দুর্গাপুজোয় সারা রাতের প্ল্যান! রইল কলকাতার সেরা রুফটপ লাউঞ্জের সেরা ঠিকানা-মেনু-খরচ

Durgapuja 2022: পুজোর সময়ে বেশিরভাগ রেস্তোরাঁতেই কিন্তু জায়গা পাওয়া যায় না, তাই এই রেস্তোরাঁগুলিতে যেতে চাইলে, আগের থেকে বুকিং করে নেওয়াই ভালো অপশন

Arunima Mukherjee
৩ মিনিট
দুর্গাপুজোয় সারা রাতের প্ল্যান! রইল কলকাতার সেরা রুফটপ লাউঞ্জের সেরা ঠিকানা-মেনু-খরচ

দুর্গাপুজো বঙ্গবাসীর প্রাণের পুজো। বাঙালি হোক বা অবাঙালি, পশ্চিমবঙ্গে বসবাসকারী প্রতি মানুষই সারাবছর ধরে চাতক পাখির মতো চেয়ে থাকেন পুজোর এই পাঁচটা দিনের অপেক্ষায়। পুজো মানে একটানা কয়েকটা ছুটির দিন, পুজো মানেই ঘরের মেয়ের মায়ের কোলে ফেরার দিন আবার পুজো মানেই পাড়ার মোড়ে মোড়ে পুরোনো বন্ধুদের ফেলে আসা সব ঠেকে আবারও একবার জোয়ার আসা।

পুজোতে ‘হোল নাইট’ প্ল্যান রয়েছে! খাওয়া-দাওয়া কোথায় করবে তা নিয়ে চিন্তিত? পুজোয় যারা খোলা আকাশের নীচে অথবা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে, একটু আরামে সারারাত হই-হুল্লোড় করে কাটাতে চান, তাঁদের জন্য রইল কলকাতার বুকে তিনটি বিলাস-বহুল লাউঞ্জের ঠিকানা।

১। Glook The Sky Lounge

ঠিকানা – বিজি-১২, দ্যা টার্মিনাস,

বিজি ব্লক, ফিফথ ফ্লোর, অ্যাকশন এরিয়া আই, নিউটাউন, কলকাতা – ৭০০১৫৬

নিউটাউনে ছ’তলায় অবস্থিত এই রেস্তোরাঁটি দুপুর ১২টা থেকে সারারাত খোলা থাকে। বাঙালির পুজোতে, বাঙালি খাবার থাকবে না তা তো হয় না। তাই পুজোর ক’টা দিনের জন্য আপনি এই রেস্তোরাঁতে পেয়ে যাবেন খাঁটি বাঙালি খাবারের একটি বাফেট। আবার আপনি যদি বাফেট খেতে ইচ্ছুক নাও হয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রেও হতাশ হওয়ার কোনও কারণ নেই। বাঙালি খাবারের বাফেট ছাড়াও রেস্তোরাঁর অন্যান্য খাবারগুলিও পাওয়া যাবে এই পাঁচ দিন এবং তার সঙ্গেই থাকবে বিভিন্ন ককটেল এবং মকটেলের সুবিধা।

বাফেটের মেনু – গোলমরিচ দিয়ে দই সরবত, আমপান্না, ছানা মটরশুঁটির চপ, কালোজিরের পনীর টিক্কা, কাসুন্দি দিয়ে ফিস টিক্কা, গন্ধরাজ মুরগি ফ্রাই, স্যালাড, আলু ছোলা মাখা, টমেটো পোড়ার চাটনি, গোটা মুগডালের স্যালাড, রসুন-কাঁচালংকার চাটনি, গন্ধরাজ লেবু, আলু ভাজা, পটল ভাজা, কুমড়ো ভাজা, বেগুনি, বড়ি ভাজা, পাঁপড়, লুচি, পরোটা, সাদা ভাত, বাসন্তী পোলাও, কাজু-কিসমিস দিয়ে ছোলার ডাল, মাছের মাথা দিয়ে মুগডাল, ছানার ডালনা, দই কাতলা, আম-কাসন্দি দিয়ে আলুর দম, ঢাকাই ভুনা মুরগি, মরিচ মাংস, বেকড মিহিদানা, গোবিন্দ ভোগ, চালের পায়েস এবং আইসক্রিম।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বিজেপির গান্ধী-মুক্ত ভারতের কৌশল না কি মোদি আমলেই যোগ্য সম্মান পাচ্ছেন নেতাজি!

