এক বছরে দেশ জুড়ে হু হু করে বেড়েছে বিক্রি! হঠাৎ কেন এত রমরমা দু'চাকার গাড়ির?

Electric 2 Wheeler Sale: এই ইলেকট্রিক গাড়ি চার্জ দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত স্টেশনে বিদ্যুৎ পরিষেবা প্রদান করতে গিয়ে কি ফের দূষণ বাড়বে না?

inscript
৩ মিনিট
এক বছরে দেশ জুড়ে হু হু করে বেড়েছে বিক্রি! হঠাৎ কেন এত রমরমা দু'চাকার গাড়ির?

সারা দেশে যত বায়ুদূষণ, তার ২৫ শতাংশই ঘটে যানবাহনের কারণে। বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলির মধ্যে বেশ কয়েকটিই রয়েছে ভারতে। যানবাহনের প্রতি নির্ভরশীলতা আর ব্যক্তিগত গাড়ির পরিমাণ ক্রমে বাড়ছে এরই মধ্যে। বিশেষ করে দু'চাকার গাড়ির বিক্রি হু হু করে বেড়েছে দেশ জুড়ে এবং তাও খুব অল্প সময়ের মধ্যেই। কেন এমন চাহিদা বেড়ে গেল দু' চাকার গাড়ির? আসলে এই দু' চাকার গাড়ি যে কোনও সাধারণ ডিজেল-পেট্রোল চালিত গাড়ি নয়। ভারত জুড়ে বাড়ছে বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা। কাইনেটিক গ্রিন এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার সলিউশনের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুলজ্জা ফিরোদিয়া মোতওয়ানি জানাচ্ছেন, দেশব্যাপী ইভি ইকোসিস্টেম তৈরি হচ্ছে। জনসাধারণ কি তবে সচেতন হয়ে নেমে পড়েছে কার্বন কমিয়ে সবুজ পৃথিবী গড়ার লক্ষ্যে? এই ইলেকট্রিক গাড়ি চার্জ দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত স্টেশনে বিদ্যুৎ পরিষেবা প্রদান করতে গিয়ে কি ফের দূষণ বাড়বে না?

২০২১ সালের ১ নভেম্বর, গ্লাসগোতে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন COP26-এ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা করেছিলেন, ভারত ২০৭০ সালের মধ্যে বায়ুমণ্ডলে কোনওপ্রকার গ্রিনহাউস গ্যাস যোগ করবে না। ভারত এই শূন্য কার্বন নির্গমন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের উদ্দেশ্যে এক বৈদ্যুতিক কর্মযজ্ঞের আহ্বান জানায়। এখানে উল্লেখ্য, ভারত ২০২০ সালে আয়তনের দিক থেকে তৃতীয় বৃহত্তম কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমনকারী দেশ ছিল, যদিও এর মাথাপিছু কার্বন নির্গমন জাতিসংঘের এমিশনস গ্যাপ রিপোর্ট (ইজিআর) অনুসারে বিশ্বের গড় মাথাপিছু কার্বন নির্গমনের থেকে কমই ছিল।

এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য টেকসই গতিশীলতা কাম্য এবং এই টেকসই গতিশীলতার মধ্যেই সবচেয়ে নতুন এবং আকর্ষণীয় হচ্ছে বৈদ্যুতিক যানবাহন (EV)। চিরাচরিত জীবাশ্ম জ্বালানি চালিত যানবাহনের উপর নির্ভরতা কমাতে ব্যাটারিচালিত ইভি বিশ্বব্যাপী পরিবেশ-বান্ধব, কম খরচের বাহন রূপে উঠে আসছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বৈদ্যুতিক গাড়ি কিনে পৃথিবীকে বাঁচাবেন? জানেন, কীভাবে উপজাতি নিধন করে চলছে ব্যবসা?

