বাঙালির দুর্গাপুজোর ভূত-ভবিষ্যৎ-বর্তমান ধরা রইল 'ইন দ‍্য নেম অফ গডেস'-এ

Book Review: তপতী গুহঠাকুরতার 'ইন দ্য নেম অব দ্য গডেস' দুর্গাপুজোর ইতিহাসের আকর।

Sindhu Som
৪ মিনিট
বাঙালির দুর্গাপুজোর ভূত-ভবিষ্যৎ-বর্তমান ধরা রইল 'ইন দ‍্য নেম অফ গডেস'-এ

ইউনেসকো-র স্বীকৃতি পাওয়ার পর এই প্রথম পুজো বাঙালির। তার ওপর অতিমারীর প্রকোপ নেই। কাজেই এবারের পুজো একটু বিশেষ বাঙালির কাছে। কিন্তু বিশ্ব দরবারে স্বীকৃতি পাওয়ার নেপথ্যে অবদান কার? এতদিনে অনেকেই জেনে গিয়েছেন তপতী গুহঠাকুরতার কাজটির কথা। মঞ্চে তাঁকে সম্মানিত করেছে রাজ্য। 'ইন দ্য নেম অব দ্য গডেস্' বইটির শুরু কিন্তু একটা নন-অ্যাকাডেমিক কাজ হিসেবেই। কিন্তু ধীরে ধীরে কীভাবে এই বিরাট বইয়ের ইটগুলি গাঁথা হলো, তা নিজেই একটা কাহিনি। সেই কাহিনির খোঁজ পেতে হলে পাঠককে পড়ে দেখতে হবে বইয়ের প্রাগকথন। বইটিতে ভূমিকা-সহ মোট ন'টি অধ্যায়। অধ্যায় বিভাগের মাধ্যমে সুচারুভাবে দুর্গাপুজোর বিভিন্ন দিকে আলোকপাত করেছেন লেখিকা।

ভূমিকা মূলত বইটির অবতারণা কী কারণে, তাই নিয়ে কিছু কথা। 'দ্য পাস্ট ইন দ্য প্রেজেন্ট' বলছে পুরাণের গল্প, দেবতাদের পরিচয়, যা বাঙালির মুখে মুখে ফেরে। কীভাবে এর সঙ্গে একাত্ম হন মানুষ, দেবীপক্ষ কী- ইত্যাদি নানা আলাপ-পরিচয়। "দ্য থ্রাস্ট অব দ্য 'নন-রিলিজিয়াস'" অংশটিতে রয়েছে 'ঠাকুর দেখা' উৎসবের কথা। ধর্মীয় কথকতা বাদে যে উদযাপনের ছোঁয়া আমরা এই ছোট ছোট ঘোরাঘুরিতে দেখতে পাই, তা থেকে শুরু করে বিজ্ঞাপন-বিপণনের মধ্য দিয়ে পুজোর প্রসার নিয়ে কথা রয়েছে সেই অধ‍্যায়ে। নতুন সহস্রাব্দ সঙ্গে করে এনেছিল থিমপুজো। এখন তা পুজোর অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ, তাই নিয়ে দ্য স্কোপ অব মাইক্রোহিস্ট্রি। "ডিফাইনিং দ্য টার্ম 'পূজা' অ্যান্ড সিচুয়েটিং ইটস 'আর্ট'"-এ রয়েছে বিভিন্ন পাড়া, ক্লাব কীভাবে পুজো ব্যাপারটাকে উপস্থাপিত করছে, তার সঙ্গে কী কী জড়িয়ে যাচ্ছে- তা নিয়ে আলোচনা। 'এ টাইম ফর এন্ডিং' বাম আমলের শেষ ও 'দিদির কলকাতা'-র নানা ওলটপালট পুজোতে কী কী ছাপ ফেলে যাচ্ছে, তার একটা সংক্ষিপ্ত রূপ তুলে ধরছে আমাদের সামনে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বিসর্জনের পর শূন্য বেদির বিষাদ, পুজোর সঙ্গে বাঙালির আবেগ এইভাবেই মিশে আছে এখনও

