অবশেষে যুদ্ধবিরতি! ছয় সপ্তাহ পরে কী ঘটবে গাজায়? রহস্য জিইয়ে রাখল ইজরায়েল

Gaza Ceasefire: চুক্তির ফলে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা নিজেদের বাড়িতে ফিরে যেতে পারবেন - যদিও ইজরায়েলের ইচ্ছাকৃত ধ্বংস অভিযানের পরে অধিকাংশ বাড়িই আর অবশিষ্ট নেই।

inscript
৩ মিনিট
অবশেষে যুদ্ধবিরতি! ছয় সপ্তাহ পরে কী ঘটবে গাজায়? রহস্য জিইয়ে রাখল ইজরায়েল

১৫ মাস! ৪৬০ দিনের কিছু বেশিই। এই কাছাকাছি দেড় বছরে গাজাকে ধ্বংসস্তূপ বললেও সবটা বলা হয় না। ১৫ মাস, অজস্র শিশুর লাশ, অজস্র নাগরিকের মৃত্যু, অগণিত শরণার্থীর দুর্দশা পেরিয়ে অবশেষে ইজরায়েল এবং ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাস ইজরায়েল, কাতার এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হলো। কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মহম্মদ বিন আব্দুলরহমান বিন জসিম আল থানি জানিয়েছেন, এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি রবিবার, ১৯ জানুয়ারি কার্যকর হবে। তবে তিনি এও জানিয়ে দিয়েছেন, ইজরায়েল এবং হামাসের সঙ্গে এই চুক্তির বাস্তবায়ন পদক্ষেপ নিয়ে কাজ চলছে এখনও। ইজরায়েল জানিয়েছে চূড়ান্ত কিছু কাজ। বৃহস্পতিবার ইজরায়েল সরকার চূড়ান্ত পরিকল্পনা জানাবে।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় চলছে ইজরায়েলের বীভৎসৎম আগ্রাসন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইজরায়েল এখনও অবধি ৪৬,০০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে, যাদের বড় অংশই শিশু।

চুক্তিতে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির কথা বলা হয়েছে। যাতে আপাতত গাজায় চলতে থাকা ধ্বংসযজ্ঞের অবসান ঘটবে, পাশাপাশি গাজায় বন্দি এবং ইসরায়েলের হাতে বন্দি অনেকেই মুক্তি পাবেন। চুক্তির ফলে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা নিজেদের বাড়িতে ফিরে যেতে পারবেন - যদিও ইজরায়েলের ইচ্ছাকৃত ধ্বংস অভিযানের পরে অধিকাংশ বাড়িই আর অবশিষ্ট নেই। এই যুদ্ধবিরতির মূলত তিনটি পর্ব রয়েছে।

প্রথম পর্ব

শুরুর ছয় সপ্তাহ চলবে প্রাথমিক পর্যায়টি। এই সময়ে কিছু সংখ্যক বন্দি বিনিময়, গাজা থেকে ইজরায়েলি সৈন্যদের আংশিক প্রত্যাহার এবং এই অঞ্চলে ত্রাণ পাঠানো চলবে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
একদিনের শিশু, ৩০০০ ভ্রুণকে হত্যা ইজরায়েলের! গাজায় আর শিশুদিবস আসবে?

Gaza Children Death Toll: জাতিসংঘের শিশু সংস্থার মতে, প্রায় ১.৯ মিলিয়ন মানুষ অর্থাৎ গাজার জনসংখ্যার ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই বাস্তুচ্যুত এবং তাঁদের অর্ধেকই হচ্ছে শিশু।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইজরায়েলে হামাস যে হামলা চালায়, সেই সময়ে আটক হওয়া মহিলা, শিশু এবং ৫০ বছরের বেশি বয়সি সাধারণ নাগরিক সহ ৩৩ জন ইজরায়েলি বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হবে। বিনিময়ে, ইজরায়েলও এই পর্বে বড় সংখ্যক ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি দেবে, যার মধ্যে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিরাও রয়েছেন। মুক্তি পাওয়া ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা প্রায় ১০০০, যাদের ৭ অক্টোবরের পর আটক করা হয়েছিল।

