মহাকাশ দখলের লড়াইয়ে বিপদ পৃথিবীরই? পরিবেশের যে ক্ষতি ডেকে আনছে রাশি রাশি উৎক্ষেপণ

Environmental Emergency: মহাকাশে পরীক্ষানিরিক্ষার জন্য যত মহাকাশযান, রকেট বা স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ বাড়বে, ততই বিপদ বাড়বে পৃথিবীর পরিবেশের, এমনটাই জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।

Sohini Das
৩ মিনিট
মহাকাশ দখলের লড়াইয়ে বিপদ পৃথিবীরই? পরিবেশের যে ক্ষতি ডেকে আনছে রাশি রাশি উৎক্ষেপণ

যেদিন থেকে মানুষ বুঝতে শিখেছে, শুধু রাজনীতি বা কূটনীতি দিয়েই একটা দেশের উন্নতি সম্ভব নয়, বিজ্ঞানসাধনাই কার্যত একটি দেশকে বিশ্বমঞ্চে এগিয়ে রাখতে সাহায্য করে। আর তার পর থেকেই বিজ্ঞানকে হাতিয়ার করে মানুষ নেমেছে মহাকাশ দখলের লড়াইয়ে। আর বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে সেই লড়াই বেড়েছে পাল্লা দিয়ে। কার্যত সেই লড়াইয়ে এগোতে এগোতে এতদূর এগিয়েছে মানুষ, যে আর কয়েক বছরের মাথায় মহাকাশে রীতিমতো বসতি বানানোর কথাও ভেবে ফেলতে পারে তারা। গত কয়েক বছরে বিজ্ঞানে যত উন্নতি করেছে সে, ততই মহাকাশ নিয়ে পরীক্ষানিরিক্ষা বেড়েছে তাঁর। মহাকাশকে জানার, বোঝার, হাতের তালুর মতো চেনার প্রচেষ্টায় প্রায় ফি দিনই কোনও না কোনও দেশ পাঠাচ্ছে মহাকাশযান। কোনওটি আন্তর্জাতিক স্পেস সেন্টারের উদ্দেশ্যে, তো কোনওটা চাঁদ, মঙ্গল বা অন্য কোনও গ্রহের উদ্দেশ্যে। এমনকী বাদ যাচ্ছে না সূর্যও।

কিন্তু এই যে লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি মহাকাশযান, উপগ্রহ পৃথিবী থেকে পাড়ি দিচ্ছে মহাকাশের উদ্দেশ্যে, কোনওটা পৌঁছেছে, কোনওটা বা মাঝপথেই মুখ থুবড়ে পড়ছে, সেই সব ধ্বংসাবশেষ যাচ্ছেটা কোথায়? সেগুলি লক্ষ কোটি বছর ধরে মহাকাশেই ঘুরে ঘুরে মরছে এমনটা ভাবলে কিন্তু ভুল হবে। বরং তারা দিক পরিবর্তন করে ফিরে আসছে সেই পৃথিবীর দিকেই।

পরিসংখ্য়ান বলছে, গত ১৫ বছরে আমাদের গ্রহকে প্রদক্ষিণকারী উপগ্রহের সংখ্যা দশ গুণ বেড়েছে। যার ফলে বেড়ে গিয়েছে মহাকাশে ধ্বংসাবশেষের পরিমাণও। গত এক দশকে সেই সব উপগ্রহ ও উৎক্ষেপিত মহাকাশযান জাত আবর্জনাও পৃথিবীকে ফিরে এসেছে দ্বিগুণ পরিমাণ। যা আসলে পৃথিবীর পরিবেশের জন্য বেশ বিপজ্জনক বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মহাকাশে যদি স্পেসস্যুট না পরেন, কী ঘটবে আপনার দেহের সঙ্গে? চমকে উঠবেন এই উত্তরে

Death in Space : বায়ুর চাপ না থাকায় তরলগুলি অনেক কম তাপমাত্রায় বাষ্পীভূত হয়।

আর এ কেবল সূচনা মাত্র। আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন দাবি করেছে, স্যাটেলাইট স্পেকট্রামের জন্য অ্যাপ্লিকেশন ইতিমধ্যেই দশ লক্ষ পেরিয়ে গিয়েছে। যদিও এই সমস্ত উৎক্ষেপণ সফল না-ও হতে পারে। তা সত্ত্বেও আমাদের গ্রহকে ঘিরে থাকা মহাকাশযানের সংখ্যা ১ লক্ষ ছুঁয়ে ফেলতে পারে। স্পেস.কম মনে করছে, এই সমস্ত উৎক্ষেপণগুলির বেশিরভাগের নেপথ্যেই রয়েছে স্পেসএক্স ও স্টারলিঙ্কের মতো মহাকাশ পরিবহন সংস্থাগুলি।

