কলকাতাকে ঘিরে ধরছে মেট্রোরেল! এই বছরেই আর কোন কোন নতুন মেট্রো চালু হচ্ছে?
Kolkata Metro Service: এই বছরের কেন্দ্রীয় বাজেটে, কলকাতার মেট্রোর বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য ৩,২২০.২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

শিয়ালদহ থেকে সেক্টর ফাইভ জুড়ে গেছে। বইমেলায় সল্টলেকের মেট্রোতে থই থই ভিড়! ভাঙা রুটের ঝক্কি পেরিয়ে সহজ হয়েছে যাতায়াত। ওদিকে বেহালার মানুষও খানিক স্বস্তি পেয়েছেন। গঙ্গার নীচ দিয়ে মেট্রো চড়ার স্বপ্নও অনতিদূর। চলতি বছরেই কলকাতা শহর জুড়ে শিকড়-ডালপালা ছড়িয়ে দেবে মেট্রো। আরও অনেক এলাকার মানুষকে জুড়ে দেবে মেট্রোরেল পরিষেবা। আসছে দুর্গাপুজোর মধ্যেই কিছু রুট চালু হবে বলে জানা যাচ্ছে। ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর সম্পূর্ণ প্রসারণ এই বছরের শেষ দিকে গুটিয়ে ফেলা হবে বলেই জানা যাচ্ছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের তরফে। এখন সেক্টর ফাইভ এবং শিয়ালদহকে জুড়লেও কিছুকালের মধ্যেই হাওড়া ময়দানের সঙ্গে কলকাতা শহরের টেক হাবকে জুড়ে দেবে মেট্রো।
মেট্রোর মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলছেন, ১ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধির পরে প্রকল্পগুলির কাজ আরও দ্রুত এগোচ্ছে। এই বছরের কেন্দ্রীয় বাজেটে, কলকাতার মেট্রোর বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য ৩,২২০.২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ২০২২-২০২৩ সালে ১,২১৬.২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করার প্রস্তাব হয়েছিল। বিগত অর্থবর্ষের তুলনায় বেশ বেড়েছে এবারের বরাদ্দ। জ্বালানি পেয়ে কাজও এগোচ্ছে দ্রুত। এই বছর মোট ৩০.৭৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে মেট্রোরেলের লাইন ছড়িয়ে পড়বে। এখন শহরের ৪৭.৯৩ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত মেট্রোরেল লাইন।
নতুন গড়িয়া-বিমানবন্দর
নিউ গড়িয়া এবং রুবির মধ্যে ৫.৪-কিলোমিটারের মেট্রো পরিষেবা এই মাসের শেষের মধ্যেই চালু হওয়ার কথা। গত মাসের শেষ রেলওয়ে নিরাপত্তা কমিশনার (CRS) এই প্রকল্পের অংশটি পরিদর্শন করেন। নিরাপত্তা কমিশনারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন না পেলে যাত্রীদের জন্য রেল পরিষেবা চালু করা যায় না। আশা করা হচ্ছে, এই সপ্তাহের মধ্যেই ছাড়পত্র মিলবে। অক্টোবরের শেষ নাগাদ এই রুটটিকে সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হবে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
East West Metro Corridor : মাত্র ৪৫ সেকেন্ড। তার মধ্যেই গঙ্গা নদী পেরিয়ে যাবেন যাত্রীরা। খুব শীঘ্রই পরিষেবা শুরু হবে বলে জানিয়েছে মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ।
