বিশ্বকাপের মাঠে প্যালেস্তাইনকে মুক্ত করার বার্তা! নিরাপত্তা ভেঙে বিরাটের কাছে কে এই অনুপ্রবেশকারী?

Palestine Supporter in World Cup Final Match : রবিবার মাঠে যুদ্ধ থামানোর মানবিক আবেদন নিয়েই ঢুকে পড়েছিলেন প্যালেস্টাইন সমর্থক। তখন ১৪তম ওভার চলছে।

Sohini Das
৩ মিনিট
বিশ্বকাপের মাঠে প্যালেস্তাইনকে মুক্ত করার বার্তা! নিরাপত্তা ভেঙে বিরাটের কাছে কে এই অনুপ্রবেশকারী?

আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ। আহমেদাবাদের মোতেরা স্টেডিয়াম তখন নীলে ঠাসা। পাখির চোখ দেখাচ্ছে পিছনে বয়ে যাচ্ছে নীল জল নদী। আর গ্যালারি যেন নীল আসমান। তার মাঝখানে দু-একটা হলদে-সবুজ উঁকি দিচ্ছে বটে, তবে তা এতই হাতে গোনা, যে সে থাকা বিশেষ মালুম পড়ছে না। টসে জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে অস্ট্রলিয়া। খেলা শুরু হয়েছে। ততক্ষণে তিনটি উইকেটটি খুইয়েছে ভারত। বিরাট কোহলি ও কে এল রাহুল তখন মাঠে। হঠাৎ সে সময় মাঠে ঢুকে আসেন এক সমর্থক। বিরাট কোহলির সেই ভক্ত আবার প্যালেস্টাইনেরও সমর্থক। পোশাকে তার ফিলিস্তিনি পতাকার রং। তাতে গাজার যুদ্ধ বন্ধ করার আবেদন। তারপর? তারপর যা হওয়ার তাই হয়েছে। সেই ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। আর বিরাট কোহলিকে জড়িয়ে ধরার চেষ্টা-সহ মাঠের নিরাপত্তা লঙ্ঘিত করার অভিযোগে আমেদাবাদ পুলিশ গ্রেফতার করেছে ওই যুবককে।

চল্লিশ দিনেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধে ছাড়খার গাজা। ইজরায়েলের আগ্রাসনে শুধু গাজা নয়, প্যালেস্টাইনের একাধিক অংশতেই চলেছে ধ্বংসলীলা। ইতিমধ্যে ১১ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি মারা গিয়েছে। যার মধ্যে অধিকাংশই শিশু। গোটা বিশ্বের যুদ্ধবিরতির আবেদন কার্যত কানে তোলেনি ইজরায়েল। বরং যুদ্ধের মাত্রা বাড়িয়েই গিয়েছে তারা। গোটা গাজা এতদিনে শ্মশান। এমনকী গাজার হাসপাতাল, শরণার্থী শিবিরগুলিকেও ছাড়েনি নেতানিয়াহু সেনা। হামাস খতমের নামে বারবার নিশানা করা হয়েছে সেগুলিকেই। এর ফল দিনের পর দিন একের পর এক নিরপরাধ মানুষের মৃত্যু আর মৃত্যু। এমনকী কবর দেওয়ার জায়গাটুকুও বোধহয় বেঁচে নেই আর গাজায়। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকার মতো প্রথম বিশ্বের কয়েকটি শক্তিশালী দেশের রাষ্ট্রনায়ক ছাড়া বোধহয় সকলেই চান এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ থামুক। কিন্তু গাজা উপত্যকার একেবারে শেষ না দেখে থামবে না বোধহয় ইজরায়েল।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ছ'বার বিশ্বকাপ! কোন ম্যাজিকে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে অস্ট্রেলিয়া?

Australia Wins Cricket World Cup 2023 : যে মাঠের এক লক্ষ কুড়ি হাজার দর্শকের গগনভেদী চিৎকারে অস্ট্রেলিয়ার বেহাল দশা হবার কথা ছিল, সেই মাঠ বেশিরভাগ ম্যাচ জুড়েই পড়ে রইল জবুথবু হয়ে।

