বেছে বেছে টুইট সরাতে বলছে মোদি সরকার! বিস্ফোরক অভিযোগ মাস্কের

Elon Musk: এই প্রথম নয়, এর আগেও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলির সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছে বিজেপি সরকার। মাস্ক মালিকানা পাওয়ার আগেও X-এস সঙ্গে সংঘাত দেখা দেয় কেন্দ্রের।

Sohini Das
৩ মিনিট
বেছে বেছে টুইট সরাতে বলছে মোদি সরকার! বিস্ফোরক অভিযোগ মাস্কের

সামনেই লোকসভা ভোট। ইতিমধ্যেই বেজে গিয়ে ভোটের দামামা। এরই মধ্যে দেশের সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আনল এলন মাস্কের সংস্থা 'এক্স'। সোশ্যাল মিডিয়ার বাছাই কিছু অ্যাকাউন্ট ও পোস্টের ক্ষেত্রে নাকি আপত্তি রয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকারের। তাদের তরফে সোশ্যাল মিডিয়া সাইটগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সেই সব বিশেষ অ্যাকাউন্ট ও পোস্টের বিরুদ্ধে যাতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আর সেখানেই বিরোধ বেঁধেছে টুইটার কর্তার সঙ্গে সরকারের।

সরকারি নির্দেশ মেনে কিছু কিছু অ্যাকাউন্টের পোস্ট সরিয়ে দিতে রাজি হলেও, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জেল বা জরিমানার মতো যে যে সম্ভাব্য শাস্তির কথা জানিয়েছে কেন্দ্র, তার সঙ্গে একমত হতে পারেননি মার্কিন ধনকুবের এলন মাস্ক ও তার সংস্থা। তাদের মতে, এই ধরনের নির্দেশ আদতে বাক-স্বাধীনতার পরিপন্থী।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বিজেপির বিরুদ্ধে বললেই টুইটার বন্ধের হুমকি দিয়েছিল সরকার! অভিযোগ কতখানি সত্য?

Jack Dorsey Indian Twitter Remark: বিজেপির নেতা সম্বিত পাত্র বলছেন, রাহুল গান্ধিই নেপথ্যে ডরসির পুতুল নাচাচ্ছেন।

খুব বেশিদিন হয়নি, টুইটার অধিগ্রহণ করেছে এলন মাস্ক। তার পর টুইটারের বহু নিয়মকানুনই পাল্টেছে। এমনকী বদলে গিয়েছে সোশ্যাল মাইক্রো ব্লগিং সাইটটির নাম এবং লোগো। সাবেক টুইটার নাম বদলে হয় 'এক্স'। তার পরেই নীল রঙা পাখিটি উড়ে গিয়ে লোগোতে এসে বসে ইংরেজি বর্ণমালার 'এক্স' বর্ণটি। সম্প্রতি এক্স-এর গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স টিমের তরফে একটি সোশ্যাল মিডিা পোস্টে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে এই বিস্ফোরক অভিযোগ আনা হয়েছে। আর তার পরেই সোশ্যাল মিডিয়া জায়েন্ট 'এক্স'-এর তরফে জানানো হয়েছে, সরকারের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত না হলেও, সরকারি নির্দেশ মেনে এই পোস্ট ও অ্যাকাউন্টগুলিকে বন্ধ করবে এক্স। ইতিমধ্যেই সেইসব ব্যবহারকারীদের তাদের নীতি মেনে নোটিস পাঠিয়েছে এলন মাস্কের সংস্থা। সরকারের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে কোনও পিটিশন তারা দাখিল না করলেও টুইটার জানিয়েছে,সরকারের আপত্তি থাকা পোস্ট ও অ্যাকাউন্টগুলির শুধুমাত্র ভারতবর্ষেই বন্ধ করবে এলন মাস্কের সংস্থা।

The Indian government has issued executive orders requiring X to act on specific accounts and posts, subject to potential penalties including significant fines and imprisonment.

