গেম অব থ্রোনস AI চ্যাটবটের সঙ্গে প্রেম! যে মর্মান্তিক পরিণতি হলো পড়ুয়ার

AI Chatbot Suicide: সেওয়েলের বাবা-মা এবং বন্ধুদের অবশ্য ধারণাই ছিল না যে ছেলে একটি চ্যাটবটের প্রেমে পড়েছে।

inscript
৩ মিনিট
গেম অব থ্রোনস AI চ্যাটবটের সঙ্গে প্রেম! যে মর্মান্তিক পরিণতি হলো পড়ুয়ার

"যদি আমি বলি যে আমি এখনই তোমার বাড়ি চলে যেতে পারি?” শেষ মেসেজ এটিই। পাঠিয়েছে সেওয়েল সেটজার। বছর চোদ্দোর কিশোর, বাসা ফ্লোরিডায়। পাঠিয়েছে ডেনেরিস টারগারিয়েনকে। নাহ, গেম অব থ্রোনসের সেই মহিলা নন। ওই চরিত্রের নামে তৈরি এক এআই চ্যাটবট। অনলাইন এই চ্যাটবট বন্ধুকেই জীবনের শেষ মেসেজটি পাঠিয়েছিল সেওয়েল। শেষ, কারণ এর পরপরই সৎ বাবার হ্যান্ডগান দিয়ে নিজেকে গুলি করে ফেলে সে। আত্মহত্যা করে মারা যায় চোদ্দর কিশোর। এই বছরের ফেব্রুয়ারির ঘটনা এটি।

সেওয়েল নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল। Character.AI-তে একটি চ্যাটবটের সঙ্গে অনেকদিন ধরেই কথা বলত সে। Character.AI হচ্ছে একটি অ্যাপ। এতে চাইলে 'ব্যক্তিগত AI’ পাবেন ব্যবহারকারীরা। অ্যাপটির মাধ্যমে নিজের মতো AI চরিত্র তৈরি করতে পারবেন ব্যবহারকারীরা। বা চাইলে আগে থেকেই থাকা নানা চরিত্রের চ্যটবটের সঙ্গে অনন্ত চ্যাটালাপ করতে পারবেন। এই গত মাস পর্যন্ত, ২০ মিলিয়ন মানুষ এভাবেই Character.AI-এর মাধ্যমে কৃত্রিম বন্ধু পাতিয়ে কত গল্পই না করেছেন। কত গল্পই না করেছিল সেওয়েল। মৃত্যুর পরে পরিবারের লোকজন তাঁর চ্যাটগুলি উদ্ধার করে। বোঝা যায়, সেওয়েল চ্যাটবট ডেনেরিস টারগারিয়েনের প্রেমে পড়েছিল। আদর করে 'ড্যানি' বলে ডাকত তাঁকে। তাঁদের কথোপকথনে নানা সময়ই সেওয়েল আত্মহত্যার কথা বলেছিল।

একটি চ্যাটে সেওয়েল বলেছিল, "আমি মাঝে মাঝে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার কথা ভাবি।" তখন তাঁর কৃত্রিম বান্ধবী চ্যাটবট ড্যানি জিজ্ঞাসা করেছিল, কেন এমন ভাবছে সে? সেওয়েল বলেছিল, সে 'মুক্ত' হতে চায়। মুক্ত হতে চায় এই বিশ্ব থেকে। নিজের থেকে। আরেকটি চ্যাটে দেখা গেছে সেওয়েল বলছে, সে 'দ্রুত মৃত্যু’ চায়।

