নোংরা ভাষাতেই 'দক্ষ'! বারেবারে অশ্লীল আক্রমণ বিরোধীদের! কে এই রমেশ বিধুরি?

Ramesh Bidhuri : রমেশ বিধুরি ছোটবেলা থেকেই রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সঙ্গে যুক্ত।

inscript
৩ মিনিট
নোংরা ভাষাতেই 'দক্ষ'! বারেবারে অশ্লীল আক্রমণ বিরোধীদের! কে এই রমেশ বিধুরি?

সংসদে দাঁড়িয়ে পাড়ার মস্তানের মতো হুমকি দিচ্ছেন বিজেপি সাংসদ। সহনাগরিক, বিরোধী নেতাকে গালাগাল করছেন ধর্ম তুলে। নোংরা ভাষায় হেনস্থা করছেন। ভারতীয় জনতা পার্টির সাংসদ রমেশ বিধুরি লোকসভায় বহুজন সমাজ পার্টির নেতা দানিশ আলিকে অশ্লীল ভাষায় আক্রমণ করে বুঝিয়ে দিয়েছেন, পাড়া, রাস্তার ঠেক, গোদি মিডিয়ার প্রাইম টাইম শো- এসবের মধ্যে তেমন ফারাক নেই। চাইলেই একজনকে এই ধর্মনিরপেক্ষ ভারতে জাত তুলে, ধর্ম তুলে হেনস্থা করা যায়। সংসদে, সাংবিধানিক কাঠামো, ন্যায়কে জলাঞ্জলি দেওয়াই যায় কারণ মাথায় রয়েছে হাত! বিজেপির হাত, শাসকের ছত্রছায়া। কীভাবে এত সাহস পাচ্ছেন বিধুরী? একজন সাংসদের ধর্ম তুলে নোংরা কথা বলার মতো প্রবৃত্তিই বা হচ্ছে কীভাবে? তা জানতে গেলে বিধুরির উত্থান জানা দরকার।

রমেশ বিধুরি আসলে কে?

দুই মেয়াদের সাংসদ রমেশ বিধুরি ছোটবেলা থেকেই রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সঙ্গে যুক্ত। কলেজ ছাত্র থাকাকালীন রমেশ RSS-এর ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ বা ABVP-এর সদস্য ছিলেন। ১৯৮৩ সালে শহিদ ভগত সিং কলেজের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলর এবং সেইসঙ্গে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

রমেশ বিধুরি ১৯৯৩ সালের দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে তুঘলকাবাদ আসন থেকে ভোটে লড়ে নির্বাচনী লড়াইয়ের খাতা খোলেন, কিন্তু হেরে যান। ১৯৯৮ সালেও লড়েন এবং হেরে যান। ২০০৩ সালের নির্বাচনে অবশেষে জয়ের মুখ দেখেন তিনি। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আবার তিনি তুঘলকাবাদ থেকে জয়ী হন। ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে রমেশ বিধুরি দক্ষিণ দিল্লি আসন থেকে লড়েন কিন্তু কংগ্রেসের রমেশ কুমারের কাছে হেরে যান। তবে, ২০১৪ এবং ২০১৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে এই আসনেই জয়ী হন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
নিজের দলের সাংসদকে অশ্লীল ভাষায় আক্রমণ, তবু কেন চুপ মায়াবতী?

