লিভ-ইন সম্পর্কের রেজিস্ট্রেশন! উপকৃত হবেন মহিলারাই?

Live-In Relationship UCC: যদি লিভ-ইন সঙ্গী প্রেমিকাকে ছেড়ে চলে যায়, তাহলে ওই মহিলা খোরপোষ দাবি করতে পারেন

inscript
৩ মিনিট
লিভ-ইন সম্পর্কের রেজিস্ট্রেশন! উপকৃত হবেন মহিলারাই?

সারা দেশের মধ্যে ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করা প্রথম রাজ্য হয়ে উঠেছে উত্তরাখণ্ড। এক কথায় বলতে গেলে, সম্প্রদায় বা ধর্ম নির্বিশেষে সকল নাগরিকের জন্য সাধারণ আইনি বিধি স্থাপন করাই এই ইউসিসি-র লক্ষ্য। আর এই অভিন্ন দেওয়ানি বিধির নিয়ন্ত্রণ কায়েম হচ্ছে লিভ-ইন সম্পর্কগুলির ক্ষেত্রেও। উত্তরাখণ্ডে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি জারি হওয়ার ফলে এবার সমস্ত লিভ-ইন সম্পর্কের রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক হচ্ছে। আর শুধুমাত্র অবিবাহিত বিষমকামী দম্পতিরাই রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন।

সেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি বলেছিলেন, বিয়ের বাইরে গার্হ্যস্থ অপরাধ এড়াতে লিভ-ইন সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণের জন্য আইন প্রয়োজন। উত্তরাখণ্ড UCC অনুযায়ী, লিভ-রিলেশনশিপ হচ্ছে একজন পুরুষ এবং একজন মহিলার মধ্যে একটি সম্পর্ক, যারা বিবাহের মতোই একটি সম্পর্কের মাধ্যমে সহবাস করে। 'সহবাস' শব্দটি এখানে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে একজন পুরুষ এবং একজন মহিলা, যারা অপ্রাপ্তবয়স্ক নয়, তারা ভাড়া করা বাসস্থানে বা যৌথ মালিকানাধীন বাড়িতে বা তাদের কারও একজনের বা অন্য কোনও বাসস্থানে এক ছাদের নীচে থাকেন এমন সম্পর্ককেই বোঝানো হচ্ছে।

লিভ-ইন সম্পর্কে জড়িত ২১ বছরের কম বয়সিদের ক্ষেত্রে, বাবা মায়ের সম্মতি প্রয়োজন হবে। যদি এই দম্পতিরা তাদের লিভ-ইন সম্পর্ক রেজিস্ট্রেশন না করেন বা মিথ্যা তথ্য দেন, তাহলে তিন মাস পর্যন্ত জেল, ২৫ হাজার টাকা জরিমানা বা দুই-ই হতে পারে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
এবার লিভ-ইন রেজিস্ট্রি না করলেই শাস্তি! কী বলা আছে বিজেপি সরকারের প্রস্তাবিত আইনে?

Live In Relation Registry : লিভ-ইন সম্পর্ক শুধুমাত্র একজন পুরুষ এবং একজন মহিলার মধ্যেই স্বীকৃত। এই আইনে সমকামী দম্পতিদের জন্য কোনও ঠাঁই নেই।

কীভাবে লিভ-ইন সম্পর্ক রেজিস্ট্রেশন করতে হচ্ছে?

উত্তরাখণ্ডের UCC-র পার্ট ৩ অনুসারে, এই ধরনের সম্পর্কে প্রবেশের এক মাসের মধ্যে "লিভ-ইন সম্পর্কের একটি বিবৃতি" জমা দিতে হবে৷ সম্পর্ক শেষ হয়ে গেলে আবার একটি বিবৃতি জমা দিতে হবে৷ আইন বলছে, রেকর্ড রাখার উদ্দেশ্যে এই রেজিস্ট্রেশন। পাশাপাশি রেজিস্ট্রাররা এই বিবৃতিগুলি স্থানীয় থানায় পাঠাবেন যে এলাকায় দম্পতিরা থাকছেন।

বিষমকামী, অবিবাহিত দম্পতিরা একটি সদ্য চালু হওয়া পোর্টালের মাধ্যমে তাদের লিভ-ইন সম্পর্কের রেজিস্ট্রেশন করতে পারেন। অফলাইনের ক্ষেত্রে দম্পতিদের সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রারের কাছে সহায়ক নথি সহ একটি ১৬ পৃষ্ঠার ফর্ম জমা দিতে হবে। বিধি ১৫(৩)(ই)-এর অধীনে, আবেদনকারীদের রেজিস্ট্রেশনের জন্য তাদের ছবি, প্যান নম্বর, ফোন নম্বরের সঙ্গে সংযুক্ত আধার এবং রাজ্যের মধ্যে বসবাসের প্রমাণের মতো নথি সহ আরও নানা প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
লিভ-ইন করলেও রেজিস্ট্রি করতে হবে এবার? অভিন্ন দেওয়ানি বিধিতে যা করতে চাইছে বিজেপি