বন্দিদের বিনিময়ের পাশাপাশিই ইজরায়েল গাজার মূল কেন্দ্র থেকে ইজরায়েলের সঙ্গে গাজার সীমান্তের ভিতরে ৭০০ মিটারের বেশি দূরে নয় এমন এলাকা থেকে নিজেদের সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করবে। তবে এই নেটজারিম করিডোর থেকে সেনা প্রত্যাহার নাও হতে পারে। এই অংশটিই গাজাকে দ্বিখণ্ডিত করে এবং গাজার অন্দরে যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ করে। নেটজারিম করিডোর থেকে সেনা প্রত্যাহার বেশ কয়েকটি ধাপে করা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইজরায়েল এই যুদ্ধবিরতি চুক্ততে অবরুদ্ধ উত্তর অংশে সাধারণ নাগরিকদের নিজেদের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেবে। তবে যেহেতু সেখানে সবটাই প্রায় গুঁড়িয়ে গেছে ফলে সেখানে দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে। ফলে প্রতিদিন ৬০০-র মতো ট্রাক ত্রাণসামগ্রী নিয়ে এখানে ঢুকতে পারবে।

এছাড়াও আহত ফিলিস্তিনিদের চিকিৎসার জন্য গাজা উপত্যকা ছেড়ে যাওয়ার অনুমতি দেবে ইজরায়েল এবং প্রথম দফার বাস্তবায়ন শুরুর সাত দিন পর মিশরের সঙ্গে রাফাহ ক্রসিংও খুলে দেবে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ফিরিয়েছিলেন ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রস্তাব, আইনস্টাইনের যে সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্কের শেষ নেই আজও

Albert Einstein: কার্যত ইজরায়েলের ইতিহাসের এক আশ্চর্য সন্ধিক্ষণে এই প্রস্তাব এসে পৌঁছেছিল আইনস্টাইনের কাছে। সে সময় ইজরায়েলে ক্ষমতায় প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেন-গুরিগন।

ইজরায়েলি বাহিনীর উপস্থিতি কমবে ফিলাডেলফি করিডোরেও। এটি হচ্ছে মিশর এবং গাজার সীমান্ত এলাকা। চুক্তি কার্যকর হওয়ার ৫০তম দিনের মধ্যে সেনাবাহিনী সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করা হবে।

দ্বিতীয় পর্ব

দ্বিতীয় এবং তৃতীয় পর্যায়ে কী কী ঘটবে তা প্রথম পর্যায়ে আলোচনা করা হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের আলোচনা প্রথম পর্যায়ের প্রাথমিক ছয় সপ্তাহ যদি অতিক্রমও করে যায়, তাহলেও যুদ্ধবিরতি অব্যাহত থাকবে।

ইসরায়েল অবশ্য জোর দিয়েছিল যে, প্রথম পর্যায় সম্পূর্ণ হয়ে গেলে এবং ইজরায়েলের বন্দিরা ফিরে আসার পরে যে আক্রমণ ফের শুরু করবে না ইজরায়েল এর কোনও লিখিত প্রতিশ্রুতি দেওয়া হবে না। তবে মিশর, কাতার এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হামাসকে মৌখিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে আলোচনা চলবে এবং তিনজনই চুক্তির জন্য চাপ দেবে।

যদি দেখা যায়, সব শর্তপূরণ হয়েছে, হামাস অবশিষ্ট জীবিত বন্দিদের, যাদের বেশিরভাগই পুরুষ সৈন্য- তাদের মুক্তি দেবে। বদলে ইজরায়েলি জেলে বন্দি বাকি ফিলিস্তিনিদেরও মুক্ত করা হবে। ইজরায়েল গাজা থেকে সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহার শুরু করবে।

তবে এই শর্তগুলি নিয়ে ইজরায়েলি মন্ত্রিসভা কিন্তু এখনও ভোট দেয়নি। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতায়াহুর মন্ত্রিসভার অনেক ডানপন্থী সদস্যই এতে রাজি নন। নেতানিয়াহুর নিজেও এর আগে বহুবার বলেছেন, গাজায় হামাস নিকেশ না হওয়া অবধি আক্রমণ চলবে।

তৃতীয় পর্ব

তৃতীয় পর্বে কী কী ঘটবে তা এখনও অস্পষ্টই। দ্বিতীয় পর্যায়ের শর্ত পূরণ করা হলে, তৃতীয় দফায় বাকি বন্দিদের মৃতদেহ হস্তান্তর করা হবে। বিনিময়ে আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে তিন থেকে পাঁচ বছরের পুনর্গঠন পরিকল্পনা পরিচালনা করতে হবে। যুদ্ধবিরতিকালে কে গাজা পরিচালনা করবে তা নিয়ে বর্তমানে কোনও সমঝোতা হয়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সংস্করণের জন্য চাপও দিয়েছে। ইজরায়েল এখনও গাজায় শাসনের বিকল্প কোনও পরিকল্পনাও দেয়নি।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।