উটে উঠলেই বিপদ! বিশ্বকাপে হু হু করে যে রোগ ছড়াচ্ছে কাতারে

FIFA World Cup 2022: কাতারে এখন টানটান উত্তেজনা। মাঠে-ময়দানে চূড়ান্ত লড়াই। তার মধ্যে এ কীসের অশনি সংকেত?

Aritra Som
৩ মিনিট
উটে উঠলেই বিপদ! বিশ্বকাপে হু হু করে যে রোগ ছড়াচ্ছে কাতারে

করোনা অতিমারির ভয়াবহতার পর এখন পৃথিবী নিউ নর্মাল পর্যায়ে। আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার দিকে সবাই। এরইমধ্যে মরুদেশে শুরু হয়েছে বিশ্ব ফুটবলের মহারণ। ফুটবল বিশ্বকাপ মানে কেবল ফুটবলার নয়, পৃথিবীর অনেক জায়গা থেকে বিশাল সংখ্যক মানুষ এসে ভিড় জমায় আয়োজক দেশে। কাতারেও তাই রীতিমতো উৎসবের মরসুম। ফুটবলের আনন্দ, সঙ্গে গোটা বিশ্ব একেবারে সামনে এসে হাজির। মরুবিজয়ের কেতন উড়িয়ে কোন দেশ বিশ্বকাপ জিতে ফেরে, সেটা তো ভবিষ্যতের বিষয়। তবে এখন অন্য বিপদের সামনে দাঁড়িয়ে কাতার। সেইসঙ্গে চিন্তায় লাখ লাখ ফ্যান। সৌজন্যে, ক্যামেল ফ্লু…

কাতার তো বটেই, এই মুহূর্তে ফুটবলের পাশাপাশি এই বিশেষ রোগটিও চর্চার জায়গায়। এমনিতেই করোনার পর ডেঙ্গু, হামের মতো রোগ থাবা বসিয়েছে। ভারতও জেরবার এই সমস্যায়। তারইমধ্যে ক্যামেল ফ্লু নতুন করে চিন্তা বাড়িয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার। চিন্তা বাড়িয়েছে ডাক্তারদেরও। তাই এখন থেকেই বারবার সতর্কবাণী আওড়াচ্ছেন তাঁরা।

কী এই ক্যামেল ফ্লু? কীভাবে ছড়ায়?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আপনার শরীরের প্রেমে পড়তে পারে মশারাও! 'মশক চুম্বকে'র গবেষণায় মিলল অবিশ্বাস্য তথ্য

Mosquito Magnet: মশার জিনগত পরিবর্তন ঘটিয়ে, ঘ্রাণশক্তিকে বিনষ্ট করে তার মানুষ চেনার ক্ষমতা নষ্ট করা এখনও সম্ভব হয়নি।

বলা ভালো, নামেই এর পরিচয়। ডাক্তারি পরিভাষায় এর নাম ‘মিডল ইস্ট রেসপিরেটরি সিনড্রোম’, সংক্ষেপে ‘মের্স’। ২০১২ সালে মধ্য এশিয়ার দেশ সৌদি আরবের জেড্ডায় এই রোগের প্রথম সন্ধান মেলে। মূলত উট থেকেই এই ভাইরাসঘটিত রোগটি ছড়ায়। ক্যামেল ফ্লু-এ আক্রান্ত উটের সংস্পর্শে এলে সেই ভাইরাস মানুষের শরীরেও প্রবেশ করে। ধীরে ধীরে সংক্রমণও বাড়তে থাকে। গবেষকরা বলছেন, ক্যামেল ফ্লু মূলত একপ্রকার জুনোটিক ভাইরাসের সংক্রমণ। সংক্রমিত উট কিংবা প্রাণীর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংস্পর্শে এলেই এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে।

কতটা ভয়াবহ এই অসুখ?

আপাতত এই একটা প্রশ্নে চিন্তিত গবেষকরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’র মতে, ক্যামেল ফ্লু নিয়ে এই মুহূর্তে চিন্তা করার যথেষ্ট কারণ আছে। তার আজ্ঞে একটু পরিসংখ্যানের দিকে দেখা যাক। ২০১২-এ মের্সের সন্ধান পাওয়ার পর কেত এগিয়েছে গোটা একটা দশক। ২০২১-এর জানুয়ারি অবধি ২৫০০-এরও বেশি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। ১০ বছরে মৃত্যু হয়েছে ৮৫৮ জনের। বিশ্বজুড়ে ২৭ টি দেশে নিজের থাবা বসিয়েছে এই ক্যামেল ফ্লু বা মের্স। পরিসংখ্যান আরও বলছে, কেবল এই বছরে আরবে এখনও পর্যন্ত ২৬০০ জনের দেহে এই ভাইরাসের সন্ধান মিলেছে। শতকরা হিসেবে এলে, এখনও অবধি এই রোগে মৃত্যুর হার প্রায় ৩৫ শতাংশ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
এক লাখে চারজন আক্রান্ত! রোজের ওষুধের কুপ্রভাবেই দেখা যেতে পারে ভয়াবহ এই বিরল রোগ

Myositis: সম্প্রতি অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভু তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে বাম হাতে ওষুধের নল লাগানো একটি ছবি পোস্ট করেন। ছবির নীচে ক্যাপশনে লিখে জানান, তিনি মায়োসাইটিস রোগে আক্রান্ত!