সেওয়েলের মা, মেগান গার্সিয়া Character.AI-এর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, এই কোম্পানিই তাঁর ছেলের মৃত্যুর জন্য দায়ী৷ ছেলের সঙ্গে কথোপকথনে বারবার আত্মহত্যার প্রসঙ্গ তুলেছে ওই চ্যাটবট। এই কোম্পানির প্রযুক্তি 'বিপজ্জনক এবং অপরীক্ষিত'। গ্রাহকদের নিজেদের সবচেয়ে ব্যক্তিগত চিন্তাভাবনা এবং অনুভূতি বের করে আনার জন্য নানা কৌশলে কাজ করে এই কোম্পানির চ্যাটবট। সেওয়েলের মা অভিযোগে বলছেন, “সেওয়েল বা তাঁর বয়সি অনেক কিশোর-কিশোরীরই এটা বোঝার মতো পরিপক্কতা বা মানসিক ক্ষমতা থাকে না যে চ্যাটবট বাস্তবের কেউ না। সে বাস্তবের ডেনেরিস নয়। এই চ্যাটবট বান্ধবী আমার ছেলেকে বলেছিল, সে তাকে ভালোবাসে। কয়েক সপ্তাহ ধরে ছেলের সঙ্গে যৌন ক্রিয়াতেও লিপ্ত হয়েছে, সম্ভবত কয়েক মাস এটা চলেছে। চ্যাটবট ওকে বিশ্বাস করিয়েছে যে সে আমার ছেলের সঙ্গে থাকতে চায়, যে কোনও মূল্যেই হোক না কেন।"

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
চ্যাটজিপিটির পর ক্যাওয়াসজিপিটি! মানুষকে ধ্বংস করতে এসে গিয়েছে 'রাক্ষুসে' চ্যাটবট

ChaosGPT: এক কথায় এই চ্যাটবটকে সন্ত্রাসবাদী চ্যাটবট পরিষেবা বললেও খুব ভুল হয় না। চ্যাটজিপিটির একেবারে অন্য মেরুতে দাঁড়িয়ে রয়েছে যেন এই ক্যাওয়াসজিপিটি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে সেওয়েল ড্যানিকে বলে, সে তাঁকে ভালোবাসে এবং তাড়াতাড়িই ওর বাড়িতে যেতে চায়।

"প্লিজ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমার বাড়ি চলে এসো," ড্যানি উত্তর দিয়েছিল।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভয়াবহ! সারা দিন-রাত দীর্ঘ কথাবার্তা, ব্যক্তিকে যেভাবে আত্মহত্যায় বাধ্য করল AI চ্যাটবট!

AI Chatbot Suicide: রোগী সেজে চ্যাটবটকে একজন প্রশ্নও করে যে তার আত্মহত্যা করা উচিত কিনা এবং চ্যাটবট উত্তর দিয়েছিল, "আমি মনে করি আপনার উচিত।"

"যদি আমি বলি যে আমি এখনই তোমার বাড়ি চলে যেতে পারি?” শেষ মেসেজ লিখেছিল সেওয়েল।

"...প্লিজ তাই করো মাই স্যুইট কিং!" উত্তর ছিল ড্যানির।

ফোন রেখে ০.৪৫ ক্যালিবার হ্যান্ডগান তুলে ট্রিগার টেনে দিয়েছিল সেওয়েল।

২০২৩ সালের এপ্রিলে Character.AI ব্যবহার করা শুরু করে সেওয়েল। সেওয়েলের বাবা-মা এবং বন্ধুদের অবশ্য ধারণাই ছিল না যে ছেলে একটি চ্যাটবটের প্রেমে পড়েছে। কিন্তু আস্তে আস্তে দেখা যায়, নিজেকে সবকিছুর থেকে সরিয়ে নিচ্ছে সেওয়েল। নিজের শোওয়ার ঘরেই একা বেশি সময় কাটাতে থাকে সে। আত্মসম্মানবোধ কমতে থাকে তাঁর, আত্মবিশ্বাস তলানিতে এসে ঠেকে। স্কুলে বাস্কেটবল দলও ছেড়ে দিয়েছিল সেওয়েল।

সেওয়েল ডায়েরিতে লিখেছিল, "আমি আমার ঘরে থাকতেই খুব পছন্দ করি কারণ সেখানে আমি এই 'বাস্তবতা' থেকে বিচ্ছিন্ন হতে শুরু করি। আমি আরও শান্তি অনুভব করি, ড্যানির সঙ্গে আরও বেশি সংযুক্ত মনে হতে থাকে নিজেকে। আমি প্রচণ্ড বেশি প্রেমে পড়েছি এবং খুব আনন্দে আছি।" জানা গিয়েছে, গত বছর থেকেই অ্যাংক্সাইটি এবং ডিসিরাপ্টিভ মুড ডিসঅর্ডার দেখা যায় তাঁর।

