মাত্র ১০ হাজারের বিনিময়ে এক দিনের রোল! যে ভাবে 'বনরাকস' হয়ে উঠেছিলেন দুর্গেশ কুমার

Banrakas in Panchayat: কিন্তু মজার বিষয় প্রথমে কিন্তু পঞ্চায়েত সিরিজে ভূষণের চরিত্রটি অফারই করা হয়নি দুর্গেশ কুমারকে। বরং ওই গল্পের এক ফটোগ্রাফারের চরিত্রের প্রস্তাব পেয়েছিলেন দুর্গেশ।

Sohini Das
৩ মিনিট
মাত্র ১০ হাজারের বিনিময়ে এক দিনের রোল! যে ভাবে 'বনরাকস' হয়ে উঠেছিলেন দুর্গেশ কুমার

গোটা গ্রামের কাছে তিনি 'বনরাকস'। গ্রামের আনাচে-কানাচে তীক্ষ্ণ তাঁর নজর, কোথায় কী হচ্ছে, কেন হচ্ছে। আর এ সবের মধ্যে গ্রামের প্রধানের যদি একরত্তি খুঁতও বের করে ফেলা যায়, তাহলে আর তাঁকে পায় কে! এতক্ষণে নিশ্চয়ই সকলেই বুঝে গিয়েছেন, কথা হচ্ছে ভূষণকে নিয়ে। পঞ্চায়েত সিরিজের ভূষণ। 'দেখ রহা হ্যায় বিনোদ' থেকে শুরু করে 'আলুয়া হোগা মিটিং মিটিং'— তাঁর একাধিক সংলাপ ঘুরে বেড়াচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেই সব মিমের মোহ ও মায়ায় ডুবে নেটদুনিয়া। সেই বনরাকসকে যিনি রক্তমাংসের করে তুলেছেন তিনি দুর্গেশ কুমার। পঞ্চায়েত ছাড়াও একাধিক সিনেমা-সিরিজে তাঁকে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে। কিন্তু পঞ্চায়েতের দৌলতে ভূষণ পৌঁছে গিয়েছেন যেন দেশের প্রতিটি কোণায়।

দেখতে দেখতে তৃতীয় সিজনে এসে পৌঁছেছে পঞ্চায়েত। এই সিজনে এসে বনরাকস ওরফে ভূষণ যেন আরও স্পষ্ট, আরও প্রকট। কথায় কথায় তিনি আন্দোলন করেন। পরবর্তী পঞ্চায়েত প্রধান হওয়ার জন্য কূটনীতি চালাতে থাকেন প্রতি মুহূর্তে। কার্যত দর্শকদের জন্য বিনোদনের অন্য নাম হয়ে উঠেছে ভূষণ। যতক্ষণ তিনি পর্দায়, ততক্ষণ দর্শক চোখ ফেরাতে পারছে না বনরাকসের থেকে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কেমন আছেন 'পথের পাঁচালী'-র অপু ও দুর্গার অভিনেতারা?

অপু এবং দুর্গা, দুই চরিত্রাভিনেতা আজও সব আলোর ঝলকানি থেকে দূরেই রয়েছেন।

কিন্তু মজার বিষয় প্রথমে কিন্তু পঞ্চায়েত সিরিজে ভূষণের চরিত্রটি অফারই করা হয়নি দুর্গেশ কুমারকে। বরং ওই গল্পের এক ফটোগ্রাফারের চরিত্রের প্রস্তাব পেয়েছিলেন দুর্গেশ। কিন্তু পরবর্তীতে সেই চরিত্রটি যায় টিভিএফ-এরই অ্যাসপিরেন্ট নামক অন্য একটি ওয়েব সিরিজের লেখত দীপেশ জগদীশের কাছে। আর দুর্গেশকে পঞ্চায়েতের পরিচালক পছন্দ করেন বনরাকস তথা ভূষণের চরিত্রে। ব্য়াস, বাকিটা ইতিহাস।

