লকআপে সন্দেশখালির ত্রাস! কীভাবে গ্রেফতার হলো শেখ শাহজাহান?

Sheikh Shahjahan Arrested : গত ৭ জানুয়ারি থেকেই শাহজাহানের এবং অনুগামীদের বিরুদ্ধে লাগামছাড়া অত্যাচারের অভিযোগ তুলে পথে নামের সন্দেশখালির মহিলারা।

inscript
৩ মিনিট
লকআপে সন্দেশখালির ত্রাস! কীভাবে গ্রেফতার হলো শেখ শাহজাহান?

সন্দেশখালির মহিলারা বলেছিলেন, শিবু হাজরা, উত্তম সর্দার গ্রেফতার হওয়াতে মিষ্টিমুখ হয়েছে কিন্তু সমস্ত কুকীর্তির মাথা, শেখ শাহজাহান গ্রেফতার হলে পিকনিক হবে সন্দেশখালি জুড়ে। গ্রেফতার হয়েছেন শেখ শাহজাহান। যখন হয়েছেন, সন্দেশখালি তখন গভীর ঘুমে। ঘুম ভেঙে এই ঘবর পেতেই হুড়মুড়িয়ে রাস্তায় নেমে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, অত্যাচারিত মহিলারা। ৫৫ দিন পর অবশেষে রাজ্যপুলিশ মিনাখাঁর বামনপুকুর থেকে থেকে গ্রেফতার করেছে শেখ শাহজাহানকে। রাত দুটোর পর থেকেই তৎপর হয়ে ওঠে পুলিশ। চারটের মধ্যে গ্রেফতার হয় শাহজাহান। ভোরবেলাতেই জনরোষ এড়াতে বসিরহাট মহকুমা কোর্ট লকাপে নিয়ে আসা হয় তাঁকে কনভয় করে।

গত ৫ জানুয়ারি রেশন দুর্নীতি মামলায় সন্দেশখালিতে শাহজাহানের বাড়িতে তল্লাশি করতে গিয়েছিল ইডি। শাহজাহানকে ছোঁয়া তো দূর অস্ত, শেখ শাহজাহানের বাহিনীর হাতে মার খেয়ে পালিয়ে আসতে হয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার আধিকারিকদের। এই ঘটনার পর থেকেই শেখ শাহজাহান নিখোঁজ ছিলেন। যদিও এলাকাবাসীরা বারেবারেই বলছিলেন, সন্দেশখালিতেই আছেন শেখ শাহজাহান। গত ৭ জানুয়ারি থেকেই শাহজাহানের এবং অনুগামীদের বিরুদ্ধে লাগামছাড়া অত্যাচারের অভিযোগ তুলে পথে নামের সন্দেশখালির মহিলারা। জোট বেঁধে হাতে লাঠি, কাটারি নিয়েই রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন মহিলারা। উঠে আসতে থাকে সন্দেশখালি জুড়ে চলতে থাকা একের পর এক ভয়াবহ ঘটনার খবর। সন্দেশখালি ছিল শেখ শাহজাহান ও তাঁর দলবলের ক্ষমতা প্রদর্শনের অবাধ ক্ষেত্র। জমি দখল, ভেড়ি দখল, কাজ করিয়ে টাকা না দেওয়া, প্রতিবাদ করলে বাড়ির মহিলাদের ক্লাবে তুলে আনা, সারা রাত রেখে দেওয়া, শ্লীলতাহানি, মানসিক অত্যাচার- কী অভিযোগ নেই তাঁদের বিরুদ্ধে। মহিলারা শিবু হাজরার পোল্ট্রি ফার্মে আগুন ধরিয়ে দেন। গণরোষের মুখে পড়ে শাহজাহানের দলের দুই নেতা উত্তম সর্দার এবং শিবপ্রসাদ হাজরা ওরফে শিবুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে শাহজাহান ছিল অধরা। শাহজাহানের গ্রেফতারির দাবি ঘিরে সন্দেশখালির এই আন্দোলন সারা দেশের রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে ওঠে। বিজেপি নামে মাঠে, শাসকদল তৃণমূলের উপর বাড়তে থাকে চাপ।

আদালতের বাধা ছিল, পুলিশ কাজ করতে পারেনি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
শাহজাহান কোথায়? 'ওঁরাই' সবটা জানেন!

Abhishek Banerjee on Sheikh Shahjahan : অভিষেকের দাবি, বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন না হলে ১০ দিনের মধ্যে শেখ শাহজাহানকে গ্রেফতার করতে পারত রাজ্য পুলিশ।

র সৌজন্যে আদালত বাধা সরিয়েছে।

পুলিশ যা করার করেছে।

— Kunal Ghosh (@KunalGhoshAgain)

<span data-mce-type="bookmark" style="display: inline-block; width: 0px; overflow: hidden; line-height: 0;" class="mce_SELRES_start"> </span>

ক'দিন আগেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, হাইকোর্টই পুলিশের হাত-পা বেঁধে দিয়েছিল। শাহজাহানের গ্রেফতারির উপর স্থগিতাদেশ ছিল, না হলে রাজ্য পুলিশ আগেই শাহজাহানকে গ্রেফতার করতে পারত। গত সোমবার কলকাতা হাইকোর্ট জানায়, শাহজাহানকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারবে না এমন কোনও স্থগিতাদেশ দেওয়াই হয়নি।রাজ্য পুলিশকে কোনও বাধা দেওয়া হয়নি। ইডির মামলায় সিট গঠনের উপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছিল। প্রধান বিচারপতি জানান, সিবিআই, ইডি এবং রাজ্য পুলিশ যে কেউই শেখ শাহজাহানকে গ্রেফতার করতে পারে।

হাইকোর্টের এই শেখ শাহজাহান সংক্রান্ত নির্দেশের পরেই তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয় আদালতের জটেই আটকে ছিল শাহজাহানের গ্রেফতারি। এবার সাত দিনের মধ্যে শাহাজাহান গ্রেফতার হবেন। তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘোষণা করার ঠিক চার দিনের মাথায় গ্রেফতার হয়েছেন শাহজাহান। তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল, শাহজাহান কোথায় আছে তা শাসকদল জানে, রাজ্যপুলিশের আশ্রয়েই নিরাপদে আছে শাহজাহান। অভিষেক বলেছিলেন, তৃণমূল পার্থ চট্টোপাধ্যায়, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককেও রেয়াত করেনি তাই শাহজাহানকে না ধরার কোনও কারণই নেই।

তৎপরতা শুরু হয় শাহজাহানকে নিয়ে। একাধিক মামলা ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। হিংসা ছড়ানো, দাঙ্গা বাঁধানো, প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন শাহজাহান। শাহজাহানের খোঁজে দু'দিন ধরেই পুলিশ সন্দেশখালির বিভিন্ন স্থানে খোঁজ শুরু করে। মোবাইলের লোকেশন, শেষ কবে দেখা গিয়েছে এই বিষয়ক তথ্য জোগাড়ের ততপরতা দেখে বোঝা যাচ্ছিল শাহজাহান গ্রেফতার হতে চলেছেন শিগগিরই।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।