মুখে ‘বেঙ্গল ফার্স্ট’, মমতায় আস্থা, এবার কি তৃণমূলে ‘ঘর ওয়াপসি’ অর্জুনের?

pampii adhikari
৪ মিনিট
মুখে ‘বেঙ্গল ফার্স্ট’, মমতায় আস্থা, এবার কি তৃণমূলে ‘ঘর ওয়াপসি’ অর্জুনের?

বিধানসভা থেকে পুরসভা নির্বাচন, ধারাবাহিক ব্যর্থতা রয়েইছে। গোদের ওপর বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে ঘরোয়া কলহ। তার মধ্যেই বঙ্গ বিজেপি-তে (BJP) এবার বিদ্রোহের সুর বাঁধলেন ‘বাহুবলী’ অর্জুন সিং (Arjun Singh)। বিতর্কিত কৃষি আইনের মধ্যে কিছু গলদ না পেলেও, বাংলার পাটচাষি এবং চটকল কর্মীদের দুর্দশা থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকতে পারলেন না তিনি। তাই বিজেপি-তে থেকেই কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে পথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়ে বসলেন। আর তাতেই অশনি সংকেত দেখছেন রাজ্য বিজেপি-র নেতা-কর্মীরা। কারণ প্রকাশ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেই শুধু ক্ষান্ত হননি অর্জুন, বরং সরাসরি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী (TMC) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) পাশে চেয়েছেন তিনি, যা তৃণমূলে তাঁর ‘ঘর ওয়াপসি’-র ইঙ্গিত বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

একদিন আগেও অর্জুনের টুইটার হ্যান্ডল থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ছবি এবং ভিডিও পোস্ট হতে দেখা গিয়েছে। টুইটার প্রোফাইলে এখনও লেখা রয়েছে তিনি রাজ্য বিজেপি-র সহ সভাপতি। প্রোফাইল পিকচারেও বিজেপি পরিবারের সদস্য বলে উল্লেখ রয়েছে নিজের। তাই অর্জুন বিদ্রোহ ঘোষণা করতে পারেন বা নিজের দলের সরকারের বিরুদ্ধে পথে নামতে পারেন, আগে থেকে তা আঁচও করতে পারেননি কেউ। বরং রাজ্য বিজেপি-র প্রাক্তন এবং বর্তমান সভাপতির মধ্যে দ্বন্দ্ব নিয়েই বিচার-বিশ্লেষণে মগ্ন ছিলেন সকলে। সেই পরিস্থিতিতে সোমবার কার্যত বিস্ফোরণ ঘটান অর্জুন। কোনওরকম রাখঢাক না করেই জানিয়ে দেন, বাংলার পাটচাষি এবং চটকল কর্মীদের নিয়ে উদাসীন কেন্দ্র। বারবার সেই নিয়ে তদবির করেও লাভ হয়নি। তাই পথে নামা ছাড়া কোনও উপায় দেখছেন না তিনি।

অর্জুনের সাফ বক্তব্য, মানুষের জন্যই নেতা হতে পেরেছেন তিনি। সেই মানুষই যদি পাশে না থাকে, কোনও দল বা আদর্শের পরোয়া করেন না তিনি। বিজেপি চাইলে তাঁর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের পদক্ষেপ করতে পারে। কিন্তু কোনওরকম অন্যায় সইবেন না তিনি। তার জন্য নিজের দলকেও ছেড়ে কথা বলবেন না। এখানেও থেমে গেলে পারতেন হয়ত অর্জুন। তা না করে, আরও এক কদম এগিয়ে জানিয়ে দেন, কেন্দ্রীয় সরকার ব্যবস্থা না নিলে পথে নেমে আন্দোলন করবেন তিনি। এব্যাপারে মমতার হস্তক্ষেপও চাইবেন, যাতে সকলে মিলে কেন্দ্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করা যায়। অর্জুনের এই মন্তব্যই তৃণমূলে তাঁর ‘ঘর ওয়াপসি’-র সম্ভাবনা জোরালো করে তুলেছে। জল্পনা ওড়ানোর বদলে অর্জুন নিজেও তাতে ইন্ধন জুগিয়েছেন। জানিয়েছেন, এখনই কিছু বলবেন না তিনি। ধাপে ধাপে এগোবেন।

রাজনীতিতে যোগদানের আগে চটকলে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে অর্জুনের। তার জন্যই পাটচাষি এবং চটকল শ্রমিকদের দুঃখ-দুর্দশা অনুভব করতে পারছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার কাঁচা পাটের দামের সর্বোচ্চ মূল্য বেঁধে দেওয়াতেই ধুঁকছে পাটচাষ এবং চটকলগুলি। ১৪টি জুটমিল বন্ধ হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। আরও ১০টি বন্ধ হওয়ার পথে। তাতে পাটশিল্পের সঙ্গে যুক্ত আড়াই কোটি মানুষ এবং ৪০ লক্ষ কৃষক সংকটে পড়েছেন। একথা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছিলেন তিনি। বস্ত্রমন্ত্রী পীযূষ গয়ালের কাছেও স্মারকলিপি জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু কিছুতেই কাজ হয়নি। বরং বস্ত্রমন্ত্রী জানিয়ে দেন, পাটের বদলে কেন্দ্র প্লাস্টিক কিনে নেবে। তাই পাটচাষি এবং চটকল কর্মীদের জন্য পথে নামা ছাড়া আর উপায় নেই তাঁর কাছে।

