অনুব্রত ঘরে নেই! প্রিয় ভক্তকে ছাড়াই সাজছে বোলপুরের কেষ্টকালী

Kalipuja, Anubrata Mandal: নিচুপট্টির বারিপুরের কালীপুজো এখনও কেষ্টকালী বলেই পরিচিত। হবেই বা না কেন! অনুব্রতের কালীভক্তির কথা তো আর অজানিত নয়।

Sohini Das
৩ মিনিট
অনুব্রত ঘরে নেই! প্রিয় ভক্তকে ছাড়াই সাজছে বোলপুরের কেষ্টকালী

খুব বেশি দিন আগের কথা নয়। কেষ্টর নামে কাঁপত গোটা বোলপুর। বাড়ি থেকে অনতিদূরেই একটি কালীপুজো। সেই কালীপুজোর নামই হয়ে যায় কেষ্ট-কালী পুজো। তার তদারকি থেকে দেখভাল সব নিজহাতেই করতেন তিনি। পুজোর সময় তাঁকে টলানো কঠিন ছিল এলাকা থেকে। কালের নিয়মে কালীপুজো এল, কিন্তু কেষ্ট ঘরে নাই। নাহ, ঘরে তো নেই-ই, এমনকী রাজ্যেও নেই। বাংলা থেকে বহু দূরে কারাগারের অন্ধকারে কাটছে বোলপুরের দাপুটে নেতা অনুব্রতের জীবন। কালীপুজোর সময় যে মণ্ডপ থেকে জীবনেও টলানো যায়নি তাঁকে, সেই পুজো এ বছর কাটছে তার কেষ্টাকে ছাড়াই।

অনুব্রত মণ্ডল, তৃণমূলের দাপুটে নেতা। এককালে সামলেছেন বীরভূম জেলা সভাপতির মতো পদ। তবে ওই যে 'চিরস্থির কবে নীর হায় রে জীবননদে!' অতএব মুহূর্তে ভাঙে দুর্গ। গরুপাচার মামলায় সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার হন অনুব্রত। তাঁকে হেফাজতে নেয় ইডি। তারপর আপাতত অনুব্রতের ঠিকানা দিল্লির তিহাড় জেল। সেখানেই অন্ধকার গারদের পিছনে কাটতে চলেছে তাঁর আলোর উৎসব।

বোলপুরের নিচুপট্টি এলাকা। সেই নিচুপট্টির বারিপুরের কালীপুজো এখনও কেষ্টকালী বলেই পরিচিত। হবেই বা না কেন! অনুব্রতের কালীভক্তির কথা তো আর অজানিত নয়। প্রত্যেক বছর মহা ধুমধাম করে শক্তির আরাধনায় মাতেন কেষ্ট। আজ থেকে নয়, সেই কোন ছোট্ট বয়স থেকে এই কালীপুজো করে আসছেন তিনি। তখন তাঁর বয়স বছর নয়েক। বাবার বারণ না শুনেই কালীপুজোয় গিয়েছিলেন। বেদম মারও খান তার জন্য। তবে কালীপুজো থেকে সরিয়ে আনা যায়নি অনুব্রতকে। দেখতে দেখতে ৫৬ বছরে পড়েছে বোলপুরের বারিপুরের কেষ্টকালী।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কুখ্যাত মিহির সর্দারের ডেরা থেকে 'দুর্গেশনন্দিনী'র মন্দির, কেন এত জাগ্রত হুগলির সিদ্ধেশ্বরী কালী?

Siddheswari Temple, Hooghly: কালক্রমে সিদ্ধেশ্বরী কালী হয়ে উঠেছিল ডাকাতদের আরাধ্য দেবী। সেই মন্দিরবক্ষেই আশ্রয় পেত ডাকাতদল। যেমন হুগলির গোঘাটের এই সিদ্ধেশ্বরী মন্দির ছিল মিহির সর্দারের ডেরা।

আকাশছোঁয়া কালীপ্রতিমা থেকে শুরু করে আলোর রোশনাই। এত বছর ধরে সে পুজোয় কোনও খুঁত থাকতে দেননি অনুব্রত। সেই কেষ্টা নেই। রামের অনুপস্থিতে তাঁর পাদুকাখানি তুলে নিয়েছেন অনুব্রতের ভাই। আছেন পাড়াপড়শিরাও। না, তার সঙ্গে আছেন আরও একজন। তিনি কাজল শেখ। অনুব্রত মণ্ডল জেলে যাওয়ার পর তাঁর জায়গা নিয়েছেন যিনি।