মনে রাখতে হবে, বেশিরভাগ আধুনিক রকেট জীবাশ্ম-জ্বালানি ব্যবহার করে। যা বাই-প্রোডাক্ট হিসেবে ভুসো-কালির মতো অশুদ্ধ কার্বনের এক ধরনের কণা নির্গত করে। যা সাধারণত তাপ বেশি পরিমাণে শোষণ করে এবং শেষমেশ তা পৃথিবীর উপরের বায়ুমণ্ডলের তাপবৃদ্ধিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। একই সঙ্গে অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইডের সঙ্গে মিশে পৃথিবীর আবহাওয়ার তাপীয় ভারসাম্যকে নষ্ট করে দেয় তা। অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড এবং ভুষোকালির মতো ওই কার্বনকণা (soot), দুই-ই কিন্তু বাতাসের ওজন স্তরের ক্ষতি করার জন্য বিখ্যাত। বিশেষত প্রাকৃতিক ভাবে তৈরি যে ওজন গ্যাস অতিবেগুনী রশ্মির হাত থেকে আমাদের বাঁচতে সাহায্য করে, সেটিকেই নষ্ট করে দেয় এই দুই পদার্থ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মহাকাশে কীসের হৃদস্পন্দন? কোন রহস্যের সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা?

১৩ জুলাই নেচার জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় গবেষকরা জানালেন, একেবারে হৃদস্পন্দনের মতো রেডিও তরঙ্গ ধরা দিয়েছে কানাডার সুবিশাল টেলিস্কোপে। এমনটি এর আগে কখনও ধরা পড়েনি আবিশ্ব কোনও টেলিস্কোপেই।

সম্প্রতি এই সংক্রান্ত একটি গবেষণা প্রকাশ পেয়েছে জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটারে। সেখানে একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে মেসোস্ফিয়ার ও স্ট্র্রাটোস্ফিয়ারে অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইডের ঘনত্ব, ট্রপোস্ফিয়ারের সবচেয়ে নীচের স্তরে ৬৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। যার ফলে ওজোন স্তর হ্রাস পেতে পারে আগামী কয়েক দশকে। আমেরিকার ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ার অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (NOAA)-র গত বছর প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছিল, ক্ষতিকর ওই কার্বন-কণা উৎপন্ন করা রকেটের বাড়বাড়ন্ত ওজন স্তরে ক্ষতি বাড়াবেই আগামী দিনে।

এখানেই শেষ নয়। ভয়ের বিষয় আরও রয়েছে। এই স্যাটেলাইট থেকে তৈরি হওয়া ধাতব ছাই, যা স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে তৈরি হচ্ছে, তা পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রে ঢুকে পড়ে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাকে দুর্বল করে দিতে পারে। যার ফলে মহাজাগতিক বিকিরণ আরও বেশি পরিমাণে পৃথিবীপৃষ্ঠে পৌঁছবে, এবং পৃথিবীর পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্টের কারণ হবে।

এমনিতেই জলবায়ুর পরিবর্তন দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞানীদের উদ্বেগের বিষয়। যত দিন যাচ্ছে, পৃথিবীর উষ্ণতা বেড়ে চলেছে। বিশ্ব উষ্ণায়ন আটকাতে নিরন্তর গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন পরিবেশবিদেরা। কিন্তু তা সত্ত্বেও গত কয়েক দশকে মাত্রা ছাড়িয়ে বেড়েছে পৃথিবীর উষ্ণতা। নির্মম ভাবে বৃক্ষচ্ছেদন, জলাভূমি বুজিয়ে সভ্যতা গড়ে তোলার ফল হাড়ে হাড়ে বুঝছে মানুষ। পৃথিবীর সম্পদ যে হারে খরচ করে ফেলেছে মানুষ, তাতে অচিরেই যে সেই ভাঁড়ারেও টান পড়তে পারে, এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তার বিকল্প হিসেবে মানুষ খুঁজছে অন্য কোনও গ্রহ, যা মানুষের বসবাসযোগ্য হতে পারে। কিন্তু সেই খোঁজাখুঁজিতেও তো বিস্তর ফাঁড়া। মহাকাশে পরীক্ষানিরিক্ষার জন্য যত মহাকাশযান, রকেট বা স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ বাড়বে, ততই বিপদ বাড়বে পৃথিবীর পরিবেশের। এবং এ নিয়ে এখনই সতর্ক না হলে, আগামী ৫ বছরে যে বড়সড় বিপদের মুখে পড়তে চলেছে পৃথিবীবাসী, তা নিয়েও সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?

