মেয়েকে কুস্তির মঞ্চে পাঠাবে না আর কোনও পরিবার: বিজেন্দ্র সিং

Wrestling Body Row: যেখানে সাক্ষীর মতো পদকজয়ী কুস্তিগিরেরা সুবিচার পান না, তাহলে সাধারণ লোকের সুবিচার পাওয়ার গ্যারান্টিটা কোথায়! প্রশ্ন বিজেন্দ্রর।

Sohini Das
৩ মিনিট
মেয়েকে কুস্তির মঞ্চে পাঠাবে না আর কোনও পরিবার: বিজেন্দ্র সিং

রেস্টলিং ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (WFI)-র সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন যৌনহেনস্থায় অভিযুক্ত ব্রিজভূষণ শরণ সিংয়ের ঘনিষ্ঠ সঞ্জয় সিং। তার পরেই কুস্তি থেকে অবসরের কথা ঘোষণা করেছেন পদকজয়ী সাক্ষী মালিক। দীর্ঘদিন ধরেই যৌনহেনস্থায় অভিযুক্ত ব্রিজভূষণ শরণ সিংয়ের বিরুদ্ধে সরব হয়ে এসেছেন সাক্ষীরা। এই লড়াই তাঁদের দীর্ঘদিনের। এবার সেই লড়াইয়ে তাঁদের পাশে দাঁড়ালেন অলিম্পিকে স্বর্ণজয়ী বিজেন্দ্র সিং।

বেশ কয়েক মাস ধরেই ফেডারেশনের ভোট নিয়ে টালবাহানা চলছিল। শেষমেশ বৃহস্পতিবার সেই ভোটগ্রহণ পর্ব মেটে। ভোটগণনার পরে হাতে আসে ফলাফল। যেখানে ৪৭টির মধ্যে ৪০টি ভোট পেয়ে ফেডারেশনের সভাপতি নির্বাচিত হব ব্রিজভূষণের ব্যবসায়িক পার্টনার ও দীর্ঘদিনের সহচর সঞ্জয় সিং। ফেডারেশনের মাথায় থাকাকালীন মহিলা কুস্তিগিরদের নানা ভাবে শারীরিক হেনস্থা করার অভিযোগ রয়েছে বাহুবলী নেতা ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে।

বারবার অভিযোগ তোলা সত্ত্বেও ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি প্রশাসনের তরফে। বাধ্য় হয়ে আন্দোলনের পথে নামেন সাক্ষী, বিনেশ ফোগটের মতো তারকা কুস্তিগিরেরা। যন্তর মন্তরের সামনে শুরু হয় বিনিদ্র রাত জাগা। এদিকে নতুন সংসদভবন উদ্বোধনের আলোয় সরিয়ে দেওয়া হয় রাস্তা থেকে আন্দোলনকারীদের। ব্রিজভূষণকে কুস্তি ফেডারেশনের মাথা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বটে, তবে তাতে সুবিচার হয়নি।

কারণ বিজেপির আশীর্বাদধন্য নেতা ব্রিজভূষণ গুটি সাজিয়ে রেখেছিলেন আগে থেকেই। ৬ বারের সাংসদ ব্রিজভূষণের গায়ে আবার রয়েছ চড়া হিন্দুত্ববাদীর লেবেলও। ফলে তিনি যে শাসক দলের একটু বেশিই কাছের লোক হবেন, তাতে আর আশ্চর্য কি! ফলে নিয়ম রক্ষার্থে ফেডারেশনের ভোট তো হল। আর সেই ফেডারেশন ক্ষমতায় এলেন ব্রিজভূষণ-ঘনিষ্ঠ

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কুস্তি থেকে হঠাৎই সরে দাঁড়ালেন সাক্ষী মালিক! নেপথ্যে কি ব্রিজভূষণের কলকাঠি?

Brij Bhushan's aide Sanjay Singh becomes new WFI president: ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে কুস্তিগিরদের যৌনহেনস্থার অভিযোগ ওঠার পরে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল পদ থেকে। ঠিক হয়, ভোটের মাধ্যমে নয়া প্রেসিডেন্ট বেছে নেওয়া হবে।

তবে শেষপর্যন্ত কাজের কাজ কিছু হয়নি। ভোটে জিতে ফেডারেশনের মাথায় বসেছেন, ব্রিজভূষণেরই ডানহাত সঞ্জয় সিং। ফলে ফেডারেশনের রাশ যে পরোক্ষ ভাবে ব্রিজভূষণের হাতেই থেকে যাবে, তাতে আর আশ্চর্য কী! সুরক্ষার নিরিখে দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, মুম্বই শহরগুলির জায়গা বেশ ভয়ের জায়গায়। বিশেষত নারী ও শিশুসুরক্ষার ক্ষেত্রে। হবে না-ই বা কেন! কুস্তির মতো বাহুবলী খেলার প্রতিনিধিদের যদি কুস্তি ফেডারেশনে এসে যৌনহেনস্থার মুখে পড়তে হয়, তাহলে গোটা দেশের নারীসুরক্ষা ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে রয়েছে, তা বুঝতে বিশেষ অসুবিধা হয় না।