গ্রাম্য দোহারা চেহারা, হাঁটা-চলা থেকে ওঠাবসায় মাটির স্পর্শ, দেখলে মনে হবে এই চরিত্রটা যেন তৈরিই করা হয়েছে দুর্গেশকে ভেবে। এ ছাড়াও একাধিক ছবি, ওয়েবসিরিজে দেখা গিয়েছে অভিনেতাকে। লাপাতা লেডিস, ভক্ষক, হাইওয়ে, সুলতানের মতো বহু ছবিতেই দেখা গিয়েছে দুর্গেশকে। কিন্তু পঞ্চায়েতের চরিত্রটি যেন তাঁকে অন্যমাত্রায় নিয়ে গিয়েছে। কিন্তু জানলে অবাক হতে হয়, পঞ্চায়েত সিজন ওয়ানে অভিনয় করার জন্য মাত্র দশ হাজার টাকা পেয়েছিলেন ভূষণ ওরফে দুর্গেশ। পঞ্চায়েত গল্পের লেখক দীপেশ কুমার দুর্গেশকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, একদিনের একটা ছোটো রোল রয়েছে, তিনি করবেন কিনা। কিছু না ভেবেই দুর্গেশ জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি করবেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
৬৬-তেই থামল জীবন, কেন এমন না বলে চলে গেলেন অভিনেতা সতীশ কৌশিক?

Satish Kaushik : শুধু সিনেমায় অভিনয় অথবা পরিচালনার কাজ নয়, পাশাপাশি স্ক্রিনরাইটার ও প্রযোজক হিসাবেও কাজ করেছেন সতীশ কৌশিক। কাজ দিয়েই নিজের জাত চিনিয়েছেন তিনি।

ভাগ্যিস সেদিন হ্যাঁ বলেছিলেন দুর্গেশ। নাহলে এমন একটা মজাদার চরিত্র দর্শকেরা উপহার পেতেন না পঞ্চায়েত থেকে। কারণ দুর্গেশের থেকে আর কেউ এই চরিত্রটির সঙ্গে এ হেন সুবিচার করতে পারতেন কিনা সংশয় রয়েছে। তবে দুর্গেশের অভিনেতা হিসেবে শুরুর দিন গুলো সহজ ছিল না। একটি সাক্ষাৎকারে দুর্গেশ জানান, এমনকী সফট পর্ন ছবিতে অভিনয় করতে পর্যন্ত বাধ্য করা হয়েছিল তাঁকে। অভিনেতা হওয়ার কাজ সহজ নয়। শারীরিক, মানসিক বহু রকম যুদ্ধের মধ্যে দিয়ে যেতে হয় অভিনেতাদের প্রায়শই। দু'দুবার দুর্গেশ কুমারকে চেপে ধরেছিল ডিপ্রেশনের ব্যামো। তবে সেই সমস্ত প্রতিকূলতা ঠেলে নিজেকে অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন দুর্গেশ।

মধ্যপ্রদেশের ড্রামা স্কুল থেকে পড়াশোনা করেছেন দুর্গেশ। সেখান থেকেই কয়েক জন বন্ধুবান্ধব মিলে বলিউডে ভাগ্য পরীক্ষা করতে চলে আসেন। শেষপর্যন্ত সেই পরিশ্রমের ফলাফল হাতেনাতেই পেয়েছেন দুর্গেশ। তাঁর অভিনীত বনরাকস পৌঁছে গিয়েছে প্রতিটি ঘরে ঘরে। বনরাকসের মিম, ভিডিও হাতে হাতে ঘুরেছে দেশবাসীর। সাম্প্রতিক কালে আর কোনও ওয়েব সিরিজ বা তার চরিত্র এই মাপের জনপ্রিয়তা পেয়েছে বলে মনে হয় না। মাত্র দশ হাজার টাকার বিনিময়ে একদিন যে চরিত্রের জন্য রাজি হয়েছিলেন দুর্গেশ, সেই চরিত্রই আজ দেশজোড়া সম্মান এনে দিয়েছে পর্দার ভূষণকে।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।