৩ অগাস্ট থেকে বদলে যাচ্ছে শেয়ার বাজারের নিয়ম!

Stock Market India: নতুন ব্যবস্থার অধীনে শেয়ার বাজার বন্ধের সময়কে তিনটি আলাদা অংশে ভাগ করা হয়েছে। তবে নন-এফএন্ডও (Non-F&O) স্টকগুলির ক্ষেত্রে আগের মতোই বিকেল ৩:৩০টা পর্যন্ত স্বাভাবিক লেনদেন চালু থাকবে, এতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। কিন্তু এফএন্ডও স্টকগুলির ক্যাশ মার্কেটে প্রতিদিন একটানা লেনদেন চলবে বিকেল ৩:১৫ মিনিট পর্যন্ত।

আইআইটি-র দুই প্রাক্তনীর বৈদ্যুতিক কৃষিযন্ত্রে একরপ্রতি খরচ মাত্র ৪০ টাকা

Electric Power Tiller: বাজারে যেসব ট্র্যাক্টর পাওয়া যায়, তা হয় বিশাল বড় জমির উপযোগী, না হয় কেনা ও চালানো দুটোই খুব ব্যয়বহুল। ভারতে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ কৃষকের জমিই ছোট ও খণ্ড-বিখণ্ড, যেখানে বড় যন্ত্র ঢোকানোই সম্ভব নয়। আবার চিন থেকে আমদানি করা ছোট ছোট সস্তা মেশিনগুলিতে যন্ত্রাংশ ও সার্ভিসিংয়ের চূড়ান্ত সমস্যা তৈরি হয়। তাই বিদেশ থেকে আমদানির কথা না ভেবে, আইআইটি বোম্বের দুই প্রাক্তনী ঐশ্বর্য রামকৃষ্ণন ও কেদার গোখলে সিদ্ধান্ত নেন খাঁটি দেশীয় প্রযুক্তিতে ভারতের মাটির উপযোগী সমাধান তৈরি করার।

মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও উষ্ণ থাকে সোনাম ওয়াংচুকের বাড়ি

Sonam Wangchuk House: সোনম ওয়াংচুক মানেই পাহাড়ঘেরা লাদাখের ছবি, বরফে ঢাকা জীবন আর নতুন এক ভাবনার আলো। পেশায় তিনি একজন প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ এবং উদ্ভাবক। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে তিনি যেন রূপকথার সেই মানুষটি, যিনি পাহাড়ের রুক্ষ জীবনের কঠিন সমস্যাগুলিকে বিজ্ঞানের সহজ ছোঁয়ায় অত্যন্ত সহজ করে তুলেছেন।

মহাকাশে মিলল চিনির সন্ধান, কেন গুরুত্বপূর্ণ এই আবিষ্কার?

natural sugar in space: ছায়াপথের কেন্দ্রের একটি আণবিক মেঘে প্রথমবারের মতো প্রকৃত মনোস্যাকারাইড ‘এরিথ্রুলোজ’-এর সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এই আবিষ্কার জানাচ্ছে, নক্ষত্র ও গ্রহ তৈরির আগেই মহাকাশে জটিল জৈব অণু তৈরি হতে পারে। ফলে পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তি এবং মহাবিশ্বে জীবনের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে গবেষণার আগ্রহ বেড়েছে।

কর্মদক্ষতা মাপল এআই, চাকরি হারালেন কর্মীরা? মেটার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মামলা

Meta mass layoffs: কর্মীদের ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নেবে? মেটার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় অভিযোগ, এআই-নির্ভর মূল্যায়নের কারণে মাতৃত্বকালীন ও চিকিৎসাজনিত ছুটিতে থাকা কর্মীরা অন্যায্যভাবে চাকরি হারিয়েছেন।