Electric Vehicle Car Battery Hazard: “যদি আর জঙ্গল না থাকে, তাহলে আর হঙ্গানা মানিয়াওয়াও থাকবে না,” সারভাইভালকে জানিয়েছেন উপজাতির একজন ব্যক্তি।

ওয়েল-টু-ট্যাঙ্ক এবং ট্যাঙ্ক-টু-হুইল-এই জ্বালানি দক্ষতার তুলনা করার সময় দেখা গেছে, EV-এর সামগ্রিক দক্ষতা ৭৭%, উল্টোদিকে ICE-এর দক্ষতা ১৩% মাত্র। সবুজ পরিবহনের লক্ষ্যে ভারত বৈদ্যুতিক দু'চাকার গাড়ি, তিন চাকার গাড়ি এবং বাসের প্রচারের দিকে জোর দিচ্ছে৷ এটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ ভারতের জনগণের পরিবহনের ৮৫%-ই হচ্ছে এই ধরনের যানবাহন। ভারতের জনগণের মাত্র ১৫%-ই পরিবহনের মাধ্যম হিসাবে নিজস্ব গাড়ি ব্যবহার করে।

সোসাইটি অব ম্যানুফ্যাকচারার্স অব ইলেকট্রিক ভেহিকেলস (SMEV) জানাচ্ছে ভারতে ইভি বিক্রয় ২০২১ সালে তিনগুণ বেড়ে ১৪,৮০০ ইউনিটে পৌঁছেছে। ভারতের EV বিক্রয় ২০২১-২০২২ অর্থবর্ষে ৩৪০,০০০ ইউনিট থেকে তিনগুণ বেড়ে প্রায় ৮০০,৯০০-৯০০,০০০ ইউনিটে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে৷ যেহেতু ভারতে দ্রুত ইভি জনপ্রিয় ও বিক্রিত হয়ে চলেছে তাই পাল্লা দিয়ে দু' চাকার গাড়ি, তিন চাকার গাড়ি এবং বাসের চাহিদা বাড়ছে। মধ্যবিত্ত নাগরিকরা পরিবহনের মাধ্যম হিসাবে বাস বা তিন চাকার যানের উপরই নির্ভর করে। আর রোজের অফিস, কলেজ, দৈনন্দিন যাতায়াতের মাধ্যম হিসাবে দু' চাকার যান ব্যবহার করে বিপুল সংখ্যক মানুষ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ন্যানোর থেকেও আকারে ছোট, স্বপ্নপূরণ করতে বাজারে আসছে নয়া ইলেকট্রিক গাড়ি, দেখতে কেমন?

MG Comet EV : বর্তমানে অ্যাম্বাসাডরের পর আবারও ফিরতে চলেছে নয়া রূপে ইলেকট্রিক টাটা ন্যানো ইভি। তবে এই সব কিছুকে পিছনে ফেলে সস্তায় বাজিমাত করতে আসছে আরও একটি নতুন গাড়ি।

“ভারত বিশ্বের বৃহত্তম তিন চাকার যানের বাজার এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম দু’ চাকার যানের বাজার। এবং, আরও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, এগুলি সমস্তই হালকা গাড়ি এবং আন্তঃনগর পণ্য, যার অর্থ এগুলি শহরের মধ্যে চলাচল করে,” জানান সুলজ্জা ফিরোদিয়া মোতওয়ানি।

শুরুর দিকে তিন চাকার যান হিসেবে, কাইনেটিক গ্রিন ২০১৬ সালে ইলেকট্রিক ভেহিকেলের বাজারে আসে। ফিরোদিয়া গ্রুপ কোম্পানি ২০২১ সালে দু'টি ই-স্কুটার জিং এবং জুম নিয়ে দু’ চাকার-যানের বাজারে এনেছে। ২০২২ সালে, কাইনেটিকও জিং হাই-স্পিড স্কুটার বাজারে এনে বৈদ্যুতিক দু’চাকার গাড়ির বাজার ধরতে চাইছে।

মোতওয়ানির কথায়, কোম্পানি বৈদ্যুতিক স্কুটার, বৈদ্যুতিক তিন চাকার গাড়ি (কার্গো এবং প্যাসেঞ্জার) এবং বৈদ্যুতিক গল্ফ-কার্ট এবং বগিগুলির মতো বিবিধ ব্যাটারি-চালিত যানবাহন উত্পাদন করছে তাঁদের ব্যবসায়িক সম্ভাবনা দ্রুত বাড়ছে। ই-লুনা উৎপাদন শুরু হয়েছে। এটি একটি সম্পূর্ণ নতুন পণ্য, যা সাশ্রয়ী, সুবিধার ক্ষেত্র বিবিধ এবং মূল লুনা ব্র্যান্ডের গুরুত্ব ও মর্যাদা দুই বাড়বে এই ই-লুনার হাত ধরে। ২০৩০-এর মধ্যে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার ৫০% এরও বেশি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। পরবর্তী আরও প্রায় ১৫ থেকে ২০ বছরে ৭০% এরও বেশি হবে এর ব্যবহার।