In compliance with the orders, we will withhold these accounts and posts in India alone; however,…

— Global Government Affairs (@GlobalAffairs)

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
হকের দাবিতে লড়তে গিয়ে ২২ বছরের তরুণ কৃষকের মৃত্যু! এই আন্দোলন বিপাকে ফেলবে বিজেপিকে?

Farmers’ protest: শুভকরণের মৃত্যু কি লোকসভা নির্বাচনের আগে বিপাকে ফেলবে বিজেপি সরকারকে?

দেশ জুড়ে নয়া জোয়ার পেয়েছে কৃষক আন্দোলনের ঢেউ। বৃহস্পতিবার এক তরুণ কৃষকের মৃত্যু হয়েছে বিক্ষোভে নেমে। এ নিয়ে ২ জন কৃষকের মৃত্যুর খবর মিলল কৃষক-আন্দোলনে নেমে। স্বাভাবিক ভাবেই এ ঘটনায় ফুটছে গোটা দেশ। ভোটের আগে এই কৃষক আন্দোলনকে মোটেও ভালো চোখে দেখছে না বিজেপি সরকার। এর আগেও দু-দু'বার কৃষক বিক্ষোভের মুখে পড়েছে কেন্দ্র সরকার। সেসময় বিক্ষোভের মুখে পিছু হঠতে হয়েছিল বিজেপিকে। এবার তেমন কিছু ঘটুক, একেবারেই চাইছে না বিজেপি নেতৃত্ব। সে জন্য সব দিক থেকে বজ্রআঁটুনি পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। এক্স-এর তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, চলতি কৃষক বিক্ষোভ সংক্রান্ত সমস্ত পোস্টই মাইক্রো ব্লগিং সাইট থেকে মুছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সরকারের তরফে।

ব্যবহারকারীদের কাছে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট রাখতে ভারত সরকারের নির্দেশের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়েছে এক্স। তবে আইনি বাধা থাকার কারণেই সরকারি ‘নির্দেশনামা’ প্রকাশ্যে আনা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে তারা। তবে একই সঙ্গে মাস্কের সংস্থা জানিয়েছে, স্বচ্ছতার খাতিরে ওই নির্দেশ প্রকাশ্যে আসা উচিত। X-এর তরফে আরও জানানো হয়, আমদের আগের অবস্থানই বজায় রয়েছে। ভারত সরকার অ্যাকাউন্ট ব্লকের যে নির্দেশ দিয়েছিল, তার বিরুদ্ধে তাদের আবেদন এখনও পড়ে রয়েছে আদালতে। সংস্থার নীতি-নিয়মের কথা জানিয়ে নোটিস দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের মালিকদেরও।

এই প্রথম নয়, এর আগেও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলির সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছে বিজেপি সরকার। মাস্ক মালিকানা পাওয়ার আগেও X-এস সঙ্গে সংঘাত দেখা দেয় কেন্দ্রের। ২০২১ সালে কেন্দ্রের নির্দেশ মানতে অস্বীকার করেন সংস্থার তদানীন্তন কর্তৃপক্ষ। মাস্কের হাতে সংস্থার মালিকানা ওঠার পর যদিও সেই অবস্থানে পরিবর্তন ঘটে। প্রকাশ্যেই মাস্ক জানান, নির্দেশ না মানলে কর্মীদের জেল-জরিমানা হতে পারে। তাই সেই ঝুঁকি নেবেন না তিনি। তবে এলন মাস্ক যে বাকস্বাধীনতার পক্ষেই সওয়াল করার দিকে, তা বারবারই প্রমাণ করেছেন এলন মাস্ক। সম্প্রতি বাকস্বাধীনতার অধিকারকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য নরওয়ে থেকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন মাস্ক। আর ঠিক তারপরেই ভারতবর্ষের বাকস্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুললনে এক্স-কর্তা। কোথায় যাবে মোদি সরকারের সঙ্গে এক্স-এর এই সংঘাত, সেটাই এখন দেখার।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।