কেন গ্রেফতার টালা থানার ওসি? সুপ্রিম কোর্টে কী কী প্রমাণ দাখিল করবে সিবিআই?

RG Kar Case: ৯ অগস্ট ওই চিকিৎসকের মৃতদেহ উদ্ধারের পর ওই সেমিনার রুমে পুলিশের তরফে সর্বপ্রথম পৌঁছেছিলেন অভিজিৎ ও তাঁর সহযোগীরাই। তার পরেই সেমিনার রুমে প্রচুর মানুষের ভিড় জমতে থাকে।

inscript
৩ মিনিট
কেন গ্রেফতার টালা থানার ওসি? সুপ্রিম কোর্টে কী কী প্রমাণ দাখিল করবে সিবিআই?

আরজি কর কাণ্ড ঘিরে সময় যত পেরোচ্ছে, মানুষের ক্ষোভ ততই বাড়ছে। জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলন চলছে। পথে নামছে মানুষের মিছিলও। সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানি ১৭ তারিখ। তার আগেই মামলার তদন্তে আরও একটু সামনের দিকে এগিয়ে গেল সিবিআই। ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে টালা থানার ওসি অভিজিৎ মণ্ডলকে। যে সময় তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়, সে সময় টালা থানায় কর্তব্যরত ছিলেন তিনিই। আরজি করের অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের সঙ্গে তাঁর একাধিক যোগসূত্র ইতিমধ্যেই হাতে এসেছে সিবিআই আধিকারিকদের।

তথ্যপ্রমাণ লোপাট ও সিবিআই আধিকারিকদের বিপথে চালনা করার অভিযোগে শনিবার রাতে সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার হয় টালা থানার ওসি। ইতিমধ্যেই অভিজিতের বিরুদ্ধে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্যপ্রমাণ হাতে এসেছে সিবিআইয়ের। ইতিমধ্যেই অভিজিৎকে আট দফায় প্রায় ৪০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সিবিআই আধিকারিকরা জানতে পেরেছেন, ৯ অগস্ট আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের সেমিনার রুম থেকে তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধারের পর থেকে প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের সঙ্গে সব চেয়ে বেশি বার কথাবার্তা হয় টালা থানার ওসি অভিজিৎবাবুর। এমনকী টাওয়ার লোকেশন অনুযায়ীও, সন্দীপ ও অভিজিতের ঘন ঘন সাক্ষাতের তথ্য মেলে। ৯ থেকে ১৪ অগস্টের মধ্যে অভিজিৎ নিয়মিত আরজি করে যাতায়াত করতেন বলেও তথ্য উঠে এসেছে তদন্তকারীদের হাতে।

৯ অগস্ট ওই চিকিৎসকের মৃতদেহ উদ্ধারের পর ওই সেমিনার রুমে পুলিশের তরফে সর্বপ্রথম পৌঁছেছিলেন অভিজিৎ ও তাঁর সহযোগীরাই। তার পরেই সেমিনার রুমে প্রচুর মানুষের ভিড় জমতে থাকে। তা আটকানোর চেষ্টা করেননি ওসি। যে প্লেস অব অকারেন্সের নমুনা রক্ষার মূল দায়িত্ব ছিিল অভিজিতবাবুর, তা বিন্দুমাত্র পালন করেননি তিনি। বরং তাঁর বিরুদ্ধে ওই খুন ধর্ষণের মামলায় একাধিক প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের গাফিলতিতেই ঘটনাস্থলের যাবতীয় জরুরি তথ্যপ্রমাণ কার্যত নষ্ট হয়ে যায় বলে মনে করা হচ্ছে। আর তার নেপথ্যে যথেষ্ট পরিকল্পনা ছিল বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সঞ্জয়ের নারকো পরীক্ষায় মিলল না কোর্টের অনুমতি, কেন তীরে এসে তরী ডুবল সিবিআইয়ের?

