ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা, হেমন্ত ফিরতেই সরে দাঁড়ালেন চম্পাই

Hemant Soren: তবে হেমন্ত ফিরতেই সেই গদি ছেড়ে সরে দাঁড়াতে হল চম্পাইকে। বুধবার ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন চম্পাই সোরেন।

Sohini Das
৩ মিনিট
ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা, হেমন্ত ফিরতেই সরে দাঁড়ালেন চম্পাই

ইডি-র হাতে গ্রেফতারির আভাস পেয়েই তড়িঘড়ি মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছেড়েছিলেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী। কোনও ভাবে যাতে ফাঁক গলে রাজ্যের ক্ষমতা বিজেপির হাতে না চলে যায়, তা নিশ্চিত করতে ছুটে গিয়েছিলেন রাজ্যপালের কাছে। রীতিমতো চিন্তাভাবনা করে উত্তরসূরীর নাম ঘোষণা করে গিয়েছিলেন হেমন্ত সোরেন। তার পর হেমন্তের গ্রেফতারি এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর পদে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার অন্যতম বরিষ্ঠ সদস্য চম্পাই সোরেনের মুখ্যমন্ত্রীর পদে আরোহন। কম লড়াই পোহাতে হয়নি তাঁর জন্য চম্পাইকে।

অবশেষে জমি দুর্নীতি মামলায় হাইকোর্টে জামিন পেয়েছেন হেমন্ত সোরেন। আশঙ্কা ছিল, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী কেজরির সঙ্গে যা হয়েছে, তা হতে পারে হেমন্তের সঙ্গেও। সুযোগ পেয়েই হেমন্তের জামিনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করতে পারে ইডি। শীর্ষ আদালতের সিদ্ধান্ত যদি হেমন্তের বিরুদ্ধে যায়, সেক্ষেত্রে বাইরে বেরোনো মুশকিল হয়ে যাবে হেমন্তের পক্ষে। ফের জেলের অন্ধকারেই ফিরে যেতে হতে পারে ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে। তবে সেই মেঘ ক্রমে সরছে বলেই আঁচ করা যাচ্ছে। কারণ ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে আচমকাই পদত্যাগ করলেন চম্পাই। মাত্র পাঁচ মাসের মাথাতেই। কারণ ফিরছেন হেমন্ত। ফের মুখ্যমন্ত্রীর পদ তাই তার জন্য় ফাঁকা করে দিলেন ঝাড়খণ্ডের 'টাইগার' চম্পাই।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
চম্পাই সোরেন 'মাস্টারস্ট্রোক' হেমন্তের, এত করেও ঝাড়খণ্ডে বিজেপিকে রুখতে পারবে JMM?

Jharkhand Political Crisis: বিজেপির বিধায়ক কেনাবেচার ইতিহাস পুরনো। বিরোধীদের একাংশের আশঙ্কা, বিধায়ক কেনাবেচার ‘সময়’ করে দিতেই চম্পইকে সরকার গড়তে আমন্ত্রণ জানাতে দেরি করা হচ্ছে।

অথচ সহজ ছিল না চম্পাইয়ের লড়াই। গত জানুয়ারি মাসে হেমন্ত সোরেন গ্রেফতার হওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে একের পর এক নাম ভেসে উঠেছিল। এমনকী মুখ্যমন্ত্রীর মুখ হিসেবে ভাবা হয়েছিল হেমন্তপত্নী কল্পনা মুর্মু সোরেনকেও। কিন্তু দান আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলেন হেমন্ত। এমনকী চিঠি লিখে মহাগাঠবন্ধনের শরিকদেরকেও জানিয়ে দেন, হেমন্তের অবর্তমানে সমস্ত দায়িত্ব সামলাবেন চম্পাই-ই। তবে নাম প্রস্তাব করলে কী হবে! ঝাড়খণ্ড বিধানসভায় রীতিমতো আস্থা ভোটে জিতে তবে মুখ্যমন্ত্রীর পদটি নিশ্চিত করতে পেরেছিলেন চম্পাই। তার জন্য কংগ্রেস শাসিত রাজ্য তেলঙ্গানায় গিয়ে সুরক্ষিত করতে হয়েছিল সমর্থনে থাকা বিধায়কদের। ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার তিন নম্বর মনে করা হয় চম্পাইকে। জেএমএম প্রতিষ্ঠা হওয়ার সময় থেকেই তিনি সঙ্গে রয়েছেন। গত ২ ফেব্রুয়ারি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন চম্পাই।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
হাইকোর্টে মঞ্জুর জামিন! জমি-দুর্নীতি মামলায় তার পরেও জেলমুক্ত হতে পারবেন হেমন্ত?