Netaji Subhash and Mahatma Gandhi: মোদির মুখে বারবার নেতাজির নাম এবং জাতীয়তাবাদে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়দের ভূমিকা উঠে এসেছে। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে খানিকটা নিষ্ক্রিয় হয়েছেন মহাত্মা গান্ধী।

বাফেটের খরচ – মাথা পিছু ১১৯৯ টাকা এবং ট্যাক্স।

বাফেট ছাড়াও আপনি এই রেস্তোরাঁতে পেয়ে যেতে পারেন - পেস্তো আরানসিনি, দমফুক্ত মুর্গ বিরিয়ানি, চিংড়ি মাছের সালামি, পেরি পেরি ড্রামস্টিক, পারমেসান চিকেন, কাসুন্দি ফিস টিক্কা, ঢাকাই কষা মাংস, চিংড়ি মাছের মালাইকারি, ইংলিশ চিকেন টিক্কাসহ আরও অনেক কিছু।

খরচ – লিকার ছাড়া দু’জনের জন্য পড়বে মোটামুটি ২৫০০ টাকা এবং ট্যাক্স এবং লিকার সহযোগে সেই খরচ দাঁড়াতে পারে প্রায় ৩৫০০ টাকায় এবং ট্যাক্সে।

২। Cloud Social Rooftop Lounge

ঠিকানা – ১৪৫ রাসবিহারী অ্যাভেনিউ, সিক্সথ ফ্লোর, কলকাতা– ৭০০০২৯

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কলকাতার দুর্গাপুজোর আমেজ পেতে আসতেই হবে উত্তর কলকাতার এই মণ্ডপগুলিতে

সাবেকি এবং থিম মিলিয়ে উত্তর কলকাতার বেশ কিছু পুজো নিজেদের জায়গা পাকা করে নিয়েছে।

রাসবিহারী অ্যাভেনিউতে খোলা আকাশের তলায় বসে যদি বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে পুজোর একটা দিন চুটিয়ে আড্ডা দিয়ে চান, তাহলে পুজোর মধ্যে একদিন সময়ে করে চলে আসতেই পারেন এই লাউঞ্জে। তবে শুধু পুজোর পাঁচটা দিন নয়, বরং পুজোর ভুরিভোজ এখানে শুধু হয়ে যাচ্ছে চলতি মাসের ২৬ তারিখ থেকেই। সোম থেকে শুক্র এই রেস্তোরাঁটি খোলা থাকবে দুপুর ২ টো থেকে রাত ১ টা অবধি এবং শনি-রবি এই দু’দিন খোলা থাকে দুপুর ১২ টা থেকে রাত ১টা অবধি। ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পুজো স্পেশালে এখানেও থাকছে খাঁটি বাঙালি বাফেটের ব্যবস্থা এবং এছাড়াও থাকছে অন্যান্য লোভনীয় সব ফুড আইটেমগুলি।

বাফেট মেনু – বাসন্তী পোলাও, আলু ভাজা, পটল ভাজা, গয়না বড়ি, লুচি, ছোলার ডাল, ঝিঙ্গে-আলু পোস্ত, পটলের দোরমা, আলু ফুলকপির ডালনা, সোয়া-চিংড়ি মালাইকারি, ভেগান মটন কষা, প্লাস্টিক চাটনি, পাঁপড়, মিষ্টি দই, রাজভোগ, সন্দেশ, মিষ্টি পান আর ঘোল।

বাফেটের খরচ – মাথাপিছু ৯৯৯ টাকা।

এর পাশাপাশি আপনি এখানে পেয়ে যাবেন ক্রিস্পি ফ্রাইড ফ্রম হেভেন, মেক্সিকান হটডগ, নাগেট, পেপারোনি পিৎজা, ট্যাংরা স্টাইল ভেগান চিলি চিকেন, ভেগান মটন হান্ডি বিরিয়ানির মতো লোভনীয় এবং সুস্বাদু আইটেমগুলি।