তপন সিংহ যে গ্রামে ছোটবেলা কাটিয়েছেন, সেই গ্রামটি বিহার, বীরভূম আর মুর্শিদাবাদের সীমান্ত। সেই গ্রামে পুজোর খবর বয়ে আনতেন তাঁদের ‘গোপালদা’।

'সিটি অফ দ্য ফেস্টিভ্যাল' দ্বিতীয় অধ্যায়ের নাম। 'এক্সপ‍্যানশন ইন দ্য টাইম অ্যান্ড স্কেল'-এ লেখিকা দেখাচ্ছেন, কীভাবে শহরের বুকে বহুদিন ধরে উদযাপিত হয়ে আসা এক উৎসব ফি বছর পাল্টে যাচ্ছে, যেন আরও বৃহত্তর উৎসবের আকার তাকে দেওয়া হচ্ছে অহরহ। বর্তমানের প্রায় ৪০০০ ক্লাব এবং প্রোডাকশন ইউনিটের দুর্গাপুজো গড়ে উঠেছে কেবলমাত্র কলকাতাতেই। 'ট্রান্সফিগারেশন অফ স্পেস'-এ দেখানো হচ্ছে বিজ্ঞাপন থেকে প্যান্ডেল, বৃহৎ পুজো থেকে কানাগলি, যাবতীয় স্থানে কীভাবে উৎসব নিজের জায়গা করে নিচ্ছে। হেটেরোটপিয়াস অ্যান্ড টাইম ট্রাভেল, এর মূল প্রতিপাদ্য কীভাবে প্রাগৈতিহাসিক থেকে বর্তমান সময়কে নিজের শরীরে অবলীলায় ধারণ করে নেয় পুজো, দেশ-কাল-পাত্র কোনও কিছুই তেমন বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। 'পূজা কার্টোগ্রাফি' আলোচনা করে শহরের প্রধান প্রধান পুজোগুলি নিয়ে যে ম্যাপ প্রকাশিত হয় প্রতি বছর, তারই সম্বন্ধে। 'প্যান্ডাল হপিং অ্যান্ড মাস স্পেক্টেটরশিপ' বর্ণনা করে মূলত ভিড় কীভাবে হেঁটে প্যান্ডেল পরিক্রমা করে, তাতে কী কী সুবিধা-অসুবিধা, কীভাবে প্যান্ডেল গড়ে ওঠে নানা বৈশিষ্ট্যকে নিয়ে, যা দর্শনে এই 'মানুষের ঢল'।

'দ্য মেকিং অফ এ নিউ সিভিক ইভেন্ট' তৃতীয় অধ্যায়। মূলত পুজো কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়, কী কী ঐতিহ্য এখনও বহন করে আসছে দুর্গাপুজো, কীভাবে কিছু বনেদিবাড়ির পুজো থেকে তা সর্বজনীন হলো, সাধারণ মানুষের দুর্গাপুজোয় অংশগ্রহণের ফলে ভদ্রবিত্তর কী কী অসুবিধা হতে শুরু করল, তা নিয়ে কেমন ঝামেলা হয়ে আসছে— এইসব বিষয় নিয়েই এই অধ্যায়ের কাজ। চতুর্থ ও পঞ্চম অধ্যায়ে বিভিন্ন বিখ্যাত ব্যক্তির কাজ তথা শিল্পভাবনা কীভাবে দুর্গাপুজোকে প্রভাবিত করেছে, উৎসবে প্রতিমা ও প্যান্ডেলের উৎকর্ষর ভিত্তিতে চালু পুরস্কারের রীতিনীতি, কুমোরটুলির ইতিহাস, মৃৎশিল্পীদের নিয়ে দীর্ঘ চর্চা, প্যান্ডেলের নানান বিশেষত্ব এবং ইতিহাস নিয়ে চর্চা রয়েছে। বিশেষত 'প্যান্ডেল' শব্দটি কীভাবে মণ্ডপের জায়গা দখল করে নিল, তাও দাক্ষিণাত্য থেকে এসে— সেই ইতিহাস সত্যিই চমৎকৃত করে। কিন্তু এই অধ্যায়েই রয়েছে একটি অত্যন্ত বাজে ধরনের ভুল। হাই কোর্টের সামনে ক্ষুদিরামের মূর্তি তাপস দত্তর হাতে তৈরি, রামকিঙ্কর সে মূর্তি দেখে খুশি হয়েছিলেন— এমন কথাও শোনা যায়। সেই মূর্তির ছবি দিয়ে ঠিকানা দিয়ে শিল্পীর নাম রমেশ পাল লেখা হয়েছে। এমন বড় মাপের ভুল এই ধরনের গবেষণামূলক গ্রন্থে, যা কিনা বিদেশেও সমাদর পেয়েছে, সেখানে আশা করা যায় না। গোটা অধ্যায়ের মাহাত্ম্য এই জায়গাটিতে একেবারে ম্লান হয়ে গিয়েছে। অথচ এই অধ্যায় দু'টি বইটির সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বললেও বোধকরি ভুল বলা হবে না।

