রামপুরহাট কান্ডে থ্রি-ডি লেজা়র স্ক্যানিং প্রযুক্তির ব্যবহার - কী এই প্রযুক্তি?

Madhurima Pattanayak
৩ মিনিট
রামপুরহাট কান্ডে থ্রি-ডি লেজা়র স্ক্যানিং প্রযুক্তির ব্যবহার - কী এই প্রযুক্তি?

রামপুর হত্যাকান্ডে সিবিআই তদন্ত হচ্ছে। তদন্তে ব্যবহার করা হচ্ছে থ্রি-ডি লেজা়র স্ক্যানিং টেকনোলজি! কেন প্রয়োজন এই প্রযুক্তির? কতটা সুরাহা হবে এতে তদন্তের, আসুন বুঝে নেওয়া যাক।

ক্রাইম সিনে কেন লাগবে থ্রিডি মডেল?

থ্রি-ডি লেজা়র স্ক্যানিং–এর সাহায্যে তদন্তের স্বার্থে ক্রাইম সীনের মডেল বানিয়ে নেওয়া যায়। এই প্রযুক্তির সাহায্যে ক্রাইম সীনে থাকা প্রতিটি বস্তুর প্রতিটি বস্তুর অবস্থান, তারা কী অবস্থায় আছে এগুলি ডিজিটাল মাধ্যমে পুনঃনির্মান করে অপরাধের পরিস্থিতি সাজিয়ে নেওয়া যায়। এতে কেবল সিবিআই তদন্তেরই সুবিধে হবে এমন নয়, আদালতে ক্রাইম সিনের অনুকরণে একটি মডেল পেশ করতে সুবিধে হবে। প্রথাগত ভাবে তদন্তে ব্যবহৃত প্রযুক্তি বা ব্যবস্থার মাধ্যমে কিন্তু তা সম্ভব হয় না।

প্রথাগত ভাবে তদন্তে ব্যবহৃত প্রযুক্তি দিয়ে তদন্তের প্রমাণ রেকর্ড করতে সময় লাগে, ক্রাইম সীনে থাকা বস্তু ও মানুষের অবস্থান, তাদের দূরত্ব মাপজোক করতে সময় লাগে অনেক বেশি। একদিনে সব কাজ শেষ করাও যায় না, ফলে প্রমাণ লোপাটের সম্ভাবনা থাকে অনেক বেশি। অন্যদিকে থ্রি-ডি লেজা়র স্ক্যানার দিয়ে ক্রাইম সিনের একটি থ্রি-ডি মডেল দ্রুত বানিয়ে নেওয়া যায়।

থ্রি-ডি লেজার স্ক্যানার খুব কোনো বস্তুর গঠন খুব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মাপতে পারে। আর সেই জন্যেই কোনো জটিল গঠনযুক্ত বস্তুর গঠন, আকার, আকৃতিও জানা যায় এর থেকে। ক্রাইম সীনে এমন অনেক কিছুই থাকে যা সাধারণত নজরে আসে না - বা এত কিছুর ভিড়ে নজর এড়িয়ে যায়। থ্রি-ডি স্ক্যানিং পদ্ধতি সেটাও তুলে ধরে ওই ক্রাইম সীনের ওই থ্রি-ডি মডেলে।

এবং এরকম ত্রুটিহীন একটি মডেল বানাতে গেলে প্রয়োজন ওই বস্তু বা স্থানের প্রতিটি বিন্দুর অবস্থান এবং গঠনগত তথ্য। এত পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ পাওয়া লেজারের ব্যবহার ছাড়া সম্ভব নয়।

কী ভাবে কাজ করে থ্রি-ডি লেজা়র স্ক্যানার?

