তরুণী সাংবাদিককে হেনস্থা! অভিযুক্ত সিপিএম নেতা তন্ময় ভট্টাচার্য যা বলছেন...

Tanmoy Bhattacharya CPIM: প্রাক্তন বাম বিধায়ক বলছেন, সাংবাদিক অভিযোগ করেছেন, এর আগেও তন্ময় তাঁর সঙ্গে এমন ব্যবহার করেছেন। তাহলে এতদিন তিনি তাঁর ঊর্ধ্বতনকে বলেননি কেন?

inscript
৩ মিনিট
তরুণী সাংবাদিককে হেনস্থা! অভিযুক্ত সিপিএম নেতা তন্ময় ভট্টাচার্য যা বলছেন...

সিপিএমের বর্ষীয়ান নেতা। প্রতিবাদের মুখ। দল আরজি কর কাণ্ডে সামনের সারিতে নেমে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে। সেই সিপিএম নেতা তন্ময় ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধেই হেনস্থার অভিযোগ আনলেন এক তরুণী সাংবাদিক। আরজি কর কাণ্ড পরবর্তী বাংলায় স্বাভাবিকভাবেই একাধিক ঘটনা এমন উঠে এসেছে যেখানে বহু তাবড় তাবড় নাম জড়িয়ে গিয়েছে যৌন হেনস্থার ঘটনায়, পাইয়ে দেওয়া নামে যৌন নিগ্রহে অথবা নেহাতই স্বভাবসুলভ অশ্লীলতায়। তবে রবিবার দুপুরে ফেসবুক লাইভে যে বোমা ফাটিয়েছেন ওই সাংবাদিক তা আবারও প্রমাণ করে দেয়, বিচার অপরাধের হয় ঠিকই, ভেতরে গেঁড়ে থাকা অভব্যতা বা পুরুষতান্ত্রিকতার কোনও বিচার নেই আসলে। ওই সাংবাদিক কী অভিযোগ করেছেন?

তরুণী বলছেন, ওই দিন সকালেই তিনি তন্ময় ভট্টাচার্যের সাক্ষাৎকার নিতে গিয়েছিলেন। এর আগেও বহুবার তিনি এই সিপিএম নেতার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। অভিযোগ, তাঁর ক্যামেরাপার্সনের সামনেই সিপিএম নেতা তন্ময় ভট্টাচার্য ওই সাংবাদিকের কোলে বসে পড়েন। অভিযোগ, এর আগেও একাধিকবার গায়ে হাত দিয়ে কথা, ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেছেন এই নেতা। তবে রবিবারের ঘটনা কোথাও মারাত্মক অস্বস্তিতে ফেলেছে ওই সাংবাদিককে। ফেসবুক লাইভে ওই সাংবাদিক বলেছেন, এদিন সাক্ষাৎকার নেওয়ার জন্য তাঁর ক্যামেরাপার্সন ফ্রেম ঠিক করছিলেন। তখন, তাঁর সামনেই নানারকম কথা বলতে বলতে তরুণীর কোলেই বসে পড়েন এই নেতা। সাংবাদিক তাঁকে বলেন বিষয়টা মোটেও ভালো হচ্ছে না। তন্ময় সেসবে পাত্তা দেন না। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই আনন্দবাজারকে তন্ময় ফোনে বলেন, ‘‘আমি স্বভাবগত ভাবেই সকলের সঙ্গে ইয়ার্কি করি। এর আগে ওই মেয়েটি অন্তত দশবার আমার সাক্ষাৎকার নিয়েছে। ওর সঙ্গে আমি এর আগেও ইয়ার্কি করেছি। কিন্তু আজকে হঠাৎ করে কী হল আমি জানি না।’’

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বুদ্ধদা আদর্শ কমিউনিস্ট ছিলেন

Buddhadeb Bhattacharya: ব্যক্তিগত ভাবে রাজনীতির পাশাপাশি কবিতাচর্চা, সাহিত্যচর্চা, নাট্যচর্চা, ভালো গান, ভালো চলচ্চিত্র, এমনকী দুনিয়াজোড়া সাহিত্যের খবর রাখতেন। আবার রাজনীতির ক্ষেত্রেও নানান প্রশ্নের উত্তর সন্ধান করতেন, প্রশ্নের সম্মুখীন হতে ভালোবাসতেন