RG Kar Case: আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর এই মামলার অগ্রগতি প্রসঙ্গে স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিতে হবে সিবিআইকে সুপ্রিম কোর্টে। ফলে শিয়রে সমন।

এমনকী সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের ক্ষেত্রেও টালা থানার ওসির ভূমিকা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনাস্থলের একটি মাত্র সিসি ক্যামেরার ফুটেজ মেলে, তারও বিভিন্ন জায়গা অস্পষ্ট ও ধোঁয়াশা মাখা। সুপ্রিম কোর্টেও সিবিআই দাবি করেছিল, ঘটনাস্থলের তথ্যপ্রমাণ লোপাটের কথা। চিকিৎসক পড়ুয়ার বাবা-মা নিহতের দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু তেমনটা যাতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন ওসি নিজেই। মৃতদেহ দাহ করার ক্ষেত্রেও অতিসক্রিয়তার অভিযোগ মিলেছে ওসির বিরুদ্ধে। নানা প্রমাণ লোপাট, অভিযুক্তকে আড়াল করার সক্রিয় চেষ্টা ছাড়াও আরজি কর মামলায় একাধিক কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ এনেছেন তদন্তকারীরা তাঁর বিরুদ্ধে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
শীর্ষ আদালতের বিচারাধীন বলেই লাইভ সম্প্রচারে বাধা? কী বলছেন আইনজ্ঞরা?

Live Telecast Of Meeting: মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের জন্য অন্যতম শর্ত ছিল সরাসরি সম্প্রচার। আর তাতেই আপত্তি জানায় নবান্ন।

৯ অগস্টের ওই ঘটনার পরে সিট দখল করে তদন্ত শুরু করে কলকাতা পুলিশ। তার পরেও লাগাতার কথাবার্তা চলছিল সন্দীপ ও অভিজিতের। শুধু তাঁদেরই নয়, কল রেকর্ডে আরও কয়েকজনের সঙ্গে কথাবার্তা চলছিল তাঁদের। সেই সূত্র ধরেই প্রভাবশালী যোগের তথ্য ইঠে আসছে সিবিআই গোয়েন্দাদের হাতে। জানা গিয়েছে, ঘটনার চার দিন পরে সন্দীপের বয়ান নথিভুক্ত করেছিলেন সিটের তদন্তকারী অফিসারেরা। কিন্তু সন্দীপের মোবাইল ফোনের 'কল ডিটেলস' পরীক্ষা করা হয়নি। সন্দীপের ক্ষেত্রে এক রকম দায়সারা তদন্ত করা হয়েছিল। কোনও কিছুই গভীরে গিয়ে খতিয়ে দেখা হয়নি।" সূত্রের খবর, সিটের চার জন তদন্তকারী অফিসারকে তলব করা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

ইতিমধ্য়েই লালবাজারের এক শীর্ষ কর্তাাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিবিআই। জেরা করা হয় সন্দীপের গাড়ির চালককেও। আর তার পরেই সিবিআই গোয়েন্দাদের দাবি, এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে বড়সড় যড়যন্ত্র। যার উপর থেকে পর্দা সরাতে খুব শিগগিরই টালা থানার ওসি অভিজিৎ মণ্ডল ও আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করতে চলেছে সিবিআই। প্রাথমিক ভাবে সন্দীপ ঘোষের জন্য আলিপুরের বিশেষ সিবিআই আদালতে বিশেষ হেফাজতের দাবি জানিয়েছিল সিবিআই। সেই অনুযায়ী, প্রেসিডেন্সি জেলে থাকার কথা ছিল সন্দীপের।

তবে অভিজিৎ গ্রেফতার হওয়ার পরেই রাতারাতি সন্দীপকে ৩ দিনের সিবিআই হেফাজতে নেওয়া হয়। হেফাজতে নেওয়া হয়েছে অভিজিৎ মণ্ডলকেও। এবার এই দু'জনের সূত্র ধরে খুব শিগগিরই তদন্তে বড়সড় প্রমাণের দিকে পৌঁছে যেতে চলেছে সিবিআই, তেমনটাই আশা করা হচ্ছে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।