থ্রি-ডি লেজা়র স্ক্যানারে লেজা়র রশ্মি নির্গত হয় একটি লেজা়র প্রোব থেকে। এই প্রোবটিকে আবার চালনা করে একটি সফ্টওয়্যার। এবার লেজা়র রশ্মিটি বের হয়ে কোনো বস্তু বা স্থানের উপর গিয়ে পড়ে। যেহেতু আমরা রামপুরহাটের সূত্র ধরেই এগোচ্ছি, ধরা যাক এখানে একটি ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির ত্রিমাতৃক ছবি পাওয়ার উদ্দ্যেশ্যে, সেই বাড়ির উপরিতলে লেজা়র ফেলা হল। ঠিক এই সময়ে দুটি সেন্সার ক্যামেরা লেজা়র আলোর রেখার গঠন কী ভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, একটি রেখার থেকে আরেকটি রেখার দূরত্ব কত এই বিষয়গুলি মাপতে থাকে। তখনও কিন্তু বাড়ির উপরেতলে লেজা়র আলোর রেখাগুলি বয়ে চলেছে।

ঠিক যেমন একটি রেখা - সে সরল হোক বা বক্র - একাধিক বিন্দু দিয়ে তৈরি, ঠিক তেমনই জ্যামিতির সংজ্ঞা দিয়ে দেখলে কোনো বস্তু - যেমন এই বাড়িটিও - লক্ষ লক্ষ বিন্দু দিয়ে তৈরি। লেজা়র রশ্মি খুব দ্রুত ঘুরতে থাকে প্রতিটি বস্তুর উপর এবং সেকেন্ডে প্রায় সাড়ে সাত লাখ বিন্দুর অবস্থান রেকর্ড করে।

এই বিন্দুগুলির অবস্থান, এবং গঠন সম্পর্কিত তথ্য "পয়েন্ট ক্লাউড" হিসেবে কম্পিউটারে জমা হয়। এই সমস্ত বিন্দু সম্পর্কিত ডেটা সংগ্রহ করা হয়ে গেলেই, সেই বিন্দুগুলিকে জড়ো করে বস্তুটির থ্রি-ডি আকার দেওয়া সম্ভব হয়। সমস্ত বিন্দুকে জড়ো করলেই ঘটনাস্থলের একটি নমুনা বানানো যাবে।

কিন্তু লেজা়রই কেন?

লেজা়র স্ক্যানিং-এর সময়ে, লেজা়র প্রোব থেকে প্রতিবার ইনফ্রারেড লেজা়র বিম তৈরি হয়। ইনফ্রারেড রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম, কিন্তু শক্তি বেশি। প্রত্যেকবার যখন এই লেজা়র রশ্মি বিচ্ছুরণ করা হয় ক্রাইম সিনে, সেই রশ্মি আবার বিচ্ছুরিত হয়ে ফিরে আসে। সেই সময় সেন্সর ক্যামেরাটি মাপতে থাকে ঠিক কত সময় নিলো বিচ্ছুরিত সেই রশ্মি ক্যামেরার দিকে ফিরে আসতে। বিচ্ছুরিত রশ্মির ক্যামেরার দিকে ফিরে আসার সময়কে ধরে, সেন্সর ক্যামেরাটি হিসেব করে ফেলে থ্রি-ডি লেজা়র ক্যামেরা থেকে ক্রাইম সীনের প্রত্যেকটি বস্তুর দূরত্ব কত।

ইনফ্রারেড রশ্মি কেবল কম আলোতেই যে ছবি তুলতে পারে এমন নয়, কয়েক কিলোমিটার দূরত্ব থেকে কোনো বস্তুর নিখুঁত ছবি এক নিমেষে তুলতে পারে।

আর কোন ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়?

অপরাধের তদন্দ বা ফরেন্সিক তদন্ত তো আছেই, তার পাশাপাশি ইলেক্ট্রনিক্স, চিকিৎসাশাস্ত্র, অটোমোবাইল, এরোস্পেস, স্থাপত্য, নির্মাণকার্য, ইঞ্জিনিয়ারিং, এরোস্পেস, এন্থ্রোপলজি ছাড়াও অগুন্তি ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির ব্যবহার রয়েছে।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।