তন্ময় যাকে 'ইয়ার্কি' ভাবছেন তা আসলে কারও অসম্মতিতে, তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলা। তন্ময় 'ইয়ার্কি' বলছেন মানে তিনি ঘটনাটি মিথ্যা তা বলছেন না কিন্তু। যদিও ঘটনা পরম্পরা যত এগোয়, বদলে যায় তাঁর বয়ান। রবিবার সন্ধেতেই, ওই মহিলা সাংবাদিককে হেনস্থার অভিযোগ ওঠায় তন্ময় ভট্টাচার্যকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেয় সিপিএম। দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম জানান, তন্ময় ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের অভ্যন্তরীণ তদন্ত হবে দলে। যত দিন তদন্ত চলবে, তত দিন সাসপেন্ড থাকবেন তন্ময়। তদন্ত কমিটি যে প্রস্তাব দেবে, সেই মতোই পদক্ষেপ করা হবে। সাংবাদিক বৈঠকে সেলিম আরও বলেছেন, ‘‘এক মহিলা সাংবাদিক তন্ময়ের আচরণে ক্ষুব্ধ হয়েছেন। কোন ছোঁয়া সাধারণ আর কোনটা খারাপ ভাবে ছোঁয়া, তা মেয়েরা খুব ভাল করে বুঝতে পারেন। এই ধরনের কোনও অভিযোগ এলে সিপিএম দল হিসাবে গুরুত্ব দিয়ে দেখে। তন্ময় গর্হিত কাজ করেছে। তা সিপিএম দল হিসাবে কোনও ভাবেই সমর্থন করে না। কেউ এটাকে ভাল চোখে দেখবেন না। আমরা এগুলোকে ক্ষমার চোখে দেখি না।’’

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মুখে খেটে খাওয়া মানুষের কথা, তবু কেন শূন্য বামেরা?

West Bengal CPIM: ২০০৬ পরবর্তী সিপিআইএম মোটামুটি মধ্যবিত্ত, বড়লোকের দল হয়ে গিয়েছে ধরেই নেওয়া যায়।

আর দলের এই সিদ্ধান্তকে দুর্ভাগ্যজনক বলে মনে করছেন প্রাক্তন বিধায়ক তন্ময় ভট্টাচার্য। এক সংবাদমাধ্যমকে তন্ময় বলেছেন, “একটি মেয়ে অভিযোগ করা মানেই যে সাসপেন্ড করতে হবে, দল যদি এটা মনে করে, তাহলে ঠিক কাজ করেছে। কাল অন্য কারও বিরুদ্ধে যদি কোনও মেয়ে অভিযোগ করে, তাঁকেও সাসপেন্ড করবে। এই রুটিনে যদি দল চলে যায়, তাহলে আমার কিছু বলার নেই। আমি আশা করেছিলাম, দল আমার কথা শুনবে। রাজ্য সম্পাদক হোয়াটসঅ্যাপে কিছু জানতে চেয়েছিলেন। আমি জানিয়েছিলাম। তারপরও এই সিদ্ধান্ত দুর্ভাগ্যজনক। আমাদের পরিবার বামপন্থী হিসেবেই পরিচিত। আমি মাথা উঁচু করে বামপন্থার সঙ্গে ছিলাম। মাথা উঁচু করেই থাকব। যদি কেউ মনে করেন, আমাকে হেনস্থা করে আমার রাজনৈতিক আদর্শ থেকে বিচ্যুত করতে পারবেন, তাহলে তিনি মূর্খের স্বর্গে বাস করছেন।”

যেমন অধিকাংশ মানুষই এমন অভিযোগ ওঠার পর বলে থাকেন, তন্ময়ও একই সুরে কথা বলেছেন। তাঁর গলায় অভিযোগকারিণীকেই কাঠগড়ায় তোলার আভাস স্পষ্ট। প্রাক্তন বাম বিধায়ক বলছেন, সাংবাদিক অভিযোগ করেছেন, এর আগেও তন্ময় তাঁর সঙ্গে এমন ব্যবহার করেছেন। তাহলে এতদিন তিনি তাঁর ঊর্ধ্বতনকে বলেননি কেন? কেন ওই সাংবাদিক রবিবার সমস্ত কাজ করে বাড়ি গিয়ে তারপর ভিডিও করলেন? তন্ময় প্রশ্ন করছেন, "মানসিক বিপর্যস্ত, বিধ্বস্ত অবস্থায় এত কাজ করা যায়? আমার বাড়ি থেকে বরাহনগর থানা ৫ মিনিট দূরে। সেই থানায় গেল না কেন? তার ক্যামেরাপার্সন তখন কিছু বলল না কেন? আমি কিছু মেলাতে পারছি না।” যদিও বরাহনগর থানায় তন্ময় ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই সাংবাদিক। তন্ময়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ যদি সত্য প্রমাণিত হয়, আর তাঁর এই 'ইয়ার্কি' যদি আগেও নানাজনের সঙ্গে ঘটে থাকে তাহলে একটি বিষয়ই স্পষ্ট হয়। মানসিকতার দিক থেকে কোনও দল, মত নির্বিশেষে যে সংবেদনশীলতা প্রয়োজন তা আইন করে সম্ভব নয়। আইন বিচার করে শাস্তি দিলেই যে এই ধরনের হেনস্থায় কোনটা অযাচিত স্পর্শ, কোনটা হেনস্থা আর কোনটা 'ইয়ার্কি' তা আইনে বলা সম্ভব না। তবে যে দলের থেকে আদর্শ প্রত্যাশিত, সেই দলের নেতার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আরেকটু পিছনে টেনে নিয়ে যায় মেয়েদের প্রকৃত মুক্তির আন্দোলনকে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।