মিউজিয়ামে ঢুকে মোনালিসার মুখে স্যুপ! কেন এমন কাণ্ড ঘটালেন ওঁরা?

Mona Lisa: ষোড়শ শতকে আঁকা জগৎজোড়া চিত্রশিল্পগুলির মধ্যে একটি লিওনোর্দো দ্য ভিঞ্চির 'মোনালিসা'। সেই বিখ্যাত চিত্রকর্মটির উপরেই এবার স্যুপ ছুড়ে মারলেন বিক্ষোভকারীরা।

Sohini Das
৩ মিনিট
মিউজিয়ামে ঢুকে মোনালিসার মুখে স্যুপ! কেন এমন কাণ্ড ঘটালেন ওঁরা?

যে কৌনিক বিন্দু থেকেই তাঁকে দেখা হোক না কেন, সব সময়েই তাঁর মুখে লেগে থাকে একটা আলতো হাসি। তিনি হাসছেন না, অথচ তিনি হাসছেন। ষোড়শ শতকে আঁকা জগৎজোড়া চিত্রশিল্পগুলির মধ্যে একটি লিওনোর্দো দ্য ভিঞ্চির 'মোনালিসা'। সেই বিখ্যাত চিত্রকর্মটির উপরেই এবার স্যুপ ছুড়ে মারলেন বিক্ষোভকারীরা। প্রতিবাদে লোকে বিক্ষোভ করে, ধর্না দেয়। প্রয়োজনে কুশপুতুলও পোড়ায়। তবে দামী দামী ছবির উপর স্যুপ ছুড়ে মারার মতো এমন অভিনব প্রতিবাদ আগে কেউ কখনও দেখেছেন কিনা সন্দেহ। তবে তেমনই দৃশ্যের সাক্ষী রইল এবার প্যারিসের ল্যুভর মিউজিয়াম।

লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির এই শিল্পকর্মটির জগৎজোড়া নাম। কেউ ভিঞ্চি সম্পর্কে আর কিছু জানুক ছাই না জানুক, 'মোনালিসা'-র কথা শোনেননি, এমন মানুষ বিরল। সম্প্রতি একটি প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়েছিল ল্যুভর মিউজিয়ামে। যেখানে দর্শকদের জন্য সাজিয়ে রাখা হয়েছিল বিখ্যাত ছবিটি। আর সেখানেই স্বাস্থ্যকর ও টেকসই খাবারের অধিকারের দাবিতে মোনালিসার মুখে স্যুপ ছুড়ে মারলেন দুই বিক্ষুব্ধ মহিলা।

শিল্প জরুরি না স্বাস্থ্যকর খাবারদাবার বেশি গুরুত্বপূর্ণ? এই প্রশ্ন লাখ টাকার। সত্যিই খাদ্যসুরক্ষা প্রয়োজনীয় তো বটেই। তবে তার জন্য এই ভাবে ঐতিহাসিক একটি ছবিকে কলুষিত করা যায় কি, যেমনটা করেছেন তাঁরা! বিক্ষোভকারীদের দাবি, দেশের কৃষিব্যবস্থায় ঘুন ধরে গিয়েছে, প্রতিদিন অসংখ্য কৃষকের মৃত্যু হচ্ছে দেশ জুড়ে। সেখানে দাঁড়িয়ে এমন শিল্পপ্রদর্শনীর জনসমাজে প্রয়োজন কতটা, প্রশ্ন তোলেন তাঁরা। সংগ্রহশালাটিতে কালো পর্দা টাঙিয়ে বিক্ষোভও প্রদর্শন করেন প্রতিবাদীরা। রিপোস্ত অ্যালিমেন্তেয়ার ( ফুড কাউন্টারঅ্যাটাক) নামক একটি সংগঠন এই ঘটনার দায় নিয়েছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অবশেষে রহস্য উদ্ধার! কোথায় বসে আছেন ভিঞ্চির মোনালিসা? জানলে চমকে উঠবেন...