রবিবার মাঠে সেই যুদ্ধ থামানোর মানবিক আবেদনটি নিয়েই ঢুকে পড়েছিলেন প্যালেস্টাইন সমর্থকটি। তখন ১৪তম ওভারটি চলছে। তার তিন নম্বর বলটি সবে খেলেছেন বিরাট, এমন সময় আচমকাই নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে মাঠে চলে আসেন ওই সমর্থক। পরনে লাল শর্টস এবং সাদা টি-শার্ট। তাতে লেখা স্টপ বম্বিং প্যালেস্টাইন, অন্য পিঠে লেখা প্যালেস্টাইনকে মুক্ত করার বার্তা। মুখে ছিল প্যালেস্টাইনের পতাকা-রঙা মুখোশ। জানা যায়, হাতে করে একটি রামধনু পতাকাও নিয়ে এসেছিলেন ওই যুবক। সমস্ত নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে বিরাটের একেবারে কাছাকাছি চলে আসেন তিনি। বিরাটকে আলিঙ্গনেরও চেষ্টা করেন। কিছুক্ষণের জন্য খেলা বন্ধ হয়। ঘটনার আকস্মিকতায় খানিকটা চমকে যান বিরাটও। ম্যাচের ওই পর্যায়ে এমন একটা ব্যাপার ঘটনায়, সামন্য বিরক্তও হন। ততক্ষণে অবশ্য নিরাপত্তা কর্মীরা গোটা ব্যাপারটি সামলে নিয়েছে। ফিলিস্তিনি ওই সমর্থককে ধরে মাঠের বাইরে নিয়ে গিয়েছেন তাঁরা।

ওই যুবককে তুলে দেওয়া হয় পুলিশের হাতে। মাঠ থেকে গ্রেফতার করে তাকে নিয়ে আসা হয় আহমেদাবাদের চান্দখেদা থানায়। বেশ কিছুক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদও চলে। শেষপর্যন্ত বিশ্বকাপ ঘরে তুলতে পারেনি ভারত। ষষ্ঠ বারের জন্য বাজি মেরে গিয়েছে অজিরা। জিতে নিয়েছে ২০২৩ আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নের টাইটেল। সে নিয়ে কার্যত শোকস্তব্ধ দেশ। তবে তার মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে ভাইরাল হয়েছে সেই প্যালেস্টাইন সমর্থকের মাঠে ঢুকে পড়ার ভিডিও। কেউ সওয়াল করেছেন মাঠের নিরাপত্তা নিয়ে। কেউ বা আবার গাজার প্রতি ইজরায়েলের এই আগ্রাসনের বিরোধিতা করে শেয়ার করেছেন সেই মুহূর্তের ছবি।

আইসিসি বিশ্বকাপ নিয়ে উত্তাল ছিল গোটা বিশ্ব। তাবড় সব দেশ ও দলকে পিছনে ফেলে রবিবার ফাইনালে মুখোমুখি হয় ভারত ও অস্ট্রেলিয়া। খেলা হলো, জয়ও এল। বিশ্বকাপ জ্বরের অবসানও ঘটল। কিন্তু গাজা উপত্যাকায় বিশ্বকাপ কেন, কোনওরকম উদযাপনের বাতাসই এখন বহু দূরের স্মৃতি। আপাতত আরও একটা দিন বেঁচে যাওয়াটাই সেখানে বড় বিষয় এখন। জল নেই, খাবার নেই, প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র নেই। এমনকী বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট থেকেও বঞ্চিত গাজাবাসী। ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক-সহ প্যালেস্টাইনের একাধিক এলাকায় লাগাতার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইজরায়েল। হামাসরা বন্দিমুক্তির পরিবর্তে পাঁচ দিনের যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়েছিল। জানা যাচ্ছে, সেই শর্তে রাজি হয়েছে আমেরিকা সমর্থিত ইজরায়েল। তবে সে কি আদৌ সত্যি না নতুন কোনও ফাঁদ বলা কঠিন। এর আগেও প্রতিদিন চার ঘণ্টা করে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল নেতানিয়াহু সেনা। তবে বেড়েছিল হামলার প্রাবাল্য। এবারেও তেমন কিছু হতে চলেছে না তো, আশঙ্কায় কাঁপছে গোটা দেশ।

রবিবার মাঠে যিনি ঢুকে পড়েছিলেন যুদ্ধশান্তির বার্তা নিয়ে, পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছে, তাঁর নাম জন। তিনি অস্ট্রেলিয়ার বাসিন্দা। তবে পাশাপাশি তিনি একজন বিরাট-ভক্তও। বিরাটের সঙ্গে দেখা করতেই তিনি মাঠে ঢুকে পড়েছিলেন। তবে এ সব কিছুর সঙ্গেই তিনি নিজেকে প্যালেস্টাইন সমর্থক বলেও দাবি করেছেন। তাই যুদ্ধশান্তির ওই মানবিক আবেদনটুকও মাঠে রেখে যেতে চেয়েছিলেন ওই যুবক। যা নিয়ে তোলপাড় হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়াও।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।