Uniform Civil Code : উত্তরাখণ্ডের জন্য প্রস্তাবিত অভিন্ন দেওয়ানি বিধিতে ধর্মীয় সীমানা অতিক্রম করে সকলকেই দত্তক গ্রহণের অধিকার দেওয়া হয়েছে, মুসলিম মহিলাদেরও।

যদি কোনও দম্পতি 'নিষিদ্ধ সম্পর্কের' মধ্যে পড়েন, অর্থাৎ তাঁরা যদি রক্তের সম্পর্কের কেউ হন সেক্ষেত্রে অবশ্যই তাঁদের বিবাহের যোগ্যতা প্রত্যয়িত করে ধর্মীয় বা সম্প্রদায়ের কোনও নেতার কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে। 'নিষিদ্ধ সম্পর্ক' শব্দটি হিন্দু বিবাহ আইন, ১৯৫৫ থেকে উদ্ভূত। এখানে একই পূর্বপুরুষের বংশধর ব্যক্তিদের মধ্যে বিবাহ নিষিদ্ধ করা আছে (যদি না এই ধরনের বৈবাহিক মিলন স্থানীয় রীতিনীতি দ্বারা অনুমোদিত হয়)।

দম্পতিদের পূর্বের সম্পর্কের প্রমাণও দিতে হবে, বিশেষ করে যদি তারা আগে লিভ-ইন সম্পর্কে থাকে। তাদের বর্তমান অবস্থাও জানাতে হবে অর্থাৎ তারা অবিবাহিত, বিবাহিত, তালাক হয়েছে কিনা, আলাদা থাকেন কিনা, স্বামী বা স্ত্রী প্রয়াত কিনা। এর জন্য, তাদের সেই প্রমাণ দিতে হবে যাতে বিবাহবিচ্ছেদ বা আলাদা থাকার উল্লেখ আছে, মৃত্যুর শংসাপত্র, বা পূর্ববর্তী লিভ-ইন সম্পর্কের সমাপ্তির শংসাপত্র থাকতে হবে। যদি প্রথাগত ধর্মীয় রীতিনীতির মাধ্যমে কোনও বিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়, তাহলে এই ধরনের বিচ্ছেদের উপযুক্ত প্রমাণ দিতে হবে।

যদি দু'জন ইতিমধ্যেই একসঙ্গে থাকেন, তাহলে তাদের অবশ্যই তাদের একসঙ্গে থাকা পরিবারের প্রমাণ দিতে হবে, যেমন সাম্প্রতিক বিদ্যুৎ বা জলের বিল। তারা যদি ভাড়াবাড়িতে থাকেন, তাহলে অবশ্যই বাড়িওয়ালার পুরো নাম, যোগাযোগের নম্বর এবং ভাড়ার চুক্তির একটি অনুলিপি জমা দিতে হবে। বাড়িওয়ালাদেরও ভাড়ার চুক্তিতে সই করার আগে ভাড়াটেদের রেজিস্ট্রেশনের শংসাপত্র যাচাই করা বাধ্যতামূলক করে, নাহলে বাড়িওয়ালাদের ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা দিতে হবে।

যদি এই দম্পতিরা একসঙ্গে না থাকেন তবে তাদের অবশ্যই একটি অস্থায়ী শংসাপত্র জমা দিতে হবে। শংসাপত্র পাওয়ার পর, অবশ্যই ৩০ দিনের মধ্যে বাড়ি খুঁজে নিতে হবে।

এক মাসের মধ্যে লিভ-ইন সম্পর্ক রেজিস্ট্রেশন করতে ব্যর্থ হলে জরিমানা হতে পারে। দোষী সাব্যস্ত হলে, একজন ম্যাজিস্ট্রেট তিন মাস পর্যন্ত জেল, ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা দুই শাস্তিই দিতে পারেন। মিথ্যা তথ্য প্রদান বা সম্পর্কের বিবরণ গোপন করার জন্যও কঠোর শাস্তি রয়েছে - তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড, ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, বা দুই-ই।

শাসকের দাবি, এই আইন আসলে মহিলাদেরই ক্ষমতায়ন করছে। যদি লিভ-ইন সঙ্গী প্রেমিকাকে ছেড়ে চলে যায়, তাহলে ওই মহিলা খোরপোষ দাবি করতে পারেন। লিভ-ইন দম্পতির সন্তানের জন্ম হলে সেই সন্তান বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি পাবে। বিবাহের ফলে জন্মগ্রহণকারী শিশুরা বৈধ এবং সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হলে এই লিভ ইন সম্পর্কের শিশুর ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য হতে পারে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

সরবোন থেকে যন্তরমন্তর: যে আগুন বারবার বদলে দেয় পৃথিবীকে

May 1968 France student protests: এই যে ছেলেমেয়েরা যন্তরমন্তরের রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে, ধারাশ্রাবণের ভয় পিছনে ফেলে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে এগিয়ে গেল, দক্ষিণী এক বৃদ্ধ তার ধুতি সামলাতে সামলাতে ছুটছেন তাদের সঙ্গে—কী মনোরম এই বারিপাত! কেমন যেন একটা দুর্দান্ত ফ্ল্যাশব্যাকে ঘুরে গেল সময়।

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।