Hemant Soren Case: তার প্রায় ৫ মাস বাদে সেই মামলায় জামিন মিলল ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার নেতা হেমন্ত সোরেনের। শুক্রবার ঝাড়গ্রাম হাইকোর্টে মঞ্জুর হয়েছে তাঁর জামিনের আবেদন।

তবে হেমন্ত ফিরতেই সেই গদি ছেড়ে সরে দাঁড়াতে হল চম্পাইকে। বুধবার ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন চম্পাই সোরেন। গত ২৮ জুন হাইকোর্টে জমি দুর্নীতি মামলায় জামিন পান হেমন্ত। সব ঠিক থাকলে আগামী বৃহস্পতিবার ফের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিতে চলেছেন হেমন্ত। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই রাজ্যপাল সিপি রাধাকৃষ্ণানের সঙ্গে কথা বলে সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছেন হেমন্ত সোরেন। এদিন পদত্যাগের পর চম্পাই জানান, জেএমএম নেতৃত্বাধীন জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পদত্যাগ করছেন তিনি। রাজভবনে গিয়ে ইতিমধ্যেই ইস্তফাপত্রও জমা দিয়েছেন চম্পাই। জানা গিয়েছে, সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণও করেছেন রাজ্যপাল। গোটা জোটের তরফে জেএমএম দলের নেতা হিসেবে হেমন্ত সোরেনকে আরও একবার নির্বাচিত করা হয়েছে।

স্বাভাবিক ভাবেই ঝাড়খণ্ডের এই পালাবদলকে মোটেই ভালো চোখে দেখছে না বিজেপি। জেএমএম ও কংগ্রেস জোটের এই সিদ্ধান্তকে পীড়াদায়ক বলেই বর্ণনা করেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তাঁর দাবি, চম্পাইকে সরিয়ে এমন একজনকে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসানো হচ্ছে, যাঁর গায়ে লেগে রয়েছে জমি কেলেঙ্কারি মামলায় অর্থ পাচারের অভিযোগ। একজন জেলফেরত আসামীর হাতে রাজ্যের দায়িত্ব সঁপে দেওয়া হচ্ছে বলে কটাক্ষ করেন বিজেপি নেতা। ঝাড়খণ্ডের মানুষ এই সিদ্ধান্তকে ভালো ভাবে নেবেন না বলেই মত তাঁর।

বিজেপির হাত থেকে রাজ্যকে বাঁচাতে একদিন তড়িঘড়ি যে চেয়ার ছেড়ে গিয়েছিলেন হেমন্ত, জেল থেকে বেরিয়েই সেই হিসেব বুঝে নিতে চলেছেন তিনি। দলের বিশ্বাসযোগ্য নেতা হিসেবে চম্পাইও বিনাবাক্যবায়ে ছেড়ে দিচ্ছেন পদ। দলের অনুশাসনের কাছে তিনি সেই কাজ করতে বাধ্য। কিন্তু ঝাড়খণ্ডের মানুষ কি ফের হেমন্তকেই বেছে নেবেন তাঁদের নেতা হিসেবে? রাজ্যের দায়িত্ব কি তাঁর হাতেই রাখতে চাইবেন, নাকি ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার বিপক্ষে যেতে চলেছে এই সিদ্ধান্ত সেটাই দেখার।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

EXCLUSIVE: শেষদিকে দল পরিচালনায় গ্যাপ ছিল, অভিষেকের অফিসও ঠিকঠাক ম্যানেজ করা হয়নি: কুণাল

Kunal Ghosh on Abhishek Banerjee: ইন্সক্রিপ্টের ‘অনিন্দ্য এবং’ পডকাস্টে অভিষেক প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে কুণাল জানিয়েছেন, শেষ পর্যায়ের দল পরিচালনায় আরও ‘সতর্কতা’ প্রয়োজন ছিল। তাঁর দাবি, অভিষেকের অফিসও সব সময় ঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি।

মমতা-অভিষেকের দল পরিচালনায় বিরাট গ্যাপ তৈরি হয়েছিল: ইনস্ক্রিপ্ট পডকাস্টে আর কী বললেন কুণাল?

Kunal Ghosh Interview: বিধানসভা ভোটে বিপর্যয়ের পরে প্রতীক, নাম হারিয়ে কার্যত দিশাহারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। তার মধ্যেও ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই জারি রয়েছে। যদিও দলের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহে মমতার কাছাকাছির বৃত্ত ক্রমশ সঙ্কুচিত হয়েছে। নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে মুখ পুড়েছে। এই প্রেক্ষিতে আসন্ন পুরভোটে কেমন করবে তৃণমূল? ঘুরে দাঁড়ানোর কোনও সম্ভাবনা আছে? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী? বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে যা বললেন দলের বিধায়ক এবং অন্যতম মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।

এসআইআর: বাংলায় ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব মুসলিম এলাকাগুলিতে ছ’গুণ বেশি, বলছে পরিসংখ্যান

Bengal Voter List Review: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা যাচাইয়ে বিচারাধীন ভোটারদের ক্ষেত্রে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিতেই প্রভাব বেশি পড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, এই এলাকাগুলিতে ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব অন্যান্য এলাকার তুলনায় প্রায় ছ’গুণ বেশি। এই পার্থক্য কীভাবে তৈরি হলো, কোন এলাকার ভোটাররা বেশি প্রভাবিত হলেন এবং এর পিছনে কী কারণ রয়েছে?

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।