বান্ধবীর সঙ্গে লিভ-ইনে সায়! ক্রিশ্চিয়ানোর জন্য বদলে যাচ্ছে সৌদির কড়া আইন?
Cristiano Ronaldo Saudi Arabia: দুই সন্তানের অভিভাবক হলেও বিয়ে করেননি রোনাল্ডো এবং তাঁর বান্ধবী জর্জিনা। সৌদি আরবে বিয়ে ছাড়াই একসঙ্গে থাকবেন ক্রিশ্চিয়ানো ও জর্জিনা।

সৌদি আরবের ক্লাবে খেলবেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। বিশ্ব ফুটবলের এই তারকা থাকবেনও তাই সৌদি আরবেই। কিন্তু সারা বিশ্বের মধ্যে অন্যতম রক্ষণশীল দেশ বলেই নাম রয়েছে সৌদির। সেখানে রোনাল্ডো খেলবেন তো ঠিকই, নিজের মতো জীবন কাটাতে পারবেন তো? রোনাল্ডো নিজের বেলাগাম জীবন, খোলামেলা উদযাপন নিয়ে বহুবারই চর্চায় থেকেছেন। সৌদির ক্লাবে এসে ফুটবলের মান তিনি বাড়াবেন নিঃসন্দেহে। কিন্তু নিজের মতো করে বাঁচায় কি হস্তক্ষেপ করবে সৌদি প্রশাসন? শোনা যাচ্ছে, রোনাল্ডোর জন্য আইনকানুনেও ব্যাপক ছাড় দিতে প্রস্তুত সৌদি আরব। এমনিতে অবিবাহিত জুটি একসঙ্গে থাকতে পারে না সৌদিতে। বিয়ে ছাড়া, শুধু লিভ ইন করা এই দেশে নিষিদ্ধ। কিন্তু দেশের তারকা খেলোয়াড়ের জন্য নিজের প্রাচীন আইনেও কাটছাঁট করতে প্রস্তুত সৌদি। ক্রিশ্চিয়ানোকে প্রেমিকা জর্জিনা রড্রিগেজের সঙ্গেই থাকতে দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
যবে থেকে ক্রিশ্চিয়ানো ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড ছেড়ে বিপুল টাকার বিনিময়ে সৌদির ক্লাবে খেলতে রাজি হয়েছেন, তাঁর জীবনযাপন, পছন্দ, সবটা নিয়েই ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস। এত টাকা দিয়ে যাঁকে অতিথি করে ক্লাবে আনা হচ্ছে তাঁর এটুকু শখ আহ্লাদকে সৌদি সরকার মান্যতা দিতে রাজি। তাই রোনাল্ডোর বিলাসবহুল জীবন নিয়ে বিশেষ কোনও উচ্চবাচ্য নেই প্রশাসনের।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Cristiano Ronaldo : নিজস্ব ভিলায় ওঠার আগে পরিবার নিয়ে বিলাসবহুল এক হোটেলে থাকছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ড
স্প্যানিশ সংবাদ সংস্থা ইএফই-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, "যদিও আইনে এখনও বিবাহের চুক্তি ছাড়া সহবাস নিষিদ্ধ, তবে কর্তৃপক্ষ চোখ বন্ধ রাখতে শুরু করেছে।" সৌদি জানিয়েছে, প্রশাসন এই নিয়ে কাউকে জোর জুলুম করে না। আইন তখনই নাক গলায় যখন এই জাতীয় সম্পর্কে কোনও সমস্যা ঘটে বা অপরাধ হয়। বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্কও নিষিদ্ধ সৌদি আরবে। এইসবের জন্য কড়া শাস্তিরও বিধান রয়েছে দেশে। মজার বিষয় হচ্ছে, দুই সন্তানের অভিভাবক হলেও বিয়ে করেননি রোনাল্ডো এবং তাঁর বান্ধবী জর্জিনা। সৌদি আরবে তাঁরা এসেও গিয়েছেন সন্তানদের নিয়েই। রক্ষণশীলতার নাকের ডগাতে বিয়ে ছাড়াই একসঙ্গে থাকবেন ক্রিশ্চিয়ানো ও জর্জিনা।
প্রশাসন জানিয়েছে, সৌদির আইনে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক নিষিদ্ধ ঠিকই, তবে তা ওই দেশের বাসিন্দাদের জন্যই প্রযোজ্য। ক্রিশ্চিয়ানো সৌদির বাসিন্দা নন, অতিথি। তিনি খেলার জন্য দেশে থাকবেন। তাই এই আইনের আওতায় পড়বেন না তিনি। ২০১৬ সালে রিয়াল মাদ্রিদে খেলার সময় থেকেই জর্জিনা রড্রিগোর সঙ্গে প্রেমের শুরু ক্রিশ্চিয়ানোর। ২০১৭ সালের নভেম্বর জর্জিনা রড্রিগেজে ও রোনাল্ডোর প্রথম সন্তানের জন্ম, মেয়ের নাম রাখেন আলানা। ২০২১ সালে ফের যমজ সন্তান হওয়ার কথা ছিল রোনাল্ডো-জর্জিনার, কিন্তু সদ্যোজাত পুত্র সন্তানটি মারা যায়। সদ্যোজাত শিশুটির নাম রাখেন বেলা। এখনও অবধি, রোনাল্ডো পাঁচ সন্তানের বাবা, যার মধ্যে দু'জন সারোগেট মায়ের গর্ভে জন্মেছে। প্রথম সন্তান ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো জুনিয়রের জন্ম হয় ২০১০ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Cristiano Ronaldo Al Nassr Transfer : এবার পাড়ি দিলেন আরব্য রজনীর দেশে। ২০২২ সালের শেষ দিনেই জানালেন নতুন ক্লাবের কথা।
ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের দীর্ঘকালীন সঙ্গ ছেড়ে বেরিয়ে আসার পর ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসেরে যুক্ত হয়েছেন। সারা বিশ্ব জানে, এই গ্রহের সবচেয়ে দামি ফুটবলারদের মধ্যে পড়েন সিআর ৭। নিজের এই দাম আরও বাড়িয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো। স্পোর্টিং লিসবন, রিয়েল মাদ্রিদ, জুভেন্টাস, ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের পর ক্রিশ্চিয়ানো যুক্ত হলেন সৌদি আরবের ক্লাবে। সে আরব, যেখানে আক্ষরিক অর্থেই টাকা ওড়ে! আল নাসের ক্লাবের সঙ্গে আড়াই বছরের চুক্তিতে খেলবেন ক্রিশ্চিয়ানো। আর পাবেন কত টাকা? বার্ষিক ২০০ মিলিয়ন ইউরো! ভারতীয় টাকায় হিসেব করতে গেলে বছরে প্রায়, ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা!
১৯৫৫ সালে সৌদির আল নাসের ক্লাবটি তৈরি হয়েছিল। সৌদির প্রশাসনই এই ক্লাবটির নিয়ন্ত্রক। খেলার জগতে অবশ্য ক্লাবের পরিচিতি, ‘আল আলামি' নামে, যার অর্থ 'দ্য গ্লোবাল ক্লাব'। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ফুটবলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় সৌদি, যার অন্যতম বড় তাস ছিল ক্রিশ্চিয়ানোকে নিজেদের দলে নিয়ে আসা।