সেক্টর ফাইভ আর নতুন গড়িয়া যুক্ত হয়ে গেলে কলকাতাকে আর পায় কে! বিশাল এক দূরত্ব সড়ক পথে পাড়ি দিতে যে পরিমাণ সময় ও পকেট খরচা হয় তা এক ধাক্কাতে কমে যাবে। দক্ষিণ শহরতলির মানুষও নিউ গড়িয়া স্টেশনে নেমে মেট্রোতে করে সোজা সল্টলেক সেক্টর ফাইভে পৌঁছে যেতে পারবেন। এখন তাঁদের শিয়ালদহে নেমে ইস্ট ওয়েস্ট মেট্রো ধরতে হচ্ছে।

নোয়াপাড়া-বারাসাত
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Dhaka Metro: ঢাকার যানজট যাচ্ছেতাই, একেবারেই বিশৃঙ্খল অবস্থা। যানজট ও অতিরিক্ত যানবাহনের কালো ধোঁয়ায় শহরের আবহাওয়াও মারাত্মকভাবে দূষিত। এই কারণেই বাংলাদেশ মুক্তি খুঁজছে মেট্রোপথে।
নোয়াপাড়া থেকে বিমানবন্দর, আশা করা হচ্ছে অক্টোবরের মধ্যে চালু হয়ে যাবে মেট্রো। উত্তর শহরতলি মানুষদের কলকাতায় ঢুকে পড়াটা আরও দ্রুত হয়ে যাবে। কলকাতা শহরের মূল কেন্দ্রে পৌঁছতে এই এলাকার যাত্রীদের বর্তমানে চরম যানজট, অত্যধিক সময়, এবং হাজারো কাটা রুটের ঝঞ্ঝাট পোহাতে হয়। বেশ কয়েক বছর ধরেই কয়েকটি রাস্তার কারণে থমকে যাচ্ছে মেট্রো প্রকল্পটি।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বিমান অবতরণ অঞ্চলের নিকটবর্তী হওয়ার কারণে মেট্রো নিয়ে আপত্তি তুলেছিল। নিউ ব্যারাকপুর এবং বারাসাতের কাছাকাছি বেশ কয়েকটি ব্যক্তিগত বাড়ির উপস্থিতিও সমস্যা করে। সবটা মিটিয়ে পুরোপুরি পরিষেবা শুরু হতে অবশ্য এখনও ঢের সময় লাগবে। তবে বিমানবন্দর পর্যন্ত ছোট রুট অক্টোবরের মধ্যেই তৈরি হবে। বিমানবন্দর স্টেশন নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
জোকা-এসপ্ল্যানেড
কাটা রুটে জোকা থেকে তারতলা মেট্রো এই বছরের শুরু থেকেই চালু হয়েছে। অক্টোবরের শেষ নাগাদ মাঝেরহাট পর্যন্ত প্রসারিত করা হবে এই মেট্রো পরিষেবা। জোকা-তারাতলায় এখন অত্যন্ত কম মেট্রো চলার কারণে বেশিরভাগ মানুষই লাভের মুখ দেখছেন না। তবে মাঝেরহাট অবধি জুড়ে গেলে যাত্রীদের সংখ্যা বাড়বে৷ মেট্রো যাত্রীরা মাঝেরহাট থেকেও শহরতলির রেল পরিষেবাগুলি পেতে পারবেন।
ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো
২০২৩ সালের শেষ নাগাদ সেক্টর ফাইভ এবং হাওড়া ময়দানের মধ্যেকার রাস্তার কাজ সম্পূর্ণ শেষ হয়ে ১৬.৫-কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়া উচিত মেট্রোর। শিয়ালদহ এবং হাওড়া ময়দানের পরিকাঠামো, মেট্রো লাইন এবং স্টেশন দুই-ই প্রায় তৈরি। সমস্যা হচ্ছে বউবাজারে। মেট্রোর কাছে এই অংশটিই বড় চ্যালেঞ্জ। বউবাজারে ফাটল ধরার তিনটি ঘটনা ঘটেছে ২০১৯ সাল থেকে। যার ফলে বারেবারে পিছিয়ে গিয়েছে কাজ। তবে সেসব মিটিয়ে দ্রুতই কলকাতাকে চতুর্দিক দিয়ে ঘিরে ফেলতে চলেছে মেট্রো!