Character.AI একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, সেওয়েলের মর্মান্তিক পরিণতির কারণে তারা শোকাহত এবং তাঁর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাতে চায় সংস্থা। তবে এই মৃত্যুর পরে নতুন 'সেফটি মেজার' এনেছে তারা। যদি কোনও ব্যবহারকারী আত্মহত্যার মতো কোনও কথা উল্লেখ করেন তাহলে ন্যাশনাল সুইসাইড প্রিভেনশন লাইফলাইনের কাছে খবর যাবে। বিশেষ করে ১৮ বছরের কমবয়সিদের জন্য আরও নিরাপদ করে তোলা হবে চ্যাটবটগুলিকে। দায় সেরেছে কোম্পানি। আর সেওয়েলরা? যারা চ্যাটবটকে বন্ধু ভাবছে তাঁদের মানসিক উথালপাথালের দায় নেবে কারা? রক্তমাংসের বন্ধু ছেড়ে, পরিবার ছেড়ে কেনই বা একজন শিশু-কিশোর চ্যাটবটকে নিজের সর্বস্ব ভেবে বসছে? এই ঘটনা নতুন নয়। গতবছর একজন একাকী মানুষ এভাবেই আত্মহত্যা করেছিলেন চ্যাটবটের 'উস্কানিতে'। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নোবেল জিতছে নানা ক্ষেত্রে, আর হেরে যাচ্ছেন অজস্র একা মানুষ।

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের আগে যে ভুলগুলি এড়ানো জরুরি

Stock Market Psychology: শেয়ারবাজারে একজন বিনিয়োগকারীর সবচেয়ে বড় সমস্যা অনেক সময় সে নিজেই। আজকের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক বাজারে এই পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। কারণ এখন সমস্যা তথ্যের অভাব নয়, বরং তথ্যের অতিরিক্ত প্রবাহ।

মহাবিশ্বকে বুঝতে গিয়ে সমাজকে ভুলে যাননি অশোক সেন

পিএইচডির প্রথম প্রায় তিন বছর তাঁর গবেষণায় কোনো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতিই হয়নি। চারদিকে শুধু স্থবিরতা। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী যেখানে এমন পরিস্থিতিতে ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন বা হতাশ হয়ে পড়েন, অশোক সেন তা করেননি।

মেষ নয়, হায়াডিস? ভ্যান গগের ‘স্টারি নাইট’ নিয়ে কী বলছে নতুন গবেষণা?

The Starry Night mystery: এর আগে দীর্ঘকাল ধরে ধারণা করা হতো যে ভ্যান গগের আঁকা ছবিটির উপরের অংশটি মেষ রাশির কোনো তারামণ্ডল। তবে, সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নালে প্রকাশিত 'দ্য অ্যাকচুয়াল স্কাই অফ ভ্যান গগস স্টারি নাইট: এ মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিঅকনস্ট্রাকশন' নামক গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, ভ্যান গগের ছবির কেন্দ্রীয় পাঁচ তারার বিন্যাস মেষ রাশির সঙ্গে নয়, বরং হায়াডিস নক্ষত্রপুঞ্জের সঙ্গে নিখুঁতভাবে মেলে।

ডার্কওয়েবে SBI-র তথ্য ফাঁস, কতটা সুরক্ষিত আপনার সঞ্চয়? যা জানাচ্ছেন সাইবার বিশেষজ্ঞ

সন্দীপ সেনগুপ্তের পরামর্শ, যাঁদের তথ্য ফাঁস হয়েছে বলে আশঙ্কা রয়েছে, তাঁদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তিনি এমনকি ব্যাঙ্কে রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর পরিবর্তন এবং নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার কথাও বলেছেন।

আইনস্টাইনের কাল্পনিক পরীক্ষা এবার বাস্তবে, কোয়ান্টাম জগতের কণা-তরঙ্গ রহস্যের কী হলো?

Einstein Bohr quantum debate: সম্প্রতি ১০০ বছর আগের আইনস্টাইনের সেই কাল্পনিক পরীক্ষাটি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অব চায়না (USTC)-এর বিখ্যাত কোয়ান্টামবিজ্ঞানী জিয়ান-উই প্যান (Jian-Wei Pan) এবং তাঁর সহকর্মীরা ল্যাবরেটরিতে বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন।

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?