খরচ – দু’জনের জন্য ১৮০০টাকা।

৩। Trincas Restaurant

ঠিকানা – ১৭, পার্ক স্ট্রিট, কলকাতা – ৭০০০১৬

পুজোর সময় কলকাতার ঠাকুর দেখা মানে এগারো নম্বর বাসই কিন্তু আপনার একমাত্র বিশ্বস্ত সঙ্গী। তাই হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে গিয়ে যদি ‘Heart of the City’ তে পৌঁছিয়েই যান, তবে একবার ঢুঁ মেরে যেতে পারেন এই রেস্তোরাঁটিতে। এখানকার পুজো উপলক্ষ্যে প্রস্তুত করা নতুন ‘মিং রুম মেনু’টি ওরিয়েন্টাল প্রেমী মানুষদের জন্য একেবারেই আদর্শ। এই মেনুতে থাকছে– ক্র্যাব এবং চিজ ওনটন, কওলুন ফিস, প্যান ফ্রাইড বেসল প্রন, মালাই চিকেন, বাটার পেপার গার্লিক চিকেন, ড্রাগন চিকেন, প্যান ফ্রাইড স্পাইসি ফিস, বেসল গার্লিক ফ্রাইড রাইসে মতো আরও অনেককিছু।

খরচ – দু’জনের জন্য মোটামুটি খরচ পড়তে পারে ১৪০০ টাকা এবং ট্যাক্স।

বলে রাখা ভালো, পুজোর সময়ে বেশিরভাগ রেস্তোরাঁতেই কিন্তু জায়গা পাওয়া যায় না, তাই এই রেস্তোরাঁগুলিতে যেতে চাইলে, আগের থেকে বুকিং করে নেওয়াই ভালো অপশন।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।

দুর্গা মুখ তুলে তাকাবেন হকারদের দিকে?

Durga Puja Economy in Bengal: কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব, অসংগঠিত অর্থনীতির সংকট, হকার উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের আবহে কতটা সুরক্ষিত থাকবে শারদোৎসবের নিজস্ব চরিত্র? পুজোর জৌলুস বাড়লেও নাগরিক স্বাধীনতা, শিল্পের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হবে?

দুর্গাপুজোর উৎসব, অসুরের শোক: বাংলার ইতিহাসে কার জয়, কার পরাজয়?

Mahishasur Puja: ২০১১-র পুরুলিয়া পার করে ২০১৪-র মালদার গাজল। নিত্যানন্দ হেমব্রমরা শুরু করলেন অসুর আন্দোলন। ততদিনে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে অসুর পুজোর সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। কেউ মূর্তি বানিয়ে মহিষাসুর স্মরণ করেন, কেউ ফ্লেক্স বানিয়ে আলোচনা সভা।

প্রতিদিন বদলায় মেনু, বদলায় খাবারের দাম: তবু স্বাদে অটুট কলকাতার সিদ্ধেশ্বরী আশ্রম

Hotel Siddheswari Ashram: সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে চোখ পড়বে সুবিশাল মেনু বোর্ডে, যাতে মুদ্রিত আছে হোটেলটির সামগ্রিক খাদ্য সমাহার। বোর্ডটিতে সেই দিনের প্রাপ্ত পদের পাশে চকখড়িতে হাতে লেখা সেই দিনের দাম। আর অতি অবশ্যই বাংলা ও ইংরাজিতে লেখা থাকে তারিখ।

যে দুর্গাবাড়ির পঞ্চমুণ্ডির আসনে আজও বসেন দেবী, সেখানেই একদিন শপথ নিতেন বিপ্লবীরা

Gangarampur Durgabari,: তন্ত্রশাস্ত্র অনুসারে, পঞ্চমুণ্ডি আসন সাধারণ কোনো বেদি নয়। পাঁচটি নির্দিষ্ট খুলি বা করোটি—যেমন চণ্ডাল বা ডোমের, শিয়ালের, বেজি বা নেউলের, বিষধর সাপের এবং হনুমানের খুলি মাটির নিচে নির্দিষ্ট নিয়মে পুঁতে এই আসন তৈরি করা হয়।