Ramesh Bidhuri vs Danish Ali : গোলওয়ালকর বলেন, "থ্রি বিগেস্ট ইন্টারনাল এনিমিস অফ হিন্দুস আর মুসলিমস, ক্রিশ্চানস অ্যান্ড কমিউনিস্টস"। এই ভদ্রলোক মোদিজির গুরু।

বিতর্কিত বিধুরি

দানিশ আলিকে অশ্লীল আক্রমণ করেই যে এমন নোংরামির খাতা খুলেছেন তা নয়। রমেশ বিধুরি অতীতেও বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন।

১. ভারতীয় জনতা পার্টির নয়নের মণি রমেশ বিধুরি দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে একবার 'বামন' বলে ডাকেন। “ভাল বলেছেন বামন দুর্যোধন। দিল্লিতে মাত্র তিন দিনের বৃষ্টিতে সমস্ত রাস্তা ভেসে গেছে। স্কুলে ক্লাসরুম তৈরির নামে কোটি কোটি টাকা কেলেঙ্কারি করেছেন, তথাকথিত বিশ্বমানের মহল্লা ক্লিনিক পশু ও মদ্যপদের আস্তানা," এই ভাষাতেই X-এ পোস্ট করেছিলেন রমেশ। বিধুরি কেজরিওয়ালকেও 'ভড়ওয়া' বলে আক্রমণ করেন এর আগে। “আবে, ইয়ে কেজরিওয়াল ভি ভড়ওয়া হ্যায়৷ ইয়ে কব তক রোকেগা?” বলেছিলেন বিধুরি। বলেছিলেন, "জেএনইউ মে ভারত তেরে টুকড়ে করনেওয়ালে গ্যাং, ওহ জো দুসরে কে টুকড়ো পে পলনে ওয়ালে ভড়ওয়ে ওয়াহাঁ পে ব্যায়ঠতে হ্যায়, তুমহারি আওয়াজ সে উনকি চারপায়ি হিল জানি চাহিয়ে।"।

২. কিছুকাল পিছিয়ে যাওয়া যাক। ২০১৫ সালে, পাঁচজন মহিলা সাংসদ- রঞ্জিত রঞ্জন (কংগ্রেস), সুস্মিতা দেব (তখন কংগ্রেসের সঙ্গে ছিলেন), সুপ্রিয়া সুলে (এনসিপি), অর্পিতা ঘোষ (তৃণমূল কংগ্রেস) এবং পিকে শ্রীমতি টিচার (সিপিআইএম) বিধুরির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। তৎকালীন লোকসভার স্পিকার সুমিত্রা মহাজনের কাছে তারা অভিযোগ জানান, সংসদের মধ্যেই এই নেত্রীদের গালিগালাজ করেছেন রমেশ বিধুরি। রঞ্জিত রঞ্জন বলেছিলেন, অবিবাহিত মহিলাদের সুবিধা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলতেই বিধুরি বলেন তাঁর উচিত আগে স্বামীর সঙ্গে আগে বিবাহবিচ্ছেদ করা এবং তারপরে এসব সুবিধা নিয়ে কথা বলা যেতে পারে।

৩. ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় রমেশ বিধুরি অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে আপত্তিজনক মন্তব্য করেন। বিশাল বিতর্ক তৈরি হয় সেই সময়ও। দক্ষিণ দিল্লি থেকে লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন আপ নেতা রাঘব চাড্ডা। তাঁর অভিযোগের পর দিল্লির নির্বাচনী প্যানেল রমেশ বিধুরিকে নোটিশ পাঠায়।

৪. ২০১৭ সালে রমেশ বিধুরি প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে অশ্লীল কথা বলেন, সমালোচিতও হন। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী রিপোর্ট অনুসারে, বিধুরি বলেছিলেন, ইতালিতে ৫-৬ মাসের মধ্যে নাতি-নাতনির জন্ম হতে পারে তবে ভারতীয় সংস্কৃতিতে এসব হয় না। বিজেপি নেতা বিধুরি বহুজন সমাজ পার্টির প্রধান মায়াবতীর বিরুদ্ধেও বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন।

৫. স্কুল সম্পর্কিত কোনও বিষয়ে রমেশ বিধুরির সাহায্য চাইতে তাঁর সঙ্গে দেখা করেছিলেন এক পড়ুয়ার অভিভাবক। বিজেপি সাংসদ অভিভাবককে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, "সন্তানের জন্ম দেন কেন?"

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।