ফুসফুসে জল, হৃদযন্ত্রের সমস্যা! এখন কেমন আছেন কবীর সুমন?
Kabir Suman: হাসপাতাল সূত্রের খবর, বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন সুমন। সোমবার তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। তড়িঘড়ি তাঁকে নিয়ে আসা হয় হাসপাতালে।

যাঁর কণ্ঠে, যাঁর ভাষায় একদিন নতুন জীবনের সুর খুঁজে পেয়েছিন বাংলা গান, সেই কবীর সুমন গুরুতর অসুস্থ। বুকে সংক্রমণ নিয়ে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে তাঁকে। জানা গিয়েছে, অক্সিজেন সাপোর্টে রাখা হয়েছে শিল্পীকে। দীর্ঘদিন ধরেই বয়সজনীত নানা অসুস্থতায় কাতর প্রাক্তন এই তৃণমূল সাংসদ। গত সোমবার দুপুর তিনটে নাগাদ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় সঙ্গীতশিল্পীকে। কলকাতা মেডিক্যাল হাসপাতালের সুপার স্পেশালিটি ব্লকে ভর্তি করা হয়েছে।
২০২৪ সালটা শুরু থেকেই যেন ভালো যাচ্ছে না। বছরের শুরুতেই আমরা হারিয়েছে বিশিষ্ট গায়ক রাশিদ খানকে। দু-দিন আগেই প্রয়াত হয়েছেন বিশিষ্ট অভিনেত্রী শ্রীলা মজুমদার। তার পরে ফের দুঃসংবাদ। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হল 'গানওয়ালা'কে। প্রাথমিক ভাবে রটে যায়, হৃদরোগ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছেন কবীর সুমনকে। পরে অবশ্য জানা যায়, প্রধানত শ্বাসকষ্ট নিয়েই হাসপাতালে আসেন শিল্পী।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কোনও বাঙালি উদ্যোগপতি (যদি আদৌ থেকে থাকেন কেউ) কি উৎসুক, বাংলা গানের অ্যালবাম কিংবা মঞ্চানুষ্ঠানে টাকা ঢালতে? যদি না-থেকে থাকেন, কার ভরসায় চলবে বাংলা গান? পুঁজিবাদ-বিরোধী সংগ্রামের ভরসায়?
হাসপাতাল সূত্রের খবর, বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন সুমন। সোমবার তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। তড়িঘড়ি তাঁকে নিয়ে আসা হয় হাসপাতালে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ফুসফুসে জল জমেছে তাঁর। শ্বাসকষ্টের পাশাপাশি হৃদযন্ত্রেরও কিছু সমস্যা রয়েছে তাঁর। রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি কবীর সুমনের। হাইপারটেনশনের মতো সমস্যাও রয়েছে। এই সমস্ত নিয়েই আপাতত সিসিইউ-য়ে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে তাঁকে। মেডিসিন ও কার্ডিয়োলজি বিভাগের চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন তিনি। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, আপাতত স্থিতিশীল শিল্পী। কিঞ্চিৎ উন্নতিও হয়েছে স্বাস্থ্যের। ইতিমধ্যেই কবীর সুমনের চিকিৎসায় গড়া হয়েছে মেডিক্যাল বোর্ড। ৫ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডে রয়েছেন হৃদরোগ, ফুসফুস, মেডিসিন এবং ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ।হাসপাতাল সূত্রের খবর, ভেন্টিলেশনে দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। সেই সব ব্যবস্থাও হাতের কাছে রেখেছেন চিকিৎসকেরা।
তবে সূত্রের খবর, হাসপাতাল সুপারের কাছে স্যান্ডউইচ খেতে চেয়েছিলেন তিনি। সুপার অনুমতি দিয়েছেন। অবশ্য সামান্য সুস্থ হয়েই ভক্তদের সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা দেন কবীর সুমন। জানান, শ্বাসকষ্ট নিয়ে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হয়েছেন। শীঘ্রই সেরে উঠবেন। সতীর্থদের চিন্তা না করারও পরামর্শ দেন। কিন্তু শিল্পী যা-ই বলুন না কেন, বছরের প্রথমেই এমন সংবাদে উদ্বেগে বাংলা সঙ্গীত জগৎ। ২০২১ সালের জুন মাসেও একবার শ্বাসকষ্ট নিয়েই হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল শিল্পীকে। সেবার ভোর রাতে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এসএসকেএম-এর উডবার্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। অক্সিজেন সাপোর্টে রাখতে হয়েছিল তাঁকে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Ustad Rashid Khan: শোনা যায়, ছোটবেলায় নাকি গানের প্রতি বিশেষ আগ্রহ ছিল না রাশিদের। সেই রাশিদ খান সম্পর্কে পরবর্তীকালে পণ্ডিত ভীমসেন যোশী নাকি বলেছিলেন, তিনিই ছিলেন 'ভারতীয় কণ্ঠসঙ্গীতের ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা'।

কবীর সুমন আজও একটা প্রজন্মের কাছে আবেগ। তাঁর কথা, সুর, কণ্ঠ একদিন বাংলা সঙ্গীত জগতের বাঁকটাই বদলে দিয়েছিল। এক অন্য ধরনের গানের ভাষা খুঁজে পেয়েছিল আপামর শ্রোতা। বছর তিরিশ পেরিয়েও সেই গান আজও একই রকম সতেজ, জীবননির্ভর। গোড়া থেকেই বিতর্কিত পঁচাত্তর বছরের এই শিল্পী। সাংবাদিক থেকে শিল্পী হয়ে ওঠা। শিল্পীজীবনে বহু সাফল্যের প্রস্তর ছুঁয়ে দেখেছেন তিনি। সুমন থেকে কবীর সুমন। একটা দীর্ঘ যাত্রা যেন। কখনও ধর্ম বদল নিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন, কখনও ব্যক্তিগত জীবনে। পরবর্তীকালে সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পরও নানা সময়ে বিভিন্ন বিতর্কে জড়িয়েছে তাঁর নাম। তৃণমূলের হয়ে যাদবপুর কেন্দ্র থেকে লোকসভার সাংসদ হন। যদিও পরবর্তীকালে তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে তাঁর। এর পরে আর কোনও নির্বাচনে প্রার্থীও হননি তিনি। তবে নিজেকে তৃণমূলনেত্রীর সমর্থক বলেই দাবি করেন সুমন। বরাবরই নিজের রাজনৈতিক স্বর নিয়ে স্পষ্ট কবীর সুমন। তাঁর বিভিন্ন গান, বিভিন্ন লেখায় তা টের পাওয়া যায় ভালো মতেই। পণ্ডিত জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষের ছাত্র কবীর সুমন সঙ্গীতের জগতে যে অমোঘ ছাপ রাখতে পেরেছেন, সে জায়গাটা বোধহয় অস্বীকার করার জো নেই। পরবর্তীকালে বাংলা খেয়াল নিয়ে বিস্তর কাজকর্মও করেন কবীর সুমন।
বেশ কয়েক বছর ধরেই নানাবিধ শারীরিক সমস্যা লেগেই ছিল তাঁর। এবার বাড়াবাড়ি হওয়ায় ভর্তি করতে হল হাসপাতালে। কবীর সুমনের অসুস্থতার খবরে উদ্বেগ ছড়িয়েছে নানা মহলে। সোশ্যাল মিডিয়া উপচে পড়েছে। দুই বাংলা থেকেই বিভিন্ন মানুষ আরোগ্য কামনা করেছেন শিল্পীর।
















