দেশজুড়ে ভয়াবহ দুর্নীতি! বন্ডের বিনিময়ে কাদের কী কী সুবিধা দিয়েছে বিজেপি?

Electoral Bond Donation Scam: এমন অনেক কোম্পানি আছে যারা ইলেক্টোরাল বন্ডে অর্থ দান করেছে এবং এর পরপরই সরকারের কাছ থেকে বিশাল সুবিধা পেয়েছে।

inscript
৩ মিনিট
দেশজুড়ে ভয়াবহ দুর্নীতি! বন্ডের বিনিময়ে কাদের কী কী সুবিধা দিয়েছে বিজেপি?

নির্বাচনী বন্ডের সমস্ত তথ্য প্রকাশ করতে এসবিআইকে নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। কে কাকে টাকা দিয়েছে তা প্রকাশ্যে না এলেও কে কতটা অঙ্কের অনুদান দিয়েছে তা স্পষ্ট। লোকসভা নির্বাচনের পর পর্যন্ত গোটা বিষয়টা স্থগিত করার চেষ্টা করা হলেও, ভোটের আগেই ঝুলির বিড়াল বেরিয়ে এসেছে। ২০১৯ সাল থেকে ১,৩০০ টিরও বেশি কোম্পানি এবং ব্যক্তি নির্বাচনী বন্ডে দান করেছে। এর ফলে ৬,০০০ কোটিরও বেশি টাকা পেয়েছে কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপি। এখনও অবধি, নির্বাচনী বন্ডের এই তথ্যে বিজেপির অন্তত চারটি দুর্নীতি প্রকাশ পেয়েছে।

১) দেনা পাওনা: এমন অনেক কোম্পানি আছে যারা ইলেক্টোরাল বন্ডে অর্থ দান করেছে এবং এর পরপরই সরকারের কাছ থেকে বিশাল সুবিধা পেয়েছে।

মেঘা ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ইনফ্রা নির্বাচনী বন্ডে ৮০০ কোটি টাকা দিয়েছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে তারা অনুদান দিয়েছে ১৪০ কোটি টাকা। এর ঠিক এক মাস পরেই ১৪,৪০০ কোটি টাকার থানে-বরিভালি টুইন টানেল প্রকল্পের বরাত পায় তারা।

জিন্দাল স্টিল অ্যান্ড পাওয়ারও অনুদান দিয়েছে। ২০২২ সালের ৭ অক্টোবর তারা ২৫ কোটি টাকা দিয়েছে। টাকা দেওয়া মাত্র ৩ দিন পরেই, ১০ অক্টোবর গারে পালমা IV/৬ কয়লা খনি পায় তারা।

২) তোলাবাজি: বিজেপির তোলাবাজির কৌশল এখন দেশবাসী সহজেই আন্দাজ করতে পারে। বিশ্লেষকরা বলেন, ইডি/সিবিআই/আইটি হচ্ছে সেই তোলা তোলার অন্যতম মাধ্যম। এই কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির মাধ্যমে বিজেপি আসলে কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সংস্থাকে লক্ষ্য করে অভিযান চালায় এবং তারপর কোম্পানিকে এই ইডি-সিবিআই জুজুর থেকে সুরক্ষা দিতে তোলা চায়৷ ইলেক্টোরাল বন্ডে সবচেয়ে বেশি টাকা দিয়েছে এমন ৩০ জন দাতার মধ্যে অন্তত ১৪ জনের বিরুদ্ধেই ইডি-সিবিআই অভিযান চালানো হয়েছে।

এই বছরের শুরুর দিকে একটি তদন্তে জানা যায়, ইডি-সিবিআই ও আয়কর দফতরের অভিযানের পরে, কোম্পানিগুলি নির্বাচনী ট্রাস্টের মাধ্যমে বিজেপিকে অনুদান দিতে বাধ্য হয়েছিল৷ হেটেরো ফার্মা এবং যশোদা হাসপাতালের মতো বহু কোম্পানি বন্ডের মাধ্যমে অনুদান দিয়েছে।

আয়কর বিভাগ ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে শিরডি সাই ইলেক্ট্রিক্যালসে অভিযান চালায়। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে শিরডি সাই ইলেক্ট্রিক্যালস নির্বাচনী বন্ডের মাধ্যমে ৪০ কোটি টাকা অনুদান দেয়।

ফিউচার গেমিং অ্যান্ড হোটেলস সার্ভিসেন ১৩৬৮ কোটি টাকা দান করেছে৷ এখনও পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে তারাই সবচেয়ে বেশি অনুদান দিয়েছে। ফিউচার গেমিংয়ের বিষয়টি সত্যিই খুব আকর্ষণীয়। ২০২২ সালের ২ এপ্রিল ইডি ফিউচার গেমিংয়ের অফিসে অভিযান চালায়। এর ঠিক ৫ দিন পরে, ৭ এপ্রিল ইলেক্টোরাল বন্ডের মাধ্যমে ১০০ কোটি টাকা দান করে তারা।

