কে বলেছে ভিনগ্রহীরা নেই! কেন হঠাৎ এমন দাবি ইউএফও গবেষকের?

'Alien' Corpses in Mexico: সম্প্রতি মেক্সিকো কংগ্রেসের আসরে এক ইউএফও বিশেষজ্ঞ ও গবেষক পেশ করেছেন দু'টি কঙ্কাল। যা অনেকটা মানুষের মতোই দেখতে, কিন্তু পুরোটা নয়। যা দেখেশুনে ওই বিজ্ঞানী ও তাঁর সতীর্থদের দাবি, এ আদতেও পৃথিবীর কোনও মানুষ বা প্রাণীর কঙ্কাল নয়। বরং তা ভিনগ্রহীদের।

Sohini Das
৩ মিনিট
কে বলেছে ভিনগ্রহীরা নেই! কেন হঠাৎ এমন দাবি ইউএফও গবেষকের?

ভিনগ্রহীরা কি আদৌ আছে? নাকি শুধুই কল্পনা। এ নিয়ে যুক্তি-তর্ক-গল্প কোনওটারই শেষ নেই। আজও কোথাও কোথাও মধ্যরাতে 'অ্যাং'-য়েরা যে নেমে এসে 'মিলিপিপ্পিক খ্রুং' বলে ওঠে না, এমন কথা খুব হলফ করে বলা যায় না। ঈশ্বর বা ভূতের মতোই বিশ্বাসীরা বলেন আছে। আর বিশ্বাসে যে মেলায় বস্তু, এ কথা কে না জানে! তবে সবটাই যে তর্কসাপেক্ষ, তা যে নয়, তার প্রমাণ এবার মিলল হাতেনাতে। যা দেখে অবিশ্বাসীরা বিশ্বাস করবেন, তারা আছে। আলবাৎ আছে।

এমনই এক আশ্চর্য ঘটনা ঘটে গিয়েছে সম্প্রতি মেক্সিকো কংগ্রেসের আসরে। সেখানে এক ইউএফও বিশেষজ্ঞ ও গবেষক পেশ করেছেন দুটি কঙ্কাল। যা অনেকটা মানুষের মতোই দেখতে, কিন্তু পুরোটা নয়। যা দেখেশুনে ওই বিজ্ঞানী ও তাঁর সতীর্থদের দাবি, এ আদতেও পৃথিবীর কোনও মানুষ বা প্রাণীর কঙ্কাল নয়। যেসব উড়ে আসা জিনিসদের এই পৃথিবীর বলে শনাক্ত করা যায় না, ধরে নেওয়া হয় সেসব সম্ভবত ভিনগ্রহ থেকে আগত। সেই আনআইডেন্টিফায়েড ফ্লাইং অবজেক্টের উপরেই গবেষণা করেন জেইম মওসন নামে ওই ব্যক্তি। আজ থেকে নয়, প্রায় কয়েক দশক ধরে এই বিষয়টি নিয়ে নানাবিধ গবেষণা করে চলেছেন জেইম। ভিনগ্রহীরা যে আছেই, তা প্রমাণ করতে তৎপরতার অভাব নেই জেইণের। সম্প্রতি তিনিই মেক্সিকো কংগ্রেসের আসরে প্রকাশ্যে নিয়ে আসেন ওই কঙ্কাল দু'টি। স্বভাবতই এই ঘটনাটি ঘিরে হইচই পড়ে গিয়েছে গোটা বিশ্বে। অনেকেই আবার একে ভিনগ্রহী গবেষণার ক্ষেত্রে একটি বড় মোড় বলেও মনে করছেন।

জেইম জানান, পেরুর কুসকো শহরের একটি খনি থেকে উদ্ধার হয় ওই দুটি কঙ্কাল। পরীক্ষানিরিক্ষায় নাকি দেখা গিয়েছে, ওই দুটি কঙ্কালের জিনের গঠন মানুষের থেকে প্রায় ৩০ শতাংশ আলাদা। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, মেক্সিকো ন্যাশনাল অটোনোমাস ইউনিভার্সিটির সহায়তায় কার্বন পরীক্ষা করা হয় ওই দু'টি জিনের। যা দেখে বোঝা গিয়েছে, কম করে হলেও অন্তত এক হাজার বছরের পুরনো তো হবেই ওই দু'টি কঙ্কাল। মেক্সিকোর নৌবাহিনীর সচিবালয়ের অধীন সায়েন্টিফিক ইনস্টিটিউট ফর হেলথের ডিরেক্টর ওই কঙ্কালের ডিএনএ পরীক্ষা করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছন যে কোনও ভাবেই ওই কঙ্কালগুলি মানুষের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত নয়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভিনগ্রহীর যান, না শত্রুদের নজরদারি? অবশেষে বিজ্ঞানের হাত ধরেই ইউএফও-র রহস্যভেদ?