কিন্তু আচমকা পাটচাষি এবং চটকল কর্মীদের জন্য অর্জুনের দরদ উথলে উঠল, সেকথা মানতে নারাজ রাজনৈতিক মহল। এর নেপথ্যে বিজেপি-র কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে কড়া বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি, তিক্ততা ভুলে মমতাকেও অর্জুন শান্তির বার্তা দিতে চেয়েছেন বলে মনে করছেন অনেকেই। তাঁদের মতে, পাটচাষি বা চটকলকর্মীদের দুর্দশা নয়, অর্জুন আসলে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েই বেশি উদ্বিগ্ন। কারণ তৃণমূলের কাছ থেকে টিকিট না পেয়ে ২০১৯ সালে বিজেপি-তে গিয়েছিলেন। সেই সময় রাজ্যব্যাপী গেরুয়া হাওয়ার দাপটে ভর করে ব্যারাকপুরের সাংসদও হয়ে যান তিনি। কিন্তু ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে লাগাতার বিজেপি-র সাফল্যের গ্রাফ যেভাবে নীচে গিয়েছে, তাতে ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে নিজেকে নিরাপদ জায়গায় রাখতে চাইছেন তিনি। তার জন্য তৃণমূলই যে একমাত্র আশ্রয়, তা জেনেই হিসেব কষে এগোচ্ছেন।

কিন্তু অর্জুন চাইলেও, তৃণমূল কি তাঁকে দলে ফেরত নেবে? কারণ অতীতে ‘মমতা বাংলাকে পাকিস্তান বানাতে চাইছেন’, ‘তৃণমূল আসলে পিসি-ভাইপো প্রাইভেট লিমিটেড’, ‘মা-মাটি-মানুষ, নয় তৃণমূলের আসল স্লোগান মানি-মানি-মানি’, এমন হাজারও মন্তব্য করতে শোনা গিয়েছে তাঁকে। তার ওপর জানুয়ারি মাসে ইছাপুরে তৃণমূল নেতা গোপাল মজুমদারের খুন হওয়ার ঘটনায়ও অর্জুনের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হচ্ছিল তৃণমূলের তরফেই। বাড়ি ফেরার পথে রাতের অন্ধকারে প্রথমে গুলি চালিয়ে এবং পরে কুপিয়ে খুন করা হয় গোপালকে। সেই ঘটনায় বিজয় মুখোপাধ্যায় নামের একজনকে আটক করে পুলিশ। বিজয় অর্জুন-ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত এলাকায়। তার জন্য মহাত্মা গান্ধী স্মরণ অনুষ্ঠানে অর্জুনের সঙ্গে এক মঞ্চে পর্যন্ত থাকতে রাজি হননি রাজ্যের মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। প্রকাশ্যেই জানিয়ে দেন, একজন ‘খুনি’-র সঙ্গে কিছুতেই মঞ্চ ভাগ করবেন না বলে।

কিন্তু এসবের পরেও, অর্জুনের তৃণমূলে ‘ঘর ওয়াপসি’-র সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, বিজেপি-তে গিয়ে মমতা-অভিষেককে কুকথা বলার পরেও ‘সসম্মানে’ তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন ঘটেছে মুকুল রায়, সব্যসাচী দত্ত, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়দের। তৃণমূলের তরফে যদিও এই নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি, তবে কংগ্রেস ছেড়ে আসার পর ২০০১ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত তৃণমূলের বিধায়ক ছিলেন অর্জুন। ব্যারাকপুর আসন থেকে লোকসভার টিকিট পাওয়া নিয়ে বিরোধ বাঁধলে বিজেপি-তে যোগ দেন তিনি। সেই সময়ই অর্জুন জানিয়ে রেখেছিলেন, "রাজনীতিতে সম্মান বলে কিছু হয় না, রাজনীতি মানেই সমঝোতা।" তাই ২০২৪-এর কথা মাথায় রেখে তৃণমূল এবং অর্জুন নিজেদের স্বার্থেই পরস্পরের সঙ্গে সমঝোতা করলে, আশ্চর্য হওয়ার মতো কিছু নেই বলে মনে করছেন অনেকেই।

লিখেছেন
pampii adhikari
pampii adhikari
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।

হুথিরা যেভাবে স্থানীয় বিদ্রোহী থেকে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিতে পরিণত হলো

Houthi Expansion in Yemen: ইয়েমেনে ফের কেন যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে? হুথিরা কীভাবে স্থানীয় জায়দি আন্দোলন থেকে শক্তিশালী সামরিক-রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হল? ইরানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কতটা গভীর? মোখা ও হানিশ দ্বীপপুঞ্জ দখলের পর কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বাব আল-মান্দাব? এই সংঘাতের প্রভাব কি শেষ পর্যন্ত বিশ্ব বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহণ ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে পড়বে?