২০২৩ সালের অক্টোবরে আয়কর বিভাগ ফের ফিউচার গেমিংয়ে অভিযান চালায় এবং সেই একই মাসে ফিউচার গ্রুপ বন্ডে ৬৫ কোটি টাকা দান করে।

৩) কৃতজ্ঞতা: এই টাকার তথ্য থেকে একটি নির্দিষ্ট ছক স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। দেখা যাচ্ছে, কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে কিছু সুবিধা পাওয়ার পরপরই কোম্পানিগুলি নির্বাচনী বন্ডের মাধ্যমে সেই রাজানুগ্রহ পরিশোধ করেছে।

২০২১ সালের ৩ মার্চ বেদান্ত রাধিকাপুর পশ্চিমের ব্যক্তিগত কয়লা খনির মালিকানা পায়। তার পরের মাসে, এপ্রিলেই তারা নির্বাচনী বন্ডে ২৫ কোটি টাকা দান করেছে৷

২০২০ সালের অগাস্টে মেঘা ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ইনফ্রা ৪,৫০০ কোটি টাকার জোজিলা টানেল প্রকল্প পায়। তারপরেই অক্টোবর মাসে তারা নির্বাচনী বন্ডে ২০ কোটি টাকা দিয়েছে।

এই মেঘা ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ইনফ্রা ২০২২ সালের ডিসেম্বরে বিকেসি বুলেট ট্রেন স্টেশনের চুক্তি পায় এবং সেই মাসেই বন্ডে ৫৬ কোটি টাকা অনুদান দেয়।

৪) শেল কোম্পানির মাধ্যমে অর্থ তছরুপ: ইলেক্টোরাল বন্ড প্রকল্পের একটি বিশাল সমস্যা হচ্ছে, কোনও কোম্পানির তাদের লাভের অল্প শতাংশ দান করতে পারে এমন কোনও সীমা নেই। ফলে এই শেল কোম্পানিগুলি যথেচ্ছ কালো টাকা অনুদান দিয়েছে। এরকম বহু সন্দেহজনক অনুদানই এসেছে। যেমন, ৪১০ কোটি দান করেছে ক্যুইক সাপ্লাই চেইন লিমিটেড। এটি এমন একটি কোম্পানি যার সম্পূর্ণ শেয়ার মূলধনের পরিমাণটাই মাত্র ১৩০ কোটি টাকা। অথচ তারা অনুদান দিচ্ছে ৪১০ কোটি!

এসবিআই যে তথ্য দিয়েছে তাতে শুধুমাত্র ২০১৯ সালের এপ্রিল থেকে তথ্য আছে কিন্তু এসবিআই ২০১৮ সালের মার্চ মাসে বন্ডের প্রথম ধাপ বিক্রি করে। এই তথ্য থেকে নির্বাচনী বন্ডের ২,৫০০ কোটি টাকার কোনও হিসেব নেই। ২০১৮ সালের মার্চ থেকে ২০১৯ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বন্ডগুলির তথ্য কোথায়? নির্বাচনী বন্ডের তথ্য বিশ্লেষণ করতে থাকলে বিজেপির দুর্নীতির এমন আরও অনেক ঘটনাই স্পষ্ট হয়ে উঠবে। বিজেপি ঠিক কাকে কী কী পাইয়ে দিয়েছে, একটি রাজনৈতিক দল কীভাবে হাজার কোটি টাকার লেনদেন চালাচ্ছে দেশজুড়ে তা স্পষ্ট হবে এই তথ্য থেকেই।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? সরকার বদলায়, কেন বদলায় না মন?

Rabindranath Tagore Targeted in Bangladesh: বাংলাদেশে বারবার কেন নিশানা হচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর? হাসিনা থেকে ইউনূস, সরকার বদলালেও কেন থামছে না তাঁর সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার মুছে ফেলার চেষ্টা? জাতীয় সঙ্গীতের স্রষ্টাকেই কেন বারবার প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়তে হচ্ছে?

যন্তর মন্তরে ঢুকে বিক্ষোভ, পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে সিজেপি-র দুই নেতা

Jantar Mantar protest: যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের জেরে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠাল আদালত। নির্বাচন কমিশন, এসআইআর এবং প্রতিবাদের অধিকার ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক।

দিল্লিতে মহিলা বিক্ষোভকারীদের হেনস্থার অভিযোগ, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠছে যে সব প্রশ্ন

Delhi protest: দিল্লিতে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে মহিলা আন্দোলনকারীদের একাংশ পুলিশের বিরুদ্ধে হেনস্থা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা ও প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

২৩ দিনের অনশন থেকে জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন, রাজপথই নেহা বোরার হয়ে ওঠার সাক্ষী

Neha Bora: ২৩ দিন ধরে অনশন করে যেমন তিনি সংবাদমাধ্যমের নজরে এসেছিলেন, তেমনই সম্প্রতি দিল্লির রাজপথে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও তাঁকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।