গত অর্থবর্ষের তুলনায় ২০২২-২৩ সালে বৈদ্যুতিক গাড়ির বিক্রি আড়াই গুণ বেড়ে ৮,৪৬,৯৭৬ ইউনিটে দাঁড়ানোই এর সাপেক্ষে প্রমাণ। ২০২১-২২ সালে বৈদ্যুতিক দু’ চাকার গাড়ির (E2W) মোট বিক্রয় ছিল ৩,২৭,৯০০ ইউনিট। ইলেকট্রিক টু-হুইলার বিভাগে ২০২৩ সালে ৭,২৬,৯৭৬ উচ্চ-গতির E2W বিক্রি হয়েছে৷ ২০২১-২২ সালে, কম গতির ই-স্কুটারের বিক্রয় ছিল ৭৫,৪৫৭ ইউনিট, বেশি গতির ই-স্কুটারগুলির বিক্রি ছিল ২,৫২,৪৪৩ ইউনিট।

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের আগে যে ভুলগুলি এড়ানো জরুরি

Stock Market Psychology: শেয়ারবাজারে একজন বিনিয়োগকারীর সবচেয়ে বড় সমস্যা অনেক সময় সে নিজেই। আজকের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক বাজারে এই পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। কারণ এখন সমস্যা তথ্যের অভাব নয়, বরং তথ্যের অতিরিক্ত প্রবাহ।

মহাবিশ্বকে বুঝতে গিয়ে সমাজকে ভুলে যাননি অশোক সেন

পিএইচডির প্রথম প্রায় তিন বছর তাঁর গবেষণায় কোনো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতিই হয়নি। চারদিকে শুধু স্থবিরতা। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী যেখানে এমন পরিস্থিতিতে ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন বা হতাশ হয়ে পড়েন, অশোক সেন তা করেননি।

মেষ নয়, হায়াডিস? ভ্যান গগের ‘স্টারি নাইট’ নিয়ে কী বলছে নতুন গবেষণা?

The Starry Night mystery: এর আগে দীর্ঘকাল ধরে ধারণা করা হতো যে ভ্যান গগের আঁকা ছবিটির উপরের অংশটি মেষ রাশির কোনো তারামণ্ডল। তবে, সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নালে প্রকাশিত 'দ্য অ্যাকচুয়াল স্কাই অফ ভ্যান গগস স্টারি নাইট: এ মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিঅকনস্ট্রাকশন' নামক গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, ভ্যান গগের ছবির কেন্দ্রীয় পাঁচ তারার বিন্যাস মেষ রাশির সঙ্গে নয়, বরং হায়াডিস নক্ষত্রপুঞ্জের সঙ্গে নিখুঁতভাবে মেলে।

ডার্কওয়েবে SBI-র তথ্য ফাঁস, কতটা সুরক্ষিত আপনার সঞ্চয়? যা জানাচ্ছেন সাইবার বিশেষজ্ঞ

সন্দীপ সেনগুপ্তের পরামর্শ, যাঁদের তথ্য ফাঁস হয়েছে বলে আশঙ্কা রয়েছে, তাঁদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তিনি এমনকি ব্যাঙ্কে রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর পরিবর্তন এবং নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার কথাও বলেছেন।

আইনস্টাইনের কাল্পনিক পরীক্ষা এবার বাস্তবে, কোয়ান্টাম জগতের কণা-তরঙ্গ রহস্যের কী হলো?

Einstein Bohr quantum debate: সম্প্রতি ১০০ বছর আগের আইনস্টাইনের সেই কাল্পনিক পরীক্ষাটি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অব চায়না (USTC)-এর বিখ্যাত কোয়ান্টামবিজ্ঞানী জিয়ান-উই প্যান (Jian-Wei Pan) এবং তাঁর সহকর্মীরা ল্যাবরেটরিতে বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন।

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?