একসময় অনুব্রতের সঙ্গে সম্পর্ক তেমন ভালো ছিল না কাজলের। বহুবার অনুব্রতকে বিভিন্ন ইস্যুতে নিশানা করতেও দেখা গিয়েছে কাজলকে। যদিও ক্ষমতায় এসে অনুব্রতকেই গুরু হিসেবে মানেন বলে দাবি করেছেন কাজল। শেষের দিকে অবশ্য অনুব্রতও কাছে টেনেছিলেন কাজলকে। আসলে এভাবেই বোধহয় ক্ষমতার হাতবদল হয়। একসময় বোলপুরে যার নামে বাঘে-গরুতে একঘাটে জল খেত, সেই অনুব্রত আজ জেলবন্দি। তার রাজনৈতিক জায়গা তো নিয়েইছেন কাজল। এবার কেষ্টা-কালীর পুজোতেও নিজের উপস্থিতি বুঝিয়ে দিচ্ছেন কাজল শেখ। কেষ্ট-অনুরাগীদের বুঝতে দিচ্ছেন না দাদার অভাব।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
খোদ কালীঘাটে কালীপুজোয় পুজো পান না দেবী কালিকা! কেন এই রীতি জানেন?

Kali Puja 2023: সারা দেশ যখন শক্তির আরাধনায় মগ্ন, তেমন এক মহাক্ষণে সমৃদ্ধির দেবীর আরাধনায় মাতে খোদ কালীঘাট।

তবে এতদিন ধরে ভালোবাসার যে দুর্গ গড়েছিলেন অনুব্রত নিজের পাড়ায়, তা কি আর এত সহজে ভাঙে! তাই পাড়াপড়শিদের মন খানিকটা খারাপ। তবে প্রথা মেনেই এ বছরও ৪৫ ফুটের প্রতিমা নির্মাণ হয়েছে নিচুপট্টিতে। পুজো কমিটির লোকেরা জানিয়েছেন, প্রতিবছরের মতোই সারা হয়েছে সমস্ত আয়োজন। অনুব্রতের নিজের হাতে তৈরি পুজো। প্রতিবছর ফিতে কেটে প্রদীপ জ্বালিয়ে পুজোর উদ্বোধন করতেন তিনিই। তাঁর অভাব তো থাকবেই। তবে পাড়া-প্রতিবেশীরা বলছেন, কেষ্টদা যেন না-থেকেও রয়েই গিয়েছেন।

কেষ্টর অভাব মেটাতে মণ্ডপে একাধিক বার ঘুরে গিয়েছেন কাজল শেখ। অনুব্রতের ভাই প্রিয়ব্রত মণ্ডল জানালেন, পুজোর প্রস্তুতি দেখতে এসেছিলেন কাজল শেখ। পুজোর উদ্বোধন থেকে বাদবাকি অনুষ্ঠানেও থাকবেন তিনি। যে জায়গায় এতদিন চলত কেষ্টর দাপট, সেই জায়গা কি ক্রমে ক্রমে বুঝে নেবেন কাজল!

কালীভক্ত অনুব্রতের কি আর শুধুমাত্র এই নিচুপট্টির পুজোই ছিল! একই সঙ্গে পার্টি অফিসেও তো প্রতিবছর পুজোর আয়োজন করতেন কেষ্ট। প্রতিমাকে গয়না পরানো থেকে শুরু করে যাবতীয় দায়দায়িত্বই ছিল তাঁরই কাঁধে। অনুব্রতের অনুপস্থিতিতে কে দায়িত্ব নেবে সেই পুজোর? গতবছর পুজো উতরে দিয়েছিলেন দলের কর্মীরাই। এ বছর কী হবে! কেষ্টর অভাবে এ বছর কি ভোগ পাবেন না পার্টিঅফিসের কালী! নাকি সে দায়িত্বও অকাতরে সামলে দেবেন অনুব্রতের 'উত্তরসূরী' কাজল শেখ!

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।