরাগত, রাজ্যে নতুন প্রার্থী হয়ে জিতলেন কীভাবে? কীর্তি আজাদ বঙ্গে নতুন হলেও রাজনীতিতে ৩৬ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা আছে তাঁর। তৃণমূল বলছে গলসি, ভাতার, বর্ধমান শহরের মতো কয়েকটি জায়গা তৃণমূল অন্তর্দ্বন্দ্ব ভুলে কীর্তি আজাদেরর জন্য মাঠে নেমে প্রচার করেছে। বিজেপি দিলীপ ঘোষের মতো প্রার্থী দিয়েছিল ঠিকই কিন্তু এই অঞ্চলে তাঁদের বুথভিত্তিক সংগঠন দুর্বল। ফলে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ কম ছিল। এছাড়া দিলীপের বেলাগাম মন্তব্য, তাঁর ইমেজও খানিক দলের বিরুদ্ধে গেছে। একমাত্র দুর্গাপুর পশ্চিমেই খানিক এগিয়ে ছিলেন তিনি।

অন্যদিকে দিলীপ তাঁর জেতা আসন মেদিনীপুর কেন্দ্রের সবক’টি বিধানসভা আসনেই নিয়মিত যাতায়াত করতেন। বর্ধমান-দুর্গাপুর আসন একদম নতুন। এই লোকসভার সাতটি বিধানসভা আসন বর্ধমান দক্ষিণ, বর্ধমান উত্তর, দুর্গাপুর পূর্ব, দুর্গাপুর পশ্চিম, মন্তেশ্বর, ভাতার আর গলসির মধ্যে মাত্র একটি বিধানসভাই বিজেপির দখলে। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে দুর্গাপুর পশ্চিম আসনে জিতেছিলেন বিজেপির লক্ষ্মণচন্দ্র ঘড়ুই।

বিজেপিরই একাংশ বলছে, দিলীপ ঘোষের বদলে অন্য কাউকে মেদিনীপুর আসনে প্রার্থী করার জন্য কলকাঠি নেড়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারীই। দিলীপ ঘোষের হয়ে সওয়াল করেছিলেন সুকান্ত মজুমদার। কিন্তু তাঁর ভূমিকা শুভেন্দুর দাপটের কাছে নিতান্তই ফিকে! তাই মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র দিলীপ ঘোষ হারলেন। নেপথ্যে শুভেন্দু কিনা এই উত্তর দিলীপ নিশ্চয়ই পাবেন একদিন।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।