এ তো গেল পরিসংখ্যানের প্রসঙ্গ। হু বা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, করোনা ভাইরাসের মতোই আচার আচরণ ক্যামেল ফ্লু-এর। ছদ্মবেশে ধরা দেয় আমাদের শরীরে। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, এই অসুখের প্রথম ও প্রধান লক্ষণ হল জ্বর, কাশি এবং শ্বাসকষ্ট। যে কষ্ট পরে আরও বাড়তে থাকে। এছাড়াও ডায়ারিয়া, গ্যাস্ট্রিকের মতো সমস্যাও হতে পারে। আপাত দৃষ্টিতে দেখে সাধারণ অসুখ মনে হবে। অন্য রোগের সঙ্গেও গুলিয়ে যেতে পারে। ঠিক যে কাজটি করত করোনা ভাইরাসও।

এখানেই ভয় পাচ্ছেন চিকিৎসকরা। শরীর খারাপ হলে, জ্বর জ্বর ভাব কিংবা সর্দি-কাশি হলে আমরা অনেক সময় নিজেরাই ওষুধপত্র কিনে খেয়ে নিই। দেশ-কাল-সময় নির্বিশেষে মানুষের ধর্মই হয়তো এমন। তার ওপর এখন বিশ্বকাপের মরসুম। গবেষক ও চিকিৎসকদের ভয়, আনন্দ, উত্তেজনার মধ্যে হয়তো সেভাবে গুরুত্বও দেবে না সেখানকার মানুষ। ফলে কাতারেই এই রোগ মারাত্মক আকার নিতে পারে। উল্লেখ্য, হিসেব বলছে এই মুহূর্তে প্রায় ১২ লক্ষ মানুষ বিশ্বকাপ উপলক্ষে কাতারে আছেন। এই সংখ্যাটা গবেষকদের মনে ভয় ধরিয়ে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘নিউ মাইক্রোবস অ্যান্ড নিউ ইনফেকশন’ নামের একটি জার্নালে এমন আশঙ্কার কথাই প্রকাশ করেছেন গবেষকরা।

তাহলে উপায়? কী করা যাবে?

হু জানাচ্ছে, এই রোগ থেকে পরিত্রাণের অন্যতম প্রধান উপায় হল উট পরিত্যাগ করা। উট থেকে দূরে থাকাই মঙ্গলজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। কেবল তাই নয়, উটজাত কোনও বস্তু দেখার আগে বা খাওয়ার আগে ভালো করে পরিষ্কার করে নেওয়া উচিত। সতর্ক থাকাই সবচেয়ে ভালো উপায় বলে বলছেন চিকিৎসকরা। এদিকে এই মুহূর্তে এই রোগ প্রতিরোধের জন্য উপযুক্ত কোনও ভ্যাকসিনও আবিষ্কার হয়নি বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। তাই বিভিন্ন মাধ্যমের মধ্যে দিয়ে এই ভাইরাস ও রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর কাজ করছেন চিকিৎসকরা।

কিন্তু…

হ্যাঁ। শেষে এসে একটা ‘কিন্তু’ থেকে যাচ্ছে। রাজস্থান হোক বা মিশর, আরব, কাতার, মরু প্রদেশে বেড়াতে গেলে আমরা অনেকেই উটের পিঠে চড়তে পছন্দ করি। আজ উট ভ্রমণ ওই অঞ্চলের পর্যটন ব্যবসারও একটি বিশেষ অঙ্গ। বিশ্বকাপের মরসুমে যেখানে এত সংখ্যক পর্যটকদের আগমন, সেখানে এই ব্যবসা যে মহা তবিয়তে চলবে তা বলাই বাহুল্য। কাতারে তাই এই ব্যবসার চাহিদা তুঙ্গে। সমস্যাটা সেখানেই। এখনও পর্যন্ত এই পর্যটন বন্ধ হয়নি। সচেতনতা বাড়ানোর পরও চলছে উট ভ্রমণ। ব্যবসায়ীদের প্রসঙ্গকে অস্বীকার করা যায় না। এটা তাঁদের রুজি রুটি, এখান থেকেই সংসারে পয়সা আসে। তাই হঠাৎ এই মরসুমে ব্যবসা বন্ধ করে দিলে মুশকিলে পড়বেন। কিন্তু স্বাস্থ্যের দিকটাও তো খেয়াল রাখতে হবে। উট ব্যবসায়ীরা কি সেই খেয়াল রাখছেন? কাতার প্রশাসন, ফিফা বা অন্য কোথাও ক্যামেল ফ্লু প্রতিরোধ ও সচেতনতার জন্য কোনও বন্দোবস্ত এখনও চোখে পড়েছি। ভবিষ্যতে সেই ব্যবস্থা তারা করবে, সেই আশা নিশ্চয়ই দেখা যায়।

লিখেছেন
Aritra Som
Aritra Som
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।