UFOs Defy Physics Pentagon NASA : মাঝেমধ্যেই হানা দেয় এই ইউএফও। তাহলে কি সেই দেশেই কোনও গোপন রহস্য লুকিয়ে আছে?

তবে শুধুমাত্র জেইম একাই নন। ভিনগ্রহীদের অস্তিত্ব সম্পর্কে এর আগে মার্কিন কংগ্রেসের মঞ্চে সাক্ষ্য দিয়েছেন মার্কিন নেভি পাইলট লেফটেন্য়ান্ট ব়্যান গ্রেভস। তিনি জানিয়েছেন, আরও দুই সঙ্গীর সঙ্গে একবার এমনই এক উড়ন্ত জিনিস উড়তে দেখেছিলেন তিনি ভার্জিনিয়া সৈকত উপকূলের কাছে। সেটা ২০১৪ সালের ঘটনা। F-18 বিমান ওড়ানোর সময় হঠাৎ করেই মাথার উপরে তিনি আরেকটি বিমানের মতো উড়ন্ত জিনিস দেখতে পান। একটা স্বচ্ছ্ব গোলকের ভিতরে যেন একটি ধূসর রঙের ঘনক, কতকটা বা কালো। তবে ব়্যানের দৃঢ় বিশ্বাস, ওই ব্যাপারটি মোটেও এই গ্রহের জিনিস নয়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
এবার কি সত্যিই আসতে চলেছে ভিনগ্রহীরা? আকাশের 'রহস্যময় আলো' নিয়ে তুলকালাম বিশ্ব

Alien Invasion on The Earth : এক-দু’বার নয়, বেশ অনেকবারই নাকি দেখা গিয়েছে ভিনগ্রহীদের মহাকাশযান! এমন তথ্য পাওয়ার পরই একটু নড়েচড়ে বসেছে সবাই।

ব়্যানের পরে জেইমের ভিনগ্রহী প্রসঙ্গে এমন আশ্চর্য এই দাবি নিয়ে ইতিমধ্যেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে দুনিয়া জুড়ে। মেক্সিকো কংগ্রেসের মঞ্চে ওই কঙ্কাল দু'টি প্রদর্শনের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি ওই সংক্রান্ত ভিডিও-ও সকলের সামনে নিয়ে আসেন তিনি। জেইমের দাবি, ওই কঙ্কাল দু'টির একটিও এই পৃথিবীর কোনও স্থলচর প্রাণীর আদিম রূপ নয়।

তবে জেইমের দাবি ঘিরে উঠে এসেছে একগুচ্ছ বিরোধী দাবিও। অ্যারন ওয়াকার নামে এক নেটিজেনের দাবি, জেইম যে কঙ্কাল দু'টি সামনে এনেছেন, তা আদতেই এলিয়েন বা ভিনগ্রহীদের নয়। বরং নাজকা শিশুদের মৃতদেহ। যা লুঠ করা হয়েছিল সম্ভবত। এমন দাবির কারণও রয়েছে সঙ্গত। ২০১৮ সালেও এমন কয়েকটি কঙ্কাল পেশ করেছিলেন জেইম। সেগুলিকেও এলিয়েনের দেহ বলে দাবি করেন তিনি। তবে পরে জানা যায়, সেগুলি আদতে নাজকা শিশুর কঙ্কাল। তবে কেউ কেউ আবার সমর্থন জানিয়েছেন জেইমের বক্তব্যেই। তাঁদের মতে এই মহাবিশ্বে কোথায় কার অস্তিত্ব লুকিয়ে রয়েছে, তা কি বলা যায়। ফলে জেইম যা বলছেন, তা মোটেও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না একেবারে।

ফলে বিশ্বাস- অবিশ্বাসের চিরন্তন খেলা সেই চলছেই জেইমের দাবি ঘিরে। তাঁর আবিষ্কৃত ওই কঙ্কাল দু'টি যে দেখতে বেশ অন্য়ধরনের, এবং মানুষের সঙ্গে তাঁর আকারগত মিল থাকলেও অমিলই বেশি, তা কিন্তু এক বাক্যে মেনেছেন প্রায় সকলেই। তবে সে কঙ্কাল সত্যিই ভিনদেশীর নাকি এক হাজার বছর আগে বসবাসকারী কোনও আদিম প্রজাতির প্রাণীর, তা নিয়ে সন্দেহ নিরশন করা যায়নি এখনও। তবে নতুন করে একটি বিতর্ক উস্কে দিয়েছে যে এই ঘটনা, তা কিন্তু বলাই যায়।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।