দুই বাংলার স্রোত মেশে এখানে, একদিনের ছুটিতে ঘুরে আসুন এই ‘মিনি সুন্দরবন’ থেকে

Short weekend trip, taki, টাকি ভ্রমণ, দুই বাংলার স্রোত মেশে এখানে, একদিনের ছুটিতে ঘুরে আসুন এই মিনি সুন্দরবন থেকে, কাছেপিঠে ভ্রমণ, tour, travel, near kolkata, picnic spot

Kankana Mukherjee
৩ মিনিট
দুই বাংলার স্রোত মেশে এখানে, একদিনের ছুটিতে ঘুরে আসুন এই ‘মিনি সুন্দরবন’ থেকে

এ বছরের মতো ফিরতি পথে শীত, বসন্তের আগমনের আভাস ইতিমধ্যেই জানা দিচ্ছে বাতাস। তবুও শেষ বেলায় যতটুকু সময় হতে আছে তাতেই কাছেপিঠে ঘুরতে যাওয়ার সুযোগ পেলে মোটেই হাত ছাড়া করতে চান না বাঙালি। এমনিতেই ভ্রমণপ্রিয় এই জাতি। তার ওপর ব্যস্ত জীবনের ইঁদুর দৌড়ে হাঁসফাঁস করে ওঠা প্রাণটুকুকে একটু বিশ্রাম দিতে সপ্তাহান্তের ছুটিতে হাওয়া বদল করতে চান অনেকেই। সময়ের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে বাঙালি তাই এখন লম্বা ছুটিতে দিপুদা ভ্রমণের পরিবর্তে কাছেপিঠে অফবিট ভ্রমণের দিকেই বেশি ঝুঁকছে। আর এই তালিকাতেই একটি চির পরিচিত জায়গা টাকি।

যদিও খুব অফবিট মোটেই বলা চলে না টাকিকে। দুই বাংলার মিলনস্থলে অবস্থিত এই জায়গাটি বহুকাল ধরেই অনেক ইতিহাসের সাক্ষ্য দিয়ে আসছে। আজও প্রতি বছর দুর্গাপুজোর বিজয়ার দিন লক্ষ লক্ষ মানুষ এসে জড়ো হয় এখানে। নৌকা বিহারে দুই বাংলার দুর্গা প্রতিমা বিসর্জনের সেই দৃশ্য প্রতি বছর নতুন করে মোহ সৃষ্টি করে। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের দাগ আজও সযত্নে লুকিয়ে রেখেছে টাকি। বয়ে বেড়াচ্ছে সেদিনের যন্ত্রণাও।

আগের থেকে অনেক বদলে গিয়েছে টাকি। সময়ের তালে তাল মিলিয়ে নিজেকে ভ্রমণ প্রিয় বাঙালির উপযোগী করে তুলেছে এই জায়গাটি। কলকাতা থেকে ৭৫ কিলোমিটার দূরে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার অন্তর্গত শহর টাকি। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন তালিকায় এর জায়গা যথেষ্ট ওপরের দিকে। যেহেতু ব্যস্ত কর্মজীবনে আজকাল লম্বা ছুটির অবকাশ বিশেষ নেই তাই, সপ্তাহান্তের ছুটিতেই ভরসা করতে হয় মানুষকে। আর ঠিক সেই কারণেই আরও জনপ্রিয়তা বেড়েছে টাকির। কলকাতা থেকে দিনের দিন গিয়ে আবারও ফিরে আসা যায় ইছামতী নদীর তীরে অবস্থিত এই জায়গাটি থেকে। সঙ্গীকে নিয়ে নিরিবিলি পরিবেশে কাটানোর পাশাপাশি পরিবার কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে পিকনিক করতে চাইলেও দারুণ বিকল্প হতে পারে টাকি। নদীর চড়ে বসে ইছামতীর স্রোতের সঙ্গে সহজেই ভেসে যাওয়া যায় এখানে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কলকাতার খুব কাছেই রয়েছে ‘মিনি আন্দামান’, কম খরচে ঘুরে আসুন এই জায়গা থেকে

Short weekend trip : পুরী থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে রয়েছে মনোরম এই জায়গাটি। একটা গাড়ি নিয়ে সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায় এখানে। পথে আসার সময় পড়বে বেশ কিছু ছোট ছোট ছবির মতো গ্রাম। সময় লাগবে ওই ঘণ্টা তিনেক।

‘গয়নার বাক্স’, ‘চাঁদের পাহাড়’, ‘পাখি’, ‘অপুর পাঁচালি’, ‘গল্প হলেও সত্যি’, ‘বিসর্জন’-এর মতো ছবির শুটিং হয়েছে এই টাকিতে। টিভি সিরিয়ালের শুটিংয়ের জন্যও প্রযোজক-পরিচালকেরা বর্তমানে বেছে নিচ্ছেন টাকিকে। এখানকার মনভোলানো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও নৈসর্গিক রূপ মুগ্ধ করে সকলকে।

কী কী দেখবেন?

এই টাকিতেই জালালপুরের কাছে সম্প্রতি গড়ে উঠেছে মিনি সুন্দরবন। তাই পকেটের সঙ্গে যখন সমঝোতা না হওয়ায় সুন্দরবন যাওয়ার শখ মাঠে মারা যেতে বসেছে ঠিক তখনই চলে আসতে পারেন স্বল্প খরচের মিনি সুন্দরবনে। এখানে গোলপাতা, গরান, কেওড়া, বাইন, কাঁকাড়ার মতো গাছ লাগানো হয়েছে। জঙ্গলের মধ্যে যাওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে লম্বা সেতু। জালালপুরেই আছে নন্দদুলালের মন্দির, সোদপুরে জেনারেল শঙ্কর রায়চৌধুরীর বাড়ি, পীরের দরগা, পদ্মপুকুর-সংলগ্ন পার্ক। ভ্রমণের সঙ্গে যোগ করে নিতে পারেন এইসব জায়গাগুলিও। আরও বেশ কিছু দর্শণীয় স্থান রয়েছে টাকিতে। যেমন - টাকি রাজবাড়ি, মাছরাঙা দ্বীপ, জোড়া মন্দির, ইছামতীর ধারে বৃদ্ধাশ্রম, বিধান সৈকত, ইকো ট্যুরিজম পার্ক, রামকৃষ্ণ মিশন, হেমন্ত ঘোষাল স্মৃতিসৌধ, সাংস্কৃতিক মঞ্চ-সহ আরও অনেক কিছু। এছাড়াও রয়েছে ইছামতীর বুকে লঞ্চ ও নৌকা ভ্রমণের সুযোগ। মাঝ নদী থেকে ওপার বাংলাকে যেন ছুঁয়ে দেখা যায় টাকিতেই। পিকনিক করতে চাইলেও রয়েছে আলাদা ব্যবস্থা, এর জন্য অবশ্য আলাদা করে আগে থেকে বুকিং করে নিতে হয়। খরচ মোটামুটি জন প্রতি পাঁচশো টাকার আশেপাশে।

কীভাবে যাবেন?

শিয়ালদহ বা দমদম স্টেশন থেকে হাসনাবাদ লোকালে চেপে নামতে হবে টাকি স্টেশনে। সময় লাগবে ঘণ্টা দুয়েক। স্টেশনে নেমেই মিলবে টোটো। টোটোয় চেপে মিনিট দশেকের মধ্যেই পৌঁছে যেতে পারবেন টাকি রাজবাড়ি তথা পিকনিক স্পট। এছাড়াও ধর্মতলা থেকে হাসনাবাদের বসে চেপেও পৌঁছে যাওয়া যায় টাকি।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।