এই অধ্যায়ের শেষেই থিমপুজোর প্রসঙ্গ এসে গিয়েছে, যা পরবর্তী অধ্যায়ে গিয়ে আরও বিশদে আলোচিত। অধ্যায়ের নাম 'দ্য এজ অব দ্য থিম পূজা'। দশ বছরের অভিজ্ঞতা এবং আর্কাইভাল কাজ, সংরক্ষিত ও ব্যবহৃত ছবি এই বইটির সম্পদ। এর পরের অধ্যায় কীভাবে দুর্গাপুজোয় বিভিন্নরকম শিল্প ব্যবহৃত হয়। ধাতব বিগ্রহর পাশাপাশি মাটির হাঁড়ি দিয়ে গণেশমূর্তি, রামকিঙ্করের 'সাঁওতাল পরিবার'-এর চিন্তার আধারে বিগ্রহ, বাসন দিয়ে তৈরি বিগ্রহ, শহরের বাইরে প্রকৃতির কোলে হওয়া পুজো, তার চারুশিল্প, সনাতন দিন্দা, ভবতোষ ছুতার, সুশান্ত পাল— এই সমস্তটা নিয়ে আলোচনা করে এই অধ্যায়। শেষের আগের অধ্যায়টিতে আলোচিত হয়েছে, শহরের আশপাশে কীভাবে বিবর্তিত হয়েছে দুর্গাপুজোর ইতিহাস, এবং পুজোর শহরে হেঁটে যাওয়ার অভিজ্ঞতা। কীভাবে শহর খোদ একটি বুনন হয়ে উঠছে, যাকে পাঠ করা সম্ভব। এবং শেষ অধ্যায়। কীভাবে এই বিস্তীর্ণ কাজ, বছরের পর বছর যার কোনও সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না, শুধুমাত্র ছবি ছাড়া বাজারের তাগিদ ধুয়েমুছে সাফ করে দেয় যাবতীয় অতীত, যাবতীয় শিল্প, যাবতীয় শ্রম। মাত্র চারদিন এই‌ স্বাদের ভাগ নেওয়ার জন্য বরাদ্দ। কাজের এই সংরক্ষণ না করার মানসিকতাকে সমালোচনা করছেন লেখক। বইটি শেষ হচ্ছে এক নতুন আশার আলো দিয়ে, এই সাংস্কৃতিক প্রাচুর্য কি চিরকালীন করে তুলতে পারবে কোনও দিন বাঙালি? এই প্রশ্ন রেখে দুর্গাপুজোর আয়োজনের মতোই বিপুল এই কাজটিকে শেষ করছেন তপতী গুহঠাকুরতা।

লিখেছেন
Sindhu Som
Sindhu Som
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।