Mona Lisa Painting Location: ১৫০১ থেকে ১৫০৩ সালের মধ্যে এই সেতুটি ছিল এলাকার অন্যতম ব্যস্ত সেতু।

যদিও 'মোনালিসা'-র ছবিটির কোনও ক্ষতি হয়নি। কারণ সেটি গ্লাস দিয়ে আড়াল করা ছিল। ফলে স্যুপের কণাও ছুঁতে পারেনি ছবিটিকে। তবে প্রতিবাদের মাধ্য়ম হিসেবে এমন একটি কাজ কতটা গ্রহণযোগ্য, প্রশ্ন উঠেছে তা নিয়েও। এই ধরনের ঐতিহাসিক ও বহুমূল্য চিত্রশিল্প যে কোনও দেশেরই সম্পদ। শুধু দেশের নয়, গোটা পৃথিবীর সম্পদ। খাদ্য সুরক্ষার দাবিতে আদৌ তার অবমাননা করা যায় কিনা, উঠেছে সওয়াল।

বহুদিন ধরেই খাদ্য ও তার সুরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়আশয়গুলিকে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার ভিতরে ঢোকানোর দাবি উঠেছে প্যারিসে। বর্তমানে যে খাদ্যব্যবস্থা চালু রয়েছে ফ্রান্সে, তা অনিশ্চয়তায় ভরপুর। এমনটাই দাবি আন্দোলনকারীদের। পাশাপাশি তা খাদ্যের মৌলিক অধিকারেরও পরিপন্থী। এই প্রথম নয়, এর আগেও রিপোস্ত অ্যালিমেন্তেয়ারের সদস্যরা একটি পেন্টিংয়ের উপরে কুমড়োর সস ছুড়ে মারে। তবে সে যাত্রাতেও বেঁচে গিয়েছিল ছবিটি। ওই সংগঠনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর কথা জানিয়েছে সংগ্রহশালা কর্তৃপক্ষ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশ জুড়ে উঠেছে নিন্দার ঝড়। ফ্রান্সের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন।

BREAKING:

Mona Lisa Vandalized!

Protesters hurl soup at the Mona Lisa painting in Paris today, but it was protected from damage by its glass casing.

“Two activists from the environmental movement ‘Riposte Alimentaire’ sprayed pumpkin soup on the armoured glass protecting the…

— AshB (@RealAshishBatra)

সাম্প্রতিক কালে একাধিক বার কৃষক বিক্ষোভের মুখে পড়েছে প্যারিস। ক্রমশ দাম বাড়ছে জ্বালানির। পাশাপাশি কৃষি ও খাদ্য নিয়ে সরকারের একাধিক নিয়মকানুনের জালে কৃষকদের অবস্থা আরও কঠিন। দিন কয়েক আগেই প্যারিসের রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। সেই বিক্ষোভেরই অংশ হিসেবে মিউজিয়ামের ভিতরে এই বিশৃঙ্খলতা তৈরি করেছিল ওই সংগঠনের সদস্যরা।

অবশ্য বারবারই ল্যুভর মিউজিয়াম এই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। বিশেষত হামলার মুখে পড়েছে ভিঞ্চির 'মোনালিসা' নামে ছবিটিই। কেন ভিঞ্চির ছবির উপরেই এত রাগ, তার কারণ অবশ্য পরিষ্কার নয়। ১৯৫০ সালের গোড়ার দিকে মোনালিসা চিত্রশিল্পটির উপরে অ্যাসিড ঢেলে দেওয়া হয়েছিল। তখনও কাচের আড়ালেই ছিল ছবিটি। ২০১৯ সালে ছবিটি রক্ষা করতে বুলেটপ্রুফ গ্লাস আরও মজবুত করা হয়। ২০২২ সালেই এক বিক্ষোভকারী ছবির মুখে কেক ছুড়ে মারেন। শুধু কি তাই, ১৯১১ সালে এই মিউজিয়াম থেকেই চুরি হয়ে গিয়েছিল পেন্টিংটি। পরে জানা যায়, জাদুঘরেরই এক কর্মী ছবিটি আলমারিতে লুকিয়ে রেখেছিলেন। পরে সেটিকে পুরনো জিনিসপত্রের ডিলারের কাছে বিক্রি করতে গিয়ে ইতালির ফ্লোরেন্সের কাছে ধরা পড়েন তিনি। উদ্ধার হয় ভিঞ্চির 'মোনালিসা'।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।