পদকজয়ী কুস্তিগির বিজেন্দ্র সাক্ষীর পাশে দাঁড়িয়ে জানিয়েছেন,তিনি বুঝতে পেরেছেন সাক্ষীর যন্ত্রণাটা। ভারতের একমাত্র মহিলা কুস্তিগির সাক্ষী, যার ঝুলিতে রয়েছে এতগুলো পদক। সেই সাক্ষী এতদিন ধরে সুবিচার চেয়ে লড়েছেন, যা আজও তিনি পেলেন না। সেই যন্ত্রণায় প্রিয় কুস্তির ময়জান ছাড়লেন তিনি। বিজেন্দ্রর প্রশ্ন, এই ঘটনায় বিশ্বের সামনে ভারতের সম্মান কি আদৌ বাড়ল? ২০০৮ সালে বেজিং অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন বিজেন্দ্র। পরে কংগ্রেসেও যোগ দেন এই পদকজয়ী কুস্তিগির।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কুস্তিতে হারাতে পারলেই বিয়ের প্রতিশ্রুতি, কখনও হারেননি চেঙ্গিস খানের নাতনি

Khutlun, wrestling princess of Mongolia: খুতুলুন ঠিক করেন, বিয়েতে আগ্রহীরা খালি হাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হতে পারবেন না মোটেই। তার জন্য রাখতে হবে বাজি।

বিজেন্দ্র জানিয়েছেন, ফেডারেশনের এই ঘটনায় গোটা ক্রীড়াজগৎ হতাশাগ্রস্ত। হরিয়ানার মতো জেলায় ক্রমশ কমছে কন্যাসন্তান জন্মের হার। সেখানে মেয়ে প্রায় নেই বললেই চলে। মনে করা হয়, এর জন্য দায়ী, দিনের পর দিন ধরে চলতে থাকা এই অসাম্য। ছেলে ও মেয়েকে আজও বেশিরভাগ জায়গাতেই এক নজরে দেখা হয় না। আর সেই সব জায়গার মধ্যে ঢুকে পড়ল এবার কুস্তি ফেডারেশনও। এর পরে কোনও বাবা-মা বা পরিবার তাঁদের কন্যাসন্তানকে কুস্তির দুনিয়ায় আসতে দেবেন কি! স্টেডিয়ামে যেতে দেবেন? সংশয় ধরে পড়েছে বিজেন্দ্রর গলা থেকে।

তাঁর বক্তব্য, যেখানে সাক্ষীর মতো পদকজয়ী কুস্তিগিরেরা সুবিচার পান না, তাহলে সাধারণ লোকের সুবিচার পাওয়ার গ্যারান্টিটা কোথায়! বিজেন্দ্র জানান, এই উত্তর দিতে এগিয়ে আসা উচিত প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি সকলের। এই ঘটনা গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোর উপরে বিরাট বড় প্রশ্ন তুলে দিয়ে গিয়েছে বলে মনে করছেন বিজেন্দ্র।

সঞ্জয় সিংয়ের বিপরীতে ফেডারেশনের সভাপতি পদে লড়েছিলেন কমনওয়েলথ গেমসের স্বর্ণপদকজয়ী অনিতা শেওরান। আন্দোলনকারী কুস্তিগিরদের মধ্যে ছিলেন তিনিও। তবে দুঃখের বিষয়, তিনি এই নির্বাচনে ভোট পেয়েছেন মাত্র ৭টি। স্বাভাবিক ভাবেই হেরে যাওয়াই ছিল ভবিতব্য। স্বর্ণপদকজয়ী কুস্তিগিরের থেকে ব্রিজভূষণঘনিষ্ঠ সঞ্জয় সিংয়ের পক্ষেই গিয়েছে সংখ্যাগরিষ্ঠতা। আর এর থেকেই বোঝা যায় দুর্নীতির শিকড় পৌঁছেছে কত গভীর পর্যন্ত।

ভোটের এই ফলাফল ঘিরে তীব্র হতাশা প্রকাশ করেছেন বিনেশ ফোগট, বজরং পুনিয়ার মতো বিখ্যাত কুস্তিগিরেরা। বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমের সামনে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। জানান, সঞ্জয় সিং নির্বাচিত হওয়ার অর্থ কিচ্ছু পাল্টালো না ফেডারেশনে। আবার সেখানে মহিলা কুস্তিগিরদের দিনের পর দিন হেনস্থার শিকার হতে হবে। শুধু ফেডারেশন নিয়েই নয়, গোটা দেশের বিচারব্যবস্থার উপরেই প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন তিনি। জানিয়েছে, ভবিষ্যতের কুস্তির দুনিয়া কার্যত অন্ধকার। এর পর কোথায় যাবো, যাওয়া উচিত- দিশা নেই আমাদের কাছে। এ দেশে সুবিচার কীভাবে পেতে হয়, সেই রাস্তা তাঁদের জানা নেই বলেই ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন স্বর্ণজয়ী এই কুস্তিগির।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।